আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে ১৯ লাখ ডলারের বাড়িরই দখল নিলেন ফরাসি ভাড়াটিয়া

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৯:৮
ক্যালিফোর্নিয়ায় আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে ১৯ লাখ ডলারের বাড়িরই দখল নিলেন ফরাসি ভাড়াটিয়া I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ক্যালিফোর্নিয়ায় আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে ১৯ লাখ ডলারের বাড়িরই দখল নিলেন ফরাসি ভাড়াটিয়া I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি ভাড়া দিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিলেন ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকার চ্যাম্পিয়ন ওয়েন্ডি ওয়েইসম্যান। লস অ্যাঞ্জেলেসের হারমোসা বিচে অবস্থিত তার ১৯ লাখ ডলারের বিলাসবহুল বাড়িটি এয়ারবিএনবি-এর মাধ্যমে এক ফরাসি নাগরিকের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি। তবে ৩০ দিনের চুক্তিতে ভাড়া নিলেও ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বাড়িটি দখল করে বসেন ইভান লামার্ক নামের ওই ফরাসি নাগরিক। টানা ৪৮ দিনের বেশি সময় পার হলেও বাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান তিনি, যা নিয়ে শুরু হয় তীব্র আইনি ও মানসিক টানাপোড়েন।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, কোনো স্বল্পমেয়াদী ভাড়াটিয়া ৩০ দিন বা তার বেশি অবস্থান করলে তাকে স্থায়ী ভাড়াটিয়া বা টেন্যান্ট হিসেবে গণ্য করা হয়। এর ফলে তাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে চাইলে আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি প্রায় ছয় মাস দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। ওয়েইসম্যানের দাবি, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তার অন্তত ৭০ হাজার ডলারের সম্ভাব্য ভাড়া ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি মর্টগেজ ও করের বোঝাও টানতে হতো। সংবাদমাধ্যম এবিসি ৭-এর এক প্রতিবেদক ওই ফরাসি নাগরিকের কাছে অন্যের বাড়িতে এভাবে বিনা ভাড়ায় থাকাটা যৌক্তিক কি না জানতে চাইলে তিনি চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলেন, "হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।" এরপর তিনি ক্যামেরার সামনেই মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেন।

 

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে এয়ারবিএনবি কিংবা স্থানীয় পুলিশ তাকে খুব একটা সহায়তা করতে পারেনি। পুলিশ এটিকে একটি ‘দেওয়ানি বা সিভিল বিষয়’ বলে এড়িয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত বাড়িতে একটি বড় পানির লিকেজ বা লিকেজ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে প্লাম্বার ডাকার কথা জানিয়ে পুলিশ নিয়ে হাজির হন ওয়েইসম্যান। উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে লামার্ক ও তার সহযোগীরা একটি ট্রাকে করে মালপত্র নিয়ে বাড়ি ছাড়েন।

 

