আটলান্টায় বেটোপিয়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেডএইচবি সলিউশনের উদ্বোধন, আউটসোর্সিং ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তর আটলান্টার নরক্রসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে জেডএইচবি সলিউশনের নতুন অফিস। উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ “মিট অ্যান্ড গ্রিট” অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
ইয়ং এন্টারপ্রেনর প্রকৌশলী জহিরুল হক ভূইয়াঁ, প্রতিষ্ঠাতা, সিইও ও প্রিন্সিপাল এজেন্ট অফ ZHB Solutions আমেরিকা বাংলার সম্পাদকীয় উপদেষ্টা নুরুল্লাহ সাইদকে জানান, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং সেবা প্রদানকারী বেটোপিয়া গ্রুপের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। মূলত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি সহায়তা, আউটসোর্সিং, সফটওয়্যার সাপোর্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা এই অফিসের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।
তিনি জানান, জেডএইচবি সলিউশনস প্রযুক্তি, বীমা ও রিয়েল এস্টেট খাতে সমন্বিত সেবা প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, আইটি সাপোর্ট, ম্যানেজড সার্ভিস, ক্লাউড সলিউশন, ডেভঅপস এবং সাইবার সিকিউরিটি সেবার পাশাপাশি ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেবে। এছাড়া জেডএইচবি এজেন্সির মাধ্যমে অটো, হোম ও ব্যবসায়িক বীমা সেবা এবং জেডএইচবি রিয়েলটির আওতায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিনিয়োগ পরামর্শ ও রিয়েল এস্টেট সেবাও প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেটোপিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনির হোসেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং খাতে বাংলাদেশিদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক বাজারে দিন দিন আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। তিনি জানান, বেটোপিয়া গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টদের জন্য প্রযুক্তি সহায়তা, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, কাস্টমার সার্ভিস, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স এবং বিভিন্ন আইটি-ভিত্তিক সেবা দিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ZHB Solutions LLC-এর কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে দেশটির ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আধুনিক ও দ্রুত প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা সহায়তা, অনলাইন ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল উপস্থিতি বৃদ্ধি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, গ্রাহকসেবা ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাস্টম সল্যুশন নিয়ে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি তরুণদের সম্ভাবনা অনেক বড়। সঠিক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জর্জিয়া স্টেটের পাঁচবারের নির্বাচিত সিনেটর শেখ রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরেফিন বাবুল এবং জর্জিয়া বিএনপির সভাপতি নাহিদুল খান সাহেলসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা নতুন এই উদ্যোগকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানজুড়ে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ, আউটসোর্সিং খাতের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগও তৈরি হয়।
নরক্রসের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ZHB Solutions-এর অফিসে, 732 Holcomb Bridge Rd, Norcross, GA 30071 ঠিকানায় এই “মিট অ্যান্ড গ্রিট” অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে। আয়োজকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নেও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে এখন থেকে এই জলপথকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতেই ডালাসে গিয়েছিলেন তিনি। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম কমবে। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয় পেতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হরমুজের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে জয়ী হলে তাঁরও কিছু ‘প্রাপ্তি’ থাকা উচিত। আর সেই প্রাপ্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বলেন, “ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, আজ আমি এখানে ঘোষণা করছি—এখন থেকে আমরা এই জলপথকে ট্রাম্প প্রণালি নামে ডাকব।” তাঁর দাবি, এ নাম ইরানের নেতাদের মধ্যে শিহরণ তৈরি করবে। ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, দেশটি ‘ভেঙে পড়ছে’। গত ৫১ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘গুন্ডামি’ করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই সময় শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই মানচিত্রেও প্রণালিটির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করলে দেশটির বন্দরে কোনো দেশি-বিদেশি জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপরও বাধা তৈরি হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ‘অনানুষ্ঠানিক বিরতির’ পর গত ৩০ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর আগে ২৮ আগস্ট সৌদি আরবের দুটি ট্যাংকার গোপনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাশয় ও ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখার উদ্যোগও নেন ট্রাম্প।
