নিউইয়র্কে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে বাংলা নববর্ষের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছে এএএনএসইউ ইউএসএ চ্যাপ্টার। বিদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন পরিণত হয় বাঙালিয়ানায় ভরা এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, সাংস্কৃতিক আয়োজন, আড্ডা এবং আনন্দঘন মুহূর্ত। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। পাশাপাশি দেশীয় খাবারের আয়োজন এবং দীর্ঘদিন পর বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে পুনর্মিলন অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিউইয়র্কের বুকে এ ধরনের আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে যে দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবকে গভীরভাবে ধারণ করে চলেছেন।
তারা বলেন, এএএনএসইউ ইউএসএ চ্যাপ্টারের এ উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠান সফল করতে আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে আলী, ফিরোজ, বান্না, রিশাদ, অপু, জুনায়েদসহ সিনিয়র ও জুনিয়র সদস্যরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
আয়োজকরা জানান, পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন ছিল ঐক্য, বন্ধুত্ব, নস্টালজিয়া এবং প্রবাসে বাঙালি পরিচয়ের এক উজ্জ্বল প্রকাশ। তাদের মতে, এমন আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সংযোগ আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকায় ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষের জন্য প্রতি মাসে গাড়ির কিস্তি বা লোন পরিশোধ করা যেন দ্বিতীয় একটি বাড়ি কেনার ঋণের (মর্টগেজ) মতোই ভারী এক বোঝায় পরিণত হয়েছে। আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'লেন্ডিংট্রি'-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে গাড়ি ঋণের আওতায় থাকা প্রতি ১০ জন মার্কিনির মধ্যে অন্তত একজনের মাসিক কিস্তি এক হাজার ডলার বা তারও বেশি। আর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এই উচ্চ কিস্তির হার আরও বেশি। প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বেনামি ক্রেডিট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা লেন্ডিংট্রির ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, জর্জিয়ায় সক্রিয় অটো লোন বা গাড়ি ঋণ থাকা ১২ শতাংশ ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি অন্তত এক হাজার ডলার। টেক্সাস, আলাস্কা এবং ওয়াইওমিংয়ের পর এই হার সারা দেশে চতুর্থ সর্বোচ্চ। জর্জিয়ার মতো একটি রাজ্যে গাড়ি চালানো যেখানে বিলাসের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয়, সেখানে এমন পরিসংখ্যান সেখানকার জীবনযাত্রার কঠিন আর্থিক বাস্তবতাকে তুলে ধরে। চেরোকি, পলডিং বা হেনরি কাউন্টি থেকে মেট্রো আটলান্টায় যাতায়াত হোক কিংবা গ্রামীণ জর্জিয়ায় নিত্যদিনের কাজ মেটানো হোক—অধিকাংশ পরিবারের জন্যই নিজস্ব যানবাহন থাকাটা একরকম বাধ্যতামূলক। লেন্ডিংট্রির প্রধান কনজ্যুমার ফাইন্যান্স বিশ্লেষক ম্যাট শুলজ জানান, মূলত যেসব অঙ্গরাজ্য আয়তনে বড় এবং যেখানে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, সেখানেই মাসিক হাজার ডলার কিস্তির প্রবণতা বেশি দেখা যায়। জর্জিয়ার আটলান্টার মতো একটি বড় শহুরে কেন্দ্র থাকলেও, রাজ্যের বাকি অংশে চলাচলের জন্য নিজস্ব গাড়ির ওপরই নির্ভর করতে হয়। মজার ব্যাপার হলো, তরুণরা নয়, বরং ‘জেনারেশন এক্স’ অর্থাৎ ৪০ বা ৫০-এর কোঠায় থাকা মানুষেরাই এই বিশাল অঙ্কের কিস্তি বেশি দিচ্ছেন। এই বয়সীদের সাধারণত ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকে, যা তাদের বড় অঙ্কের ঋণ পেতে সাহায্য করে। শুলজের মতে, বিলাসবহুল এসইউভি বা বড় ট্রাক কেনার ঝোঁক থেকেই মূলত এমন উচ্চ কিস্তির ঋণ নেওয়া হচ্ছে। তবে কিস্তির বাইরেও বিমা, জ্বালানি, টায়ার পরিবর্তন ও অপ্রত্যাশিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মিলিয়ে গাড়ির পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা মানুষের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় বা বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জর্জিয়ার লরেন্সভিলের ‘মিলিয়ন মাইল মোটরস’-এর মালিক আমির বাজলি গাড়ি ক্রেতাদের একটি বড় ভুলের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ক্রেতারা প্রায়ই গাড়ির মোট দামের দিকে লক্ষ্য না করে শুধু মাসিক কিস্তির হিসাব করেন। তার পরামর্শ হলো, শুধু কিস্তি নয়, বরং মোট দামকে ঋণের মাস দিয়ে গুণ করে প্রকৃত খরচটা বের করা উচিত। এছাড়া ডিলারশিপে যাওয়ার আগেই ঋণের ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন লোন অফার তুলনা করে দেখা এবং ছয় বা সাত বছরের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাড়াহুড়ো করে একদিনেই গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিলে ক্রেতারা প্রায়ই আর্থিকভাবে ক্ষতিকর চুক্তিতে জড়িয়ে পড়েন বলেও সতর্ক করেছেন এই গাড়ি ব্যবসায়ী।
