আমেরিকা

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে অভিযান জোরদার যুক্তরাষ্ট্রের

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২২:৪৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে বিভিন্ন দেশে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে কঠোর হওয়া এই অবস্থানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি পশ্চিম আফ্রিকা, ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকায় একাধিক “বার্থ ট্যুরিজম” চক্র শনাক্ত ও বন্ধ করার দাবি করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

 

মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেউ ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তারা মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার হিসেবে দেখছে।

 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিককে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া নথিপত্র ও তথাকথিত “ভিসা ফিক্সারদের” সহায়তায় এসব ব্যক্তি মার্কিন ভিসা নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে তাদের শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায়।

 

তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অনুরূপ আরও নেটওয়ার্ক শনাক্তে কাজ চলছে।

 

ইউরোপেও ২০২৪ সাল থেকে ৪০০টির বেশি সন্দেহজনক “বার্থ ট্যুরিজম” ঘটনার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তদন্তে অন্তত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীদের ভিসা সাক্ষাৎকারে কী বলতে হবে তা শেখানো, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ব্যবস্থা করা এবং সন্তান জন্মদানের পরিকল্পনা সাজিয়ে দেওয়ার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

 

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজনকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধও করা হয়েছে।

 

এদিকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত আরেকটি মার্কিন দূতাবাস “বার্থ ট্যুরিস্ট” হিসেবে সন্দেহভাজন ১০০টির বেশি ব্যক্তির ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এসব নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুযোগ।” সংস্থাটি আরও জানায়, ভিসা জালিয়াতি ও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে বিশ্বজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি | ছবি: সংগৃহীত
আবাসন পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের মুখে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি, ২২ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংকট মোকাবিলায় মেয়র জোহরান মামদানির ঘোষিত ২২ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী এক দশকে ২ লাখ সাশ্রয়ী ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত আবাসন নির্মাণ এবং আরও ২ লাখ বিদ্যমান ইউনিট সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘ব্লক বাই ব্লক: দ্য হাউজিং প্ল্যান ফর আ নিউ এরা’ কর্মসূচিকে সমালোচকেরা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করছেন।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে করদাতাদের অর্থ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। মেয়র মামদানির প্রশাসনের দাবি, নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান আবাসন ব্যয় এবং সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংকট মোকাবিলায় এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে ফক্স নিউজের কলাম গবেষক নিকোল হুয়ার ও অ্যানি হেইম পরিকল্পনাটিকে ‘ব্যর্থ সমাজতান্ত্রিক নীতি’ এবং ‘অবাস্তব প্রস্তাব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   সমালোচকদের মতে, নিউইয়র্কের আবাসন সংকটের মূল কারণ আবাসনের সরবরাহ ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের নীতিগত সীমাবদ্ধতা। তাদের দাবি, উচ্চ কর, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ভাড়া-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নতুন আবাসন নির্মাণকে নিরুৎসাহিত করেছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আবাসন নির্মাণ সহজ করা গেলে সংকট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে মামদানির পরিকল্পনা সেই পথের বিপরীত দিকে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।   এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দীর্ঘদিন অবহেলিত বা জীর্ণ আবাসিক ভবনের মালিকানা ব্যক্তিগত বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট, অলাভজনক সংস্থা অথবা ভাড়াটেদের সংগঠনের হাতে হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি করা। মেয়র মামদানির ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ভবনগুলো সংরক্ষণ করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।   তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ‘কমিউনিটি অপরচুনিটি টু পারচেজ অ্যাক্ট (২০২৫)’-এর আওতায় অলাভজনক সংস্থা ও ভাড়াটে গোষ্ঠীগুলোকে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে এসব ভবন উন্মুক্ত বাজারে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বিক্রির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, এতে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ কমে যাচ্ছে।   এদিকে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সরকারি আবাসন ব্যবস্থাগুলোর একটি পরিচালনা করছে। সংস্থাটির অধীনে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার অ্যাপার্টমেন্টে ৫ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করেন। সমালোচকদের বক্তব্য, সরকারি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান না করেই আরও বেশি সম্পত্তি সরকারি অনুমোদিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ কার্যকর হবে কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে।   হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের কয়েকজন গবেষক পরিকল্পনার কিছু অংশের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর সরকারি প্রভাব বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা এই নীতিকে কার্ল মার্ক্সের সম্পদ পুনর্বণ্টন ধারণার সঙ্গে তুলনা করেছেন।   বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে নিউইয়র্কের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডও। এই বোর্ড শহরের প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ইউনিটের ভাড়া বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণ করে। সমালোচকদের দাবি, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে বাড়িওয়ালাদের মুনাফা সীমিত হয়ে যায়, যা ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে নতুন আবাসন নির্মাণেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হ্রাস পায়।   মামদানি প্রশাসন ‘রেন্টাল রিপঅফ হিয়ারিংস’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে ভাড়াটেরা তাদের আবাসন-সংক্রান্ত সমস্যার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারেন। সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অবহেলনাকারী বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।   ন্যাশনাল মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং কাউন্সিলের তথ্য উদ্ধৃত করে সমালোচকেরা দাবি করেছেন, ভাড়া-নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রণমুক্ত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া ২২ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তাদের মতে, নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার মতো সরবরাহমুখী নীতিই আবাসনের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বেশি কার্যকর হতে পারে।   সমালোচকদের আরও দাবি, ‘ব্লক বাই ব্লক’ পরিকল্পনা আবাসন খাতে ব্যক্তিগত পুঁজি ও বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাদের মতে, শত শত কোটি ডলার সরকারি ব্যয়ের পরিবর্তে আবাসন নির্মাণে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো হলে ডেভেলপাররাই নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারতেন।   অন্যদিকে মেয়র মামদানি ও তার প্রশাসন বলছে, সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি দূর করতে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ অপরিহার্য। ফলে প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি নিয়ে নিউইয়র্কের আবাসন নীতি, সরকারি হস্তক্ষেপ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২৩:২৯
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ৪৮ ঘণ্টা: ভিসা জটিলতায় বিতর্কের মুখে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে অভিযান জোরদার যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাতে ভয়াবহ ঝড় ও উপড়ে পড়া গাছে বিদ্যুৎহীন হাজারো মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.২ শতাংশ, ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে মে মাসে মূল্যস্ফীতির গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বার্ষিক ৪.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৩.৮ শতাংশ। এর মাধ্যমে মার্কিন মুলুকে মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাল।   আর্থিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টসেটের জরিপে অর্থনীতিবিদরা মে মাসে মূল্যস্ফীতি বার্ষিক ৪.২ শতাংশে পৌঁছানোর যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে মিলে গেল। মূলত জ্বালানির দাম বৃদ্ধিই মূল্যস্ফীতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মে মাসের সিপিআই বৃদ্ধির ৬০ শতাংশেরও বেশি অবদান ছিল এই জ্বালানি খাতের।   চলতি বছরের জানুয়ারিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ২.৪ শতাংশ থাকলেও ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে তা এখন তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে মার্কিন বাজারে পেট্রল থেকে শুরু করে বিমান ভাড়া পর্যন্ত সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।   শ্রম বিভাগের মে মাসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় পেট্রলের দাম ৪০.৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে জুন মাসে এসে জ্বালানির দাম কিছুটা কমেছে, যা মে মাসের এই উপাত্তে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়া খাদ্য ও জ্বালানির মতো উদ্বায়ী খাত বাদে মূল বা ‘কোর’ মূল্যস্ফীতি মে মাসে বার্ষিক ২.৯ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা এপ্রিলে ছিল ২.৮ শতাংশ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২১:১৭
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি

সেন্ট্রাল পার্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল উন্মাদনা, বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ নিউইয়র্কবাসীর

ফাইল ছবি

যে স্বপ্নের টানে মানুষ ছুটে যায় আমেরিকায়, কতটা পূরণ হয় সেই স্বপ্ন?

ছবি: সংগৃহীত

এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওর নাগরিকত্ব বাতিলে মার্কিন সরকারের মামলা

অর্থ সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি!
অর্থ সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি, ২০৩২ সালের পর পূর্ণ ভাতা অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রে কোটি কোটি অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ও অন্যান্য সুবিধাভোগীরা আগামী ছয় বছরের মধ্যে কম সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পেতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্রাস্টিদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেস দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসরকালীন ট্রাস্ট ফান্ড ২০৩২ সালের শেষ দিকে অর্থশূন্য হয়ে যেতে পারে। এই তহবিল থেকেই প্রবীণ নাগরিক, মৃত কর্মীদের নির্ভরশীল পরিবার ও উত্তরাধিকারীদের ভাতা প্রদান করা হয়। গত বছরের পূর্বাভাসের তুলনায় এবার তহবিল শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় আরও তিন মাস এগিয়ে এসেছে।   ট্রাস্টিরা জানিয়েছেন, ওই সময় থেকে বেতনভিত্তিক কর ও অন্যান্য আয়ের মাধ্যমে কেবল ৭৮ শতাংশ ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, নতুন কোনো আইন বা অর্থনৈতিক সংস্কার না এলে সুবিধাভোগীদের ভাতায় সরাসরি কাটছাঁট হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ইস্যু। ফলে আগামী প্রেসিডেন্ট প্রশাসনের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই যদি সংকট আরও ঘনিয়ে আসে, তাহলে সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অবসর ও অক্ষমতা—এই দুই ট্রাস্ট ফান্ড একত্রে বিবেচনা করলে তা ২০৩৪ সাল পর্যন্ত পূর্ণ সুবিধা দিতে সক্ষম হবে, যা গত বছরের পূর্বাভাসের সঙ্গে একই রয়েছে। তবে এরপর কেবল ৮৩ শতাংশ সুবিধা পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   অন্যদিকে, ডিসএবিলিটি ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ড বা অক্ষমতা ভাতা তহবিল অন্তত ২১০০ সাল পর্যন্ত পূর্ণ সুবিধা দিতে পারবে বলে ট্রাস্টিরা জানিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের আর্থিক অবস্থাও কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মেডিকেয়ার পার্ট-এ, যা হাসপাতালে ভর্তি, হসপিস সেবা, স্বল্পমেয়াদি নার্সিং সেবা ও হাসপাতালের পরবর্তী হোম কেয়ার ব্যয় বহন করে, সেটির তহবিল ২০৩৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এরপর নির্ধারিত সুবিধার মাত্র ৮৯ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।   তবে মেডিকেয়ার পার্ট-বি ও পার্ট-ডি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এই দুই কর্মসূচি চিকিৎসা সেবা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যয় বহন করে এবং এগুলো মূলত গ্রাহকদের প্রিমিয়াম ও ফেডারেল অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।   প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, মেডিকেয়ার পার্ট-বি’র মাসিক প্রিমিয়াম ২০২৭ সালে বেড়ে ২০৯ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমানে ২০২ দশমিক ৯০ ডলার।   ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর ও উত্তরাধিকার ভাতা পেয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৮০ লাখ মার্কিন নাগরিক অক্ষমতা ভাতা গ্রহণ করেছেন। একই সময়ে মেডিকেয়ারে নিবন্ধিত ছিলেন ৬ কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষ।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে যাওয়া এবং মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ারের আর্থিক চাপ বাড়ছে। যদিও কর্মরত নাগরিকদের করের মাধ্যমে এই কর্মসূচিগুলো এখনো চালু রয়েছে, তবুও ভবিষ্যতের আর্থিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকেও এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত গ্রীষ্মে স্বাক্ষরিত “ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট”-এ প্রবীণ নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত কর ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার ওপর কর আদায় কমে যাবে এবং ট্রাস্ট ফান্ডে অর্থ প্রবাহও হ্রাস পাবে।   যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের আগের এক হিসাব অনুযায়ী, এই কর পরিবর্তনের কারণে আগামী এক দশকে ট্রাস্ট ফান্ডের আয় প্রায় ১৭০ বিলিয়ন ডলার কমে যেতে পারে।   ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের বাজেট ও সামাজিক নিরাপত্তা নীতির পরিচালক রোমিনা বচিয়া বলেন, প্রবীণদের জন্য নতুন কর ছাড় দিয়ে বর্তমান সংকট আরও বাড়ানো হয়েছে, যার চাপ ভবিষ্যতে তরুণ কর্মজীবীদের ওপর পড়বে।   এছাড়া জন্মহার কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ও অনথিভুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা কম ধরা হওয়ার কারণেও সোশ্যাল সিকিউরিটির আর্থিক সংকট দ্রুত এগিয়ে আসছে বলে ট্রাস্টিরা জানিয়েছেন।   বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিও ভবিষ্যতে এই তহবিলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অনেক অভিবাসী নিয়মিত কর দিলেও তারা কখনোই সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন না। ফলে তাদের করের অর্থ দীর্ঘদিন ধরে তহবিলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২২:৪৩
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষণশীল সামাজিক মূল্যবোধের পুনরুত্থান? বিয়ের বাইরে সন্তান জন্মকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন কম মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসন দমন ও সীমান্ত নিরাপত্তায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিল পাস, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায়

কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিলেন এপস্টেইনের সাবেক সহকারী (ছবি: সংগৃহীত)

কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিলেন এপস্টেইনের সাবেক সহকারী, ট্রাম্প-এপস্টেইন যোগাযোগ নিয়ে নতুন তথ্য

0 Comments