ফুটবল বিশ্বকাপ

ছবি: দীপু মালাকার
ফেসবুকে বিশ্বকাপ উন্মাদনা: ‘মৌসুমি ফ্যান’ বনাম ‘আসল ফ্যান’ বিতর্কে জমজমাট সামাজিক মাধ্যম

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই সামাজিক মাধ্যম সরব হয়ে ওঠে নতুন এক বিতর্কে—“মৌসুমি ফ্যান বনাম আসল ফ্যান”। দলীয় সমর্থনের চিরন্তন দ্বন্দ্বের বাইরে এই অনলাইন লড়াই এখন চার বছর পরপর ফিরে আসা এক সাংস্কৃতিক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।   বিশ্বকাপ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ফেসবুক, এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় পোস্ট, স্ট্যাটাস ও মিমের ঝড়। কেউ প্রিয় দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা ফ্রান্সের জার্সি পরে প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করেন, কেউ আবার শুরু করেন ম্যাচ বিশ্লেষণ। চায়ের আড্ডা থেকে ফেসবুক টাইমলাইন—সব জায়গায় ফুটবলই হয়ে ওঠে প্রধান আলোচ্য বিষয়।   এই সময়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে “আসল ফ্যান” বনাম “মৌসুমি ফ্যান” বিতর্ক। আত্মস্বীকৃত “আসল ফ্যান”দের মতে, তারা সারা বছর ফুটবল অনুসরণ করেন ক্লাব ফুটবল, ট্রান্সফার, ট্যাকটিকস থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যন্ত সবকিছু তাদের নখদর্পণে থাকে। তাদের কাছে ফুটবল কেবল খেলা নয়, বরং বিশ্লেষণের একটি ক্ষেত্র।   অন্যদিকে বিশ্বকাপ এলেই হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে ওঠা “মৌসুমি ফ্যান”দের নিয়ে রয়েছে নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ। অভিযোগ করা হয়, তারা বড় টুর্নামেন্ট ছাড়া সাধারণত ফুটবলে আগ্রহ দেখান না, কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই প্রিয় দল বেছে নিয়ে আবেগী সমর্থক হয়ে ওঠেন এবং ম্যাচ প্রেডিকশন থেকে শুরু করে তর্ক-বিতর্কে সক্রিয় থাকেন।   এই দুই পক্ষের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে চলে পোস্ট-পাল্টাপোস্ট, মন্তব্য আর মিমের প্রতিযোগিতা। কেউ কেউ ফুটবল বোঝার মানদণ্ড হিসেবে ট্যাকটিকস, ফরমেশন বা অফসাইড রুল নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক আলোচনা করেন, আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন ফুটবল উপভোগ করতে কি সারাবছর খেলা দেখা বাধ্যতামূলক?   ফেসবুকে এ নিয়ে রসিকতা ও ব্যঙ্গও কম নয়। কেউ কেউ “মৌসুমি ফ্যান শনাক্তের কৌশল” বা কাল্পনিক নিয়ম-কানুন তৈরি করে পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়। এসব পোস্টের মাধ্যমে ফুটবল নিয়ে এক ধরনের অনলাইন সাংস্কৃতিক হাস্যরসও তৈরি হয়।   তবে এই বিতর্কের বিপরীতে অনেকেই মনে করেন, “মৌসুমি ফ্যান” হওয়া কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। জীবনের ব্যস্ততা ও আগ্রহ ভিন্ন হওয়ায় সবাই সারাবছর ফুটবল অনুসরণ করতে পারেন না। বড় টুর্নামেন্টের সময় প্রিয় দলকে সমর্থন করাও এক ধরনের আবেগ ও আনন্দের অংশ।   বিশ্বকাপের আসল আকর্ষণ সম্ভবত এখানেই ভিন্ন ভিন্ন আগ্রহের মানুষ একসঙ্গে একই আবেগে যুক্ত হন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হলে যেমন অভিজ্ঞ ফ্যান আবেগে ভেসে যান, তেমনি চার বছর পর খেলা দেখা দর্শকও একইভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল, নিশ্চিত করলেন আনচেলত্তি

বিশ্বকাপে দীর্ঘ চব্বিশ বছরের ট্রফি খরা কাটানোর অভিযানে শুরুতেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ে নামবে তারা। তবে এই কঠিন পরীক্ষার ম্যাচে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ফুটবলার নেইমারকে পাচ্ছে না পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।   নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। খেলাটি বাংলাদেশ সময় আগামী রবিবার ভোর চারটায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত এই ম্যাচের আগে ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি সংবাদ সম্মেলনে নেইমারের না খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   আসন্ন প্রথম ম্যাচে নেইমারকে পাওয়া নিয়ে অবশ্য আগে থেকেই বড় ধরণের শঙ্কা ছিল। ৩৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরে পায়ের পেশির চোটে ভুগছেন। এই চোটের কারণে তিনি এখনও দলের সাথে পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরতে পারেননি।   কোচ আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার আগামী সপ্তাহে দলের সাথে নতুন করে অনুশীলন শুরু করবেন। যার অর্থ দাঁড়ায়, আগামী ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেও তার মাঠে নামা নিয়ে বড় ধরণের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ব্রাজিল আগামী ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ করবে।   