২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনও দুই বছরের বেশি দূরে। তবে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের নিয়ে নিউ হ্যাম্পশায়ারে পরিচালিত নতুন এক জরিপে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ, যিনি এওসি নামে পরিচিত, ২২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সমর্থন নেমে এসেছে ৫ শতাংশে।
ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ার সার্ভে সেন্টার এর গ্রানাইট স্টেট পোল এর সর্বশেষ ফলাফল ২২ জুলাই প্রকাশ করা হয়। এতে সম্ভাব্য ২০২৮ নিউ হ্যাম্পশায়ার ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রাইমারিতে এওসির ঠিক পেছনে রয়েছেন সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিজেজ। তিনি পেয়েছেন ২১ শতাংশ সমর্থন। ফলে শীর্ষ দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর ব্যবধান মাত্র এক শতাংশ পয়েন্ট।
এরপর বেশ বড় ব্যবধান রয়েছে। অ্যারিজোনার সিনেটর মার্ক কেলি ৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ৮ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন।
ভারমন্টের সিনেটর ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স পেয়েছেন ৬ শতাংশ সমর্থন। কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এই জরিপে হ্যারিসের চেয়ে স্যান্ডার্সও এগিয়ে রয়েছেন।
জরিপে এওসির অবস্থান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ কয়েক মাসের ব্যবধানে তার সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের ফেব্রুয়ারির জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের মধ্যে পিট বুটিজেজ এগিয়ে ছিলেন। তখন এওসির সমর্থন ছিল ১৫ শতাংশ। সর্বশেষ জরিপে তা বেড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছেছে।
একই সময়ে কমলা হ্যারিসের সমর্থন কমেছে। ফেব্রুয়ারির জরিপে তিনি ১১ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। জুলাইয়ে তা কমে ৫ শতাংশ হয়েছে। এই পরিবর্তন নিউ হ্যাম্পশায়ারের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি ভোটারদের পছন্দে প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইউএনএইচ সার্ভে সেন্টার এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এওসি বিশেষভাবে নিজেদের সোশ্যালিস্ট ও প্রগ্রেসিভ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভোটারদের কাছ থেকে শক্তিশালী সমর্থন পাচ্ছেন। অন্যদিকে বুটিজেজের সমর্থন প্রগ্রেসিভ, লিবারেল ও মডারেট ভোটারদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত।
তবে জরিপটির ফলাফলকে জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচালিত কোনো জাতীয় জরিপ নয়। জরিপটি নিউ হ্যাম্পশায়ারের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রাইমারি ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি।
তারপরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাজনীতিতে নিউ হ্যাম্পশায়ারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে এই রাজ্যের ভোট দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় মনোযোগ পেয়ে আসছে। ফলে নির্বাচন থেকে অনেক দূরে পরিচালিত হলেও এখানকার জরিপগুলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক রাজনৈতিক শক্তি ও ভোটারদের আগ্রহ বোঝার একটি সূচক হিসেবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এওসি এখন পর্যন্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। একইভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই ২০২৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাননি। তাই বর্তমান জরিপকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক অবস্থানের একটি চিত্র হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
২০২৮ সালের নির্বাচন এখনও অনেক দূরে। এর মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের সিদ্ধান্ত এবং ভোটারদের পছন্দে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের সর্বশেষ জরিপে আপাতত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চিত্র হলো এওসির উত্থান এবং কমলা হ্যারিসের সমর্থন ৫ শতাংশে নেমে আসা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে নিজেকে সহিংসতা-বিরোধী কর্মী হিসেবে পরিচিত করা লুমুম্বা সেয়ার্স সিনিয়র শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৫১ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। নিজের ছেলের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার আদালত এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ডেনভারে একটি শান্তি সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর সেয়ার্স কলোরাডোর কমার্স সিটির প্যারাডাইস আইল্যান্ড ওয়াটার পার্কে যান। সেখানে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ২৮ বছর বয়সী ম্যালকম ওয়াটসনকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই ওয়াটসনের মৃত্যু হয়। হামলার সময় তার ছোট ছেলে এবং আরও অনেক মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তদন্তে উঠে আসে, সেয়ার্স বিশ্বাস করতেন ওয়াটসনের সঙ্গে তার ছেলে লুমুম্বা সেয়ার্স জুনিয়রের ২০২৩ সালের হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক ছিল। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। তবে প্রসিকিউটররা জানান, ওই অভিযোগের পক্ষে কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না এবং প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার কারও নেই। মামলার বিচার শেষে জুরি তাকে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা, আলামত নষ্ট করা এবং আলামত নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত হত্যা মামলায় ৪৮ বছর এবং বাকি দুটি অভিযোগে ধারাবাহিকভাবে আরও তিন বছর কারাদণ্ড দিয়ে মোট ৫১ বছরের সাজা ঘোষণা করেন। আদালতে প্রসিকিউটররা বলেন, সেয়ার্স হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি পরে সরিয়ে ফেলেন এবং ঘটনাস্থলে ভিন্ন একটি আগ্নেয়াস্ত্র রেখে তদন্ত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও, ফরেনসিক আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেন। লুমুম্বা সেয়ার্স একজন সাবেক মিশ্র মার্শাল আর্টস (এমএমএ) ফাইটার এবং ‘হেভি হ্যান্ডস, হেভি হার্টস’ নামে একটি যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের অস্ত্র ও সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে কাজ করার দাবি করতেন। তবে প্রসিকিউটরদের ভাষায়, শেষ পর্যন্ত তার নিজের কর্মকাণ্ডই সেই বার্তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সমুদ্রতীরবর্তী শহর লাগুনা বিচে ৬১ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তার ৩৬ বছর বয়সী ছেলেকে হত্যা সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে হত্যার উদ্দেশ্য বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত নারীর নাম অ্যাঞ্জেলা ক্যাপ্রিওলি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন। গত সোমবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে লাগুনা বিচের ডানিং ড্রাইভের একটি বাড়িতে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। কয়েক দিনের তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার তার ছেলে স্যাফোর্ড উলফসনকে হত্যা সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। লাগুনা বিচ পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও সন্দেহভাজন পরস্পরের আত্মীয় এবং ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের জেরেই ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় মৃত্যুর কারণসহ আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে মা ও ছেলেকে বাড়ির বাইরে তর্ক করতে দেখা যায়। প্রতিবেশী ডাস্টিন পেটিট স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, দুজনের কথোপকথন বেশ উত্তপ্ত ছিল। পরে অ্যাঞ্জেলা ক্যাপ্রিওলি বাড়ির ভেতরে চলে যান এবং জোরে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর কী ঘটেছে, তা কেউ প্রত্যক্ষ করেননি। প্রতিবেশীদের দাবি, স্যাফোর্ড উলফসন প্রায় ছয় মাস আগে ওই বাড়িতে ওঠেন। তিনি সাধারণত নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন এবং খুব কমই প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। মাঝে মধ্যে তাকে বাইরে এসে সিগারেট খেতে বা গিটার বাজাতে দেখা যেত। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ আরও জানান, তার জন্য নিয়মিত পরিচর্যাকারীরা আসা-যাওয়া করতেন। তবে কেন সেই সেবা দেওয়া হতো, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তদন্ত চলাকালে উলফসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পুরোনো পোস্টও আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, "আমার সঙ্গে সময় কাটাতে আমার মা-ও চান না।" তবে পুলিশ এ ধরনের পোস্টকে মামলার উদ্দেশ্য বা ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেনি। তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছেন। এদিকে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জনসাধারণের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে সহায়ক তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্দেহভাজনের ব্যক্তিগত পরিচয় বা লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা দেখা গেলেও, পুলিশ এ পর্যন্ত প্রকাশিত তদন্ত তথ্যে সেগুলোকে ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেনি। ফলে তদন্তে নিশ্চিত না হওয়া ব্যক্তিগত তথ্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকেরা।
মিঠাপানির ক্যাটফিশের মধ্যে এক মাছ থেকে আরেক মাছে ছড়াতে সক্ষম বিরল ক্যানসারের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট ও কানাডার কুইবেক সীমান্তজুড়ে থাকা লেক মেমফ্রেমাগগের ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশে এই ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, মিঠাপানির পরিবেশে মাছের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে ছড়াতে সক্ষম ক্যানসার শনাক্তের এটিই প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে ২২ জুলাই প্রকাশিত গবেষণায় এই আবিষ্কারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকেরা আক্রান্ত মাছের টিউমার ও স্বাভাবিক টিস্যুর জিনোম বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, আলাদা মাছের শরীরে পাওয়া ক্যানসার কোষগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ জিনগত মিল রয়েছে। এ থেকে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, প্রতিটি মাছের শরীরে আলাদাভাবে ক্যানসার তৈরি হচ্ছে না, বরং একটি অভিন্ন ক্যানসার কোষের বংশধারা মাছ থেকে মাছে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ধরনের ক্যানসারকে বলা হয় ট্রান্সমিসিবল ক্যানসার। সাধারণ সংক্রামক রোগের মতো কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে এখানে ক্যানসার সৃষ্টি করছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং জীবন্ত ক্যানসার কোষই একটি মাছের শরীর থেকে অন্য মাছের শরীরে গিয়ে টিউমার তৈরি করছে বলে জিনগত তথ্য ইঙ্গিত করছে। লেক মেমফ্রেমাগগের ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশের শরীরে অস্বাভাবিক কালো ক্ষত ও টিউমার প্রথম নজরে আসে ২০১২ সালে। পরে সেগুলো পরীক্ষা করে মেলানোমা শনাক্ত করা হয়। কেন একই এলাকার অনেক মাছের শরীরে একই ধরনের ক্যানসার দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে ক্যানসার কোষ ঠিক কীভাবে একটি ক্যাটফিশ থেকে আরেকটির শরীরে যাচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকেরা এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধান করছেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের কাছেই ক্যাটফিশ পরিচিত খাবার হলেও এই গবেষণা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। গবেষণাটি সব ধরনের ক্যাটফিশ নিয়ে নয়। ক্যানসারটি নির্দিষ্টভাবে ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশে শনাক্ত হয়েছে। চ্যানেল ক্যাটফিশ, ব্লু ক্যাটফিশ বা বাজারে সাধারণভাবে বিক্রি হওয়া অন্যান্য ক্যাটফিশে একই সংক্রামক ক্যানসার রয়েছে, এমন তথ্য গবেষণায় দেওয়া হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আক্রান্ত ক্যাটফিশ খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে এই ক্যানসার ছড়াতে পারে, এমন কোনো প্রমাণও গবেষকেরা পাননি। এখন পর্যন্ত ঘটনাটি ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশের মধ্যে ক্যানসার কোষ ছড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রাণিজগতে এ ধরনের সংক্রামক ক্যানসার অত্যন্ত বিরল। এর আগে কুকুর, তাসমানিয়ান ডেভিল এবং কিছু সামুদ্রিক ঝিনুকজাতীয় প্রাণীর মধ্যে এমন ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। মাছের মধ্যে এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এখন গবেষকেরা জানার চেষ্টা করছেন, ক্যানসারটি কীভাবে ছড়ায়, কতদিন ধরে এটি ওই জলাশয়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশের সংখ্যা ও মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রে এর কী প্রভাব পড়তে পারে।