আমেরিকা

শীতঝড় ও তুষারপাতের তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ জনের মৃত্যু, বাতিল ২০ হাজারের বেশি ফ্লাইট

শাহারিয়া নয়ন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শীতঝড় ও ভারী তুষারপাতের কারণে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।

 

বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে এবিসি নিউজ জানায়, টেক্সাসের ডালাসের কাছে ফ্রিসকো শহরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। ফ্রিসকো পুলিশের বরাতে জানা যায়, একটি গাড়ির সঙ্গে দড়ি বেঁধে স্লেজে করে টানা হচ্ছিল দুই কিশোরীকে। গাড়িটি চালাচ্ছিল এক কিশোর। চলন্ত অবস্থায় স্লেজটি প্রথমে ফুটপাতের বেষ্টনিতে ধাক্কা খায় এবং পরে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই এক কিশোরীর মৃত্যু হয়।

 

টেক্সাসের অস্টিন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত গ্যাস স্টেশনের পার্কিং লট থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র শীতে হাইপোথার্মিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

 

আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে তুষারপাতের মধ্যে এটিভি (অল-টেরেইন ভেহিকল) চালাতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় স্যালাইন কাউন্টি শেরিফ অফিস।

 

পেনসিলভানিয়ার লিহাই কাউন্টিতে তুষার পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বয়স ৬০ থেকে ৮৪ বছরের মধ্যে। ওই কাউন্টির করোনার জানিয়েছেন, হৃদ্‌রোগ বা অন্যান্য জটিলতা থাকলে তুষার পরিষ্কারের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

 

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি জানান, শহরটিতে ঝড়ের কারণে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসে একটি পার্কিং লটে তুষার সরানোর সময় বিশেষায়িত যান পেছনে নেওয়ার সময় চাপা পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়।

 

এ ছাড়া টেনেসিতে তিনজন, লুইজিয়ানায় দুজন এবং কানসাসে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

৭ লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন

ঝড়ের প্রভাবে সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাত লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেনেসি, মিসিসিপি, লুইজিয়ানা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্য।

 

ন্যাশভিল ইলেকট্রিক সার্ভিস জানিয়েছে, বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে তারা কর্মীসংখ্যা দ্বিগুণ করছে। প্রায় ৩০০ লাইনওয়ার্কার ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছেন। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ না থাকা অত্যন্ত কষ্টকর। সর্বাধিক সংখ্যক গ্রাহকের কাছে দ্রুত বিদ্যুৎ পৌঁছানোই আমাদের অগ্রাধিকার।’

 

বাতিল ২০ হাজারের বেশি ফ্লাইট

শীতঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সোমবার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চার হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ডালাস, বোস্টন ও নিউইয়র্ক সিটি থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল এমন ফ্লাইটগুলোতে।

 

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানায়, গত শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত ঝড়ের কারণে ২০ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শুধু রোববারই বাতিল হয়েছে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট, যা করোনা মহামারির পর একদিনে সর্বোচ্চ বাতিলের রেকর্ড।

জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের বরফ গলছে
যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের বরফ গলছে

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল হোয়াইট হাউস। দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারকে তেল বিক্রির বকেয়া ৫০ কোটি ডলার ফিরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   মূলত ভেনেজুয়েলার ধসে পড়া অর্থনীতি সচল রাখতে এবং জনসেবামূলক খাতের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতেই এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।   কাতারে গচ্ছিত এই অর্থ এখন থেকে ভেনেজুয়েলার শিক্ষক, পুলিশ এবং জরুরি সেবা কর্মীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। গত মাসে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে হওয়া গোপন চুক্তির অংশ হিসেবেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জেফরি এপস্টেইন ফাইল নিয়ে তোলপাড়

হাজারো নথি সরিয়ে নিল মার্কিন বিচার বিভাগ

ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসন প্রশ্নে নতুন বিতর্ক— আদালতের রায়ে স্থগিত ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আরব সাগরে সামরিক উত্তেজনা চরমে- মার্কিন বাহিনীর গুলিতে ইরানি ড্রোন ভেঙে পড়ে

নতুন ইতিহাস গড়ল ওয়ালমার্ট
১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল ওয়ালমার্ট

বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) মার্কিন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। খুচরা বিক্রেতা হিসেবে বিশ্বের ইতিহাসে ওয়ালমার্টই প্রথম এই রেকর্ড গড়ল।   শেয়ার বাজারে অভাবনীয় সাফল্য: গত এক বছর ধরে ওয়ালমার্টের শেয়ারের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই ওয়ালমার্ট ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে সরিয়ে প্রযুক্তি-নির্ভর 'নাসডাক-১০০' (Nasdaq-100) ইনডেক্সে জায়গা করে নিয়েছিল।   সাফল্যের নেপথ্যে কারণ: বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চবিত্ত গ্রাহকদের কেনাকাটার ধরণ পরিবর্তন এবং দ্রুত ডেলিভারি সেবার কারণে ওয়ালমার্টের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক এবং আসবাবপত্রের মতো পণ্যগুলোর চাহিদা বৃদ্ধিতে ওয়ালমার্ট বড় ভূমিকা রেখেছে।   আর্থিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এগিয়ে চলা: যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থান বাজারে কিছুটা মন্দা ভাব থাকা সত্ত্বেও ওয়ালমার্ট তার অবস্থান শক্ত রেখেছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো যখন বাড়তি খরচের চাপে হিমশিম খাচ্ছে, তখনো ওয়ালমার্টের সাশ্রয়ী নীতি গ্রাহকদের ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। এমনকি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) ইনডেক্সের তুলনায় ওয়ালমার্টের শেয়ারের প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।   আর্কানসাস ভিত্তিক এই চেইন শপটির এই সাফল্য বৈশ্বিক খুচরা বাজারের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0

নির্বাচন ব্যবস্থাকে 'জাতীয়করণ' করার আহ্বান ট্রাম্পের: তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন

কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন

ইউএস স্ট্র্যাটেজিক ক্রিটিক্যাল মিনারেলস রিজার্ভ

খনিজ সম্পদের সুরক্ষায় ‘প্রজেক্ট ভল্ট’, মার্কিন শিল্প খাতে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ ট্রাম্পের

ভারতের ওপর শুল্ক ৫০% থেকে নামিয়ে ১৮% করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর থেকে অতিরিক্ত শুল্ক কমিয়ে আনার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর টেলিফোন আলাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হওয়ার পরেই এই শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। শুল্কের বিবর্তন (২০২৫-২০২৬): সময়কাল শুল্কের হার কারণ/ঘটনা ২০২৫-এর আগে ১৫% নিয়মিত বাণিজ্য শুল্ক। এপ্রিল ২০২৫ ২৫% ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর 'রিসিপ্রোকাল শুল্ক' হিসেবে উন্নীত। আগস্ট ২০২৫ ৫০% রাশিয়া থেকে তেল কেনার দায়ে অতিরিক্ত ২৫% 'পেনাল্টি' শুল্ক আরোপ। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮% নতুন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় শুল্ক হ্রাস।   ট্রাম্পের পোস্ট অনুযায়ী, নতুন এই চুক্তির ফলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে: রাশিয়ান তেল বর্জন: ভারত রাশিয়ার বদলে এখন যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভব হলে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি: ভারত আগামীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি এবং কয়লাজাত পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য: ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর থেকে তাদের শুল্ক এবং 'নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার' কমিয়ে শূন্য (Zero) শতাংশে নামিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করবে।   প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জন্য একটি বড় জয় এবং এর ফলে 'মেড ইন ইন্ডিয়া' পণ্যগুলো মার্কিন বাজারে পুনরায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরতে পারবে। এদিকে, ভারতীয় শেয়ার বাজারে এই খবরের পর বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বিশেষ করে আইটি (IT) এবং টেক্সটাইল খাতের শেয়ারগুলোর দাম এক দিনেই ৫% থেকে ৮% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।  ট্রাম্প প্রশাসন এই শুল্ক ছাড়কে 'বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার' বহিঃপ্রকাশ বললেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি করেছিল, যা ট্রাম্পকে এই সিদ্ধান্তে ত্বরান্বিত করেছে।

মোহাইমিনুল ইসলাম ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
ছবি: এআই-নির্মিত

কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইলে বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি নামের উল্লেখ

গিলেইন ম্যাক্সওয়েল ও জেফরি এপস্টেইন। ছবি: এবিসি নিউজ

কিভাবে প্রথম শিকার ধরেছিলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে সমঝোতা, ভারতীয় পণ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

0 Comments