সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা ও ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অপরাধ দমনে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকার সম্প্রতি একটি নতুন বৈশ্বিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে কেবল অভিযুক্ত সাইবার অপরাধীরাই নয়, বরং তাদের নিকটাত্মীয়রাও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ধারা ২১২(এ)(৩)(সি)-এর অধীনে এই কঠোর নীতি কার্যকর করা হচ্ছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাইবার অপরাধ দমনের এক বৃহত্তর ও সমন্বিত উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মার্কিন সরকারের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা এবং বিশেষ করে চীনের আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রগুলোর দ্বারা পরিচালিত সাইবার প্রতারণা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকিতে পরিণত হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে শুধু ২০২৪ সালেই মার্কিন নাগরিকদের অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এর পাশাপাশি সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ব্যবহার করে মানব পাচার, দুর্নীতি এবং আন্তর্জাতিক অর্থপাচারের মতো গুরুতর অপরাধগুলোকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন আরও জানিয়েছে, শিশু-কিশোররাও এসব অপরাধের নির্মম শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে পরিচালিত ‘সেক্সটর্শন’ বা ‘রোমান্স স্ক্যাম’-এর ফাঁদে পড়ে অনেক মার্কিন পরিবার চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘আমেরিকান নাগরিকদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, প্রতারণা ও শোষণমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪৩৯০-এ স্বাক্ষর করেছেন। এই নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতেই নতুন ভিসা নীতিটি চূড়ান্তভাবে চালু করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভিসা নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সাইবার অপরাধীদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে অর্থনৈতিক অবরোধ, ফৌজদারি মামলা দায়ের, সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, যারা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযুক্তদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদেরও ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর ওপর প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি চাপ সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সাইবার অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মানব পাচার চক্রের নির্মম শিকার হয়ে মালবাহী ট্রেনের একটি বদ্ধ কনটেইনারে ৭ জন অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে দমবন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার এই অমানবিক ঘটনায় ১১ জন পাচারকারীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। টেক্সাসের লারেডো শহরের একটি রেল ইয়ার্ডে শিপিং কনটেইনারের ভেতর থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরসহ ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সান আন্তোনিওতে রেললাইনের পাশে ফেলে যাওয়া অবস্থায় আরও একজনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের মার্কিন অ্যাটর্নি জাস্টিন আর. সিমন্স জানান, গত মে মাসে টেক্সাসের তীব্র গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাহীন ও বায়ু চলাচলের বিন্দুমাত্র সুযোগ না থাকা একটি সিলগালা করা কনটেইনারে ওই অভিবাসীদের আটকে রাখা হয়েছিল। ডেল রিও সীমান্ত শহর থেকে সান আন্তোনিও যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা ওই ট্রেনে উঠেছিলেন। কিন্তু সান আন্তোনিওতে পৌঁছানোর পর পাচারকারীরা কনটেইনারের দরজা খুললে একজন বাইরে পড়ে যান। তখন পাচারকারীরা তাকে সেখানে মৃত ভেবে ফেলে রেখেই দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পরের দিন ট্রেনটি লারেডোতে পৌঁছালে সেখানকার এক কর্মী কনটেইনারের ভেতর থেকে একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। এরপর ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে বাকি ছয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঠিক আগে বাঁচার আকুতি নিয়ে এক অভিবাসী ভেতর থেকেই তার পরিবারকে ফোন করেছিলেন। নিহত ওই অভিবাসীরা মূলত মেক্সিকো এবং হন্ডুরাসের নাগরিক। ওয়েব কাউন্টির চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওই দিন তাপমাত্রা প্রায় ৮৮ থেকে ৯২ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকায় অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক বা 'হাইপারথার্মিয়া'র কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, পাচারকারী চক্রের হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ওই অভিবাসীরা প্রত্যেকে দেড় হাজার থেকে দশ হাজার ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করেছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসী পরিবহন এবং এর ফলে মৃত্যুর কারণ হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে চক্রের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজন মার্কিন নাগরিক ও দুজন স্থায়ী বাসিন্দাও রয়েছেন। বাকি দুজনকে খুঁজছে পুলিশ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই পাচারকারীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের ক্ষেত্রে পণ্যবাহী ট্রেনের এমন ব্যবহার দীর্ঘদিনের একটি উদ্বেগজনক সমস্যা। মেক্সিকো সীমান্ত পার হওয়ার আগে ট্রেনগুলো ধীরগতিতে চললে বা থামলে পাচারকারীরা সুযোগ বুঝে অভিবাসীদের ভেতরে লুকিয়ে ফেলে। এর আগে ২০২২ সালে টেক্সাসেই একটি ট্রাকের ট্রেইলারে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ৫৩ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মানব পাচারের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। এছাড়া ২০২৩ সালেও টেক্সাসের নিপ্পা এলাকায় ট্রেনের বগি থেকে আরও দুই অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে বাণিজ্য ও মানব পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে লারেডোকে ব্যবহার করে আসছে পাচারকারীরা, যা ঠেকাতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
