যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই হোটেল ও স্টেডিয়াম শ্রমিকদের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর মাত্র দুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি স্বাগতিক শহরের হোটেল এবং খাবার সরবরাহকারী শ্রমিকরা ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কম মজুরি এবং অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে হাজার হাজার শ্রমিকের এই অসন্তোষে টুর্নামেন্ট শুরুর মুখেই বড় ধরনের অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
আগামী ১২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই স্টেডিয়ামের প্রায় ২ হাজার কর্মী যেকোনো মুহূর্তে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান মজুরি দিয়ে স্টেডিয়ামের কাছাকাছি থাকার খরচ চালানো অসম্ভব। তারা ঘণ্টায় ৩০ ডলারের বেশি মজুরি এবং কাজের জায়গায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের বিরুদ্ধে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
একই ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে সিয়াটল শহরের লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়ামের কাছের একটি তারকা হোটেলও। সেখানে বিশ্বকাপের ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই হোটেলের শত শত কর্মী বেতন বৃদ্ধি, বছরব্যাপী স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের দাবিতে ধর্মঘটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, করোনা মহামারির পর থেকে প্রতিটি বিভাগে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক কম কর্মী দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ফিলাডেলফিয়ার ছয়টি বড় হোটেলের শ্রমিক ইউনিয়নও আগামী ১২ জুনের মধ্যে নতুন চুক্তি না হলে ধর্মঘটের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রায় ৭৭ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, হোটেলগুলো বিপুল অর্থ আয় করলেও সাধারণ কর্মীদের সন্তানদের পড়াশোনা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার মতো ন্যায্য মজুরি দেওয়া হচ্ছে না।
বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থা ফিফার একটি নতুন নীতি নিয়েও শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, যেখানে কাজ করার জন্য কর্মীদের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় দুইশত দেশের অভিবাসী শ্রমিকরা এই টুর্নামেন্টে কাজ করবেন। ফলে এই নিয়মের কারণে কাজের জায়গায় বাড়তি হয়রানির আশঙ্কা করছেন শ্রমিক নেতারা। তবে ফিফা জানিয়েছে, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ চুক্তিভিত্তিক বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রত্যাশায় থাকা কয়েকজন স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে ভোটসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এ ধরনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতা বা কারাদণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই ডজনের বেশি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে ভুল বিবৃতি দেওয়া কিংবা অভিবাসন আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিছু অভিযুক্তের বক্তব্য, গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র নেওয়া বা নবায়নের সময় ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁরা যথেষ্ট পরিষ্কার ধারণা পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে গাড়িচালকের অনুমতিপত্রের আবেদন বা নবায়নের সঙ্গে ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ যুক্ত থাকে। ফলে নাগরিকত্বের যোগ্যতা, ভোট দেওয়ার অধিকার এবং নিবন্ধনের নিয়ম না বুঝে কোনো ফরম পূরণ করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে কেবল মার্কিন নাগরিকরাই ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। তবে ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো ব্যক্তি ভুলবশত নিবন্ধিত হয়েছেন কি না, তিনি ভোট দিয়েছেন কি না এবং তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব বিষয় মামলার বাস্তবতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই সব অভিযোগকে একইভাবে দেখা ঠিক নয়। নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি ফরম পূরণের সময় নিজের পরিচয়, নাগরিকত্বের অবস্থা এবং ভোট দেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া। কোনো ফরমের ভাষা বুঝতে অসুবিধা হলে অনুমান করে উত্তর না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত। আগে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে থাকলে বা নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে বিষয়টি গোপন না রেখে আইনগত পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা—তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, এমন তথ্য নেই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে নিজের আইনি অবস্থান ও সরকারি নথি যাচাই করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নাগরিকত্বের আবেদন, ভোটার নিবন্ধন বা গাড়িচালকের অনুমতিপত্রসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি নির্দেশনা পড়া এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈশ্বিক মিলনমেলা: ২৮–২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’