লস এঞ্জেলেস শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা ‘লস এঞ্জেলেস মেট্রো’কে ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ ভাড়ামুক্ত করার একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শহরের মেয়র কারেন ব্যাস। বুধবার ইউনিয়ন স্টেশনে আয়োজিত বার্ষিক ‘মেট্রো স্টেট অব দ্য এজেন্সি’ অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য লস এঞ্জেলেস মেট্রো বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়া কারেন ব্যাস জানান, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ ভাড়ামুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তার মতে, একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে শহরের মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে। এর ফলে যানজট কমার পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। মেট্রোকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সাশ্রয়ী করতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য চলমান ‘লাইফ’ (LIFE - Low-Income Fare is Easy) কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র। এই কর্মসূচির আওতায় আবেদন অনুমোদনের পর যাত্রীরা প্রথম ৯০ দিন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সীমাহীন ভ্রমণের সুযোগ পান এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ২০টি বিনামূল্যের যাত্রা উপভোগ করতে পারেন। বর্তমানে স্কুল ও কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থী, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও বিনামূল্যে যাতায়াতের এমন বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রয়েছে। আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরে মেট্রোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, লস এঞ্জেলেস মেট্রো বর্তমানে নিউইয়র্কের পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম গণপরিবহন ব্যবস্থা, যেখানে গত বছর ৩০ কোটিরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন। তবে মেয়রের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ‘ফ্রি সিটিজ সেন্টার’-এর পরিচালক স্টিভেন গ্রিনহাট মনে করেন, গণপরিবহন সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া উচিত, তবে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে এবং মহামারির সময়ে নেওয়া এমন কিছু পদক্ষেপ প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে বাসগুলো কার্যত গৃহহীনদের ভ্রাম্যমাণ আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। বড় শহরগুলোতে সম্পূর্ণ ভাড়ামুক্ত ব্যবস্থা উল্টো নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াতে পারে মন্তব্য করে তিনি পুরো পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এসব সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, ২০২৮ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমসের মতো বিশাল আন্তর্জাতিক আসরের জন্য শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা এখন থেকেই পুরোপুরি প্রস্তুত বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন মেয়র কারেন ব্যাস।
শুক্রবার ক্যাপিটল হিলে এক সাক্ষাৎকারে রো খান্না বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত নেতানিয়াহু কিংবা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাদের গ্রেপ্তার করা। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইসিসির সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রো খান্নার ভাষায়, বিষয়টি মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তার দাবি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন এলাকায় প্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ২০২৪ সালে আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজায় হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আইসিসির এখতিয়ারও স্বীকার করে না। রো খান্নার এই মন্তব্যের আগে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। মামদানি জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে তিনি শহরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, মেয়র হিসেবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সরাসরি আইনি ক্ষমতা তার নেই। তবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের ক্ষমতা থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মামদানি এর আগে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আইসিসির সঙ্গে একমত হয়ে তিনি মনে করেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। মামদানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। এদিকে রো খান্না নিজেও সম্প্রতি ইসরায়েল সফরের সময় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের হাতে কিছু সময়ের জন্য আটক হওয়ার দাবি করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন এই ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরেই নতুন করে এই বিতর্ক সামনে এসেছে। সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এরই মধ্যে স্পষ্ট। ফলে মামদানি ও রো খান্নার আহ্বান মূলত রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককেই আরও জোরালো করেছে।