আমেরিকা

এক ভবনের ভেতরে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ! রহস্যে ঘেরা আমেরিকার ফোর্ট নক্স

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: মে ১০, ২০২৬ ১৬:৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়ঘেরা নিরিবিলি এক এলাকা। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি সামরিক স্থাপনা মনে হতে পারে। কিন্তু সেই বিশাল কংক্রিট আর গ্রানাইটের দেয়ালের ভেতরেই নাকি লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বর্ণভান্ডারের একটি—প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ।

এই রহস্যময় জায়গাটির নাম ফোর্ট নক্স।

 

দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এই গোপন ভল্টকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গল্প, রহস্য আর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। কেউ বলেন, সেখানে এখনও হাজার হাজার টন খাঁটি স্বর্ণ সযত্নে রাখা আছে। আবার কেউ দাবি করেন, বহু আগেই সেই ভল্ট খালি হয়ে গেছে—কিন্তু সত্য জানে কেবল হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ।

 

সম্প্রতি আবারও আলোচনায় আসে ফোর্ট নক্স, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজেই সেখানে গিয়ে দেখতে চান সত্যিই স্বর্ণগুলো এখনও আছে কি না।

শুনতে যেন হলিউডের কোনো থ্রিলার সিনেমা। কিন্তু বাস্তবের ফোর্ট নক্স তার চেয়েও রহস্যময়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এই ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠোরগুলোর একটি বলে মনে করা হয়। বিশাল স্টিলের দরজা, বিস্ফোরণ প্রতিরোধী দেয়াল, চারপাশে সেনাবাহিনীর কড়া পাহারা এবং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে ঘেরা পুরো এলাকা। বলা হয়, ভল্টের দরজার পাসওয়ার্ডও কোনো এক ব্যক্তি পুরোটা জানেন না—বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা কর্মকর্তার কাছে থাকে।

 

ফোর্ট নক্স সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ। এমনকি বহু মার্কিন রাজনীতিকও কখনও এর ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাননি। ইতিহাসে মাত্র কয়েকবার সাংবাদিক ও বিশেষ অতিথিদের সীমিতভাবে ভল্ট দেখানো হয়েছিল। এরপর থেকেই রহস্য আরও গভীর হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে সংরক্ষিত স্বর্ণ শুধু ধন-সম্পদ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি, বৈশ্বিক প্রভাব এবং আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও মূল্যবান সম্পদও এখানে নিরাপদে রাখা হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—সত্যিই কি সেই ভল্ট এখনও সোনায় ভরা? নাকি বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ভবনের ভেতরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো অজানা সত্য?

 

রহস্যের উত্তর আজও পুরোপুরি জানা যায়নি। আর সেই কারণেই ফোর্ট নক্স এখনও বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও কৌতূহলোদ্দীপক গোপন ভল্টগুলোর একটি।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির বিরুদ্ধে আড়াই লাখ ডলার জরিমানা। কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
মিথ্যা অ্যাসাইলাম আবেদন: ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির বিরুদ্ধে আড়াই লাখ ডলার জরিমানার প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) প্রথমবারের মতো এক অভিবাসন আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটির অভিযোগ, অভিবাসন আইনজীবী ভিনোদ দোড্ডামানি একাধিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) মামলায় ভুয়া নথি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে আবেদন দাখিল করেছেন। এ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৩২ ডলার জরিমানার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।   এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৩ জুন আইসিই এ পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। এর আগে ২২ জুন সংস্থাটির তদন্ত শাখা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) দোড্ডামানির কাছে পাঁচটি ‘নোটিশ অব ইনটেন্ট টু ফাইন’ জারি করে।   মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) অভিযোগ অনুযায়ী, দোড্ডামানি ৩২টি অভিবাসন মামলায় মোট ৬৪টি জাল নথি জমা দিয়েছেন। তদন্তে দেখা গেছে, এসব আশ্রয় আবেদনের সঙ্গে যুক্ত বিবৃতিগুলোর ভাষা, ঘটনার বর্ণনা এবং কথিত নির্যাতনের বিবরণ প্রায় হুবহু একই ছিল। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে একই ধরনের তথ্য ব্যবহার করে আশ্রয় আবেদন দাখিলের একটি ধারাবাহিক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।   এবিসি নিউজ জানায়, এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন প্রয়োগ নীতির অংশ। গত মে মাসে ডিএইচএসের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল আইসিই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, যারা জেনে-শুনে ভুয়া বা জাল অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি প্রস্তুত বা দাখিল করেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক জরিমানার বিধান আরও সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করতে।   ডিএইচএসের ভাষ্য, ভুয়া আশ্রয় আবেদন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, প্রকৃত আবেদনকারীদের মামলার নিষ্পত্তি বিলম্বিত করে এবং পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নতুন নীতির আওতায় প্রথমবারের অপরাধে প্রতিটি জাল নথির জন্য সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭৩০ ডলার পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে।   তবে এই জরিমানা এখনো চূড়ান্ত নয়। ভিনোদ দোড্ডামানি প্রশাসনিক আইন বিচারকের কাছে অভিযোগের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাঁর আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে অভিবাসন আইন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, ভুয়া নথি দাখিলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক জরিমানার এই নতুন নীতি বৈধ আশ্রয়প্রার্থীদের পক্ষে মামলা পরিচালনায় কিছু আইনজীবীকে নিরুৎসাহিত করতে পারে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতির অভিযোগ মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ অভিবাসন আইনজীবীদের পেশাগত জবাবদিহি এবং আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ২৩:২
ভোটব্যবস্থা নিয়ে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়। কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে স্থগিতাদেশ দিল ফেডারেল আদালত

