ইরান ফুটবল

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ইরানের

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের সমর্থকদের উপস্থিতি বাধাগ্রস্ত করতে টিকিট নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসি ফার্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তুলল দেশটি।   ইরানের অভিযোগ, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তাদের জাতীয় দলের তিনটি ম্যাচের ভেন্যুতে যেন ইরানি সমর্থকরা উপস্থিত হতে না পারেন, সেই চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের প্রায় ৮ শতাংশ টিকিট সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। এর ফলে সমর্থকরা অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে সহজেই টিকিট কিনতে পারেন। ইরান ফুটবল ফেডারেশনও সেই নিয়ম মেনে টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের সেই কোটা বাতিল করা হয়েছে।   ইরান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের অফিশিয়াল টিকিট কোটা এভাবে কেড়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মূল চেতনা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমতার নীতির পরিপন্থী। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা মার্কিন আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এর আগে ভিসা জটিলতার কারণে ইরানের বেশ কয়েকজন সহকারী স্টাফের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ইরান দল তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকো সীমান্তের টিজুয়ানা শহরে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়। আগামী ১৫ই জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ইরান।

তাবাস্সুম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
সরদার আজমুন। এএফসি
দুবাইয়ের শাসকের সঙ্গে ছবি ঘিরে বিতর্ক, বিশ্বকাপ দলে জায়গা হলো না ইরানি স্ট্রাইকার সরদার আজমুনের

দুবাইয়ের শাসকের সঙ্গে তোলা একটি ছবি ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তারকা স্ট্রাইকার সরদার আজমুনের। সাম্প্রতিক ঘোষিত প্রাথমিক দল থেকে তার বাদ পড়া নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। গত মার্চে দুবাইয়ের শাসকের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন আজমুন। সেই পোস্টের পর ইরানে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি এবং বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও আলোচিত হয়।   গত শনিবার বিশ্বকাপের জন্য ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করে ইরান ফুটবল কর্তৃপক্ষ। সেই তালিকায় আজমুনের নাম নেই। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী এই দল থেকে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্ধারণ করা হবে। বিশ্বকাপের আগে তুরস্কে প্রস্তুতি ক্যাম্পে যাওয়ার জন্যও একই স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে আজমুনের অনুপস্থিতি বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ওই ছবিগুলো সরিয়ে ফেলেন আজমুন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত থাকে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, চোটের কারণেই তিনি দল থেকে ছিটকে গেছেন।   জাতীয় দলের কোচ আমির ঘালেনোই বলেন, “খেলোয়াড় নির্বাচনে মাঠের পারফরম্যান্স ও কৌশলগত দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো বিষয় এখানে প্রভাব ফেলেনি।” বর্তমানে দুবাইয়ের ক্লাব শাবাব আল আহলির হয়ে খেলছেন ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করেছেন তিনি।   টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আরিজোনার টুকসনে দলের বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। গ্রুপ ‘জি’-তে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিসর।

শাহারিয়া নয়ন মে ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে বাদ দিয়ে ইতালিকে নেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের, ফিফার নাকচ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে সরিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার এক বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি। ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ফুটবলের ঐতিহ্যের খাতিরেই ইতালির বিশ্বকাপে থাকা জরুরি। উল্লেখ্য, বাছাইপর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ইতালি এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করতে ব্যর্থ হয়েছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবটি মূলত ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল। পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের করা কিছু মন্তব্যে ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ক্ষুব্ধ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ফিফার অভ্যন্তরে এই প্রস্তাব নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ একে ‘নগ্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।   ইরান এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, তারা মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচ মেক্সিকোতে আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে। ফিফার ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির এমন চেষ্টার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোও।   ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য এই প্রস্তাবে সায় দেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান বাছাইপর্ব পেরিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে এবং কোনো দেশের রাজনৈতিক চাপের মুখে তাদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন প্রস্তাব ফুটবল বিশ্বে অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফিফার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ইরানের বিশ্বকাপ ভাগ্য: যুক্তরাষ্ট্র নয়, ম্যাচ চায় মেক্সিকোতে

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে ইরান জাতীয় দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নিজেদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।   ইরান ফুটবল ফেডারেশন (আইএফএফ) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।   রোববার তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি বলেন, ফিফা যদি এই অনুরোধ গ্রহণ না করে, তাহলে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।   তিনি আরও জানান, দলকে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলার বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে তবেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   ফিফার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। ইরানের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২২ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। আর ২৬ জুন সিয়াটলে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলবে দলটি। ফিফার সিদ্ধান্ত এখন ইরানের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তুরস্কে অনুষ্ঠিত ইরান ও কোস্টারিকার প্রীতি ম্যাচ চলাকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। এর আগে নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপ থেকে ইরানের নাম প্রত্যাহারের গুঞ্জন উঠলেও ইনফান্তিনো যাবতীয় শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে।   ফিফা প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে তিনি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন এবং হোয়াইট হাউস থেকে ইরানি খেলোয়াড় ও প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা ও অবাধ প্রবেশের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইরান তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তা নাকচ করে দিয়েছিল। ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, এই বিষয়ে ফিফার কাছে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ নেই।   কয়েকদিন আগে রাজনৈতিক ইস্যুতে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও ফিফা প্রেসিডেন্টের সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ইনফান্তিনো জানান, ফুটবলের শক্তির মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক বাধাগুলো অতিক্রম করতে চান। ফিফা প্রেসিডেন্ট এবং ইরানি দলের খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যে আলোচনার পর এখন টুর্নামেন্টে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে সব অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।   সূত্র: আলজাজিরা

তাবাস্সুম মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০