সংবাদ সম্মেলনে কোচ আনচেলত্তি বলেন, নেইমার দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাকে দলে নেওয়ার কারণ কেবল তার টেকনিক্যাল দক্ষতা নয়, বরং তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণ তৈরি করার ক্ষমতাও এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের পর থেকে ব্রাজিলের জাতীয় দলে আর মাঠে নামেননি নেইমার। তবে এবারের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে তার ওপর আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাকে দলে জায়গা দিতে গিয়ে চেলসির জোয়াও পেদ্রো এবং টটেনহ্যামের রিচার্লিসনের মতো তারকাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।   ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের মালিক নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে তিনি এ পর্যন্ত ১২৮টি ম্যাচ খেলে মোট ৭৯টি গোল করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ফুটবল কিংবদন্তি পেলের করা ৭৭ গোলের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছেন।   সান্তোসের সাবেক এই ফরোয়ার্ডের সামনে এবার চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ রয়েছে। এর আগে তিনি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। এবার চোট কাটিয়ে তিনি কত দ্রুত মাঠে ফিরতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা, নজর কাড়লেন সঞ্জয় দেব

ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে এবার দেখা গেল বাংলাদেশের এক অনন্য উপস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী আয়োজনে পারফর্ম করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব। শুধু পারফরম্যান্সই নয়, নিজের পোশাকের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।   শুক্রবার রাতে কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন সঞ্জয় দেব। কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মধ্যকার ম্যাচের আগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় তিনি পারফর্ম করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী Nora Fatehi এবং Vegedream–এর সঙ্গে।   তবে অনুষ্ঠানে তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তার বিশেষভাবে তৈরি জ্যাকেট। জ্যাকেটটির ডান হাতার অংশে সূচিকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকগুলো। সেখানে ছিল জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং সবুজ পটভূমিতে লাল বৃত্তসংবলিত বাংলাদেশের পতাকার নকশা।   বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে এমন উপস্থাপনাকে অনেকেই বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও পরিচয় তুলে ধরার অভিনব উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। পারফরম্যান্স চলাকালে সঞ্জয় দেবকে বারবার নিজের জ্যাকেটের হাতার দিকে ইঙ্গিত করতে দেখা যায়, যাতে দর্শকরা বাংলাদেশের প্রতীকগুলো স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন।   অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ইতিবাচক প্রতিনিধিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ব্যবহারকারী সঞ্জয় দেবের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং তার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।   ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলোর একটি। প্রতি আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কোটি কোটি দর্শক সরাসরি ও সম্প্রচারের মাধ্যমে উপভোগ করেন। সেই মঞ্চে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকগুলোর উপস্থিতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও বিশেষ উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে।   জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দেব ও নোরা ফাতেহি ছাড়াও পারফর্ম করেন বিশ্বখ্যাত কানাডিয়ান সংগীতশিল্পী Michael Bublé, Alanis Morissette এবং Alessia Cara। এছাড়া মঞ্চে গান পরিবেশন করেন Jessie Reyez এবং Elyanna। অনুষ্ঠানের শিল্পী তালিকায় আরও ছিলেন William Prince।   বহুসাংস্কৃতিক কানাডার পরিচয় তুলে ধরতে আয়োজকেরা বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও পটভূমির শিল্পীদের একত্র করেছিলেন। সেই আয়োজনে বাংলাদেশি শিকড়ের একজন শিল্পীর অংশগ্রহণ এবং তার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতীকী উপস্থাপনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ধরনের উপস্থিতি একটি দেশের সফট পাওয়ার বা সাংস্কৃতিক পরিচিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো উচ্চপ্রচারিত আসরে বাংলাদেশের প্রতীকগুলো তুলে ধরা দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্বদর্শকের সামনে উপস্থাপনের একটি অনন্য উদাহরণ।   বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্ত এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ফুটবল বিশ্বকাপের আলোচিত মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা, শাপলা ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতি তাদের জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত হয়ে থাকবে।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ইরানের

