যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার এক হাইস্কুল পড়ুয়া তরুণী অবিশ্বাস্য এক শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ পেয়েও সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। লেকল্যান্ড হাইস্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্রী অ্যালেক্সিস মরিসন দেশের ৭০টিরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। সেই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর জন্য মোট ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের (প্রায় ৪.৬৭ মিলিয়ন) চোখধাঁধানো স্কলারশিপের প্রস্তাব আসে।
কিন্তু সব পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছেন, যেখানে তাঁকে নিজের পকেট থেকেই পড়াশোনার সিংহভাগ খরচ চালাতে হবে।
জানা গেছে, ভার্জিনিয়া টেক এবং ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির মতো স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মরিসনকে বিনা খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ (ফুল রাইড স্কলারশিপ) দিয়েছিল।
কিন্তু তিনি ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে বার্ষিক টিউশন ফি কমপক্ষে ২৩ হাজার ডলার, অথচ প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে মাত্র ৮ হাজার ডলার বৃত্তি প্রদান করেছে।
এত বড় আর্থিক সুবিধা ছেড়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে মরিসন জানান, ক্লেমসন মূলত তাঁর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। ভর্তির চিঠি পাওয়ার মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "সুযোগ পাওয়ার খবরটি শুনে আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম। সে সময় সারা ঘরে আমাদের আনন্দ, চিৎকার আর কান্নার রোল পড়ে গিয়েছিল।"
অ্যাকাডেমিক ফলাফলের দিক থেকে নিজের স্কুলের শীর্ষ পাঁচজনের মধ্যে না থাকলেও, মরিসনের আবেদনপত্রটিকে অনন্য করে তুলেছিল তাঁর শিক্ষাবহির্ভূত নানা কার্যক্রম বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস।
৪.১ জিপিএ অর্জনের পাশাপাশি তিনি ৩০০ ঘণ্টারও বেশি স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি ন্যাশনাল অনার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়িয়েছেন।
তিনি এত বেশি কলেজে আবেদন করেছিলেন যে, একপর্যায়ে নিজেই তার হিসাব হারিয়ে ফেলেন। এভাবেই তিনি ভার্জিনিয়ার অন্যতম কাঙ্ক্ষিত কলেজ আবেদনকারীতে পরিণত হন।
মেয়ের এই সিদ্ধান্তে বাবা জেমস অবশ্য ইতিবাচক মনোভাবই দেখিয়েছেন। তিনি মজা করে বলেন, "অন্তত সে এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নিয়েছে যারা কিছু আর্থিক সুবিধা তো দিচ্ছে।" মরিসনের হাতে বর্তমানে ১০ হাজার ডলারের একটি বেসরকারি স্কলারশিপও রয়েছে।
তাঁর বাবা আরও জানান, পড়াশোনার অতিরিক্ত খরচ মেটাতে তাঁর নিজস্ব 'জিআই বিল' এবং অন্যান্য সামরিক সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। আগামী ফল সেমিস্টার থেকে ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে নিজের স্বপ্নের পড়াশোনা শুরু করবেন অ্যালেক্সিস মরিসন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আমাজনের এক ডেলিভারি কর্মীর বিরুদ্ধে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার সময় এক গ্রাহকের পোষা বিড়াল চুরির অদ্ভুত অভিযোগ উঠেছে। দরজার ক্যামেরার (ডোরবেল ক্যামেরা) একটি ফুটেজে দেখা যায়, বেকার্সফিল্ডের একটি বাড়ির দরজায় পার্সেল রাখার পর সেখানকার একটি বিড়াল তুলে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ওই কর্মী। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন জশুয়া গঞ্জালেস নামের ওই ব্যক্তি। তবে তাঁর দাবি, 'জুনি' হিসেবে পরিচিত ওই বিড়ালটি তিনি চুরি করেননি, বরং এটি তাঁরই হারিয়ে যাওয়া পোষ্য। পার্সেল দিতে গিয়ে হঠাৎ নিজের বিড়ালটিকে চিনতে পেরেই তিনি সেটি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। জশুয়া গঞ্জালেস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর নিয়মিত রুটেই কাজ করছিলেন। পার্সেল রাখার পর একটি বিড়ালের ডাক শুনে তিনি নিচে তাকান এবং সঙ্গে সঙ্গেই এটিকে চিনতে পারেন। কপাল, চোখ এবং শরীরের গঠন দেখে নিশ্চিত হওয়ার পরই তিনি বিড়ালটিকে তুলে নিয়ে চলে যান। নিজের দাবির স্বপক্ষে তিনি প্রমাণ হিসেবে কিছু কাগজপত্রও উপস্থাপন করেছেন, যেখানে দেখা যায় ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর তিনি তাঁর ৭ বছর বয়সী মেয়ের জন্য বিড়ালটিকে দত্তক নিয়েছিলেন। তবে এই ঘটনার জেরে আমাজন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। আমাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই কর্মীকে আর তাদের হয়ে পার্সেল ডেলিভারি করতে দেওয়া হবে না এবং তারা বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে, ওই বাড়ির বাসিন্দা ব্রেন্ডা উইলসন জশুয়ার এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, জুনি নামের ওই বিড়ালটি গত পাঁচ বছর ধরেই তাঁর কাছে রয়েছে। ব্রেন্ডা আরও জানান, জশুয়া একসময় তাঁদের পাড়াতেই বসবাস করতেন। জশুয়া অবশ্য স্বীকার করেছেন যে সিসিটিভি ভিডিওটি দেখে তাঁকে দোষী মনে হতে পারে, কিন্তু তিনি স্রেফ নিজের হারিয়ে যাওয়া বিড়ালটিকেই নিজের কাছে ফিরিয়ে নিয়েছেন। বিড়ালটি বর্তমানে তাঁর বাড়িতেই আনন্দে ও নিরাপদে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় জশুয়ার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে স্থানীয় শেরিফ অফিস জানিয়েছে, মামলাটি এখনো উন্মুক্ত রয়েছে এবং তদন্তকারীরা বিড়ালের প্রকৃত মালিকানার এই দ্বন্দ্বটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যানের এক সাবেক কর্মীর করা চাঞ্চল্যকর যৌন হয়রানির মামলা ভেস্তে যাওয়ার পথে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। চিরায়ু রানা নামের ওই ব্যাংকার তার নারী বস লর্না হাজডিনির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ‘যৌনদাস’ বা সেক্স স্লেভ বানানোর গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। তবে সম্প্রতি এই হাই-প্রোফাইল মামলার গতিপ্রকৃতি এবং বাদীর আইনজীবীদের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলের কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলাটি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ছে। ম্যানহাটনের আদালতে চলা এই মামলাটিকে ‘আবেগজনিত হতাশা’ এবং একটি ভিত্তিহীন অভিযোগের দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কর্মক্ষেত্র বিষয়ক আইনজীবী নিকোল ব্রেনেকি। মামলাটির দুর্বলতার অন্যতম বড় লক্ষণ হলো, রানার নতুন পাঁচ সদস্যের আইনজীবী দল গত সপ্তাহে রাজ্য আদালত বা স্টেট কোর্ট থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করে ফেডারেল কোর্টে নেওয়ার আবেদন করেছে। প্রকাশ্যে তারা নতুন প্রমাণ ও ফেডারেল আইনের কথা বললেও, বিশেষজ্ঞরা এটিকে স্রেফ ‘ফোরাম-শপিং’ বা নিজেদের সুবিধামতো বিচারক খোঁজার কৌশল হিসেবেই দেখছেন। স্টেট কোর্টের বিচারক ডাকোটা রামসিউর অত্যন্ত কড়া ধাচের মানুষ এবং তিনি ইতিমধ্যে মামলাটির যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এটি আদালতের বাইরে মীমাংসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মূলত এই বিচারকের হাত থেকে বাঁচতেই ফেডারেল কোর্টে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আরেক আইনজীবী ডেভিড রিং সতর্ক করে বলেছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে ফেডারেল কোর্টে গেলে রানাকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে, কারণ সেখানকার বিচারকরা এ ধরনের অসদাচরণ একেবারেই বরদাশত করেন না। মামলাটি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন রানার প্রথম আইনজীবী ড্যানিয়েল কায়সার বাদীর নাম গোপন রাখার একটি শুনানির ঠিক আগমুহূর্তে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইনজীবী সুসান ক্রুমিলার জানিয়েছেন, এত সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও রানার আইনজীবীরা এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো শক্ত প্রমাণ—যেমন টেক্সট মেসেজ বা ইমেইল—উপস্থাপন করতে পারেননি। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে লর্না হাজডিনি উল্টো রানার বিরুদ্ধে মানহানির পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। তার দাবি, এই ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনো ধরনের ডিজিটাল বা লিখিত প্রমাণ ছাড়া চিরায়ু রানা আদৌ এই মামলায় টিকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইংলিশ চ্যানেলে অত্যন্ত নাটকীয় ও সুনির্দিষ্ট এক অভিযান পরিচালনা করে রাশিয়ার একটি সন্দেহভাজন ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত একটি অত্যন্ত জটিল ও বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই বিশাল জাহাজটিকে সফলভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ব্রিটিশ যৌথ বাহিনী। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সফল অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে একে ক্রেমলিনের ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই ধরনের সফল সামরিক পদক্ষেপ রাশিয়ার জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং যারা ইউক্রেনে পুতিনের অবৈধ যুদ্ধকে বিভিন্ন উপায়ে অর্থায়ন করছে তাদের সবার জন্য এটি একটি চরম সতর্কবার্তা। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চেষ্টা করলেও অপরাধীদের আমরা কোনোভাবেই লুকিয়ে থাকতে দেব না। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাজ্যের এই সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপকে ‘নীতিগত দৃঢ়তা’ হিসেবে উল্লেখ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং সে দেশের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জেলেনস্কি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে এখনই এমন কঠোর আইনগত পদক্ষেপ ও সম্মিলিত নীতি গ্রহণ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে শুধু ট্যাঙ্কার আটক করাই নয়, বরং জাহাজে থাকা সমস্ত খনিজ তেল সরাসরি জব্দ করা সম্ভব হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের জাহাজ জব্দ করার ঘটনাকে সরাসরি ‘দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোরে ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ‘স্মিরটোস’ নামের এই তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি আটক করা হয়। এই বিশেষ অভিযানে রয়্যাল মেরিন কমান্ডো এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন, যাদের সরাসরি সহায়তা করে চিনুক হেলিকপ্টার, একটি অত্যাধুনিক ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ এবং একটি মাইনহান্টার ইউনিট। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেন, সাগরের বুকে এই ধরনের একটি আন্তর্জাতিক অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত উচ্চমানের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও চরম সাহসের দাবি রাখে। তিনি সফল অভিযানের জন্য অংশগ্রহণকারী সেনাবাহিনীর বীর সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, রাশিয়া তার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থ জোগাতে এই ধরনের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করছে, যা রুখে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী এই রোমাঞ্চকর অভিযান শেষে জাহাজটিকে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উপকূলের কাছে একটি নিরাপদ নোঙরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে জাহাজটির সার্বিক পরিবেশগত নিরাপত্তা ও অন্যান্য সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জানা গেছে, গত ৫ জুন জাহাজটি রাশিয়ার বাল্টিক বন্দর উস্ত-লুগা থেকে যাত্রা শুরু করে মিসরের পোর্ট সাইদের দিকে যাচ্ছিল। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়ায় ৫০০টিরও বেশি রুশ সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস খাতের সামগ্রিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।