আমেরিকা

৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৪৭ লাখ ডলারের স্কলারশিপ—সব ছেড়ে স্বপ্নের কলেজে ভার্জিনিয়ার তরুণী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ১৭:২২
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার এক হাইস্কুল পড়ুয়া তরুণী অবিশ্বাস্য এক শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ পেয়েও সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। লেকল্যান্ড হাইস্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্রী অ্যালেক্সিস মরিসন দেশের ৭০টিরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। সেই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর জন্য মোট ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের (প্রায় ৪.৬৭ মিলিয়ন) চোখধাঁধানো স্কলারশিপের প্রস্তাব আসে।

 

কিন্তু সব পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছেন, যেখানে তাঁকে নিজের পকেট থেকেই পড়াশোনার সিংহভাগ খরচ চালাতে হবে।

 

জানা গেছে, ভার্জিনিয়া টেক এবং ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির মতো স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মরিসনকে বিনা খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ (ফুল রাইড স্কলারশিপ) দিয়েছিল।

 

কিন্তু তিনি ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে বার্ষিক টিউশন ফি কমপক্ষে ২৩ হাজার ডলার, অথচ প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে মাত্র ৮ হাজার ডলার বৃত্তি প্রদান করেছে।

 

এত বড় আর্থিক সুবিধা ছেড়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে মরিসন জানান, ক্লেমসন মূলত তাঁর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। ভর্তির চিঠি পাওয়ার মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "সুযোগ পাওয়ার খবরটি শুনে আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম। সে সময় সারা ঘরে আমাদের আনন্দ, চিৎকার আর কান্নার রোল পড়ে গিয়েছিল।"

 

অ্যাকাডেমিক ফলাফলের দিক থেকে নিজের স্কুলের শীর্ষ পাঁচজনের মধ্যে না থাকলেও, মরিসনের আবেদনপত্রটিকে অনন্য করে তুলেছিল তাঁর শিক্ষাবহির্ভূত নানা কার্যক্রম বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস।

 

৪.১ জিপিএ অর্জনের পাশাপাশি তিনি ৩০০ ঘণ্টারও বেশি স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি ন্যাশনাল অনার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়িয়েছেন।

 

তিনি এত বেশি কলেজে আবেদন করেছিলেন যে, একপর্যায়ে নিজেই তার হিসাব হারিয়ে ফেলেন। এভাবেই তিনি ভার্জিনিয়ার অন্যতম কাঙ্ক্ষিত কলেজ আবেদনকারীতে পরিণত হন।

 

মেয়ের এই সিদ্ধান্তে বাবা জেমস অবশ্য ইতিবাচক মনোভাবই দেখিয়েছেন। তিনি মজা করে বলেন, "অন্তত সে এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নিয়েছে যারা কিছু আর্থিক সুবিধা তো দিচ্ছে।" মরিসনের হাতে বর্তমানে ১০ হাজার ডলারের একটি বেসরকারি স্কলারশিপও রয়েছে।

 