মিনিটেই কোটিপতি এক ট্রেডার, হান্টার বাইডেনের মিম কয়েনে সর্বনাশ বাকিদের
আমেরিকানদের প্রতারণার অর্থ পাচার, চীনা স্ক্যাম নেটওয়ার্কের ৫২ মিলিয়ন ডলার জব্দ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেল ও গ্যাসের দাম অনেক কমে আসবে - ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির বাইরে চলে যায় মাত্র ৩ বছরের এক শিশু। পরে ডোরবেল ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিষয়টি জানতে পারেন তার মা ব্রিট। ঘটনাটি তাকে এতটাই ভয় পাইয়ে দেয় যে তিনি বলেন, দৃশ্যটি দেখে যেন তার ‘হার্ট অ্যাটাক’ হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। ব্রিট জানান, সম্প্রতি তিনি ছেলেকে খাটের বদলে নতুন ‘বিগ বয় বেডে’ ঘুমানোর সুযোগ দিয়েছিলেন। এতে শিশুটির রাতে ঘরের ভেতর চলাফেরার স্বাধীনতা বেড়ে যায়। এক রাতে প্রায় ভোর ৪টার দিকে ঘুম ভেঙে যায় তার। শিশুটি বাবা-মাকে খুঁজতে প্রথমে তাদের শোবার ঘরের দিকে যায়। সেখানে কাউকে না পেয়ে সে বাড়ির সামনের দরজার দিকে এগিয়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, দরজা তালাবদ্ধ থাকার পরও শিশুটি সেটি খুলে বাইরে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ডোরবেল ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি একা বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সৌভাগ্যবশত কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আবার বাড়িতে ফিরে আসে। ঘটনায় কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর ব্রিট সন্তানের নিরাপত্তার জন্য দরজায় অতিরিক্ত চাইল্ড লক লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি শেয়ার করে অন্য অভিভাবকদেরও শিশুদের দরজা খোলার সক্ষমতা এবং ঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
আমেরিকায় আসবেন না,বিদেশে যাওয়ার আগে ভাবুন! হতাশ ভারতীয় দম্পতির পরামর্শ
বাংলাদেশি এআই গবেষক ইরফানের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের আপত্তি, এটি আত্মহত্যা নয়, দাহ করতে আপত্তি
টেক্সাসে নতুন ইবি-৩ কর্মসংস্থানভিত্তিক সুযোগ! আয় খাতে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ১৬.৩৫ ডলার
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত বা সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত ২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ এই তথ্য জানিয়েছে। বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা ২ হাজার ১৫০ জনের বেশি পরিচিত বা সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে ২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র যখন নিহতদের স্মরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলো। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জুনে মেক্সিকোর নাগরিক আব্রাহাম হারমোসিলো আলভারেজকে গ্রেপ্তারের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি ইউএফসি অনুষ্ঠানে ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে কথিত হামলার পরিকল্পনায় তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তার দর্শনার্থী ভিসার মেয়াদ ২০০১ সালে শেষ হলেও ২০১৪ সালে তিনি শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদের জন্য চালু করা ডাকা কর্মসূচির আওতায় সাময়িক সুরক্ষা পেয়েছিলেন বলে জানানো হয়েছে। আরেক ঘটনায় ব্রাজিলের নাগরিক ফেলিপে লিনারেস ডি অলিভেইরা ডেল আকুইয়াকে গ্রেপ্তার করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদন্ত সংস্থা। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি দুটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সাবেক কমান্ডার ছিলেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় তাকে গ্রেপ্তারের সময় একটি হ্যান্ডগান, নগদ অর্থ এবং কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার অপরাধী চক্র ট্রেন দে আরাগুয়ার চার সদস্য ২০২৪ সালে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে দুইজন নিহত হওয়ার একটি গুলির ঘটনায় মে মাসে দোষ স্বীকার করেন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, চারজনই ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলিন বলেন, ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় সতর্ক থাকার গুরুত্ব আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসী হামলায় নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র, পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ২০০২ সালে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরের বছর গঠিত হয় অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা।
বিশ্বজুড়ে নিয়োগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৯ হাজার ডলার
রিপাবলিকানরা কংগ্রেস জিতলে ট্রাম্পের নতুন ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড চেক ঘোষণা, কারা পাবেন জেনে নিন