আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় ইমিগ্রেশন ফাঁক’ বন্ধের দাবি হোয়াইট হাউসের

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ২:২২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে আবারও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে The White House। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় হোয়াইট হাউস জানায়, “আমেরিকা আমেরিকান জনগণের জন্য—আইন পাশ কাটিয়ে প্রবেশ করতে চাওয়া লাখো মানুষের জন্য নয়।”

 

একই পোস্টে দাবি করা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump “যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অভিবাসন ফাঁক” বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। পোস্টে আশ্রয় আবেদন ফরম I-589 Asylum Application এর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় ও বহিষ্কার স্থগিতের আবেদনপত্র হিসেবে পরিচিত।

 

এই বার্তার মাধ্যমে আশ্রয় প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং অবৈধ প্রবেশ রোধে নতুন নীতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারীদের আবেদন প্রক্রিয়া এবং মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

 

অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যদি আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া সীমিত করা হয়, তবে নির্যাতন বা সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষ বিপদে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থকরা এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

 

বর্তমানে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাহী আদেশ ঘোষণা না হলেও, হোয়াইট হাউসের এই বার্তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা হতে পারে যে ৫টি অপ্রত্যাশিত কারণে I ছবি: সংগৃহীত
গাঁজা সেবনের স্বীকারোক্তি থেকে মোবাইলের চ্যাট, যে ৫ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা হতে পারে

আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের অনেকের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ একটি নিয়মিত ঘটনা। তবে একটি বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা কিংবা ইএসটিএ (ESTA) থাকলেই যে দেশটিতে প্রবেশের শতভাগ নিশ্চয়তা মিলবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা বন্দর বা বিমানবন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। অনেক সময় গুরুতর কোনো অপরাধ বা ইমিগ্রেশন আইনের বড় কোনো লঙ্ঘন না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ কিছু ভুলের কারণে যাত্রীদের অপ্রত্যাশিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়। এর মধ্যে এমন কিছু কাজ রয়েছে, যেগুলোকে ভ্রমণকারীরা সম্পূর্ণ নির্দোষ মনে করলেও মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনে তা বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পাওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো 'হোমস্টে' বা বিনামূল্যে থাকার বিনিময়ে গৃহস্থালির কাজে সহায়তা করা। ভ্রমণ খরচ কমাতে অনেকেই স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে থাকেন এবং বিনিময়ে তাদের রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা পোষা প্রাণী দেখভালের মতো কাজ করে দেন। নগদ অর্থ লেনদেন না হলেও মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা একে ক্ষতিপূরণ বা 'অননুমোদিত কাজ' হিসেবে বিবেচনা করেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে ব্রিটিশ গ্রাফিক আর্টিস্ট রেবেকা বার্ক 'ওয়ার্কঅ্যাওয়ে' নামের একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এমন একটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ে অংশ নিয়ে বিপাকে পড়েন। তাকে কাজের ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে হাতকড়া পরিয়ে ১৯ দিন ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখার পর যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়।   অতীতের গাঁজা বা মারিজুয়ানা সেবনের কথা স্বীকার করাও ভ্রমণকারীদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৪টি অঙ্গরাজ্যে বিনোদনের উদ্দেশ্যে গাঁজা সেবন বৈধ হলেও, মার্কিন ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনে এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। ভ্রমণকালীন সময়ে গাঁজা বহন না করলেও, অতীতে তা সেবনের কথা স্বীকার করলে 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট'-এর ২১২ ধারার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। ২০২৪ সালে এক কানাডীয় পর্যটককে ২০১০ সালের একটি জিজ্ঞাসাবাদে গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করার জেরে সম্প্রতি সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানো হয় এবং তার 'নেক্সাস' কার্ডটি বাতিল করে দেওয়া হয়।   ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে আইনি কোনো সমস্যা না হওয়ার কথা থাকলেও, ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় দেশটিতে অবস্থান করা সিবিপি কর্মকর্তাদের সন্দেহের কারণ হতে পারে। এক কানাডীয় নারী কয়েক মাসের ব্যবধানে বারবার দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় তাকে পুনরায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। মূলত, পর্যটকদের নিজেদের দেশে শক্তিশালী শিকড় বা 'স্ট্রং টাইজ' প্রমাণ করতে হয়; অন্যথায় কর্মকর্তারা ধারণা করতে পারেন যে পর্যটক ভিসার আড়ালে ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করছেন।   এছাড়া পূর্বের কোনো ভিসার আবেদন অমীমাংসিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকলে সিবিপি কর্মকর্তারা পর্যটক ভিসায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি চালিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় সন্দেহ হলে কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীর মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করার আইনি ক্ষমতা রাখেন। ডিজিটাল মাধ্যমে যদি এমন কোনো চ্যাট, ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পাওয়া যায় যা দিয়ে চাকরি খোঁজা, দীর্ঘমেয়াদী বাড়িভাড়া, রিমোট জব করা বা স্থায়ী হওয়ার কোনো ইঙ্গিত মেলে, তবে পর্যটককে সাথে সাথেই ফেরত পাঠানো হবে। পর্যটক ভিসায় গিয়ে স্থায়ী হওয়ার এই 'ইমিগ্রেন্ট ইনটেন্ট' বা অভিবাসন অভিপ্রায় ডিজিটাল প্রমাণের মাধ্যমে ধরা পড়লে ভবিষ্যতে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৫:৪৫
কনর রিড ও তার স্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউতে ডেকে নিয়ে ব্রিটিশ তরুণকে আটক করল মার্কিন ইমিগ্রেশন