তাঁর বাবা আরও জানান, পড়াশোনার অতিরিক্ত খরচ মেটাতে তাঁর নিজস্ব 'জিআই বিল' এবং অন্যান্য সামরিক সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। আগামী ফল সেমিস্টার থেকে ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে নিজের স্বপ্নের পড়াশোনা শুরু করবেন অ্যালেক্সিস মরিসন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বাড়ি কিনলেই বর্তমান বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির বিজ্ঞাপন ভাইরাল। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি কিনলেই বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করতে হবে, ভাইরাল যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের একটি বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে—বাড়িটি কিনলে সেখানে বসবাসরত বর্তমান বাসিন্দাকে উচ্ছেদের দায়িত্ব নিতে হবে নতুন মালিককে। পাশাপাশি বাড়িটি কেনার আগে সেটি পরিদর্শনেরও কোনো সুযোগ থাকছে না।   কলোরাডোর নান শহরের তিন শয়নকক্ষ ও দুটি বাথরুমের বাড়িটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার ২৮০ ডলার। বাড়িটি দুই মাসের বেশি সময় ধরে বিক্রির তালিকায় থাকলেও এক্সে ‘জিলো গন ওয়াইল্ড’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট বিজ্ঞাপনটি শেয়ার করার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। অল্প সময়েই সেটি ৪০ লাখের বেশি বার দেখা হয়।   বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাড়িটি বর্তমানে একজনের দখলে রয়েছে। ফলে আগ্রহী ক্রেতারা বাড়িটি সরেজমিনে দেখতে বা পরিদর্শন করতে পারবেন না। বাড়িটি বর্তমান অবস্থাতেই বিক্রি করা হবে। বিক্রি সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়ির দখল বুঝে নেওয়া এবং সেখানে বসবাসরত ব্যক্তিকে সরানোর দায়িত্বও নতুন মালিককেই নিতে হবে।   বাড়িটিতে বসবাস করছেন টরি ম্যাকমেকান। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, বাড়িটি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর এমন বিজ্ঞাপন দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার প্রশ্ন, ভেতরে একজন বাসিন্দা থাকা অবস্থায় এবং বাড়িটি না দেখেই কে এমন সম্পত্তি কিনতে চাইবে?   টরি ম্যাকমেকান জানান, ২০০৬ সাল থেকে তিনি ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। তার স্বামী জেমস ম্যাকমেকান বাড়িটি কিনেছিলেন। ২০১০ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই বাড়িটি নিজের কাছে রাখতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর ধরে বাড়িটি বাজেয়াপ্ত-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ঋণ খেলাপির পর শেষ পর্যন্ত সম্পত্তির মালিকানা ডয়েচে ব্যাংকের কাছে যায়। টরি ম্যাকমেকানের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে চাইলেও ব্যাংক তার সঙ্গে সহযোগিতা করেনি, কারণ ঋণটি ছিল তার স্বামীর নামে। এ নিয়ে তিনি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করলেও সেগুলো খারিজ হয়ে যায়।   গত বছর কলোরাডো আপিল আদালত রায় দেন, টরি ম্যাকমেকানের দাবিতে বাড়ি বিক্রি স্থগিত রাখার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি নেই। এরপরই বাড়িটি বিক্রির তালিকায় তোলা হয়। তবে তিনি জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত তিনি বাড়ি ছাড়বেন না। তার ভাষায়, বাড়িটি যে-ই কিনুক না কেন, তিনি সেখানেই থাকবেন।   বাড়িটির অস্বাভাবিক বিক্রির শর্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এমন শর্তে বাড়ি বিক্রিকে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বাড়ি না দেখেই এবং একজন বাসিন্দাকে উচ্ছেদের দায় নিয়ে এত অর্থ খরচ করে সম্পত্তি কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১২:৫৭
বেলজিয়াম ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের জনপ্রিয় দেশ বেলজিয়াম ভ্রমণে বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের

ফ্লোরিডার ডিল্যান্ড শহরে পোষা কুকুরের ছাই ছড়াতে এসে গুলিতে নিহত দুই শৈশববন্ধু। ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পোষা কুকুরের দাহের ছাই ছড়াতে এসে একাধিক গুলিতে প্রাণ গেল দুই শৈশববন্ধুর

কাস্টমস কর্মকর্তাদের পাসকোড দেওয়ার পর ফোনের তথ্য উধাও হওয়ায় আদালতে মার্কিন নাগরিক। ছবি: সংগৃহীত

কাস্টমস কর্মকর্তাদের পাসকোড দিতেই ফোনের সব তথ্য উধাও, আদালতে মার্কিন নাগরিক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি
ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভের মুখে হোটেলে আশ্রয় নিলেন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান করা হোটেল ঘিরে বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীরা। হোটেলের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে নিরাপত্তাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।   গত সোমবার জর্জটাউনের ফোর সিজনস হোটেলের লবিতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ঢুকে পড়েন। সে সময় নেতানিয়াহু হোটেলের একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের বাধা দেন এবং ভবন থেকে বের করে দেন। বের করে দেওয়ার সময় তারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।   নেতানিয়াহুর এই সফরকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে।   হোটেলের ঘটনার পর ওয়াশিংটনের বিভিন্ন এলাকায় আরও বড় পরিসরে বিক্ষোভ শুরু হয়। শত শত বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে হোয়াইট হাউস ও সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনের দিকে মিছিল করেন। তারা ড্রাম ও বালতি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিভিন্ন ব্যানার ও মেগাফোন ব্যবহার করে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন।   বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেই হওয়া উচিত।   পুরো এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিক্রেট সার্ভিসের বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিরও সমালোচনা করেন।   সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১১:২৮
নিউইয়র্কে নিষিদ্ধ ই-বাইক চালানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী কিশোরের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

নিষিদ্ধ ই-বাইকে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নিউইয়র্কের এক কিশোরের

ক্যাপিটল হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তা ব্রায়ান সিকনিকের নামে বিশেষ দিবস ঘোষণা। ছবি: সংগৃহীত

ক্যাপিটল হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নামে বিশেষ দিবস ঘোষণা

টেক্সাসের ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টার মসজিদের সামনে খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রচার বন্ধের আবেদন খারিজ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মসজিদের সামনে খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রচার বন্ধের আবেদন, আদালতে ব্যর্থ ইসলামিক সেন্টার

সন্তানের ভরণপোষণ না দিলে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা বাতিলের নীতি নিয়ে কথা বলছেন অ্যালেক্স জে অ্যাডামস। ছবি: সংগৃহীত
সন্তানের ভরণপোষণ না দিলে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারাতে পারেন লাখো অভিভাবক, ফিরল ট্রাম্প প্রশাসনের পুরোনো নীতি

সন্তানের ভরণপোষণ পরিশোধে ব্যর্থ বা অনাগ্রহী অভিভাবকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা ফুড স্ট্যাম্প পাওয়া কঠিন হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চালু হওয়া একটি নীতি আবার কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ , যা বাইডেন প্রশাসন ২০২৪ সালে কার্যত স্থগিত করেছিল।   নতুন নির্দেশনার ফলে অঙ্গরাজ্যগুলো এখন এমন অভিভাবকদের ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা বাতিল করতে পারবে, যাদের সন্তানের ভরণপোষণ দেওয়ার আদালতের নির্দেশ রয়েছে, কিন্তু তারা তা পরিশোধ করছেন না এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতাও করছেন না। তবে যারা প্রকৃত অর্থেই আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে ভরণপোষণের অর্থ দিতে পারছেন না, তাদের লক্ষ্য করে এ নীতি করা হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সহকারী সচিব অ্যালেক্স অ্যাডামস বলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য মানুষকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং সন্তানদের প্রতি তাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা। তার ভাষায়, অনেক একক অভিভাবকই তাদের সন্তানের প্রাপ্য ভরণপোষণ পাচ্ছেন না, ফলে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা পান। তাদের মধ্যে প্রায় ৩৮ লাখ ব্যক্তি এমন অভিভাবক, যাদের বিরুদ্ধে সন্তানের ভরণপোষণ পরিশোধের আনুষ্ঠানিক আদেশ রয়েছে। গড়ে একজন সুবিধাভোগী প্রতি মাসে ১৯০ দশমিক ২৯ ডলার পান। এই হিসাবে এসব অভিভাবকের জন্য বছরে প্রায় ৮৭০ কোটি ডলার ব্যয় হয়।   ফেডারেল পরিসংখ্যান বলছে, যেসব অভিভাবকের কাছে সন্তানের প্রাথমিক হেফাজত নেই, তাদের ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ কোনো ভরণপোষণই দেন না। আর ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ পুরো অর্থের বদলে আংশিক পরিশোধ করেন। অর্থাৎ, অর্ধেকেরও বেশি কোনো না কোনোভাবে সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া রাখেন।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকা অভিভাবকদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ১৭০টির বেশি পাসপোর্ট বাতিল বা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাসপোর্ট হারানোর ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই বকেয়া পরিশোধ করেছেন, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২২ লাখ ডলারেরও বেশি আদায় হয়েছে।   নীতিটি কার্যকর হলেও, ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য। তারা চাইলে এই বিধান নিজেদের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১০:১২
আইনজীবী সুরাজ রাজ সিংকে জরিমানার নোটিশ পাঠিয়েছে মার্কিন সংস্থা আইস। ছবি: সংগৃহীত

একই ধরনের নির্যাতনের গল্পে শতাধিক আশ্রয় আবেদন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

গ্রীষ্মকালজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জনপদে খাদ্য সহায়তা, শিশুদের শিক্ষামূলক কার্যক্রম, প্রবীণদের মধ্যাহ্নভোজ, কৃষিপণ্য বাজার ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

গ্রীষ্মকালজুড়ে সামাজিক সেবায় প্রাণবন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় জনপদ

আমেরিকা ও ইরান। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচলের চেষ্টায় সমন্বিত সাইবার হামলা, তদন্তে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সূত্র

0 Comments