খাবার সরবরাহকারী (ফুড ডেলিভারি) স্বয়ংক্রিয় রোবটের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যের বাসিন্দা ট্রুডি পেরেজ (৭৩)। ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি পার্কিং গ্যারেজে দায়িত্ব পালনকালে রোবটটির হঠাৎ বেপরোয়া আক্রমণের শিকার হন তিনি। এই ঘটনায় তার মেরুদণ্ডে ফাটল (ফ্র্যাকচার) ধরে এবং হাত গভীরভাবে কেটে যায়। চিরতরে শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলা এই বৃদ্ধা এবার রোবট প্রস্তুতকারক ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'স্টারশিপ টেকনোলজিস'-এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যার মূল বিচারিক প্রক্রিয়া আগামী বছরের শুরুতে শুরু হতে যাচ্ছে। মামলার বিবরণ ও পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির পার্কিং অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কাজ করার সময় ট্রুডি পেরেজের ঠিক সামনে একটি স্বয়ংক্রিয় খাবার সরবরাহকারী রোবট যাচ্ছিল। কিন্তু কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই রোবটটি হঠাৎ গতিপথ বদলে পেছনের দিকে এসে সজোরে তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও রোবটটি পুনরায় রিভার্স করে পেছনে আসে। ঘটনার পর অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি পুলিশের নথিতে দেখা যায়, ট্রুডির বাঁ হাতে চার ইঞ্চির একটি গভীর ক্ষত তৈরি হয় এবং তিনি অসহ্য যন্ত্রণায় মাটিতে কাতরাচ্ছিলেন। ভুক্তভোগীর আইনজীবী জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রবীণ এই নারী আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক আইনি বিশেষজ্ঞেরা জানান, প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাস্তায় বা পাবলিক প্লেসে চলাচলকারী এমন স্বয়ংক্রিয় রোবটগুলোকে সার্বক্ষণিক কোনো মানুষের মাধ্যমে দূরবর্তী পর্যবেক্ষণে (রিমোট মনিটরিং) রাখতে হয় এবং প্রতিটি রোবটের জন্য কমপক্ষে ১ লাখ ডলারের বীমা থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে রোবটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে পুরোপুরি আইনি ও আর্থিক দায়ভার বহন করতে হয়। তবে এই পুরো মামলা ও গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে 'স্টারশিপ টেকনোলজিস'-এর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিবারের সাথে ছুটি কাটাতে গিয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ৮ বছর বয়সী এক শিশু। পোর্টেবল ফায়ার পিট বা টেবিলটপ ফায়ারপ্লেস হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে ওই শিশু মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় এবং আহত অবস্থায় আরেক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অ্যারিজোনা থেকে আসা ওই পরিবারের আনন্দঘন সমুদ্রভ্রমণ মুহূর্তেই এক বিভীষিকায় পরিণত হয়। জানা যায়, জুনের শেষের দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ওশানসাইডে ক্যাম্পিং করার সময় পিটারসন পরিবার ফায়ার পিটে মার্শম্যালো ভাজছিল। এ সময় কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই 'ফ্লিকারফায়ার' (FlikrFire) নামের ওই পোর্টেবল ফায়ারপ্লেসটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে আট বছর বয়সী ব্রকের শরীর আগুনে ঝলসে যায় এবং তার হাত, ঘাড় ও মুখে দ্বিতীয় মাত্রার (সেকেন্ড-ডিগ্রি) গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা জন পিটারসনের হাতও মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। ব্রকের বাবা সংবাদমাধ্যম এনবিসি ৭-কে জানান, ফায়ার পিট থেকে হঠাৎ একটি বিশাল আগুনের গোলা বেরিয়ে এসে তার ছেলেকে মশালে পরিণত করে, যা দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। ভয়াবহ এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ব্রকের মা আমান্ডা এবং তার দুই ছোট ভাই-বোন, ছয় বছরের মলি ও চার বছরের ডিনের চোখের সামনেই ঘটে। পরিবারের বন্ধুদের খোলা একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) পেজ থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনার পরপরই ব্রক ও অন্য এক আহত শিশুকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ বার্ন ইউনিটে ১৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ব্রক বর্তমানে স্কিন গ্রাফট সার্জারি শেষে ধীরে ধীরে সেরে উঠছে। ইনডোর ও আউটডোরে ব্যবহারের উপযোগী এই গোলাকার ফ্লিকারফায়ার ফায়ারপ্লেসটি মূলত আইসোপ্রোপাইল রাবিং অ্যালকোহল দিয়ে জ্বালানো হতো। একসময় অ্যামাজনে ব্যাপকভাবে বিক্রি হলেও, মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন কনজিউমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন (CPSC) পণ্যটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এই প্রত্যাহারের আগে ফায়ার পিটটির কারণে অন্তত দুজনের মৃত্যু এবং ২০১৯ সাল থেকে কমপক্ষে ৬০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালেও কানাডিয়ান কর্মকর্তারা অগ্নিদগ্ধের অভিযোগ পাওয়ার পর একই পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।