নিরাপদ সড়কের সুবিধা পাচ্ছেন পথচারী ও গাড়িচালকেরাও। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সির সবচেয়ে সাইকেলবান্ধব শহর হবোকেন, নিরাপদ সড়কের সুফল পাচ্ছেন সবাই

নিউইয়র্কে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু। কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে চরম অবহেলায় তিন বছরের শিশুর মৃত্যু, আদালতে দোষ স্বীকার করলেন বাবা-মা

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থির রাখার পথে মামদানি, উদ্বেগে বাড়ির মালিক ও বিশেষজ্ঞরা

নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়া নিয়ন্ত্রিত ১০ লাখের বেশি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া আগামী বছর বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে শহরের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড। বৃহস্পতিবারের এই ভোটকে নতুন মেয়র জোহরান ম্যামদানির আবাসন নীতির প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভাড়া স্থির রাখার সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে ভাড়াটিয়াদের স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি নতুন আবাসন সংকট তৈরি করতে পারে।   চলতি বছরের মে মাসে নয় সদস্যের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড ভাড়া শূন্য শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় আনে। নির্বাচনী প্রচারণায় ম্যামদানি ভাড়া নিয়ন্ত্রিত বাসার ভাড়া না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এই ভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে ম্যামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ের পর তার রাজনৈতিক প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফলে ভাড়া স্থির রাখার প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সেটিকে তার জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবেও দেখা হবে।   তবে আবাসন বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্ধান্তটির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবা প্রয়োজন। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, ভাড়া স্থির রাখার ধারণা শুনতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব আবাসন খাতকে দুর্বল করে দিতে পারে। তার ভাষ্য, ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা, জ্বালানি, সম্পত্তি কর এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় প্রতি বছরই বাড়ছে। কিন্তু ভাড়া না বাড়লে ভবনের মালিকদের আয়ও স্থির থাকবে। এতে ভবন মেরামত, সংস্কার এবং পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট বসবাসযোগ্য রাখতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।   নিউইয়র্কের ক্ষুদ্র সম্পত্তি মালিকদের সংগঠনের সভাপতি অ্যান করচাকও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের নিজস্ব পরিচালন ব্যয় সূচক অনুযায়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রিত ভবনের ব্যয় গড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। শুধু বীমা খরচই এক বছরে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মতে, বাস্তব ব্যয় বাড়লেও ভাড়া অপরিবর্তিত রাখলে ছোট ভবনের মালিকরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন। ম্যামদানি অবশ্য ভবনের মালিকদের বীমা ব্যয় কমাতে নগর প্রশাসনের সহায়তায় একটি নতুন বীমা কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। এছাড়া কোন ভবন বা মালিক এই সুবিধা পাবেন, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই।   বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আয় কমে গেলে অনেক মালিক ভবন সংস্কার বিলম্বিত করবেন অথবা খালি থাকা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার পরিবর্তে ফাঁকা রাখতেই আগ্রহী হবেন। এতে ভাড়া নিয়ন্ত্রিত আবাসনের সংখ্যা কার্যত কমে যেতে পারে। বর্তমানে নিউইয়র্কে প্রায় ৫০ হাজার 'ঘোস্ট অ্যাপার্টমেন্ট' রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো এমন ভাড়া নিয়ন্ত্রিত বাসা, যা দীর্ঘদিন খালি থাকলেও পুনরায় ভাড়ার বাজারে আনা হয়নি। সমালোচকদের মতে, ভাড়া স্থির রাখার সিদ্ধান্ত এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।   জেক ক্রিমেলের মতে, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কঠোর নীতি অনেক সময় নতুন সমস্যার জন্ম দেয়। তিনি ২০১৯ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে পরিচালিত একটি গবেষণার উদাহরণ তুলে ধরেন। সেখানে দেখা যায়, কঠোর ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে ভাড়ার জন্য উপলব্ধ আবাসনের সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যায়। অনেক মালিক ভবন বিক্রি করে দেন অথবা উচ্চমূল্যের কন্ডোমিনিয়ামে রূপান্তর করেন। যদিও নিউইয়র্কের আবাসন বাজার সান ফ্রান্সিসকোর তুলনায় ভিন্ন, তবুও অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ভবনের মালিকরা পর্যাপ্ত আয় না পান, তাহলে তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারেন। এর ফলে ভবনের মানের অবনতি, খালি অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাজারে নতুন ভাড়ার বাসার সংকট আরও তীব্র হতে পারে।   অন্যদিকে ম্যামদানির সমর্থকদের যুক্তি, নিউইয়র্কের অর্ধেকেরও বেশি ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়িভাড়ার পেছনে ব্যয় করেন। জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় ভাড়া স্থির রাখা লাখো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাড়াটিয়াদের স্বস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবনের মালিকদের জন্যও কার্যকর আর্থিক সহায়তা, সংস্কার তহবিল এবং কঠোর তদারকির ব্যবস্থা না থাকলে শুধু ভাড়া স্থির রাখার নীতি দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে। নিউইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় ভাড়াটিয়া ও সম্পত্তি মালিক, উভয় পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ২১:৪৬
বাড়ি কেনার আগে জেনে নিন কোথায় কী ধরনের আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। ছবি: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কিনলে মিলতে পারে বাড়তি সুবিধা?

এক মার্কিন নাগরিকের হাসপাতালের বিল ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকায় ২৪ হাজার ডলারের হাসপাতাল বিল কমে হলো আড়াই হাজার ডলার

নিউ জার্সির নেওয়ার্ক শহর। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ খেলা দেখে বাড়ি ফেরা হলো না, নিউ জার্সিতে প্রাণ গেল দুই নারীর

নিহত পরিবারের সদস্যদের স্মরণে অ্যাপার্টমেন্টের সামনে ফুল ও বেলুন রেখে শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে একই পরিবারের ৬ সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু, অপরাধ তদন্ত শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সারাটোগা কাউন্টির মেকানিকভিল শহরে একই পরিবারের ছয় সদস্যকে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীদের উদ্বেগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি ওয়েলফেয়ার চেক পরিচালনা করতে গিয়ে দাদি, তার মেয়ে এবং চার নাতি-নাতনির মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে অপরাধ তদন্ত শুরু হয়েছে।   মেকানিকভিল পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ২০ মিনিটে হ্যারিস অ্যাভিনিউর একটি অ্যাপার্টমেন্টে পুলিশ পৌঁছে ৬৪ বছর বয়সী অ্যামি স্টেডম্যান, তার ৪৪ বছর বয়সী মেয়ে সারাহ মায়ার্স এবং সারাহর চার সন্তান—১৩ বছর বয়সী হার্পার হারমন, ১১ বছর বয়সী হাডসন হারমন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ গ্যাভিন হারমন ও গ্রেসেলিন হারমনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।    পুলিশ জানায়, অ্যামি স্টেডম্যান ওই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। তবে তার মেয়ে সারাহ মায়ার্স ও চার সন্তান একই আবাসন প্রকল্পের অন্য একটি ইউনিটে থাকতেন। কী কারণে সবাই স্টেডম্যানের বাসায় ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।    মেকানিকভিল পুলিশ প্রধান বিল র্যাবিট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ময়নাতদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত ঘটনাটি অপরাধমূলক তদন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে পরিবারের বাইরের অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকির তথ্যও নেই।    তিনি আরও বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড, হত্যার পর আত্মহত্যা বা অন্য কোনো ধরনের মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে নিশ্চিতভাবে আখ্যায়িত করা সম্ভব নয়। মৃত্যুর কারণ ও ধরন নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের কাউকে দেখতে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে প্রতিবেশীরা কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুরো মেকানিকভিল শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে।   তদন্তে সহায়তা করছে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের মেজর ক্রাইমস ইউনিট। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান না করার আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ।  

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১৯:৩৪
নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বাহিনীতে একসঙ্গে এক হাজারের বেশি নতুন পুলিশ কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন l ছবি: সংগৃহীত

একসঙ্গে ১,০০০-এর বেশি নতুন পুলিশ কর্মকর্তা পেল নিউইয়র্ক, ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে দায়িত্বে যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ l ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা অনুদানে জালিয়াতি ঠেকিয়ে ২০০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের

ফুলব্রাইট বৃত্তির হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সফলভাবে মাস্টার্স শেষ করলেন সুমাইতা নাহার l ছবি: বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাস

ফুলব্রাইট বৃত্তির হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, সফলভাবে মাস্টার্স শেষ করলেন সুমাইতা নাহার

0 Comments