আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষণশীল সামাজিক মূল্যবোধের পুনরুত্থান? বিয়ের বাইরে সন্তান জন্মকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন কম মানুষ

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২২:১৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে নতুন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, বিয়ের বাইরে সন্তান জন্ম দেওয়া, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার এবং জুয়ার মতো কিছু বিষয়কে আগের তুলনায় কম মানুষ নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন।

 

মঙ্গলবার প্রকাশিত গ্যালাপের জরিপ অনুযায়ী, গত এক বছরের ব্যবধানে বিয়ের বাইরে সন্তান জন্ম দেওয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করা মার্কিন নাগরিকের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে যেখানে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য বলেছিলেন, সেখানে ২০২৬ সালে সেই হার নেমে এসেছে ৫৮ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের মধ্যে এ বিষয়ে জনমতের সমর্থন ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মানসিকতায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে উদার সামাজিক মূল্যবোধের বিস্তারের পর এখন কিছু ক্ষেত্রে আবারও রক্ষণশীল অবস্থানের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে দেশটির জনমত।

 

গ্যালাপ ২০০১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক আচরণ ও নৈতিক প্রশ্ন নিয়ে জনমত জরিপ পরিচালনা করে আসছে। এবারের জরিপে ২০টি ভিন্ন আচরণ ও সামাজিক বিষয়ের নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচটি বিষয়ে গ্রহণযোগ্যতার হার গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনটি ক্ষেত্রে এটি জরিপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

 

জরিপে দেখা গেছে, জন্মনিয়ন্ত্রণকে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করেন এমন মানুষের হার ৯০ শতাংশ থেকে কমে ৮৩ শতাংশে নেমে এসেছে। গ্যালাপের দুই দশকেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে এটি সর্বনিম্ন হার।

 

একইভাবে জুয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করা মানুষের হার ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রাণী ক্লোনিংকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন মাত্র ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা, যা এই বিষয়েও রেকর্ড সর্বনিম্ন।

 

এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যৌন সম্পর্ককে গ্রহণযোগ্য মনে করার হারও কমেছে। গত বছর যেখানে ৪১ শতাংশ মানুষ এটিকে গ্রহণযোগ্য বলেছিলেন, এখন সেই হার ৩৫ শতাংশ।

 

জরিপে বেশ কয়েকটি আচরণকে অধিকাংশ উত্তরদাতা নৈতিকভাবে ভুল বা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মানুষের ক্লোনিং, বহুবিবাহ, আত্মহত্যা, পর্নোগ্রাফি এবং লিঙ্গ পরিবর্তন।

 

অন্যদিকে কিছু বিষয় এখনও অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিবাহবিচ্ছেদ, অবিবাহিত নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্ক, সমকামী সম্পর্ক, মানব ভ্রূণভিত্তিক স্টেম সেল গবেষণা, পশুর লোম থেকে তৈরি পোশাক ব্যবহার এবং মৃত্যুদণ্ড।

 

গর্ভপাত, প্রাণীর ওপর চিকিৎসাবিষয়ক পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান সংক্রান্ত বিষয়ে জনমত তুলনামূলকভাবে বিভক্ত রয়েছে বলে জরিপে দেখা গেছে।

 

জরিপটি রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতেও বড় ধরনের পার্থক্য তুলে ধরেছে। ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা অধিকাংশ সামাজিক আচরণকে রিপাবলিকানদের তুলনায় বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন। উদাহরণ হিসেবে, গর্ভপাত এবং লিঙ্গ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন রিপাবলিকানদের তুলনায় অনেক বেশি।

 

তবে মৃত্যুদণ্ড, পশুর লোমের পোশাক ব্যবহার এবং প্রাণীর ওপর চিকিৎসা পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে রিপাবলিকানদের সমর্থন তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।

 

গ্যালাপের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক মেগান ব্রেনান সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেন, বিয়ের বাইরে সন্তান জন্ম এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ে জনমতের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মূলত রাজনৈতিকভাবে নির্দলীয় বা স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে।

 

তার মতে, এই ফলাফল হয়তো দীর্ঘদিনের উদার সামাজিক প্রবণতা থেকে একটি “দোলকের বিপরীত দিকে যাত্রা” নির্দেশ করছে। আবার এটিও হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সূচনা হচ্ছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় চর্চা, বিশেষ করে তরুণ পুরুষদের মধ্যে ধর্মীয় আগ্রহ বৃদ্ধির বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে খ্রিস্টীয় মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সুবিধার সহজলভ্যতা নিয়ে বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে গ্যালাপের জরিপের ফলাফল দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

 

পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরের জরিপগুলোই স্পষ্ট করবে এটি সাময়িক পরিবর্তন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মূল্যবোধে আরও স্থায়ী রূপান্তরের সূচনা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর শিশুদের নিয়ে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে সীমান্তেই আটকে দেওয়া হলো এক পরিবারকে | ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হলো না কানাডীয় পরিবারকে

শিশুদের নিয়ে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এক কানাডীয় পরিবারকে সীমান্তে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মুঠোফোন তল্লাশি করা হয় এবং একজনের ফোন রেখে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার তিন সপ্তাহ পরও ফোনটি ফেরত পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের এক বন্ধুর ভাষ্য।   ঘটনাটি সামনে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে প্রকাশিত একটি পোস্টের মাধ্যমে। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। ভ্রমণকারীদের এক বন্ধু ওই পোস্টে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সীমান্তে কী ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। পরে ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রাভেল ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, পরিবারটির সদস্যরা কানাডার নাগরিক। তবে সীমান্তে নথিপত্র পরীক্ষা করার সময় তাদের কাছে তিউনিসিয়ার পাসপোর্টও পাওয়া যায়। এরপর তাদের আরও বিস্তারিত যাচাইয়ের জন্য সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।   তবে তিউনিসিয়ার দ্বিতীয় পাসপোর্ট থাকার কারণেই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, এমন কোনো তথ্য মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি নিশ্চিত করেনি। পরিবারটির প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের নির্দিষ্ট কারণও প্রকাশ্যে জানা যায়নি।   পরিবারটির বন্ধুর দাবি, সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনের সময় তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় এবং মুঠোফোন পরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে একজনের ফোন নিজেদের কাছে রেখে দেন সিবিপি কর্মকর্তারা।   পোস্টে আরও দাবি করা হয়, শুরুতে কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে প্রক্রিয়াটি শেষ হতে বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু অপেক্ষা দীর্ঘ হতে হতে প্রায় ১২ ঘণ্টায় গড়ায়। শেষ পর্যন্ত পরিবারটিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে কানাডায় ফেরত পাঠানো হয়।   পরিবারটির একজনের মুঠোফোন ঘটনার তিন সপ্তাহ পরও ফেরত পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পোস্টদাতা। ফোনটির বিষয়ে জানতে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।   এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সিবিপির পক্ষ থেকেও পরিবারটির পরিচয়, ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের কারণ কিংবা ফোনটি দীর্ঘ সময় ধরে রাখার বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে বিদেশি ভ্রমণকারীদের সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। সিবিপির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক যাচাইয়ের সময় নথিপত্র বা দেওয়া তথ্যে কোনো বিষয় আরও যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রশ্ন দেখা দিলে অথবা কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন মনে করলে একজন যাত্রীকে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে পাঠাতে পারেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রীকে দৈবচয়নের ভিত্তিতেও অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হয়।   সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশপথগুলোতে ৪২ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার যাত্রীকে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে পাঠানো হয়েছিল, যা মোট যাত্রীর প্রায় ৩ শতাংশ।   সীমান্তে মুঠোফোন তল্লাশির বিষয়েও সিবিপির নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশটি থেকে বের হওয়ার সময় কর্মকর্তারা প্রয়োজনে যাত্রীর মুঠোফোন, কম্পিউটার, ক্যামেরাসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করতে পারেন। সিবিপির হিসাবে, ২০২৪ অর্থবছরে ৪৭ হাজার ৪৭ জন আন্তর্জাতিক যাত্রীর ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করা হয়েছিল, যা মোট যাত্রীর শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশেরও কম।   সিবিপির নীতিমালা অনুযায়ী, সীমান্ত তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সাময়িকভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারেন কর্মকর্তারা। পাঁচ দিনের বেশি ডিভাইস রাখতে হলে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে এবং ১৫ দিনের বেশি রাখার ক্ষেত্রেও আরও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন।   তাই আলোচিত ঘটনায় ফোনটি সত্যিই তিন সপ্তাহ ধরে সিবিপির কাছে থেকে থাকলে সেটি সাধারণ প্রাথমিক সময়সীমার চেয়ে দীর্ঘ। তবে কেন ফোনটি রাখা হয়েছে বা এর জন্য প্রয়োজনীয় ঊর্ধ্বতন অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   কানাডার নাগরিকদের সাধারণ পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কানাডার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশপথে একজন বিদেশি নাগরিককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সিবিপি কর্মকর্তাদের রয়েছে।   এ কারণে পরিবারটির দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর অতিরিক্ত যাচাই শুরু হওয়ার দাবি সংবাদটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, সেই পাসপোর্টকেই তাদের প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখানোর মতো সরকারি তথ্য এখন পর্যন্ত নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১০:৩১
বাড়ি থেকে কাজ করলে মাসে অতিরিক্ত ২০০ ডলার দিতে হবে শর্তে ওয়ালনাট ক্রিকের একটি বাড়ির ভাড়া নিয়ে অনলাইন তোলপাড় | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

বাসায় বসে অফিস করলেই দিতে হবে অতিরিক্ত ২০০ ডলার! ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাড়ির ভাড়া নিয়ে আলোচনা শুরু

সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে আইসের হাতে আটক হলেন ইউক্রেনীয় নারী ইরিনা গোর্ব | ছবি: সংগৃহীত

ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ বছর পর আটক ইউক্রেনীয় নারী, উত্তাল সান ফ্রান্সিসকো

বিশ্বজুড়ে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় ক্রুজ শিপেই স্থায়ী ঠিকানা গড়ছেন তরুণরা | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

বাড়ির ভাড়ার চেয়ে সমুদ্রে থাকা সস্তা! ক্রুজ শিপেই স্থায়ী ঠিকানা গড়ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স গত ১৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখে জন্ম নেওয়া তাদের চতুর্থ সন্তান অ্যালেক নীল ভ্যান্স ছবি প্রকাশ। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারে ১৫৬ বছর পর নবজাতকের আগমন!

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সের পরিবারে এসেছে নতুন সদস্য। রোববার তাঁদের ঘরে জন্ম নিয়েছে চতুর্থ সন্তান, পুত্রসন্তান অ্যালেক নীল ভ্যান্স। মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় জানিয়েছেন এই দম্পতি।    এই জন্ম শুধু ভ্যান্স পরিবারের জন্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি বিরল ঘটনা। ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭০ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্স দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তানের বাবা হওয়ার পর এই প্রথম কোনো কর্মরত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারে সন্তানের জন্ম হলো। অর্থাৎ প্রায় ১৫৬ বছর পর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।    সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমাদের ছেলে অ্যালেক নীল ভ্যান্স আজ সকালে জন্ম নিয়েছে। উষা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছে। আমাদের অন্য সন্তানরাও তাদের ছোট ভাইকে পেয়ে ভীষণ আনন্দিত।” তিনি ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক, নার্স ও হোয়াইট হাউস মেডিকেল ইউনিটের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।    অ্যালেক নীল ভ্যান্স দম্পতির চতুর্থ সন্তান। এর আগে তাঁদের দুই ছেলে, ইওয়ান ও বিবেক এবং এক মেয়ে মিরাবেল রয়েছে। নতুন সদস্যকে নিয়ে এখন তাঁদের পরিবারে সদস্যসংখ্যা দাঁড়াল ছয়।    জেডি ভ্যান্স ও উষা ভ্যান্স ইয়েল ল’ স্কুলে পড়াশোনার সময় একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় পরিবার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ৭:৫০
ট্রাম্পের পেছনে ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গি করে ভাইরাল সেই শিক্ষার্থী। ছবি:সংগৃহীত

ট্রাম্পের পেছনে ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গি করে ভাইরাল সেই শিক্ষার্থী!  এবার মুখ খুলে জানালেন আসল ঘটনা

মিশিগানে একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তদন্তকাজ চালাচ্ছেন দমকলকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনায় ছয় শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ছবি:সংগৃহীত

মিশিগানের একটি বাড়িতে আগুনের পর মর্মান্তিক দৃশ্য, ছয় শিশুসহ আটজনের মরদেহ উদ্ধার

করিম খান। ছবি:সংগৃহীত

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত

চীন-রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র দিলে ‘খুবই খারাপ পরিণতি
চীন-রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র দিলে ‘খুবই খারাপ পরিণতি’; ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

ইরানকে সামরিক সহায়তা দিলে চীন ও রাশিয়ার জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করবেন না।    শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, বেইজিংয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি তাকে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই চীন ইরানকে অস্ত্র দেবে বা বিক্রি করবে না। তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রতিশ্রুতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প লিখেছেন, দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের কারণে তিনি শি জিনপিংয়ের কথায় আস্থা রাখছেন।    একই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাকে একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, পুতিন জানেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে না; বরং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হয় এবং সেসব দেশই পরে ইউক্রেনকে সহায়তা দেয়।    ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে, সেই দুই দেশ—চীন ও রাশিয়া—বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তবে যদি তারা ভবিষ্যতে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ বা সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে তা তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে এবং সেটি তাদের নিজেদের স্বার্থেরও পরিপন্থী।    তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ভিন্ন ধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি কংগ্রেসে বলেন, রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন উপায়ে ইরানকে সহায়তা করছে, যদিও তিনি সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ইরানের সামরিক সক্ষমতায় সম্ভাব্য রুশ সহায়তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে মস্কো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।    যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ ও সামরিক কর্মসূচিতে সহায়তার অভিযোগে রাশিয়া ও চীনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ৪:১৯
জীবন নিয়ে আমি আতঙ্কিত, মৃত্যুর চার মাস আগেই এইচআরকে লিখেছিলেন চিঠি!

জীবন নিয়ে আমি আতঙ্কিত, মৃত্যুর চার মাস আগেই এইচআরকে লিখেছিলেন চিঠি!

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান, তবে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান, তবে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না: ট্রাম্প

নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তন হয়ে ট্রাম্প স্টেশন!

নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তন হয়ে ট্রাম্প স্টেশন! শুরু বিতর্ক

0 Comments