আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারীর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৫:৪১
ছবিঃ অন্তঃসত্ত্বা নারী লিয়া হাইড ও তার স্বামী
ছবিঃ অন্তঃসত্ত্বা নারী লিয়া হাইড ও তার স্বামী


যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারী লিয়া হাইড নিহত হয়েছেন। স্প্রিংফিল্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে রাস্তার পাশে নামার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি প্রাণ হারান।

 

স্থানীয় সময় চলতি সপ্তাহের শুরুতে উইলার্ড এলাকার পশ্চিম জেমস রিভার এক্সপ্রেসওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

 

পুলিশ জানায়, লিয়া হাইড তার ২০১৫ মডেলের সুবারু ফরেস্টার গাড়ি নিয়ে পশ্চিমমুখী লেনে চলার সময় একটি সড়ক বিভাজকের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়েন। দুর্ঘটনার পর তিনি গাড়ি থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত লিয়া হাইড পেশায় একজন থেরাপিস্ট ছিলেন। তিনি একটি কন্যাসন্তানের মা হতে চলেছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

সহকর্মী ও পরিচিতরা জানান, লিয়া হাইড অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল একজন থেরাপিস্ট ছিলেন, যিনি রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করতেন।

 

পারিবারিক বন্ধু ভ্যালেরি উইলিস বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই লিয়াকে চিনতেন এবং মানুষের প্রতি তার যত্নশীল আচরণ তাকে আলাদা করে তুলেছিল। আরেক পারিবারিক বন্ধু বার্নাডেট শিভলি জানান, লিয়া হাইড তার পরিবারের চিকিৎসা সহায়তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং সবার সঙ্গে গভীর আন্তরিকতায় সম্পর্ক রাখতেন।

 

লিয়া হাইড সম্প্রতি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জশ স্নডগ্রাসকে বিয়ে করেন। দম্পতি তাদের অনাগত কন্যাসন্তানের নাম ঠিক করেছিলেন লার্ক এলিজাবেথ।

 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কমিউনিটির মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিভিন্ন উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ডলারের বেশি অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ডলার।

স্থানীয়রা বলছেন, এই সহায়তা লিয়া হাইড ও তার পরিবারের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবিঃ অন্তঃসত্ত্বা নারী লিয়া হাইড ও তার স্বামী
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারীর

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারী লিয়া হাইড নিহত হয়েছেন। স্প্রিংফিল্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে রাস্তার পাশে নামার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি প্রাণ হারান।   স্থানীয় সময় চলতি সপ্তাহের শুরুতে উইলার্ড এলাকার পশ্চিম জেমস রিভার এক্সপ্রেসওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।   পুলিশ জানায়, লিয়া হাইড তার ২০১৫ মডেলের সুবারু ফরেস্টার গাড়ি নিয়ে পশ্চিমমুখী লেনে চলার সময় একটি সড়ক বিভাজকের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়েন। দুর্ঘটনার পর তিনি গাড়ি থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   নিহত লিয়া হাইড পেশায় একজন থেরাপিস্ট ছিলেন। তিনি একটি কন্যাসন্তানের মা হতে চলেছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   সহকর্মী ও পরিচিতরা জানান, লিয়া হাইড অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল একজন থেরাপিস্ট ছিলেন, যিনি রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করতেন।   পারিবারিক বন্ধু ভ্যালেরি উইলিস বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই লিয়াকে চিনতেন এবং মানুষের প্রতি তার যত্নশীল আচরণ তাকে আলাদা করে তুলেছিল। আরেক পারিবারিক বন্ধু বার্নাডেট শিভলি জানান, লিয়া হাইড তার পরিবারের চিকিৎসা সহায়তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং সবার সঙ্গে গভীর আন্তরিকতায় সম্পর্ক রাখতেন।   লিয়া হাইড সম্প্রতি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জশ স্নডগ্রাসকে বিয়ে করেন। দম্পতি তাদের অনাগত কন্যাসন্তানের নাম ঠিক করেছিলেন লার্ক এলিজাবেথ।   দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কমিউনিটির মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিভিন্ন উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ডলারের বেশি অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ডলার। স্থানীয়রা বলছেন, এই সহায়তা লিয়া হাইড ও তার পরিবারের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৫:৪১
ছবি: নিউইয়র্ক পুলিশে তিন বাংলাদেশি কর্মকর্তা

নিউইয়র্ক পুলিশে আবারও বাংলাদেশিদের সাফল্য, তিন কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি

ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কের পার্কে গাছ ভেঙে পড়ে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

রেস্ট্রেইনিং অর্ডার লঙ্ঘনের অভিযোগে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ম্যাক্স মিলারের বিরুদ্ধে আদালতে নথি

ছবি: সংগৃহীত
ড্রাইভিং লাইসেন্সেই থাকবে নাগরিকত্ব, ফ্লোরিডায় কড়া আইন আনলেন ডেসান্টিস

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ও নবায়নকৃত ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং স্টেট আইডি কার্ডে নাগরিকত্ব বা অভিবাসন স্ট্যাটাস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গভর্নর রন ডেসান্টিসের সই করা নতুন আইন 'এইচবি ৯৯১' (HB 991)-এর অধীনে এই বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা মূলত কেন্দ্রীয় 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট'-এর ফ্লোরিডা সংস্করণ। নতুন এই নিয়মের ফলে কার্ডধারী ব্যক্তি আমেরিকার নাগরিক নাকি অন্য কোনো দেশের বৈধ অভিবাসী, তা আইডি কার্ড দেখেই সরাসরি নিশ্চিত করা যাবে।   বর্তমান লাইসেন্স বা আইডি কার্ডধারীদের এই পরিবর্তনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কোনো দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। পরবর্তী সময়ে কার্ড নবায়ন বা প্রতিস্থাপনের সময় এই তথ্যটি লাইসেন্সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যাবে। এছাড়া যেসব ব্যক্তি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাবেন, তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাদের এই নাগরিকত্ব সংবলিত নতুন কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।   নতুন এই আইনের মাধ্যমে ভোটদানের ক্ষেত্রে আইডেন্টিফিকেশন (আইডি) কার্ড সংক্রান্ত নিয়মাবলি আরও কঠোর করা হয়েছে। এখন থেকে ফ্লোরিডায় ভোট দেওয়ার জন্য স্টুডেন্ট আইডি, রিটায়ারমেন্ট কমিউনিটি আইডি, ডেবিট কার্ড এবং পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স (সরকারি সাহায্য) কার্ড গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   আইনটিতে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক প্রার্থীদের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে নির্বাচনে দাঁড়ানো প্রার্থীদের জন্য তাদের স্টক ট্রেডিং (শেয়ার ব্যবসা) এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ০:১
ছবি: সংগৃহীত

বিমানবন্দর-ক্যাফের ফ্রি চার্জার ব্যবহার করছেন? অজান্তেই চুরি হতে পারে ফোনের তথ্য

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নিজের একটি মন্টেজ ভিডিও শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: ট্রুথ সোশ্যালের ভিডিও থেকে নেওয়া  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ

‘ডোনাল্ড, ডোনাল্ড ট্রাম্প’: নিজের গুণগানভরা মিউজিক ভিডিও পোস্ট, বিশ্ব তাকে ভালোবাসতে বাধ্য—দাবি ট্রাম্পের

বামে বাংলাদেশি তরুণী নিশাত জান্নাত।  ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে গার্বেজ ট্রাকের ধাক্কায় বাংলাদেশি তরুণী নিশাতের মৃত্যু, নয় সপ্তাহ পর চালক গ্রেপ্তার

অভিবাসন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাতিলের রায়ে ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের জন্য স্বস্তি ফিরেছে ।  ছবি: সংগৃহীত
৩৯ দেশের অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন ও ভিসা প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধ বাতিল করে দিয়েছেন একটি মার্কিন ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে হাজারো অভিবাসী দীর্ঘ সময় আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলেন।   শুক্রবার (২৯ মে) ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল এ সংক্রান্ত রায় দেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ওই বিধিনিষেধ জারি করেছিল।   রায়ে বিচারক জন ম্যাককনেল উল্লেখ করেন, এই নীতির কারণে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড, কাজের অনুমতি এবং নাগরিকত্বের আবেদন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।   রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, এই নীতি “যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে এক অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।”   ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিধিনিষেধের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিচারক ম্যাককনেল বলেন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জাতীয় নিরাপত্তার একটি ‘ভুয়া অজুহাত’ ব্যবহার করেছে, যা অভিবাসী-বিরোধী মনোভাবকে আড়াল করার চেষ্টা।   তিনি আরও বলেন, “ইউএসসিআইএস-এর এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে নয়, বরং তাদের জন্মগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।”   বিচারক রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর অনেক আবেদনকারী কাজ করার সুযোগ হারিয়েছেন, আইনি মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করার সক্ষমতাও হারিয়েছেন।”   ভুক্তভোগী ৩৯টি দেশের অধিকাংশই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলের দেশ।   নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর বৈধ অভিবাসনের বিভিন্ন পথও সীমিত করার পদক্ষেপ নেন বলে সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছেন।   গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।   এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর অনুমোদিত শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বার্ষিক কোটা কমিয়ে ৭ হাজার ৫০০-তে নামিয়ে আনে, যা পরে আরও ১০ হাজার বৃদ্ধি করা হয়।   একই সময়ে প্রশাসন ‘শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকান’দের পুনর্বাসনে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিও গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা দেয়।   আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে আইনি সহায়তাকারী সংস্থা ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, “এই রায় একটি মৌলিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফেডারেল সরকার কোনো আইনি অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না এবং কোনো ব্যক্তি কোথা থেকে এসেছেন তার ভিত্তিতে বৈষম্যও করতে পারে না।”   তিনি আরও বলেন, “এই বেআইনি নীতিগুলো সারা দেশে পরিবার, শ্রমিক, আশ্রয়প্রার্থী এবং বিভিন্ন কমিউনিটির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। তারা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন এবং কাজ করা, আইনি সুরক্ষা পাওয়া কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৬, ২০২৬ ১৫:৪৩
ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬’

ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬’, সহস্রাধিক দর্শনার্থীর সমাগম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যময় বস্তু ধ্বংসে ব্যবহার করা হয় ৫ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র, পরে জানা গেল সেটি ছিল গবেষণা বেলুন

ছবি: আমেরিকা বাংলা

অনলাইনে প্রেম, শেষে প্রতারণা: অস্তিত্বহীন নারীর পেছনে হারালেন ৪ লাখ ডলারের বেশি

0 Comments