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের সমর্থকদের উপস্থিতি বাধাগ্রস্ত করতে টিকিট নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসি ফার্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তুলল দেশটি।   ইরানের অভিযোগ, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তাদের জাতীয় দলের তিনটি ম্যাচের ভেন্যুতে যেন ইরানি সমর্থকরা উপস্থিত হতে না পারেন, সেই চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের প্রায় ৮ শতাংশ টিকিট সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। এর ফলে সমর্থকরা অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে সহজেই টিকিট কিনতে পারেন। ইরান ফুটবল ফেডারেশনও সেই নিয়ম মেনে টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের সেই কোটা বাতিল করা হয়েছে।   ইরান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের অফিশিয়াল টিকিট কোটা এভাবে কেড়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মূল চেতনা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমতার নীতির পরিপন্থী। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা মার্কিন আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এর আগে ভিসা জটিলতার কারণে ইরানের বেশ কয়েকজন সহকারী স্টাফের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ইরান দল তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকো সীমান্তের টিজুয়ানা শহরে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়। আগামী ১৫ই জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ইরান।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই হোটেল ও স্টেডিয়াম শ্রমিকদের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর মাত্র দুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি স্বাগতিক শহরের হোটেল এবং খাবার সরবরাহকারী শ্রমিকরা ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কম মজুরি এবং অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে হাজার হাজার শ্রমিকের এই অসন্তোষে টুর্নামেন্ট শুরুর মুখেই বড় ধরনের অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।   আগামী ১২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই স্টেডিয়ামের প্রায় ২ হাজার কর্মী যেকোনো মুহূর্তে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান মজুরি দিয়ে স্টেডিয়ামের কাছাকাছি থাকার খরচ চালানো অসম্ভব। তারা ঘণ্টায় ৩০ ডলারের বেশি মজুরি এবং কাজের জায়গায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের বিরুদ্ধে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।   একই ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে সিয়াটল শহরের লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়ামের কাছের একটি তারকা হোটেলও। সেখানে বিশ্বকাপের ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই হোটেলের শত শত কর্মী বেতন বৃদ্ধি, বছরব্যাপী স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের দাবিতে ধর্মঘটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, করোনা মহামারির পর থেকে প্রতিটি বিভাগে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক কম কর্মী দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   অন্যদিকে ফিলাডেলফিয়ার ছয়টি বড় হোটেলের শ্রমিক ইউনিয়নও আগামী ১২ জুনের মধ্যে নতুন চুক্তি না হলে ধর্মঘটের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রায় ৭৭ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, হোটেলগুলো বিপুল অর্থ আয় করলেও সাধারণ কর্মীদের সন্তানদের পড়াশোনা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার মতো ন্যায্য মজুরি দেওয়া হচ্ছে না।   বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থা ফিফার একটি নতুন নীতি নিয়েও শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, যেখানে কাজ করার জন্য কর্মীদের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় দুইশত দেশের অভিবাসী শ্রমিকরা এই টুর্নামেন্টে কাজ করবেন। ফলে এই নিয়মের কারণে কাজের জায়গায় বাড়তি হয়রানির আশঙ্কা করছেন শ্রমিক নেতারা। তবে ফিফা জানিয়েছে, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ চুক্তিভিত্তিক বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ফাউলের অভিনয় কিংবা জার্সি খুললে দেখতে হবে হলুদ কার্ড

ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের শৃঙ্খলার পাশাপাশি স্পনসরদের স্বার্থ রক্ষার্থে ফিফা, আইএফএবি এবং বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) একগুচ্ছ কঠোর নিয়মকানুন নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন ফাউলের শিকার না হয়েও ফাউলের ভান করা কিংবা পেনাল্টি পাওয়ার আশায় বক্সে ‘ডাইভ’ দিলে রেফারি খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখাবেন। এছাড়া গোল করার পর আনন্দে গায়ের জার্সি খুললে, অতিরিক্ত সময় নষ্ট করলে বা গ্যালারির দর্শকদের উসকানি দিলেও এই শাস্তি পেতে হবে।   রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আক্রমণাত্মক আচরণ করা, ভয় দেখানো বা গালিগালাজ করলে হলুদ বা সরাসরি লাল কার্ড দেওয়া হবে। টুর্নামেন্টের আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে পরবর্তী ম্যাচে ওই খেলোয়াড় নিষিদ্ধ থাকবেন এবং লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে গড়িমসি করলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। মাঠে নামার আগে আংটি, গলার চেইন, ঘড়ি বা ব্রেসলেটের মতো গয়না পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অনুমতিক্রমে ফেস মাস্ক বা বিশেষ সুরক্ষামূলক গার্ড ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে ভেতরের গেঞ্জি বা মূল জার্সিতে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান প্রদর্শন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।   মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ডোপ টেস্টের ওপর কঠোর নজরদারি রাখবে ওয়াডা ও ফিফা। বিশ্বকাপ চলাকালীন যেকোনো ম্যাচ শেষে, অনুশীলন সেশনে বা টিম হোটেলেও প্রতিনিধিরা আচমকা ডোপ টেস্টের জন্য খেলোয়াড়দের ডাকতে পারেন; এই টেস্টে অস্বীকৃতি জানালে বা নমুনায় কারচুপির চেষ্টা করলে ক্যারিয়ারে বড় নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে। এছাড়া খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর, বর্ণবাদী বা রাজনৈতিক উসকানিমূলক পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   ফিফার অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন বা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সব খেলোয়াড়ের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া এটি এড়ালে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে। একই সঙ্গে অফিশিয়াল অনুষ্ঠানে অননুমোদিত স্পনসর বা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের প্রচার চালানোও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি ক্যাম্প বা হোটেল ছাড়তে হলে কোচিং স্টাফদের আগাম অনুমতি নিতে হবে এবং যাতায়াতের জন্য শুধু ফিফার নির্ধারিত অফিশিয়াল যানবাহনই ব্যবহার করতে হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
কানসাস সিটিতে ভোররাতের গোলাগুলি ঘিরে উদ্বেগ । ছবি: সংগৃহীত
ইংল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের কাছেই গোলাগুলি, আহত অন্তত ৯ জন

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আহত সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।   কানসাস সিটি পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। এলাকাটি ইংল্যান্ড দলের বেস ক্যাম্প সোয়োপ সকার ভিলেজ থেকে চার মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থিত।   পুলিশের এক বিবৃতিতে ক্যাপ্টেন জেক বেকিনা জানান, আহতদের সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কারও আঘাত প্রাণঘাতী নয়। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। কী কারণে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সেটিও তদন্তাধীন রয়েছে।   পুলিশ জানায়, গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তারা একটি বড় জনসমাগম ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে দেখে। সেখানে গুলিবিদ্ধ তিন নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আরও ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তারা ব্যক্তিগত যানবাহনে করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে।   ঘটনার সময় ইংল্যান্ড জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা কানসাস সিটিতে ছিলেন না। তারা বর্তমানে ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন এবং বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে দলের কেউ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হননি।   শনিবার গোলাগুলির সময় ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছিল। ফ্লোরিডার টাম্পায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে জয় পায়। আগামী সপ্তাহে কোস্টারিকার বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর দলটি আবার কানসাস সিটিতে ফিরবে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বসবাসকারী কেট ফাউলার কানসাস সিটি স্টারকে জানান, শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি ও তার স্বামী তাদের বাড়ির সামনের জানালায় গুলির চিহ্ন দেখতে পান। পরে তারা জানতে পারেন, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেও একই এলাকায় গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল।   