দীর্ঘ সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (৮ জুন) পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার এই ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক কর্মসূচি এবং এশীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শি জিনপিংয়ের বিদেশ সফরের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতি বছর গড়ে ১৪টি বিদেশ সফর করলেও, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তা বার্ষিক মাত্র ৬টিতে নেমে আসে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ নেতারা যেখানে বেইজিংয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, সেখানে স্বয়ং শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফর বেইজিংয়ের কাছে এই অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বেরই সুস্পষ্ট প্রমাণ দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই আকস্মিক সফরের নেপথ্যে মূল কারণ হতে পারে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে বেইজিংয়ের গভীর উদ্বেগ। ঐতিহ্যগতভাবে চীন উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র ও অর্থনৈতিক অংশীদার হলেও, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে এই সমীকরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে সচল রাখতে উত্তর কোরিয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সেনা সরবরাহ করে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’র তথ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে উত্তর কোরিয়াকে এর বিনিময়ে প্রায় ১৪.৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে মস্কো। ধারণা করা হচ্ছে, এই অর্থের বড় অংশই স্যাটেলাইটের নজরদারি এড়িয়ে গোপন সামরিক প্রযুক্তি হিসেবে পিয়ংইয়ংয়ের হাতে পৌঁছেছে।
দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মস্কো-পিয়ংইয়ংয়ের এই অতি-ঘনিষ্ঠতায় বেইজিং বেশ সতর্ক। নিজেদের হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে এবং উত্তর কোরিয়া যেন পুরোপুরি রাশিয়ার বলয়ে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই চীন নতুন করে বড় অর্থনৈতিক প্রণোদনার প্রস্তাব দিতে পারে। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার হাতে রাশিয়ার উন্নত সামরিক প্রযুক্তি চলে আসাও চীনের জন্য বড় চিন্তার কারণ। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, বেইজিং সবসময়ই পিয়ংইয়ংকে সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে সতর্ক ছিল; কারণ উত্তর কোরিয়া অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে উঠলে তা কোরীয় উপদ্বীপের স্থিতিশীলতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। ইতিমধ্যে পিয়ংইয়ং চলতি বছর আটটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ট্যাক্টিক্যাল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকাশ্যে এনেছে।
কোরীয় উপদ্বীপের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়াও চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। সিউলের প্রত্যাশা, শি জিনপিংয়ের এই সফর উপদ্বীপের চলমান সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এশিয়ায় মার্কিন মিত্রদের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক চুক্তির প্রেক্ষাপটে বেইজিং নিজেদের বলয় মজবুত করতে চাইছে। সব মিলিয়ে, কিম জং উনের ওপর রাশিয়ার ছায়া নিয়ন্ত্রণ এবং পূর্ব এশিয়ায় নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখাই এখন শি জিনপিংয়ের এই সফরের প্রধান লক্ষ্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে বাংলাদেশি সন্দেহে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর) সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চরম অমানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই জোরপূর্বক ‘পুশ ইন’ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এবং জিরো পয়েন্টে আটকে পড়া মানুষদের অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার (১১ জুন) মালদা শহরে এক প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। মূলত পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত ‘ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট’ (চিহ্নিতকরণ, ফেরত পাঠানো এবং মুছে ফেলা) বা ‘থ্রি ডি’ নীতির বাস্তবায়নই বর্তমান এই সীমান্ত সংকটের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের পাশাপাশি কথিত বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে রাখার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্র চালুর নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার এই বেআইনি প্রক্রিয়া। এপিডিআরের দাবি, বিএসএফ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সীমান্তে বাংলাদেশি সন্দেহে সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঢোকানোর চেষ্টা করছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের সীমানায় ঢুকতে না দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যবর্তী ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দিনের পর দিন সেখানে খোলা আকাশের নিচে চরম অমানবিক অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার বা পানীয় জল নেই। রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বন্দুকের নলের সামনে এক বিভীষিকাময় জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বিএসএফ দাবি করছে এরা বাংলাদেশি, তাই তাদের দায় নেই। অন্যদিকে, বিজিবির অবস্থান হলো, এদের বাংলাদেশি হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই, বরং এরা ভারতীয়। দুই বাহিনীর এই টানাপোড়েনে চরম বিপাকে পড়েছেন আটকে পড়া নিরীহ মানুষেরা। এপিডিআরের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর ভারতের এই ‘থ্রি ডি’ নীতিকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই নীতি ভারতের সংবিধানের ১৪ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন, যা প্রতিটি ব্যক্তির সমান মৌলিক অধিকার, জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। অবিলম্বে নো ম্যানস ল্যান্ডে ফেলে আসা এই মানুষদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া এবং মানবতাবিরোধী এই পুশ ব্যাক নীতি বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে এপিডিআর। একইসঙ্গে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।
মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ব্যবসার লাইসেন্স ব্যবহার করে বিদেশিদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা, বিভিন্ন ধরনের ভিসার অপব্যবহার এবং কথিত ‘আলী বাবা’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর দেশটির ব্যবসায়ী মহল ও প্রবাসী কমিউনিটিতে এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের নামে লাইসেন্স নিয়ে বিদেশিদের প্রক্সি কোম্পানি গঠন এবং ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ থাকলেও এবার বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, স্থানীয় কিংবা বিদেশি—যে-ই হোক না কেন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স বা ভিসার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিলও জানিয়েছেন, আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা বা ভিসার শর্ত ভঙ্গের ঘটনায় কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না; প্রয়োজনে অপরাধে জড়িত স্থানীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে সংশ্লিষ্টরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি হিসেবেই দেখছেন। মালয়েশিয়ায় বহু বছর ধরে ‘আলী বাবা’ ব্যবসা একটি আলোচিত বিষয়। এর মাধ্যমে মূলত স্থানীয় মালয়েশীয় নাগরিকরা অর্থের বিনিময়ে তাদের ব্যবসায়িক লাইসেন্স বা কোম্পানির নিবন্ধন বিদেশিদের ভাড়া দেন। কাগজে-কলমে স্থানীয়রা মালিক হলেও খুচরা ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকান থেকে শুরু করে আমদানি-রপ্তানির মতো লাভজনক খাতের পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে বিদেশিদের হাতে। এতে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়, তেমনি ব্যবসা খাতে জবাবদিহির অভাব দেখা দেয়। এর পাশাপাশি, শিক্ষার্থী, সোশ্যাল ভিজিট বা ডিপেনডেন্ট ভিসায় এসে অবৈধভাবে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার মতো ঘটনাও নিয়মিত উদ্ঘাটন করছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ। সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটিতে বৈধভাবে ব্যবসা করা প্রবাসী ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা। দীর্ঘ দুই দশক ধরে মালয়েশিয়ায় ব্যবসা করা বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মো. কাজী সালাহউদ্দিন ও মানিউল্লাহ জানান, অসাধু উপায়ে চলা ব্যবসার কারণে নিয়ম মেনে চলা বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হবেন। অন্যদিকে, সেলাঙ্গরের স্থানীয় ব্যবসায়ী লিম চি ওয়েই মনে করেন, শুধু অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়, বরং লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়ন প্রক্রিয়াও আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। প্রবাসী কমিউনিটি নেতারাও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তারা মনে করেন, অল্পসংখ্যক মানুষের অনিয়মের দায় পুরো প্রবাসী সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রবাসীদের ভিসা ও ব্যবসার নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর বার্তার পর শিগগিরই অভিবাসন বিভাগসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযান জোরদার হতে পারে। এই উদ্যোগ সফল হলে মালয়েশিয়ার ব্যবসা খাতে স্বচ্ছতা ফেরার পাশাপাশি বৈধ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।
রাশিয়ার বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের সমাপনী দিনে সেন্ট পিটার্সবার্গ ও এর আশপাশের এলাকায় এক নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন। রাশিয়ার লেলিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকসান্দর দ্রোজদেন্দো জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৪০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এই ব্যাপক হামলার কারণে একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্রোন ও বিস্ফোরণের ভিডিও প্রকাশ করে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার (৬২০ মাইল) পথ পাড়ি দিয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলের ক্রনশটাদে অবস্থিত রুশ নৌবাহিনীর বাল্টিক ফ্লিটের প্রধান ঘাঁটি এবং অস্ত্রাগারে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। রুশ আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই দূরপাল্লার বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে বলে ইউক্রেন দাবি করেছে। ইউক্রেনের চালকবিহীন বিমান বাহিনীর ৪১৩তম রেজিমেন্টের কমান্ডার ইয়েভহেন কারাস জানান, রুশ আকাশসীমায় তারা এখন প্রায় কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই অনায়াসে প্রবেশ করতে পারছেন। রাশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালীনই ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সরাসরি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মার্কিন মনোযোগ এখন সেদিকে থাকায়, কেবল ওয়াশিংটনের ওপর ভরসা না করে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তবে ফোরামের বক্তব্যে পুতিন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি দিলে ইউক্রেন নিজেদের সামরিকভাবে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। রুশ লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ থামবে না বলে পুতিন তার আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রক্রিয়া ত্যাগ করতে হবে, যা মানতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানিয়েছে কিয়েভ। সেন্ট পিটার্সবার্গের পাশাপাশি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ নিয়ন্ত্রিত লুহানস্কেও ইউক্রেনীয় ড্রোন বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহের পথগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চলায় নিরাপত্তার স্বার্থে লুহানস্কের দুটি প্রধান মহাসড়কে বাস চলাচল এবং যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করেছে মস্কো-মনোনীত স্থানীয় প্রশাসন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গত মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার ২০০টিরও বেশি লরি এবং ৩০টির বেশি তেলের ট্যাংকার ধ্বংস হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর গত চার বছরে ইউক্রেন নিজস্ব প্রতিরক্ষা খাতকে ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করেছে। ফলে তারা এখন নিয়মিতভাবেই রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক লজিস্টিকস লক্ষ্য করে সফলভাবে দূরপাল্লার হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে।