জেপিমরগ্যানের সাবেক বসের বিরুদ্ধে ‘যৌনদাস’ বানানোর অভিযোগের মামলা দুর্বল হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যানের এক সাবেক কর্মীর করা চাঞ্চল্যকর যৌন হয়রানির মামলা ভেস্তে যাওয়ার পথে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। চিরায়ু রানা নামের ওই ব্যাংকার তার নারী বস লর্না হাজডিনির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ‘যৌনদাস’ বা সেক্স স্লেভ বানানোর গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন।
তবে সম্প্রতি এই হাই-প্রোফাইল মামলার গতিপ্রকৃতি এবং বাদীর আইনজীবীদের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলের কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলাটি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ছে। ম্যানহাটনের আদালতে চলা এই মামলাটিকে ‘আবেগজনিত হতাশা’ এবং একটি ভিত্তিহীন অভিযোগের দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কর্মক্ষেত্র বিষয়ক আইনজীবী নিকোল ব্রেনেকি।
মামলাটির দুর্বলতার অন্যতম বড় লক্ষণ হলো, রানার নতুন পাঁচ সদস্যের আইনজীবী দল গত সপ্তাহে রাজ্য আদালত বা স্টেট কোর্ট থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করে ফেডারেল কোর্টে নেওয়ার আবেদন করেছে। প্রকাশ্যে তারা নতুন প্রমাণ ও ফেডারেল আইনের কথা বললেও, বিশেষজ্ঞরা এটিকে স্রেফ ‘ফোরাম-শপিং’ বা নিজেদের সুবিধামতো বিচারক খোঁজার কৌশল হিসেবেই দেখছেন।
স্টেট কোর্টের বিচারক ডাকোটা রামসিউর অত্যন্ত কড়া ধাচের মানুষ এবং তিনি ইতিমধ্যে মামলাটির যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এটি আদালতের বাইরে মীমাংসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মূলত এই বিচারকের হাত থেকে বাঁচতেই ফেডারেল কোর্টে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আরেক আইনজীবী ডেভিড রিং সতর্ক করে বলেছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে ফেডারেল কোর্টে গেলে রানাকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে, কারণ সেখানকার বিচারকরা এ ধরনের অসদাচরণ একেবারেই বরদাশত করেন না।
মামলাটি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন রানার প্রথম আইনজীবী ড্যানিয়েল কায়সার বাদীর নাম গোপন রাখার একটি শুনানির ঠিক আগমুহূর্তে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইনজীবী সুসান ক্রুমিলার জানিয়েছেন, এত সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও রানার আইনজীবীরা এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো শক্ত প্রমাণ—যেমন টেক্সট মেসেজ বা ইমেইল—উপস্থাপন করতে পারেননি।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে লর্না হাজডিনি উল্টো রানার বিরুদ্ধে মানহানির পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। তার দাবি, এই ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনো ধরনের ডিজিটাল বা লিখিত প্রমাণ ছাড়া চিরায়ু রানা আদৌ এই মামলায় টিকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মাকে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দিতে সম্মত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থী জাভিটস ফ্রিমপংয়ের মা বর্তমানে আফ্রিকার দেশ ঘানায় অবস্থান করছেন। ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে এবং বিদায় জানাতে তাঁকে নিউইয়র্কে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে স্কুলে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয় জাভিটস ফ্রিমপং। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার কিছু আগে এ ঘটনা ঘটে। গুলি তার পেটে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মেয়র জোহরান মামদানি জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। তাঁর অনুরোধের পর ট্রাম্প নিহত শিক্ষার্থীর মাকে দ্রুত ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। মামদানি বলেন, সন্তান হত্যার বেদনা কোনো মা-বাবারই সহ্য করার কথা নয়। বিশেষ করে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করে এমন খবর পাওয়া আরও কঠিন। জাভিটসের মায়ের নিজের ছেলেকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগ পাওয়া উচিত। মেয়র আরও জানান, এই ঘটনায় পুরো নিউইয়র্ক সিটি শোকাহত। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁর মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ফলে ট্রাম্পের সম্মতির বিষয়টি মেয়র মামদানির বক্তব্যের ভিত্তিতেই জানা গেছে। নিহত জাভিটস ফ্রিমপংয়ের পরিবার মূলত ঘানার বাসিন্দা। প্রায় এক বছর আগে বাবার সঙ্গে বসবাস এবং নতুন জীবন শুরু করার উদ্দেশ্যে সে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। তার বাবা থমাস ফ্রিমপং নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে থাকেন। অন্যদিকে মা ডরিস আদু গিয়ামফি ঘানাতেই অবস্থান করছেন। ছেলের মৃত্যুর পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য ভিসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে ব্রঙ্কসের ক্রোটোনা পার্কের কাছে গুলিবিদ্ধ হয় জাভিটস। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। আহত অবস্থায় তাকে সেন্ট বার্নাবাস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। শনিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। জাভিটসের বাবা থমাস ফ্রিমপং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তাঁর ছেলে স্কুলে অন্য শিক্ষার্থীদের হয়রানির শিকার হচ্ছিল। স্কুলের প্রিন্সিপাল তাঁকে জানিয়েছিলেন, দুই শিক্ষার্থী জাভিটসকে বিরক্ত করায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ছেলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। তখন জাভিটস বাবাকে জানিয়েছিল, সে ভালো আছে। তবে স্কুলে হয়রানির অভিযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারীরা এখনো হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। ফলে স্কুলে হয়রানির ঘটনাকে হত্যাকাণ্ডের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রঙ্কসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রিচি টরেস। তিনি জানান, জাভিটসের সামনে পুরো জীবন পড়ে ছিল। একটি শিশুর স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ব্রঙ্কসের প্রতিটি শিশুর নিরাপদে স্কুলে যাওয়া এবং বাড়ি ফেরার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। টরেস নিহত শিক্ষার্থীর বাবা থমাস ফ্রিমপংয়ের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে নিউইয়র্কের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ হত্যাকাণ্ডের পর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ব্রঙ্কসে নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে আয়োজিত এক সমাবেশে পরিবারের সদস্য, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। সেখানে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। এদিকে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যাম ওকুদজেতো আবলাকওয়া জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে অবস্থানরত ঘানার কর্মকর্তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নিহত শিক্ষার্থীর মায়ের ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়ায়ও সহায়তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে ঘানা সরকার। ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেয়র মামদানি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে নিহত শিক্ষার্থীর মা ঠিক কবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণব্যবস্থার ওপর তাঁর যাত্রার সময় নির্ভর করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও ভিসা নীতিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের মধ্যেই এই মানবিক উদ্যোগের খবর সামনে এসেছে। তবে মেয়র মামদানির ঘোষণা অনুযায়ী, নিহত শিক্ষার্থীর মায়ের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এদিকে জাভিটস ফ্রিমপং হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ এখনো হামলাকারীদের গ্রেপ্তার কিংবা হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি। পরিবারের সদস্যরা একদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রত্যাশা করছেন, অন্যদিকে ছেলেকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে ঘানা থেকে মায়ের নিউইয়র্কে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
জর্জিয়ায় ওয়ালমার্টের নতুন ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে ১ হাজার চাকরির সুযোগ
খেলনা ডাইনোসরের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহে বদলে গেল শিশুর আচরণ, খেলনা ছুড়ে আহত করল দাদাকে
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে সন্ধ্যায় দৌড়াতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক তরুণী। এ সময় তাঁর গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা সংকটাপন্ন বলে জানান। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি নিউইয়র্ক পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৮টার পর ব্রুকলিনের বাথ বিচ এলাকায় বে পার্কওয়ে ও ক্রপসি অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলের কাছে একটি সাইকেল চলাচলের পথে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই তরুণী সেখানে দৌড়াচ্ছিলেন। একপর্যায়ে অজ্ঞাতপরিচয় কেউ তাঁর গলায় ছুরিকাঘাত করে। পরে তাঁকে নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতাল-ব্রুকলিনে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দৌড় শেষ করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল ওই তরুণীর। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বাড়ি না ফেরায় তাঁর বাবা তাঁকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে পথের পাশে আহত অবস্থায় তাঁকে খুঁজে পান তিনি। ওই তরুণী নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। হামলার কারণ কিংবা এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ হামলাকারীর কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাও প্রকাশ করতে পারেনি। ফলে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশের ৬২তম প্রিসিঙ্কটের গোয়েন্দারা ঘটনাটির তদন্ত করছেন। হামলাকারীর সন্ধানে শুক্রবার রাত ও শনিবার এলাকায় বিশেষ অনুসন্ধান চালানো হয়। এতে ডুবুরি দল, আকাশপথে নজরদারি, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকার নিয়মিত দৌড়বিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবিসি৭কে কয়েকজন দৌড়বিদ জানিয়েছেন, সাধারণত পরিচিত ওই পথে এমন ঘটনা তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। স্থানীয় সিনেটর স্টিভেন চেনও এলাকাটিতে নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং আশপাশের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সূত্র: পিক্স১১ নিউজ, এবিসি৭ নিউইয়র্ক ও ফক্স ৫ নিউইয়র্ক।
বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে না খেয়ে থাকতেন নিউ ইয়র্কের তরুণী, শেষ পরিণতি হাসপাতালে
এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেলকে হত্যার হুমকি, মিশিগান থেকে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার
ছুটিতে থেকেও রোগী দেখানোর বিল! কোটি ডলার জালিয়াতিতে চিকিৎসকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের খুলনায় জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি-আমেরিকান ক্যাপ্টেন শেখ আল আমিন। সম্প্রতি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতির পর নিউইয়র্কের ৪০৮তম হিউম্যান রিসোর্সেস কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি। গত ২৪ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্সের বেসাইডে অবস্থিত সামরিক ইউনিটটির দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। মার্কিন সেনাবাহিনীতে নেতৃত্বের পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) স্পেশাল অপারেশনস ডিভিশনেও কর্মরত রয়েছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট থেকে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান শেখ আল আমিন। এর কয়েক সপ্তাহ পর তাঁকে ৪০৮তম হিউম্যান রিসোর্সেস কোম্পানির কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন দায়িত্বের আওতায় তাঁকে ইউনিটের প্রশাসনিক কার্যক্রম, সদস্যদের নেতৃত্ব, প্রশিক্ষণ ও সামরিক শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়গুলো তদারক করতে হবে। ইউনিফর্ম কোড অব মিলিটারি জাস্টিসের আওতায় নির্দিষ্ট সামরিক শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কর্তৃত্বও রয়েছে কোম্পানি কমান্ডারের। বাংলাদেশের খুলনায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা শেখ আল আমিন ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নতুন দেশে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবন শুরু করার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। শুরুতে হিউম্যান রিসোর্সেস স্পেশালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২২ সালে সার্জেন্ট পদে উন্নীত হওয়ার পর সামরিক কর্মকর্তা হওয়ার লক্ষ্যে অফিসার ক্যান্ডিডেট স্কুলে প্রশিক্ষণ নেন। ২০২৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রশিক্ষণ শেষ করে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। সামরিক জীবনে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন শেখ আল আমিন। জর্ডানে অবস্থানকালে তিনি সামরিক ডাকসেবা, সদস্যদের ভোটদানে সহায়তা এবং সামরিক সরঞ্জাম ও সদস্যদের স্থানান্তরসংক্রান্ত কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে ছিল ছয়টি সামরিক ঘাঁটির ডাক কার্যক্রম তদারকি। এ সময় প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড ডাকসামগ্রী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন সামরিক সদস্যদের ভোটদানে সহায়তার একটি কর্মসূচিও পরিচালনা করেন শেখ আল আমিন। ওই উদ্যোগের মাধ্যমে ২৭৮ জন সামরিক সদস্যের অনুপস্থিত ভোট বা অ্যাবসেন্টি ব্যালট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এসব দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি আর্মি কমেন্ডেশন মেডেল, আর্মি অ্যাচিভমেন্ট মেডেল এবং মিলিটারি আউটস্ট্যান্ডিং ভলান্টিয়ার সার্ভিস মেডেলসহ একাধিক সামরিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগেও দায়িত্ব পালন করছেন শেখ আল আমিন। বর্তমানে তিনি এনওয়াইপিডির স্পেশাল অপারেশনস ডিভিশনে কর্মরত। ২০২৪ সালে পুলিশি দায়িত্বে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এক্সিলেন্ট পুলিশ ডিউটি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বিভাগে একসঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষাজীবনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে শেখ আল আমিনের। নিউইয়র্কের লেহম্যান কলেজ থেকে অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপ বা সাংগঠনিক নেতৃত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁর জিপিএ ছিল ৪ দশমিক শূন্য। এর আগে ইয়র্ক কলেজে পড়াশোনার সময় শিক্ষার্থী নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কলেজটির স্টুডেন্ট গভর্নমেন্ট প্রেসিডেন্ট এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট সিনেটের ভাইস চেয়ারপারসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন শেখ আল আমিন। নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের সিভিক এনগেজমেন্ট কার্যালয়ের সরকারি জীবনী অনুযায়ী, তিনি ইয়র্ক কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং গ্রেটার খুলনা সোসাইটি অব ইউএসএ ইনকরপোরেটেডের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটার নিবন্ধন, নাগরিক সম্পৃক্ততা এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশসংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাঁর অংশগ্রহণ রয়েছে। বর্তমানে স্ত্রী ন্যান্সি আক্তার লিজা ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কের কুইন্সে বসবাস করছেন শেখ আল আমিন। তাঁর ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি এবং নতুন সামরিক নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। সংগঠনটির নেতারা তাঁর পেশাগত অর্জনকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তাদের অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। খুলনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে উচ্চশিক্ষা, সামরিক প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নেতৃত্বের দায়িত্বে পৌঁছেছেন শেখ আল আমিন। সেপ্টেম্বরের ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতির পর অক্টোবরে কোম্পানি কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ তাঁর সামরিক কর্মজীবনে নতুন অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে এনওয়াইপিডি ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততাও অব্যাহত রয়েছে।
আজীবন সমুদ্রভ্রমণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন্ধ ক্রুজ, বিপুল অর্থ হারিয়েও অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্তুষ্ট দুই বোন
পিটিশনকারী মারা গেলেও তিন ক্ষেত্রে চলতে পারে গ্রিন কার্ডের আবেদন