সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, নেপথ্যে কি রুশ প্রভাবের উদ্বেগ?
দীর্ঘ সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (৮ জুন) পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার এই ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক কর্মসূচি এবং এশীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শি জিনপিংয়ের বিদেশ সফরের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতি বছর গড়ে ১৪টি বিদেশ সফর করলেও, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তা বার্ষিক মাত্র ৬টিতে নেমে আসে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ নেতারা যেখানে বেইজিংয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, সেখানে স্বয়ং শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফর বেইজিংয়ের কাছে এই অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বেরই সুস্পষ্ট প্রমাণ দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই আকস্মিক সফরের নেপথ্যে মূল কারণ হতে পারে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে বেইজিংয়ের গভীর উদ্বেগ। ঐতিহ্যগতভাবে চীন উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র ও অর্থনৈতিক অংশীদার হলেও, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে এই সমীকরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে সচল রাখতে উত্তর কোরিয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সেনা সরবরাহ করে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’র তথ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে উত্তর কোরিয়াকে এর বিনিময়ে প্রায় ১৪.৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে মস্কো। ধারণা করা হচ্ছে, এই অর্থের বড় অংশই স্যাটেলাইটের নজরদারি এড়িয়ে গোপন সামরিক প্রযুক্তি হিসেবে পিয়ংইয়ংয়ের হাতে পৌঁছেছে।
দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মস্কো-পিয়ংইয়ংয়ের এই অতি-ঘনিষ্ঠতায় বেইজিং বেশ সতর্ক। নিজেদের হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে এবং উত্তর কোরিয়া যেন পুরোপুরি রাশিয়ার বলয়ে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই চীন নতুন করে বড় অর্থনৈতিক প্রণোদনার প্রস্তাব দিতে পারে। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার হাতে রাশিয়ার উন্নত সামরিক প্রযুক্তি চলে আসাও চীনের জন্য বড় চিন্তার কারণ। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, বেইজিং সবসময়ই পিয়ংইয়ংকে সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে সতর্ক ছিল; কারণ উত্তর কোরিয়া অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে উঠলে তা কোরীয় উপদ্বীপের স্থিতিশীলতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। ইতিমধ্যে পিয়ংইয়ং চলতি বছর আটটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ট্যাক্টিক্যাল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকাশ্যে এনেছে।
কোরীয় উপদ্বীপের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়াও চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। সিউলের প্রত্যাশা, শি জিনপিংয়ের এই সফর উপদ্বীপের চলমান সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এশিয়ায় মার্কিন মিত্রদের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক চুক্তির প্রেক্ষাপটে বেইজিং নিজেদের বলয় মজবুত করতে চাইছে। সব মিলিয়ে, কিম জং উনের ওপর রাশিয়ার ছায়া নিয়ন্ত্রণ এবং পূর্ব এশিয়ায় নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখাই এখন শি জিনপিংয়ের এই সফরের প্রধান লক্ষ্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreনেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন ও তাঁর সঙ্গী আর্জেন্টিনার হকি খেলোয়াড় নিকোলাস কিনান সারোগেসি পদ্ধতিতে তাঁদের প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় আছেন। আগামী ২০২৭ সালের বসন্তে শিশুটির জন্ম হওয়ার কথা। ১৯ অক্টোবর সোমবার ইনস্টাগ্রামে এই সুখবর জানান জেটেন। দেশটির প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পরিচয় দেওয়া এই প্রধানমন্ত্রী ডিম্বাণুদাতা ও গর্ভধারিণী নারী এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জেটেনের দল ডেমোক্র্যাটস ৬৬ বা ডি৬৬ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেটেন ও কিনান দীর্ঘদিন ধরে পরিবার গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। তাঁদের পরিচিত দুই ডাচ নারীর সহায়তায় সেই ইচ্ছা পূরণ হতে যাচ্ছে। একজন ডিম্বাণু দিয়েছেন এবং অন্যজন শিশুটিকে গর্ভে ধারণ করছেন। এতে কোনো বাণিজ্যিক সারোগেসির ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছে দলটি। ডি৬৬ জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া নেদারল্যান্ডসেই সম্পন্ন হয়েছে এবং দেশটির আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে। দেশটিতে দেওয়া আইভিএফ চিকিৎসার মাধ্যমে এই গর্ভধারণ সম্ভব হয়েছে। গর্ভধারিণী নারী ও ডিম্বাণুদাতা কাউকেই অর্থ দেওয়া হচ্ছে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘোষণায় জেটেন জানিয়েছেন, গর্ভধারিণী নারী ও গর্ভের শিশু ভালো আছে। সংশ্লিষ্ট সবার, বিশেষ করে ওই দুই নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি ও কিনান। গর্ভধারিণী লিসা জানিয়েছেন, প্রিয় বন্ধুদের সন্তান নেওয়ার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করতে পেরে তিনি আনন্দিত। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৯ বছর বয়সী জেটেন নেদারল্যান্ডসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিনানের সঙ্গে তাঁর বাগদান হয়েছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই আয়োজন পিছিয়ে দেন তাঁরা। সন্তানের জন্মের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে কয়েক দিনের ছুটি নেবেন জেটেন। এরপর দায়িত্বে ফিরবেন বলে জানিয়েছে তাঁর দল। অন্যদিকে কিনানও বাবা হওয়ার পর পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে খেলাধুলা চালিয়ে যেতে নিজের হকি ক্লাব ও আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছেন।
তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৬ জন নিহত, আহত ৫৪
কিম জং উনের মেয়েকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি বলছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা
যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে হ ত্যা করে আ ত্মহ ত্যার নাটক সাজিয়েও ধরা সৎবাবা
শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসা ও জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচারে অসামান্য অবদানের জন্য যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম চিকিৎসক আসিফ হাসান। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে শিশুদের জটিল হৃদরোগের চিকিৎসা ও হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনে কাজ করেছেন তিনি। শত শত হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপন, জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাপদ্ধতির উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসলের ফ্রিম্যান হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন হৃদ্রোগ শল্যচিকিৎসক আসিফ হাসান। বিশেষ করে শিশুদের জটিল হৃদরোগের অস্ত্রোপচার ও হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে শত শত হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপন করেছেন আসিফ হাসান। পাশাপাশি শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসায় নতুন জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচার পদ্ধতি উন্নয়নের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এসব উদ্যোগ শিশুদের জটিল হৃদরোগের চিকিৎসাব্যবস্থার অগ্রগতিতে অবদান রেখেছে বলে সম্মাননাসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু অস্ত্রোপচার নয়, নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এই চিকিৎসক। দীর্ঘ কর্মজীবনে ভবিষ্যৎ হৃদ্রোগ শল্যচিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত প্রশিক্ষণে সহায়তা করেছেন তিনি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসাজ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজও করেছেন। ২০২৬ সালের প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ডসে আসিফ হাসানের দীর্ঘ পেশাগত অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শিশুদের জীবন রক্ষায় তাঁর কাজ, চিকিৎসাপদ্ধতির উন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে অবদান এই সম্মাননার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই মুসলিম চিকিৎসক যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবায় কয়েক দশক ধরে কাজ করে আসছেন। নিউক্যাসলের ফ্রিম্যান হাসপাতালে তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে। শিশুদের হৃদরোগ চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপন কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি এবারের আজীবন সম্মাননা অর্জন করেছেন।
যুদ্ধের মধ্যে শৈশব হারাচ্ছে গাজার শিশুরা, ৬০ হাজার শিশু হারিয়েছে বাবা-মাকে
সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ২ ভারতীয় নি হত, আ হত ২ বাংলাদেশিসহ ৮ জন
বিয়ের আসরে জন্মদাগ দেখেই হারানো মেয়েকে চিনেন বরের মা, বরের মা ই তার জন্মদাত্রী!
ইংল্যান্ডের বাকিংহ্যামশায়ারের এক ব্যক্তির গ্যারেজে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি যুদ্ধবিমানের অংশবিশেষ সম্প্রতি নিলামে বিক্রি হয়েছে। 'সুপারমেরিন স্পিটফায়ার এফ মার্ক ২২' মডেলের ঐতিহাসিক এই বিমানের কাঠামোটি প্রায় ২৪ হাজার ডলারে (১৮ হাজার পাউন্ড) কিনে নিয়েছেন এক ক্রেতা। ডমিনিক উইন্টার অকশনিয়ার্সের তথ্যমতে, পিটার আর্নল্ড নামের এক প্রখ্যাত বিমানপ্রেমী নিউপোর্ট প্যাগনেলে নিজের বাড়ির গ্যারেজেই সযত্নে এটি রেখেছিলেন এবং দর্শনার্থীদের দেখাতে ভালোবাসতেন। স্পিটফায়ার পিকে৫১৯ নামের এই বিমানটি ছিল আর্নল্ডের জীবনের সপ্তম ও শেষ উড়োজাহাজ সংস্কার প্রকল্প। ১৯৪৩ সালে এই বিমানের কাজ শুরু হলেও ১৯৬৬ সালে এটি আবিষ্কার করেন বিমান বিষয়ক ইতিহাসবিদ পিটার ফুট। ফুটের মৃত্যুর পর আর্নল্ড এর সংস্কার কাজের দায়িত্ব নেন। নিলামকারী প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিভিন্ন আসল স্পিটফায়ার বিমানের প্যানেল, ককপিট উইন্ডো এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ জোড়া লাগিয়ে এই কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল, যা তাদের বিক্রি করা সবচেয়ে ব্যতিক্রমী পণ্যগুলোর একটি। 'মিস্টার স্পিটফায়ার' হিসেবে পরিচিত পিটার আর্নল্ড স্কুলজীবন থেকেই এই ঐতিহাসিক বিমানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। পরবর্তীতে অ্যাস্টন মার্টিনে অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কাজ করার সুবাদে তিনি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২৬০টির বেশি স্পিটফায়ার বিমান দেখতে ভ্রমণ করেন। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মতে, ১৯৪০ সালে 'ব্যাটল অব ব্রিটেন'-এর সময় শত্রুর আক্রমণ রুখে দিতে এই স্পিটফায়ার বিমানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বিশ্বজুড়ে স্পিটফায়ারের ইতিহাস সংরক্ষণে দারুণ অবদান রাখা এই বিমানপ্রেমী গত ২০২৫ সালে ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
মুসলমানদের সংখ্যা বাড়াতে ৫৮ সন্তানের পিতা সাদিক, সবার নামও মনে থাকে না, সন্তানরা ঘুমায় ক্ষুধা নিয়ে
হরমুজ প্রণালিতে সাত তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিপদে