যুক্তরাষ্ট্রে তিন শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মা গ্রেপ্তার, তদন্তে উঠে এলো নতুন তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে তিন ছোট শিশুকে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে অচেতন করে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে এক মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাটি আকস্মিক ছিল না; বরং অভিযুক্ত নারী প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে পরিকল্পনা ও তথ্য অনুসন্ধান করেছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিটিভি এবং গ্রে নিউজের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী শারডনে মেরি বেনাভিদেজের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির হত্যাচেষ্টার তিনটি এবং প্রথম-ডিগ্রির হামলার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘटनাটি ঘটেছে ওরেগনের কাইজার শহরে। গত শনিবার রাত প্রায় ৮টা ২০ মিনিটে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একটি ফোনকল আসে। পুলিশ জানায়, ফোনটি করেছিলেন বেনাভিদেজ নিজেই। তিনি জানান, তার সন্তানরা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছে এবং তিনি নিজে ও তিন সন্তানকে কার্বন মনোক্সাইডের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
খবর পেয়ে কাইজার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেখানে গিয়ে কর্মকর্তারা বাড়ির বসার ঘরে বেনাভিদেজকে তার চার বছর বয়সী ছেলে এবং দুই বছর বয়সী যমজ দুই শিশুর সঙ্গে দেখতে পান।
তদন্তে আরও জানা যায়, বাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত গ্যারেজে একটি গাড়ি রাখা ছিল। গাড়িটির এক্সহস্ট পাইপ থেকে বিশেষভাবে তৈরি করা একটি সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধোঁয়া গাড়ির ভেতরে প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের মাধ্যমে গাড়ির ভেতরে থাকা সবাইকে অচেতন করার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনাস্থলে কাইজার ফায়ার ডিস্ট্রিক্টের সদস্যরাও উপস্থিত হন। কর্মকর্তারা জানান, গ্যারেজের ভেতরে তখনও বিপজ্জনক মাত্রায় কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস ছিল। ফলে পুলিশ সদস্যদের প্রবেশের আগে ফায়ার সার্ভিসকে গ্যারেজের বাতাস পরিষ্কার করতে হয়।
পরে বেনাভিদেজ এবং তার তিন সন্তানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাদের কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার জন্য চিকিৎসা দেন। সৌভাগ্যবশত, শিশুদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর চিকিৎসকরা তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেন। রবিবার তাদের বাবার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সোমবার আদালতে প্রথমবার হাজির করা হয় বেনাভিদেজকে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিচারক তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
আদালতে শুনানির সময় প্রসিকিউটররা দাবি করেন, অভিযুক্ত নারী এই ঘটনার আগে বিভিন্ন উপায় নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি এমন একটি পদ্ধতি বেছে নেন, যাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেছিলেন।
একজন প্রসিকিউটর আদালতে বলেন, “অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছেন যে তিনি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এ বিষয়ে পরিকল্পনা করছিলেন এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। একাধিক সম্ভাব্য পদ্ধতি বিবেচনার পর তিনি এই উপায়টি নির্বাচন করেন।”
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি জানতে পারে অভিযুক্তের নিজের করা জরুরি ফোনকলের মাধ্যমে। সেই ফোনকলের পরপরই দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
আদালতের নথি থেকে আরও জানা গেছে, বেনাভিদেজ ও তার সন্তানদের বাবার মধ্যে ২০২৪ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের নথিতে দেখা যায়, শিশুদের একক অভিভাবকত্ব বা পূর্ণ হেফাজত ছিল বেনাভিদেজের কাছে।
তবে এই ঘটনার পেছনে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখছেন।
কার্বন মনোক্সাইড একটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস। বন্ধ জায়গায় গাড়ির ইঞ্জিন চালু থাকলে বা জ্বালানি পোড়ানোর ফলে এ গ্যাস তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে এটি রক্তে অক্সিজেন পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করে, যা অচেতনতা, গুরুতর শারীরিক জটিলতা এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
কাইজার পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আগামী বুধবার আবারও আদালতে হাজির করা হবে অভিযুক্ত নারীকে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজতে লিংকডইনের মতো পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভাইরাল হয়েছেন এক ভারতীয় মা। পিএইচডি ডিগ্রিধারী ওই মা লিংকডইনে ছেলের পরিচয় ও বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে উপযুক্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তার পোস্টে ছেলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি আগ্রহী পরিবারগুলোকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পোস্টের শুরুতে থাকা ‘Not in a rush, but…’ অর্থাৎ ‘তাড়াহুড়ো নেই, তবে...’ ধরনের বার্তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজর কাড়ে। সাধারণত চাকরি খোঁজা, পেশাগত যোগাযোগ, রিক্রুটমেন্ট ও ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত লিংকডইনকে এমন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে শুরু হয় নানা ধরনের মজার আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি লিংকডইন ধীরে ধীরে আধুনিক যুগের বিয়ের প্ল্যাটফর্মেও পরিণত হচ্ছে? এতদিন যেখানে রিক্রুটার, চাকরিপ্রার্থী ও পেশাজীবীদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে লিংকডইনের পরিচিতি ছিল, সেখানে এবার ছেলের জন্য পাত্রী খোঁজার পোস্ট নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় পরিবারে সন্তানের বিয়ের জন্য পরিবারের সদস্যদের সক্রিয়ভাবে পাত্রপাত্রী খোঁজার প্রচলন দীর্ঘদিনের। তবে সেই প্রচলিত প্রক্রিয়াই যখন পেশাগত নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মে চলে আসে, তখন ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা কৌতূহল তৈরি করেছে। পোস্টটি ঠিক কতটা বিস্তৃতভাবে ছড়িয়েছে বা এর মাধ্যমে কোনো বিয়ের যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত অনলাইন পরিচয়ের সীমানাও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মিশে যাচ্ছে।
২ কোটি ডলারের অনুদানে এআই নিয়ে নতুন কলেজ চালু করল ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের হোমওয়ার্ক করতেন আফ্রিকানরা, এখন এআইয়ে হারালেন কাজ
হরমুজকে এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ ডাকবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
হান্টার বাইডেনের নতুন মিম কয়েন ‘ল্যাপটপ’ বাজারে আসার পর ব্যাপক উত্থান-পতনের মুখে পড়েছে। বুধবার চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েনটির দাম দ্রুত বেড়ে যায়, কিন্তু এরপরই শুরু হয় বড় ধরনের ধস। এতে মিম কয়েনটিতে বিনিয়োগ করা প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় চারজনই অর্থ হারিয়েছেন বলে ব্লকচেইন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে এই ধসের মধ্যেই এক রহস্যময় ট্রেডার বড় অঙ্কের লাভ করেছেন। ডেটাভল্ট এআই-এর ব্লকচেইন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ছদ্মনামে থাকা ওই ব্যক্তি প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচ করে ‘ল্যাপটপ’-এর ৯ হাজার ১২৪টি টোকেন কিনেছিলেন। কয়েক মিনিট পরই তিনি ৮ হাজার ৪৮০টি টোকেন প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার ডলারে বিক্রি করে দেন। অর্থাৎ মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাঁর বিনিয়োগ বেড়ে যায় প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। লেনদেনের খরচ বাদ দেওয়ার আগে এই লাভের হিসাব করা হয়েছে। বাজারে ব্যাপক ধস নামার আগেই টোকেন বিক্রি করে দেওয়ায় ওই ট্রেডার বিপুল মুনাফা তুলে নিতে সক্ষম হন। অন্যদিকে, বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ডেটাভল্ট এআই-এর বিশ্লেষণে এমন একজনের তথ্য পাওয়া গেছে, যিনি কয়েনটির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার সময় প্রায় ২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু দাম দ্রুত পড়ে যাওয়ার পর তাঁর বিনিয়োগের মূল্য কমে মাত্র প্রায় ২ হাজার ডলারে নেমে আসে। ক্রিপ্টো বিশ্লেষক ব্র্যাডলি এই পরিস্থিতিকে ‘ক্লাসিক রাগ পুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ‘রাগ পুল’ বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন কোনো প্রকল্পের উদ্যোক্তা বা অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা নিজেদের অর্থ বা মূল্য তুলে নেওয়ার পর প্রকল্পটি ভেঙে পড়ে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হান্টার বাইডেন বা ‘ল্যাপটপ’ প্রকল্পের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রতারণা বা রাগ পুলের কোনো প্রমাণিত অভিযোগ নেই। একইভাবে, কয়েনটির দাম ধসে পড়ার সময় হান্টার বাইডেন নিজে টোকেন বিক্রি করেছিলেন—ডেটাভল্ট এআই-এর বিশ্লেষণেও এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। হান্টার বাইডেন ব্যক্তিগতভাবে এই মিম কয়েন থেকে কত অর্থ আয় করেছেন, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য মোট ১০০ কোটি টোকেনের ৩০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠাতা টোকেন ছয় মাসের জন্য লক থাকার কথা এবং দুই বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে তা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ‘ল্যাপটপ’-এর দাম যখন অল্প সময়ের জন্য ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তখন প্রতিষ্ঠাতাদের হাতে থাকা টোকেনের তাত্ত্বিক মূল্যকে সরাসরি হান্টার বাইডেনের হাতে পাওয়া অর্থ হিসেবে ধরা যাবে না। তিনি প্রকৃতপক্ষে কত অর্থ পেয়েছেন, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ব্র্যাডলি জানিয়েছেন, ব্লকচেইনের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে ‘ল্যাপটপ’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওয়ালেটে কত অর্থ গেছে, তা নির্ণয় করা সম্ভব হতে পারে। তবে হান্টার বাইডেনের ব্যক্তিগত আয়ের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ৫৬ বছর বয়সী হান্টার বাইডেন চলতি সপ্তাহে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেসের তৈরি বেস ব্লকচেইনে ‘ল্যাপটপ’ মিম কয়েন চালু করেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছিলেন, ল্যাপটপকে একসময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, আর তিনি সেটিকে টোকেনে পরিণত করেছেন। এই মিম কয়েনের নাম নেওয়া হয়েছে সেই ল্যাপটপকে কেন্দ্র করে, যা ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। নিউইয়র্ক পোস্ট ওই সময় ল্যাপটপটির কথিত তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে জো বাইডেনের বিদেশি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত বার্তা এবং হান্টার বাইডেনের মাদক ব্যবহারের ছবি থাকার দাবি করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে, হান্টার বাইডেনের মিম কয়েনের প্রথম দিনের লেনদেনে একদিকে যেমন কয়েক মিনিটেই একজন ট্রেডার বিপুল লাভ করেছেন, অন্যদিকে বহু বিনিয়োগকারী বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, আর হান্টার বাইডেন নিজে কয়েনের ধসের সময় বিক্রি করেছিলেন—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।
আমেরিকানদের প্রতারণার অর্থ পাচার, চীনা স্ক্যাম নেটওয়ার্কের ৫২ মিলিয়ন ডলার জব্দ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেল ও গ্যাসের দাম অনেক কমে আসবে - ট্রাম্প
ভোর ৪টায় ডোরবেল ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আঁতকে উঠলেন মা, বাইরে ৩ বছরের শিশু
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক ভারতীয় দম্পতি তরুণদের বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের দাবি, যে সুযোগ ও উন্নত জীবনের আশায় একসময় তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেসব সুযোগের অনেকটাই এখন দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। দম্পতিটি বিদেশে বসবাসের আর্থিক ও পেশাগত সুযোগের পাশাপাশি এর মানসিক দিক নিয়েও কথা বলেছেন। তাদের মতে, পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের ছেড়ে দীর্ঘদিন অন্য দেশে বসবাস করা সহজ নয়। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করা এবং পরিচিত জীবন থেকে দূরে থাকার বিষয়গুলো অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তারা বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে শুধু ক্যারিয়ার বা আয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করলেই হবে না। নিজের পরিবার, সামাজিক বন্ধন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশে থাকা সুযোগগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। দম্পতির মতে, ভারতের তরুণদের নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত। তাদের বক্তব্য, বিদেশে যাওয়াই ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র পথ নয়। দেশে থেকেই পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এখন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাদের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের একটি অংশ যেমন নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বক্তব্যটির মিল খুঁজে পাচ্ছেন, তেমনি অন্যরা মনে করছেন, বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তির পেশা, আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা ভারতীয় তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিনের। উচ্চশিক্ষা, চাকরি, আয় ও উন্নত জীবনযাত্রার প্রত্যাশায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে যান। তবে প্রবাসজীবনের সুযোগের পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকার মতো বাস্তবতাও অনেকের অভিজ্ঞতার অংশ। এই দম্পতির বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সুযোগের পাশাপাশি এর ব্যক্তিগত ও মানসিক মূল্যও বিবেচনা করা উচিত।
বাংলাদেশি এআই গবেষক ইরফানের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের আপত্তি, এটি আত্মহত্যা নয়, দাহ করতে আপত্তি
টেক্সাসে নতুন ইবি-৩ কর্মসংস্থানভিত্তিক সুযোগ! আয় খাতে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ১৬.৩৫ ডলার