আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের সমর্থকদের উপস্থিতি বাধাগ্রস্ত করতে টিকিট নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসি ফার্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তুলল দেশটি।
ইরানের অভিযোগ, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তাদের জাতীয় দলের তিনটি ম্যাচের ভেন্যুতে যেন ইরানি সমর্থকরা উপস্থিত হতে না পারেন, সেই চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের প্রায় ৮ শতাংশ টিকিট সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। এর ফলে সমর্থকরা অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে সহজেই টিকিট কিনতে পারেন। ইরান ফুটবল ফেডারেশনও সেই নিয়ম মেনে টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের সেই কোটা বাতিল করা হয়েছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের অফিশিয়াল টিকিট কোটা এভাবে কেড়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মূল চেতনা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমতার নীতির পরিপন্থী। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা মার্কিন আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ভিসা জটিলতার কারণে ইরানের বেশ কয়েকজন সহকারী স্টাফের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ইরান দল তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকো সীমান্তের টিজুয়ানা শহরে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়। আগামী ১৫ই জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শতাধিক বিদেশি নাগরিক ও কর্মকর্তার ওপর নতুন করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নেওয়া এই জরুরি পদক্ষেপের কথা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন করে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞার একটি বড় অংশই নিকারাগুয়ার কর্মকর্তাদের ওপর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নিকারাগুয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এক আদিবাসী অধিকার কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করেই মূলত মার্কিন প্রশাসন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, বিভিন্ন দেশের সরকার ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সুশীল সমাজের ওপর দমন-পীড়ন, সেন্সরশিপ ও নানা ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করা এর মূল উদ্দেশ্য। ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গণতন্ত্র রক্ষা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে চাপ সৃষ্টির যে নীতি যুক্তরাষ্ট্র অনুসরণ করছে, এই নিষেধাজ্ঞা তারই একটি বড় অংশ বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর মাত্র দুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি স্বাগতিক শহরের হোটেল এবং খাবার সরবরাহকারী শ্রমিকরা ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কম মজুরি এবং অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে হাজার হাজার শ্রমিকের এই অসন্তোষে টুর্নামেন্ট শুরুর মুখেই বড় ধরনের অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী ১২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই স্টেডিয়ামের প্রায় ২ হাজার কর্মী যেকোনো মুহূর্তে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান মজুরি দিয়ে স্টেডিয়ামের কাছাকাছি থাকার খরচ চালানো অসম্ভব। তারা ঘণ্টায় ৩০ ডলারের বেশি মজুরি এবং কাজের জায়গায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের বিরুদ্ধে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। একই ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে সিয়াটল শহরের লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়ামের কাছের একটি তারকা হোটেলও। সেখানে বিশ্বকাপের ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই হোটেলের শত শত কর্মী বেতন বৃদ্ধি, বছরব্যাপী স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের দাবিতে ধর্মঘটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, করোনা মহামারির পর থেকে প্রতিটি বিভাগে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক কম কর্মী দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ফিলাডেলফিয়ার ছয়টি বড় হোটেলের শ্রমিক ইউনিয়নও আগামী ১২ জুনের মধ্যে নতুন চুক্তি না হলে ধর্মঘটের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রায় ৭৭ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, হোটেলগুলো বিপুল অর্থ আয় করলেও সাধারণ কর্মীদের সন্তানদের পড়াশোনা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার মতো ন্যায্য মজুরি দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থা ফিফার একটি নতুন নীতি নিয়েও শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, যেখানে কাজ করার জন্য কর্মীদের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় দুইশত দেশের অভিবাসী শ্রমিকরা এই টুর্নামেন্টে কাজ করবেন। ফলে এই নিয়মের কারণে কাজের জায়গায় বাড়তি হয়রানির আশঙ্কা করছেন শ্রমিক নেতারা। তবে ফিফা জানিয়েছে, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ চুক্তিভিত্তিক বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কমার্শিয়াল পার্কিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবিতে কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার ও পোস্টার হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জ্যাকসন হাইটসে চালু করা কমার্শিয়াল পার্কিং ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে দীর্ঘ আকারের বাণিজ্যিক যানবাহন ও পণ্যবাহী ট্রাকের লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ যানবাহনের জন্য পার্কিংয়ের স্থান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে প্রতিদিনই স্থানীয় বাসিন্দাদের গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের মতে, জ্যাকসন হাইটসের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও ব্যস্ত সময়ে পার্কিং সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। তারা আরও বলেন, জ্যাকসন হাইটসে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীর বসবাস। ফলে এলাকার বাসিন্দাদের চাহিদা ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। সমাবেশ থেকে বিক্ষোভকারীরা কমার্শিয়াল পার্কিং ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং দ্রুত তা প্রত্যাহারের দাবি তোলেন। পাশাপাশি সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।