ফোবানার কার্যকরী পরিষদের শপথ গ্রহণ, চেয়ারম্যান এম রহমান জহির ও সেক্রেটারি ড. প্রিয়লাল কর্মকার
এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি
বিলাসবহুল গাড়ির ঝলমলে প্রদর্শনীতে যদি হঠাৎ দেখা মেলে মরিচা ধরা ঢেউটিনে মোড়ানো একটি গাড়ির, তাহলে চোখ আটকে যাওয়াই স্বাভাবিক! যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডসনভিলে মাউন্টেন মুনশাইন ফেস্টিভ্যালের উদ্দেশে রওনা হওয়া এমনই এক অদ্ভুত গাড়ির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর কেড়েছে। ছবিটি প্রকাশ করেছেন কেনি বেটি নামের এক ব্যবহারকারী। গাড়িটির চেহারা দেখে মনে হতে পারে, কেউ যেন বাড়ির টিনের চালা খুলে একটি গাড়ির গায়ে লাগিয়ে দিয়েছেন! গাড়িটির ছাদ, পেছন ও দুই পাশের বড় অংশ ঢেউটিন দিয়ে আবৃত। কোথাও মরিচার দাগ, কোথাও অসমান ধাতব পাতের জোড়া—সব মিলিয়ে গাড়িটির নকশা একেবারেই ব্যতিক্রমী। সাধারণ গাড়ির মতো ঝকঝকে রং কিংবা আধুনিক সাজসজ্জা না থাকলেও এর অদ্ভুত চেহারা সহজেই মানুষের কৌতূহল জাগাতে পারে। ছবিটি দেখে রসিকতা করে বলা যায়, এটি গাড়ি, নাকি চাকা লাগানো একটি টিনের ঘর! গাড়িটি নিয়ে মাউন্টেন মুনশাইন ফেস্টিভ্যালের পথে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ছবিটির প্রকাশক। ডসনভিলের এই উৎসব ঐতিহাসিক গাড়ি প্রদর্শনী, সংগীত, খাবার ও স্থানীয় ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। ২০২৬ সালের ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে উৎসবটির ৫৯তম আসর। তবে ঢেউটিনের গাড়িটি আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গাড়িটির নির্মাতা কে, কেন এমন নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে কিংবা এটি তৈরিতে কত খরচ হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও নির্ভরযোগ্য উত্তর মেলেনি। তাই গাড়িটিকে ঘিরে বাড়তি কোনো দাবি না করে ছবির অস্বাভাবিক চেহারাটিই আপাতত আলোচনার মূল বিষয়। আধুনিক গাড়ির বাজারে যেখানে নির্মাতারা বিলাসিতা, গতি ও প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, সেখানে ঢেউটিনে মোড়ানো এই বাহন যেন একেবারেই অন্য রকম! দামি গাড়ির ভিড়ে এটি কতটা নজর কাড়বে, তা সময়ই বলবে। তবে ছবিটি দেখে একটি প্রশ্ন উঠতেই পারে—গাড়ির শোতে যাচ্ছেন চালক, নাকি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের টিনের ঘরটিকেও!
মুসলিম সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সমর্থনে প্রচারণায় নামলেন বারাক ওবামা
ইরানের সঙ্গে চুক্তি নাকি সামরিক হামলা, দুই বিকল্প বিবেচনায় ট্রাম্প
ফ্লোরিডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বন্দুকধারীর হা মলা, গুলিবিদ্ধ ১১ জনের অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষমূলক হামলা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ফ্লোরিডায় নতুন বসতি গড়ছেন অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের বহু পরিবার। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০টি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে ফ্লোরিডার একটি নতুন আবাসিক এলাকায় বসবাস শুরু করেছে। আরও শতাধিক পরিবার সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাড়ির উচ্চমূল্য, করের বোঝা এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ও তাঁদের এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ফ্লোরিডার গ্লেডস কাউন্টিতে গড়ে তোলা হয়েছে লেকফ্রন্ট এস্টেটস নামের নতুন আবাসিক প্রকল্প। প্রায় ৫৫০ একর জমিতে নির্মিত এই প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি ডলার। চলতি অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এলাকাটিতে ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক থেকে আসা ইহুদি পরিবারগুলো বসতি স্থাপন শুরু করেছে। তাঁদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনযাপনের প্রয়োজন বিবেচনায় সেখানে সিনাগগ, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কোশের খাবারের সুপারমার্কেটের ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরুতে অর্থডক্স ইহুদিদের আগ্রহ বেশি থাকলেও এখানে বাড়ি কেনার সুযোগ অন্যদের জন্যও উন্মুক্ত। নিউইয়র্ক ছেড়ে আসা কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। ব্রুকলিনের সাবেক বাসিন্দা মরিস নামের এক ব্যক্তি জানান, নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষের উপস্থিতি তাঁরা দৈনন্দিন জীবনেই অনুভব করছিলেন। তাঁর দাবি, মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ এলাকা বরো পার্কেও পরিস্থিতির পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি নিজের পুরো পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। তবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের কারণে ইহুদিবিদ্বেষ বেড়েছে, এমন কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক পুলিশের পরিসংখ্যানে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। চার সন্তানের এক মা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে বাড়ির উচ্চমূল্য এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণ তাঁদের পরিবারকে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। ফ্লোরিডায় বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফি পরিশোধে সরকারি স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অর্থডক্স ইহুদি পরিবারগুলোর অনেকেই সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াতে আগ্রহী। ফলে আবাসন ও শিক্ষার খরচ তুলনামূলকভাবে সামাল দেওয়ার সুযোগ তাঁদের নতুন বসতি নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে। লেকফ্রন্ট এস্টেটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়িদেল পার্লস্টেইন জানিয়েছেন, নতুন আবাসিক প্রকল্পে চার বেডরুমের বাড়ির দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে। সাত বেডরুমের বাড়ির দাম প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। বড় পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাসহ বাড়ি পাওয়া নিউইয়র্কের অনেক এলাকায় ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের যেসব পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি, তাঁদের জন্য বড় বাড়ির প্রয়োজন হয়। ফ্লোরিডায় তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত বাড়ি এবং ব্যক্তিগত আয়করের অনুপস্থিতিও নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য অ্যারন উইডার জানিয়েছেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার অন্তত ২০টি পরিবার ইতোমধ্যে লেকফ্রন্ট এস্টেটসে চলে গেছে। এলাকাটিতে অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের বসবাস। উইডারের মতে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অনেক পরিবারকে নিউইয়র্কের বাইরে নতুন বাড়ি খুঁজতে উৎসাহিত করছে। তাঁর নিজের পরিবারের পূর্বপুরুষেরা নাৎসি গণহত্যা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বর্তমান সময়ে ইহুদি পরিবারগুলোর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নিউইয়র্ক পুলিশের সর্বশেষ পরিসংখ্যানেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরে ৪৬৩টি নিশ্চিত ঘৃণাজনিত অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৪১০। অর্থাৎ মোট ঘটনা বেড়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। এসব ঘটনার মধ্যে ২৪৫টি ছিল ইহুদিবিরোধী, যা মোট অপরাধের প্রায় ৫৩ শতাংশ। তবে ইহুদিবিরোধী অপরাধের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের ২৪২টি থেকে বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ। নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ এসব অপরাধ মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। তবে নিরাপত্তার আশায় ফ্লোরিডায় গিয়ে নতুন ধরনের উদ্বেগের মুখেও পড়ছেন কিছু বাসিন্দা। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্র ডানপন্থী কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি নতুন এই ইহুদি আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জেক ল্যাং এবং জেফ্রি ওয়ালস্টেইনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধর্মীয় পোশাক, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এতে নতুন বসতি স্থাপনকারী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অবশ্য প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী ইয়িদেল পার্লস্টেইনের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ নতুন প্রতিবেশীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। নতুন আবাসন প্রকল্পের কারণে এলাকায় ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে সেখানে বসবাস শুরু করা কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ী ও প্রতিবেশীদের অনেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলেও কিছু মানুষের বিরূপ মনোভাব এখনো তাঁদের উদ্বিগ্ন রাখছে। এদিকে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ মোকাবিলায় নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এতে সিনাগগের নিরাপত্তায় সহায়তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈষম্য প্রতিরোধ এবং ঘৃণাজনিত অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহযোগিতার উদ্যোগ রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের মধ্যেও কিছু ইহুদি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তাঁদের কাছে এখন প্রধান বিবেচনার বিষয় সন্তানদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় জীবনযাপনের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা। তথ্য যাচাই: নিউইয়র্ক পোস্ট, নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পরিসংখ্যান এবং লেকফ্রন্ট এস্টেটসের প্রকাশিত তথ্য।
নিউইয়র্কে প্রথমবার বাড়ি কিনলে মিলবে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা, জেনে নিন শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রের র্যান্ডলফ কাউন্টিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাঁচাতে কেনাকাটায় অতিরিক্ত ১০ সেন্ট ফি আরোপ