যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ভেন্যুর কাছে ৩টি ড্রোন জব্দ, বড় জরিমানার হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর বিভিন্ন ইভেন্ট ও কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে জারি করা সাময়িক বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিনটি ড্রোন জব্দ করেছে দেশটির ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। এফবিআই-এর আটলান্টা ফিল্ড অফিস স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্যান্য ফেডারেল সহযোগীদের সাথে যৌথভাবে এই ড্রোনগুলো জব্দ করার ঘোষণা দেয়। একই সাথে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে যে, বিশ্বকাপ ভেন্যু এবং এর সাথে সম্পর্কিত যেকোনো অনুষ্ঠানের কাছাকাছি অননুমোদিতভাবে ড্রোন ওড়ালে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
এফবিআই-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যেসকল ড্রোন চালক এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবেন, তাদের সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। একই সাথে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলাও দায়ের করা হতে পারে। তবে জব্দকৃত ড্রোনগুলো ঠিক কোন এলাকায় ওড়ানো হচ্ছিল কিংবা এই ঘটনায় কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
আন্তর্জাতিক এই ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আটলান্টায় বর্তমানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট চলছে, যা উপভোগ করতে লাখ লাখ দর্শনার্থী ও ফুটবলপ্রেমী এই অঞ্চলে সমবেত হয়েছেন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিরাপদ বা নিয়মবহির্ভূতভাবে ড্রোন বা মানহীন আকাশযান চালনা করলে তা সাধারণ বিমান চলাচল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং মাটিতে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এই কারণেই মূলত খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকার আকাশসীমায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
যেকোনো ড্রোন ওড়ানোর আগে চালকদের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) অনুমোদিত অ্যাপের মাধ্যমে ওই এলাকার আকাশসীমা সম্পর্কিত রিয়েল-টাইম তথ্য এবং সাময়িক নিষেধাজ্ঞাগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষকেও ড্রোন সংক্রান্ত যেকোনো অনিরাপদ বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি এমন কোনো নিয়মবহির্ভূত ড্রোন ওড়াতে দেখেন, তবে তাকে সরাসরি এফবিআই-এর হটলাইনে বা অনলাইনের মাধ্যমে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর অভিযানের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সহিংস বিক্ষোভে পুলিশের ওপর আগুন জ্বালানো বস্তু ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে তিন বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৫ ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৪২ বছর বয়সী ইসমাইল ভেগা। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টলেক এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ৮ জুন ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের সময় তিনি অন্যদের সঙ্গে মহাসড়কের ওপরের সেতুতে অবস্থান করেন। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের (সিএইচপি) সদস্যরা নিচে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালানো কার্ডবোর্ড, শুকনো গাছপালা ও অন্যান্য জ্বলন্ত বস্তু নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের দিকে নিক্ষেপ করেন। আদালতে দাখিল করা স্বীকারোক্তিতে ভেগা বলেন, তিনি জানতেন যে সেতুর নিচে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছিলেন এবং আগুন জ্বালানো বস্তু নিক্ষেপ করলে তাদের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবুও তিনি অন্যদের সঙ্গে আগুন লাগানো বস্তু প্রস্তুত করতে সহায়তা করেন এবং একটি জ্বলন্ত কার্ডবোর্ড সিএইচপির একটি গাড়ির দিকে ছুড়ে মারেন, যা গাড়িটির ওপর গিয়ে পড়ে। তদন্তে আরও উঠে আসে, বিক্ষোভ চলাকালে ভেগা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক পাথরও নিক্ষেপ করেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের কাজ ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই তিনি এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলার নথিতে প্রসিকিউটররা বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সহিংস এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের জীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের এক সার্জেন্ট আদালতে লিখিত বিবৃতিতে জানান, ওই দিনের ঘটনা তার কর্মজীবনের অন্যতম সহিংস অভিজ্ঞতা ছিল এবং এর মানসিক প্রভাব তার পরিবারেও পড়েছে। এই মামলায় ভেগা পঞ্চম ব্যক্তি, যিনি সাজা পেলেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত ইয়াচুয়া মাউরিসিও ফ্লোরেসের সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ আগস্ট। অন্যদিকে প্রধান আসামি অ্যাডাম চার্লস পালের্মোর সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা ১৪ ডিসেম্বর। তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তদন্তে সহযোগিতা করেছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ।
কাদামাটি ও জলজ উদ্ভিদে ভরে গিয়েছিল ফুসফুস, আদালতে ৯ বছরের শিশুর মৃত্যুর ভয়াবহ বর্ণনা
কস্টকোর গ্রাহকদের জন্য সুখবর! ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেতে পারেন ৫০০ ডলারের ও বেশি
৫০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম সর্বোচ্চ! বাজার খরচে চাপ বেড়েছে ৩৩%
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিজের ফ্ল্যাটে ঘুমন্ত অবস্থায় এক নার্সকে ধর্ষণের দায়ে ডনোভান মার্ফি (৩০) নামের এক যুবককে ৩৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত মঙ্গলবার ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অ্যান থম্পসন এই রায় ঘোষণা করেন। রাতের শিফটে কাজ শেষে বিশ্রামে থাকা ওই নার্সের ফ্ল্যাটে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল। আদালত ও প্রসিকিউটর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টার দিকে আপার ইস্ট সাইডের ফ্ল্যাটে এই জঘন্য ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে দেখেন মার্ফি নামের সম্পূর্ণ অপরিচিত ওই ব্যক্তি তার বিছানায়। আতঙ্কে তিনি চিৎকার করে মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় মার্ফি তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে মুখে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারে এবং তার মাথার খুলিতে মারাত্মক আঘাত করার পর তাকে ধর্ষণ করে। জঘন্য এই অপরাধের পর ওই যুবক ভুক্তভোগীর ব্যাংক কার্ড চুরি করে একটি ক্যাবে চড়ে ব্রঙ্কসে পালিয়ে যায় এবং একটি ফার্মেসি থেকে চুরি করা কার্ড দিয়ে কেনাকাটাও করে। ঘটনার চার দিন পর নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) ম্যানহাটন স্পেশাল ভিকটিমস স্কোয়াড মার্ফিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গত এপ্রিলে এক বিচারে তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি এবং গ্র্যান্ড লারসেনির মতো গুরুতর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। রায়ের দিন মার্ফির আইনজীবী তার মক্কেলের জন্য মাত্র ১০ বছর বা ৩,৬৫০ দিনের কারাদণ্ড দাবি করলেও বিচারক তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। বিচারক জানান, শাস্তির মেয়াদ যাই হোক না কেন, ভুক্তভোগীকে সারাজীবন এই ঘটনার মানসিক ও শারীরিক প্রভাব বয়ে বেড়াতে হবে। জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নার্স বর্তমানে তার নিজ শহর ভারমন্টে ফিরে গেছেন এবং রায় ঘোষণার দিন তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগ এক বিবৃতিতে এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিজের ঘরে ঘুমন্ত এক নার্সের ওপর এমন ভয়ংকর হামলার জন্য মার্ফিকে আজ জবাবদিহির আওতায় আনা হলো। আদালত জানিয়েছেন, ৩৪ বছরের কারাদণ্ড শেষে মার্ফি যদি কখনো কারাগার থেকে মুক্তিও পায়, তবুও তাকে আরও ২০ বছর কড়া নজরদারিতে (সুপারভাইজড রিলিজ) থাকতে হবে। এছাড়া ভুক্তভোগীর কাছাকাছি যাওয়ার ক্ষেত্রে তার ওপর আজীবন নিষেধাজ্ঞাও (রেস্ট্রেইনিং অর্ডার) জারি করা হয়েছে।
বসবাসের আগে জেনে নিন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অনিরাপদ শহর কোনগুলো
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে ৫০ বছরের রেকর্ড, ৭ বছরে বেড়েছে ৩৩%
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্রিতে উঠল ১০৩ বছরের পুরোনো বিরল মাটির বাড়ি
নিউইয়র্কে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনওয়াইপিডি ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ, দিদারুল ইসলামের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দিদারুল ইসলাম নিজের জীবনের বিনিময়ে অন্যদের রক্ষা করতে গিয়ে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের নজির স্থাপন করেছেন। মেয়র জোহরান মামদানি তাঁকে স্মরণ করে বলেন, দিদারুল ইসলাম যেভাবে জীবন কাটিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই তিনি অন্যের সেবায় নিয়োজিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি তাঁর সাহস, মানবিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠাকে নিউইয়র্ক সিটির জন্য এক স্থায়ী অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে এক বন্দুকধারীর হামলায় দিদারুল ইসলাম নিহত হন। সে সময় তিনি ভবনটিতে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলায় তিনি ছাড়াও আরও তিনজন নিহত হন। পরে হামলাকারী ভবনের ভেতরেই আত্মহত্যা করে। ওই ঘটনার পর এনওয়াইপিডি দিদারুল ইসলামকে মরণোত্তর ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি দেয় এবং তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভাগের সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলোর একটি ‘মেডেল অব অনার’ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া দিদারুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর প্রথমে স্কুল সেফটি এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। পরে এনওয়াইপিডিতে যোগ দিয়ে ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন বিনয়ী, দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৩৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। দিদারুল ইসলামের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি মাসে ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার এলাকায় তাঁর বসবাসের এলাকার একটি সড়কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’। এছাড়া তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ‘দিদারুল ইসলাম পুলিশ রিক্রুটমেন্ট অ্যাক্ট’ নামে একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য স্কুল সেফটি এজেন্টসহ জননিরাপত্তা খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের এনওয়াইপিডিতে যোগদানে উৎসাহিত করা এবং তাঁদের পূর্ববর্তী সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনা। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত এই স্মরণানুষ্ঠান শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তার আত্মত্যাগকে স্মরণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অবদান, জননিরাপত্তায় নিবেদন এবং একজন অভিবাসীর সাহসিকতাকে নতুন করে সম্মান জানানোর একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।
৮৪ লাখ ডলার বেতনের স্বপ্নের শীর্ষ পদে বসার মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় আকস্মিক মৃত্যু ব্রায়ান ম্যালয়ের
নিউইয়র্কের বাফলোতে এক বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার