বিশ্ব

ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ৪:১৩
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সে দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

 

শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবিক বিবেচনা ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া হলেও ভারতের নীতি হলো, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

 

এই অবস্থান এমন সময়ে জানানো হলো, যখন সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

 

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা বা সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তারিখ জানানো হয়নি।

 

এদিকে একই বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে। কমিটির সদস্যদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ভিসা সেবা সীমিত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করে ভারত। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য ভিসা সেবাও স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

 

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার অবস্থান, প্রত্যর্পণ অনুরোধ এবং ভিসা কার্যক্রম এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সে দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে।   শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবিক বিবেচনা ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া হলেও ভারতের নীতি হলো, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।   এই অবস্থান এমন সময়ে জানানো হলো, যখন সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।   শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা বা সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তারিখ জানানো হয়নি।   এদিকে একই বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে। কমিটির সদস্যদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ভিসা সেবা সীমিত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।   উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করে ভারত। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য ভিসা সেবাও স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার অবস্থান, প্রত্যর্পণ অনুরোধ এবং ভিসা কার্যক্রম এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ৪:১৩
দুর্ঘটনার পর ধসে পড়া খনিতে চলছে উদ্ধার অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে কয়লাখনিতে ভয়াবহ মিথেন বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩২ শ্রমিক

গাজা নিয়ে নতুন শান্তি পরিকল্পনায় শর্তসাপেক্ষ নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে হামাস। ছবি: সংগৃহীত

গাজা সংকটে ঐতিহাসিক মোড়: সেনা প্রত্যাহারের শর্তে ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণে রাজি হামাস

নরেন্দ্র মোদির নামে ছড়িয়ে পড়া কথিত পদত্যাগপত্রকে ভুয়া বলেছে ভারত সরকার। ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল মোদির ‘পদত্যাগপত্র’, যা জানা গেল

সংঘর্ষের পর সুনসারিসহ কয়েকটি জেলায় কারফিউ জারি করেছে নেপাল সরকার। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে নিহত ৩, শান্ত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি জনগণকে ধৈর্য, সংযম ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অস্থিরতার এই পরিস্থিতি কাটিয়ে জাতীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।   বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তিনি নাগরিক, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতি শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সহিংসতার ঘটনায় একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভারত সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে একটি হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। শোভাযাত্রায় উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।   নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছুড়লে দুইজন নিহত হন। পরে বৃহস্পতিবার পাশের সিরাহা জেলায় কারফিউ চলাকালেও বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনজনে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুনসারি ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পদ রক্ষা করা এবং সর্বনিম্ন বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করছে।   নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সবার দায়িত্ব। কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করুন।” তিনি আরও বলেন, সরকার ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখবে এবং তদন্তে কোনো ধরনের পক্ষপাত করা হবে না।   নেপালের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তরাই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। অতীতে স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটলেও, সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও অবনতি ঠেকাতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ২২:২৯
মরক্কো থেকে স্পেনের সিউতায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন হাজারো অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে স্পেনে হাজার হাজার অভিবাসীর প্রবেশের চেষ্টা, নামানো হলো সেনাবাহিনী

গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে  ২,৫৯৬ অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত

গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে ২,৫৯৬ অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত

মার্কিন সেনাদের ফোনের ভিডিওতেই গোপন তথ্যপাচ্ছে ইরান

মার্কিন সেনাদের ফোনের ভিডিওতেই গোপন তথ্যপাচ্ছে ইরান! ফোন ব্যাবহারে কড়াকড়ি, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
চীন ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করলে 'আমি খুব হতাশ হব': ট্রাম্প

ইরানের কাছে চীন যদি অস্ত্র বিক্রি করে, তবে তা তাকে “খুবই হতাশ” করবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য ৩০০ থেকে ৪০০টি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক সরবরাহ করতে পারে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।   সিএনএন ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই অস্ত্র চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “যদি এই খবর সত্য হয়, তাহলে আমি খুবই অবাক হব। কারণ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমাকে স্পষ্টভাবে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে চীন এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবে না।” তিনি আরও বলেন, শি জিনপিং খুব ভালো করেই জানেন, এমন কিছু ঘটলে তিনি কতটা হতাশ হবেন।   এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সেই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, চীন তেহরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে।   তবে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস সে সময় এসব দাবি নাকচ করে দেয়। দূতাবাসের এক মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে “সম্পূর্ণ অসত্য” বলে উল্লেখ করেন এবং চীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।   সর্বশেষ রয়টার্সের প্রতিবেদন এবং ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার পর চীন ও ইরানের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বেইজিং বা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অস্ত্র চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২৩:৩৫
ভারতের সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননাবিরোধী বিল নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননায় সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল, রাজ্যসভায় নতুন বিল পাস

শিশুর মৃত্যুর পর গবেষণা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষামূলক জিন থেরাপিতে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু, ৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার ব্যয় করা পরিবার তুলল গুরুতর অভিযোগ

সিস্যাটসের স্বয়ংক্রিয় সমুদ্র ড্রোনের ধারণ করা চীনা যুদ্ধজাহাজের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছে চীনা যুদ্ধজাহাজের ভিডিও প্রকাশ, আলোচনায় মার্কিন ড্রোন

0 Comments