কেট ফাউলারের ভাষ্য, তাদের এলাকায় সপ্তাহে অন্তত একবার গুলির শব্দ শোনা অস্বাভাবিক নয়। তিনি বলেন, আশপাশের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে।   এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় কানসাস সিটির অন্য একটি এলাকাতেও আরেকটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএমবিসি নিউজ ৯-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।   বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কানসাস সিটি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক দলের বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অবস্থান এবং উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধার কারণে ইংল্যান্ড ছাড়াও আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস তাদের প্রস্তুতি কেন্দ্র হিসেবে এই শহরকে বেছে নিয়েছে।   স্থানীয় পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দল বা বিশ্বকাপ আয়োজনের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক প্রথম ইংল্যান্ড দলের বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি এই গোলাগুলির ঘটনার খবর প্রকাশ করে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কানসাস সিটি পুলিশ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফরাসি ফুটবল তারকা কামাভিঙ্গা।  ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পেয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন ফরাসি ফুটবল তারকা

ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন আপাতত অধরাই থেকে গেল। তবে সেই হতাশাকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফরাসি মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়ার পর অবসর সময়কে কাজে লাগাতে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের একটি কোর্সে ভর্তি হয়েছেন তিনি।   মাত্র ২৩ বছর বয়সেই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা কামাভিঙ্গা গত কয়েক মৌসুম ধরে স্পেনের জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলছেন। ফ্রান্সের জাতীয় দলেও নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য কোচ দিদিয়ের দেশমের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তার।   ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের রানার্সআপ হওয়ার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন কামাভিঙ্গা। সেই আসরের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া করতে হয় ফরাসিদের।   তবে এবারের বিশ্বকাপের আগে তার পরিস্থিতি ভিন্ন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে নিয়মিত একাদশে জায়গা ধরে রাখতে পারেননি এই মিডফিল্ডার। বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয়েছে বেঞ্চে। জাতীয় দলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাননি তিনি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ দলে জায়গা হারাতে হয়েছে তাকে।   কিন্তু হতাশায় ডুবে না থেকে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার পথ বেছে নিয়েছেন কামাভিঙ্গা। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের বিনোদন ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট একটি কোর্সে ভর্তি হওয়ার খবর নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি।   রোববার নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কামাভিঙ্গা লেখেন, “কিছুদিন শেখা, শোনা এবং নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার কাজে ব্যয় করতে চাই।”   ফুটবলের বাইরে শিক্ষা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেক সমর্থক মনে করছেন, আধুনিক ক্রীড়াবিদদের জন্য মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজ শহরে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে। বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, ক্রীড়া সংগঠক, শিল্পোদ্যোক্তা এবং পেশাজীবীরা নিয়মিত এখানকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অংশ নিয়ে থাকেন।   মজার বিষয় হলো, ফ্রান্স জাতীয় দল এবারের বিশ্বকাপ চলাকালে যে এলাকায় অবস্থান করবে, তার কাছাকাছিই রয়েছে হার্ভার্ডের ক্যাম্পাস। ফলে কামাভিঙ্গা একদিকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন, অন্যদিকে সতীর্থদের বিশ্বকাপ অভিযানও কাছ থেকে অনুসরণ করার সুযোগ পাবেন।   আগামী ১৬ জুন সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, অরেলিয়েন চুয়ামেনিদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী দলটি এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   অন্যদিকে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও কামাভিঙ্গার সামনে এখনও দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে। বয়স এবং প্রতিভা বিবেচনায় ভবিষ্যতে ফরাসি মিডফিল্ডার আবারও জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠবেন বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। আর সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষার সময়টুকু তিনি কাজে লাগাচ্ছেন শিক্ষা ও আত্মউন্নয়নের মাধ্যমে।