US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

লস অ্যাঞ্জেলেসে বার্ষিক ৩০০ কোটি ডলার খরচের পরও বাড়ছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা

কারাগারে সহবন্দির সঙ্গে সংঘর্ষ, নির্জন কারাবাসে শন ‘ডিডি’ কম্বস
কারাগারে সহবন্দির সঙ্গে সংঘর্ষ, নির্জন কারাবাসে শন ‘ডিডি’ কম্বস

যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত সংগীত তারকা শন ‘ডিডি’ কম্বস কারাগারে এক সহবন্দির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় নির্জন কারাবাসে গেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, নিউ জার্সির ফেডারেল কারাগার এফসিআই ফোর্ট ডিক্সে এ ঘটনা ঘটে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী কম্বস বর্তমানে ৫০ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কারাগারের ভেতরে এক সহবন্দির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে কারারক্ষীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে কম্বসকে নির্জন কারাবাসে পাঠানো হয়।   এবিসি নিউজ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কারা ব্যুরো বন্দিদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করার নীতির কারণে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   বিনোদন বিষয়ক সাময়িকী এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি জানায়, সংঘর্ষটি অল্প সময়ের মধ্যেই কারারক্ষীরা থামিয়ে দেন। তবে এই ঘটনার কারণে কম্বসের সাজা বা সম্ভাব্য মুক্তির তারিখে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   শন ‘ডিডি’ কম্বস ২০২৫ সালে পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্যক্তিদের পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ৫০ মাসের কারাদণ্ড পান। তবে যৌন পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার মতো গুরুতর অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। বর্তমানে তিনি নিউ জার্সির এফসিআই ফোর্ট ডিক্স কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।   ঘটনার পর কম্বসের আইনজীবী বা প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কারা কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার নীতির কথা উল্লেখ করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:২৪
Donald Trump listens as Mehmet Oz speaks

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ধাক্কা, গুরুত্বপূর্ণ চার লড়াইয়ে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

বাড়ি আছে, কিন্তু মানুষের জন্য নয় আবাসন সংকটে নতুন বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে

বাড়ি আছে, কিন্তু মানুষের জন্য নয় আবাসন সংকটে নতুন বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে

ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরি

ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যে আটক ভারতীয় গবেষককে ফের বন্দি করতে চেয়েও ব্যর্থ ট্রাম্প প্রশাসন

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন বিচারকদের গণহারে ছাঁটাই করছে ট্রাম্প প্রশাসন, উদ্বেগ জানাল জাতিসংঘ

যুক্তরাষ্ট্রে শতাধিক ইমিগ্রেশন বিচারককে গণছাঁটাই এবং অবৈধ অভিবাসীদের তড়িঘড়ি করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত এসব সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে এবং অভিবাসীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকারকে চরমভাবে বিঘ্নিত করতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিকাগোসহ দেশজুড়ে অন্তত ১০০ জনেরও বেশি ইমিগ্রেশন বিচারককে পদচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া বহাল থাকা বিচারকদের ওপর বিচার বিভাগ থেকে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।   বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই পদক্ষেপগুলো কেবল বিচার বিভাগ পুনর্গঠন বা ছোট করার বিষয় নয়, বরং নিরপেক্ষ বিচারকদের সরিয়ে তাদের জায়গায় মূলত 'বহিষ্কার কার্যকর করার বিচারক' বসানোর একটি রাজনৈতিক চেষ্টা।   তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যারা নির্যাতন বা বৈষম্যের ভয়ে আশ্রয়ের আবেদন করছেন, তাদের মামলা অবশ্যই একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থার অধীনে শুনানির অধিকার রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রযোজ্য বাধ্যতামূলক আইনি বাধ্যবাধকতার স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটাচ্ছে।   এদিকে শিকাগোর সাবেক ইমিগ্রেশন বিচারক কার্লা এস্পিনোজা জানান, বর্তমান বিচারকদের ওপর মামলা দ্রুত শেষ করার জন্য প্রশাসনিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। অভিবাসীদের তাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কিংবা মুক্তির আবেদন জানানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না।   জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে একজন বিচারককে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১০০ থেকে ২০০টি মামলা নিষ্পত্তি করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগকে কার্যত অসম্ভব করে তোলে। সংস্থাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী নাগরিক বা অনাগরিক নির্বিশেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রত্যেকেরই আইনি সুরক্ষার (ডিউ প্রসেস) অধিকার রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৩:৫৪
টেক্সাসে ট্রেনের কনটেইনারে ৭ অভিবাসীর মৃত্যু, মানবপাচারের অভিযোগে ইউএস সিটিজেনসহ ১১ জন অভিযুক্ত

টেক্সাসে ট্রেনের কনটেইনারে ৭ অভিবাসীর মৃত্যু, মানবপাচারের অভিযোগে ইউএস সিটিজেনসহ ১১ জন অভিযুক্ত

অবসরে গিয়ে যে দুই ভুলের জন্য আফসোস করছেন অর্ধেকের বেশি আমেরিকান

অবসরে গিয়ে যে দুই ভুলের জন্য আফসোস করছেন অর্ধেকের বেশি আমেরিকান

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিজ মায়ের হাতে তিন সন্তান হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে কেঁদে ফেললেন আদালতে উপস্থিত সদস্যরা

0 Comments