- প্রচ্ছদ
- Topic
হামাস
গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে একটি ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মাধ্যমে এই সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি একে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথে ‘স্মরণীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো সংশয় প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় হামাস এবং গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী ধাপে ধাপে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে। একই সঙ্গে তাদের টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হবে এবং গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে সরে যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রায় ২০০ থেকে ৩৫০ দিনের ধাপভিত্তিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামাসের ভারী ও হালকা অস্ত্র, অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো এবং টানেল নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয় করার কথা রয়েছে। এরপর একটি নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গাজার শাসনভার গ্রহণ করবে। এই উদ্যোগ সফল করতে মিসর, কাতার ও তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলে ট্রাম্প তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে গাজাকে আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হতে দেওয়া হবে না। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা হামাসের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দিহান। অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইসরায়েল যদি নিজস্ব প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে বা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ‘বোর্ড অব পিস’ ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক রূপান্তর তদারকি করা। তবে এই কাঠামোর বৈধতা, প্রতিনিধিত্ব এবং কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতা এবং কিছু পশ্চিমা দেশের অনাগ্রহ নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সমঝোতা বাস্তবে কার্যকর হয়, তাহলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর শুরু হওয়া দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে নিরস্ত্রীকরণ, নিরাপত্তা হস্তান্তর এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপরই পুরো পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন একটি শান্তি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি ধাপভিত্তিক রোডম্যাপে শর্তসাপেক্ষে নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে হামাস। তবে সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করলেই কেবল তারা নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ জানিয়েছেন, নিরস্ত্রীকরণ কোনো একতরফা পদক্ষেপ হবে না। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে ইসরায়েল চুক্তির অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে কি না তার ওপর। তার ভাষায়, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর নিশ্চয়তা মিললেই ধাপে ধাপে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দাবি করেন, ‘বোর্ড অব পিস’ হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার দাবি, এই পরিকল্পনার আওতায় ধাপে ধাপে হামাসের অস্ত্র অপসারণ করা হবে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলও পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা পরিকল্পনায় হামাসের অস্ত্র একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কারিগরি কমিটির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণের কথা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে গাজায় নতুন একটি বেসামরিক প্রশাসন গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা কার্যকর হয়নি। হামাস বলছে, ইসরায়েল যদি সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং পুনর্গঠনের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে না। অন্যদিকে ইসরায়েল সরকারও এখন পর্যন্ত পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়নি এবং এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আপত্তি রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এই পরিকল্পনা মূলত চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত একটি ১৫ দফা রোডম্যাপের ধারাবাহিকতা। সেখানে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, গাজার প্রশাসন একটি নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির হাতে হস্তান্তর, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ এবং পরে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাজার দীর্ঘ সংঘাত নিরসনের পথে বড় অগ্রগতি হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং চুক্তির প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়নের জটিলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও বাস্তবায়নের পথ সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খলিল আল-হাইয়া-কে নির্বাচিত করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ ঘোষণা দেয়। আল-হাইয়া দায়িত্ব নিচ্ছেন হামাসের সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে সিনওয়ার নিহত হন। হামাসের গাজা শাখার সাবেক প্রধান এবং সংগঠনটির অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে পরিচিত খলিল আল-হাইয়া দীর্ঘদিন ধরেই কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যু এবং পরে সিনওয়ারের নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি সংগঠনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উঠে আসেন। হামাসের নেতৃত্বের দৌড়ে সাবেক রাজনৈতিক প্রধান খালেদ মেশআল-এর নামও আলোচনায় ছিল। তবে আল-হাইয়াকে তুলনামূলকভাবে আরও কঠোর অবস্থানের নেতা হিসেবে দেখা হয়। হামাসের নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হলেও ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে তা বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত গাজা, পশ্চিম তীর, ইসরায়েলের কারাগারে থাকা হামাস সদস্য এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী পরিষদ আল-হাইয়াকে সংগঠনের নেতৃত্বে নির্বাচিত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন হামাসের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। এর মাধ্যমে সংগঠনটি জানিয়ে দিল, তারা এখনই নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটতে প্রস্তুত নয় এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত হামাস, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি। দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সংঘাতে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল।
অর্থপাচার ও হামাসকে সহায়তার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়ায় স্পেনের পর্যটন দ্বীপ ইবিজায় গ্রেপ্তার হয়েছেন মার্কিন ধনকুবের পরিবারের উত্তরাধিকারী জেমস "ফার্গি" কক্স চেম্বার্স জুনিয়র। বর্তমানে তিনি ইবিজার একটি কারাগারে রয়েছেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের বিষয়ে স্পেনের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। স্পেনের বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ পুলিশের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এক মার্কিন নাগরিককে আটক করা হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবে একাধিক গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী আটক ব্যক্তি ফার্গি চেম্বার্স। ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) ও এফবিআই চেম্বার্সের বিরুদ্ধে অর্থপাচার এবং হামাসকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করছে। তবে এফবিআই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং চেম্বার্স বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। চেম্বার্স মার্কিন গণমাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান কক্স এন্টারপ্রাইজেস প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কারণে আলোচনায় ছিলেন। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর বিভিন্ন ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ও কর্মসূচিতে অর্থায়ন করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গ্রেপ্তারের পর চেম্বার্সের সমর্থকেরা ইবিজা কারাগারের বাইরে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে তার সমালোচকেরা গ্রেপ্তারকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। এখন স্পেনের আদালত যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ আবেদন পর্যালোচনা করবে। আদালত অনুমোদন দিলে চেম্বার্সকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হতে পারে, যেখানে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থান ও সমর্থনের প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতায় এই অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বুধবার হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাসেম নাইম হামাস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আলোচনায় বাসেম নাইম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তেহরানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের দৃঢ় অবস্থান এবং প্রতিরোধমূলক ভূমিকাকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইরানের ধারাবাহিক নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে বাসেম নাইম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে ইরানের যে অবস্থান, তা এই অঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। তার মতে, এই সমর্থন ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ জাতীয় অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবে। আরাঘচি আরও জানান, গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ক্রমাবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতির বিষয়টি ইরান নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরাম, মধ্যস্থতাকারী দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরছে। তিনি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরান ও হামাসের এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টাও এতে আরও জোরালো হতে পারে।
ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন রূপ নিচ্ছে। যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পর প্রথমবারের মতো ইয়েমেন থেকে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও হুমকি মোকাবিলার জন্য দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়ার হুমকি দেয়ার পর হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও শুরু থেকেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরাইলের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল, তবে সরকারি ভাবে ইয়েমেন থেকে আসা কোনো হামলার কথা এবার প্রথমবার স্বীকার করা হলো। এর ঠিক একদিন আগে তেল আবিব লক্ষ্য করে ইরান থেকে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল, যা পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটেছিল এবং এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। ইয়েমেন থেকে শুরু হওয়া এই নতুন ফ্রন্ট মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।