নীলুফা নিশাত জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে আকাশ নিরাপত্তা জোরদার, ড্রোন মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথের নিরাপত্তা জোরদার করছে। সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ও অননুমোদিত আকাশযান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   এ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ বছর প্রায় ২৫ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে, যা “বিপজ্জনক ও অবৈধ ড্রোন ব্যবহারের” বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ব্যয় করা হচ্ছে।   এফবিআই সম্প্রতি আলাবামার হান্টসভিলে একটি জাতীয় ড্রোন প্রতিরোধ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছে। সেখানে স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের ড্রোন শনাক্ত, অনুসরণ এবং প্রয়োজনে নিষ্ক্রিয় করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।   প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি বিশ্বকাপ ভেন্যুর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। এতে মাঠ পর্যায়ের ব্যবহারিক অনুশীলন এবং সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   কংগ্রেস সদস্যদের মতে, বড় জনসমাগম ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আকাশ নিরাপত্তা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। নিউ জার্সি ও নিউইয়র্ক অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় ড্রোন জ্যামিং প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রণ দখল ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষামূলক ড্রোন ব্যবহারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে কোন প্রযুক্তি সরাসরি ব্যবহার করা হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি নিরাপত্তা ব্যর্থতার ঘটনার পর ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বাড়ে।   এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনে আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সংস্থার সমন্বিত ব্যবস্থা কাজ করবে।

শাহারিয়া নয়ন মে ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ টিকিটের আকাশচুম্বী দাম, ক্ষুব্ধ ফুটবল ভক্তরা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কিছুদিন। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফার এই মেগা ইভেন্ট। তবে মেক্সিকোর সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের জন্য এই উৎসব বিষাদে রূপ নিচ্ছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, টিকিটের অত্যধিক দামের কারণে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা এখন মেক্সিকানদের কাছে কেবল এক দুঃস্বপ্ন।     প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উদ্বোধনী ম্যাচসহ গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মেক্সিকোর বর্তমান সর্বনিম্ন মজুরি এবং সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় টিকিটের এই মূল্য আকাশছোঁয়া। একজন সাধারণ মেক্সিকান শ্রমিকের কয়েক মাসের সম্পূর্ণ বেতন দিলেও একটি টিকিট কেনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।     ফিফা যদিও দাবি করেছে যে তারা সর্বনিম্ন ৬০ ডলারের (প্রায় ৭,০০০ টাকা) টিকিটও রেখেছে, তবে সিএনএন-এর অনুসন্ধান বলছে, রিসেল বা পুনরায় বিক্রির বাজারে একেকটি টিকিটের দাম ৩,০০০ ডলার থেকে ১০,০০০ ডলার (প্রায় ৩.৫ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা) পর্যন্ত উঠেছে। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।   ফ্রান্সিসকো জাভিয়ের নামের এক সত্তরোর্ধ্ব ফুটবল ভক্ত, যিনি ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন, আক্ষেপ করে বলেন, "এই বিশ্বকাপ আর সাধারণ মানুষের নেই। এটি কেবল ধনীদের উৎসবে পরিণত হয়েছে। নিজের দেশে খেলা হওয়া সত্ত্বেও আমি এবার গ্যালারিতে যেতে পারছি না।"   উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোতে। অল্প ম্যাচ এবং বিপুল চাহিদার সুযোগ নিয়ে টিকিট সিন্ডিকেট এবং ফিফার ডায়নামিক প্রাইসিং পলিসি সাধারণ ভক্তদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শাহারিয়া নয়ন মে ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0