তবে বাড়িটি উদ্ধার হলেও ওয়েইসম্যানের ভোগান্তি সেখানেই শেষ হয়নি। বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, বিলাসবহুল ওই সম্পত্তিটিকে একেবারে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। চারিদিকে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ, অপরিষ্কার টয়লেট এবং শাওয়ারের ভেতর বালু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল। এয়ারবিএনবি'র ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের পরও বাড়িটির মেরামতে তার কয়েক হাজার ডলার বাড়তি ক্ষতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলে যাওয়ার সময় লামার্ক উল্টো এয়ারবিএনবিতে নেতিবাচক রিভিউ দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগের পর প্ল্যাটফর্মটি সেই রিভিউ এবং লামার্কের প্রোফাইল মুছে ফেলেছে। ওয়েইসম্যান আক্ষেপ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়াতেই এ ধরনের জবরদখলকারীদের জন্য সবচেয়ে শিথিল আইন রয়েছে, যার ফলে সাধারণ আইনমান্যকারী নাগরিকদের প্রতিনিয়ত চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
নিউ জার্সির বার্গেন কাউন্টিতে আয়ভিত্তিক সাশ্রয়ী ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৫৯৪ ডলারেই নিউ জার্সিতে ফ্ল্যাট! সীমিত ৭টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য শুরু হলো লটারি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বার্গেন কাউন্টিতে স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের জন্য মাসিক মাত্র ৫৯৪ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একটি নতুন আবাসন প্রকল্পের আওতায় মোট সাতটি সাশ্রয়ী মূল্যের ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ভাড়াটিয়া নির্বাচন করা হবে।    প্রকল্পটিতে স্টুডিও, এক, দুই ও তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। মাসিক ভাড়া ইউনিটের ধরন এবং আবেদনকারীর আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া ৫৯৪ ডলার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন আয়ের শ্রেণি অনুযায়ী বাড়তে পারে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিতে হবে।    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়া সব বৈধ আবেদন একটি র্যান্ডম লটারিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। লটারিতে যাদের নাম আগে আসবে, তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পর পর্যায়ক্রমে অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হবে। বার্গেন, হাডসন, পাসাইক ও সাসেক্স কাউন্টিতে বসবাসকারী বা কর্মরত আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।    নিউ জার্সিতে দীর্ঘদিন ধরেই সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের চাহিদা বেশি। রাজ্যের ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন শহর ও কাউন্টিতে আয়ভিত্তিক ভাড়ার বাসা বরাদ্দে লটারির ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদ আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা।    আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আবেদন জমা পড়ার পর লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের সঙ্গে পরবর্তী ধাপে যোগাযোগ করা হবে এবং আয় ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই শেষে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ২৩:১
এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি পুনর্বহালের আবেদন খারিজ করেছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত। ছবি: সংগৃহীত

এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আপাতত বহাল থাকছে না, ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ আপিল আদালতে

মিশিগানে পোষা কুকুরের হামলার ঘটনাটি নতুন করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ১১ মাসের শিশুর ওপর পোষা কুকুরের হামলায় খসে পড়ল শিশুর গালের মাংস, একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও রয়ে গেছে দাগ

৯/১১ স্মরণানুষ্ঠানে মেয়র জোহরান মামদানির অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে অনলাইন পিটিশন শুরু করেছেন নিহতদের পরিবারের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

মেয়র মামদানিকে ৯/১১ এ নিহতদের পরিবারের জন্য কষ্টের কারণ! নিষিদ্ধের দাবি ৯/১১ ভুক্তভোগী পরিবারের একাংশের

ফ্রেসনো কাউন্টিতে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া দুটি গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
তরুণীর বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ে প্রাণ গেল দুই প্রবীণ নারীর, ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো কাউন্টিতে এক ১৮ বছর বয়সী তরুণীর বেপরোয়া গাড়ি চালনায় ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। ট্রাফিক সংকেত বা 'স্টপ সাইন' অমান্য করে দ্রুতগতিতে অন্য একটি গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় দুই প্রবীণ নারী প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট' এবং 'এবিসি ৩০' (ABC 30)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর ফ্রেসনো কাউন্টির অবারি রোড এবং ওল্ড মিলারটন রোডের সংযোগস্থলে মিলারটন লেকের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। লেকটি ফ্রেসনো শহর থেকে প্রায় ২৫ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।   ফ্রেসনো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, ক্লোভিস এলাকার ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী তার টয়োটা গাড়িটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন। তার গাড়িতে তার নানি এবং দুই ছোট ভাইবোন অবস্থান করছিল। অবারি রোডের সংযোগস্থলে থাকা ট্রাফিক স্টপ সাইন অমান্য করে গাড়িটি সরাসরি গিয়ে ৮৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের চালিত নিসান গাড়িকে সজোরে আঘাত করে। নিসান গাড়িতে চালকসহ মোট চারজন যাত্রী ছিলেন। সব মিলিয়ে দুটি গাড়িতে মোট ৮ জন আরোহী ছিলেন।   সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে দুটি গাড়িই সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি খাদে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণীর টয়োটা গাড়িটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। অন্যদিকে নিসান গাড়িটির ডানদিকের সামনের ও পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাঁ পাশের দরগুদো একেবারে উপড়ে গেছে।   এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিসান গাড়ির যাত্রী অবারির বাসিন্দা ৮৮ বছর বয়সী ইভন চেনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে, টয়োটা চালক তরুণীর ৯৪ বছর বয়সী নানি নেলি মোরেনো গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।   দুর্ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী তরুণী চালক নিজেও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিসান গাড়ির ৮৮ বছর বয়সী চালক এবং অন্য দুই যাত্রীকে মাঝারি থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত অপর দুই শিশুকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।   পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছে, তরুণী চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে স্টপ সাইন পার হওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে প্রাথমিক তদন্তে অ্যালকোহল বা মাদকের কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   ঘটনাটি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণী চালকের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাটি পুরো এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার ওপর আবার নতুন করে কড়া সতর্কবার্তা এনে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ২১:৪৭
স্যাটেলাইট ট্যাগযুক্ত বিশাল সাদা হাঙর ‘ব্রেটন’, যার অস্বাভাবিক গতিপথ নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত

সব হাঙর যখন উত্তরে, সে চলেছে দক্ষিণে: ১,৪০০ পাউন্ডের হাঙরের অস্বাভাবিক আচরণে তাজ্জব বিজ্ঞানীরা

নিরাপত্তা ও উচ্চ জীবনমানের কারণে বিদেশে নতুন জীবন শুরু করতে আগ্রহী মার্কিন নাগরিকদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে নতুন জীবন গড়তে মার্কিনিদের প্রথম পছন্দ সুইজারল্যান্ড, শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ

প্রেমের টানে অ্যামাজনে, ‘অশুভ শক্তি’র অভিযোগে নারীদের কাছ থেকে দূরে রাখা হয় মার্কিন তরুণকে

প্রেমের টানে অ্যামাজনে, ‘অশুভ শক্তি’র অভিযোগে নারীদের কাছ থেকে দূরে রাখা হয় মার্কিন তরুণকে

যুক্তরাষ্ট্রে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারেই কপাল খুলল কাঠমিস্ত্রির, জিতলেন ১০ লাখ ডলারের লটারি
যুক্তরাষ্ট্রে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারেই কপাল খুলল কাঠমিস্ত্রির, জিতলেন ১০ লাখ ডলারের লটারি

রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া সামান্য ২০ ডলার যে কারও জীবনের মোড় এভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার এক কাঠমিস্ত্রি।   সম্প্রতি একটি গ্যাস স্টেশনের পার্কিং লট থেকে ২০ ডলারের একটি নোট কুড়িয়ে পেয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে শখের বশে একটি ‘স্ক্র্যাচ-অফ’ লটারি টিকিট কিনতেই ঘটে যায় অবিশ্বাস্য এক ঘটনা।   লটারি ঘষতেই তিনি দেখতে পান, রাতারাতি ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ডলারের বিশাল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি!   সরকারি কর পরিশোধের পর এই কাঠমিস্ত্রি নগদ ৪ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। টানা ৫৬ বছর ধরে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনির পর বিশাল অঙ্কের এই অর্থ পেয়ে তিনি এখন স্থায়ীভাবে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।   আর জীবনের এই স্মরণীয় মুহূর্ত ও আনন্দ উদযাপন করতে তিনি খুব সাধারণভাবেই স্থানীয় ‘গোল্ডেন কোরাল’ রেস্তোরাঁয় নিজের পছন্দের খাবার খেয়েছেন।   ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে নিতান্তই সাধারণ একটি ঘটনাও যে কীভাবে জাদুকরী রূপ নিতে পারে, এই ঘটনাটি যেন তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৯:৩২
আইডেন্টিটি চুরি করে আপনার নামেই খুলতে পারে ক্রেডিট কার্ড, বিনা খরচে যেভাবে সুরক্ষিত রাখবেন ক্রেডিট

আইডেন্টিটি চুরি করে আপনার নামেই খুলতে পারে ক্রেডিট কার্ড, বিনা খরচে যেভাবে সুরক্ষিত রাখবেন ক্রেডিট

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৫০ বছর বয়সী ফর হায়ার গাড়িচালক রুহুল আমিন

নিউইয়র্কে যাত্রী নামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি চালক, হামলাকারী এখনো পলাতক

১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে মর্টগেজ রেট

যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের বাড়ি কেনা এখন আরও কঠিন, ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে মর্টগেজ রেট

0 Comments