আমেরিকা

গুগলের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের প্রতিবাদে পিচাইয়ের বক্তৃতা বর্জন

Unknown প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ২১:৪৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। চাকরির বাজার থেকে শুরু করে শিক্ষা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে অনেককে অবাক করেছেন গুগল ও অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই। প্রযুক্তি খাতের অন্যতম প্রভাবশালী এই ব্যক্তি তার পুরো বক্তৃতাজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গই তোলেননি।

 

রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোতে অনুষ্ঠিত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তব্য দেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই প্রযুক্তি নির্বাহী। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী হওয়ায় তার উপস্থিতি অনেকের কাছেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছেন একাধিক বক্তা। সেই প্রেক্ষাপটে পিচাইয়ের বক্তৃতা ছিল ভিন্নধর্মী।

 

বক্তৃতায় তিনি প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে কথা না বলে নিজের জীবনসংগ্রাম, ব্যর্থতা এবং সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করেন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে তার প্রথম দিনগুলোর কথা, উচ্চশিক্ষা নিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং গুগলে কর্মজীবনের শুরুর নানা চ্যালেঞ্জ।

তবে মঞ্চে ওঠার পর পুরো অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ছিল না। পিচাই বক্তব্য শুরু করার সময় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। আরও কয়েকটি ছোট দল ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শন, ব্যানার উঁচিয়ে ধরা এবং বাঁশি বাজানোর মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরে। পরে তারাও অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যান।

 

প্রতিবাদকারীরা মূলত ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে গুগলের ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে ২০২১ সালে ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে গুগল ও অ্যামাজনের যৌথ ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং প্রকল্প ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’ নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকে ঘিরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। এবারের সমাবর্তনও সেই বিতর্কের বাইরে থাকেনি।

 

গত বছরের মতো এবারও প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীরা বিকল্পভাবে ‘পিপলস কমেন্সমেন্ট’ নামে একটি আলাদা অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। সেখানে প্রধান বক্তা ছিলেন ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী মাহমুদ খলিল। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে গত বছর তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করেছিল, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

 

প্রতিবাদ পর্ব শেষ হওয়ার পর পিচাইয়ের বক্তব্যে ইতিবাচক সাড়া দিতে দেখা যায় অধিকাংশ উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে। নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সময় শ্রোতাদের মধ্যে হাসি, করতালি এবং উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা তিনি নিজেই খুব কাছ থেকে দেখেছেন। বক্তৃতায় ভারতের গ্রামীণ নারীদের স্মার্টফোন ব্যবহার করে নতুন দক্ষতা শেখা এবং জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরি করার একটি উদাহরণও তুলে ধরেন।

 

পিচাই বলেন, “কম্পিউটিং প্রযুক্তি যেভাবে আমার জীবন বদলে দিয়েছে, অন্য মানুষের জীবনেও সেই পরিবর্তন দেখতে পাওয়া ছিল আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয়।”

উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক শ্মিট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন। তিনি বলেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, এমনকি যারা বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী নন, তাদের জীবনেও। তার ওই মন্তব্যের পর অনেক শিক্ষার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও সমাবর্তনের মতো অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ক্রমশ মানবিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং অনুপ্রেরণার গল্প শুনতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সুন্দর পিচাইয়ের এবারের বক্তৃতা সেই পরিবর্তিত প্রবণতারই একটি উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইরানি হামলায় প্রাণ হারানো মার্কিন নারী সেনাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিউইয়র্কবাসীর
ইরানি হামলায় প্রাণ হারানো মার্কিন নারী সেনাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিউইয়র্কবাসীর

জর্ডানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২৮ বছর বয়সি মার্কিন সেনা অ্যাঞ্জেল এস. র‍্যাম্পারসাদকে চোখের জলে শেষ বিদায় জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কবাসী। শুক্রবার কুইন্সের ওজোন পার্কে অবস্থিত ক্যালভারি অ্যাসেম্বলি অব গড চার্চে এই তরুণী সেনার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পরিবার, সহকর্মী, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে শত শত সাধারণ মানুষ ভিড় জমান।   গির্জার আনুষ্ঠানিকতা শেষে বীরের পূর্ণ মর্যাদায় এবং নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) বিশেষ প্রোটোকলে তাকে লং আইল্যান্ড ন্যাশনাল সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়। শোকাহত পরিজন ও সহকর্মীরা তাকে একজন নিঃস্বার্থ, সাহসী ও দারুণ নেতৃত্বগুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।   গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের অতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন, অ্যাঞ্জেল র‍্যাম্পারসাদ তাদের মধ্যে অন্যতম। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস এবং নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানীসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।   রাজনীতি দূরে সরিয়ে রেখে সকলেই এই বীর সেনার অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া ভিয়েতনামের যুদ্ধফেরত প্রবীণ সেনানীরাও তাকে সম্মান জানাতে এদিন উপস্থিত ছিলেন, যারা তার এই আত্মত্যাগকে যেকোনো প্রজন্মের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   নিউইয়র্কের জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিস থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা র‍্যাম্পারসাদ তার চাচার অনুপ্রেরণায় মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি মূলত জার্মানিভিত্তিক প্রথম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে নিযুক্ত ছিলেন। এর আগে তিনি হাওয়াইয়ের একটি সামরিক ঘাঁটিতেও রেডিওর কাজ পরিচালনা করেছিলেন। দেশপ্রেম ও সাহসিকতার জন্য তার এই অকাল প্রয়াণ স্থানীয় কমিউনিটি ও পুরো দেশের সামরিক পরিমণ্ডলে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৫:৫২
অন্যায় করলেই শিক্ষার্থীদের পিঠে উঠে দাঁড়িয়ে শাস্তি দিতেন ৩৫০ পাউন্ড ওজনের শিক্ষক

অন্যায় করলেই শিক্ষার্থীদের পিঠে উঠে দাঁড়িয়ে শাস্তি দিতেন ৩৫০ পাউন্ড ওজনের শিক্ষক

নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ায় চিরতরে বন্ধ ৮৯ বছরের পুরোনো ইতালীয় পেস্ট্রি শপ ‘লা গুলি’

নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ায় চিরতরে বন্ধ ৮৯ বছরের পুরোনো ইতালীয় পেস্ট্রি শপ ‘লা গুলি’

কস্ককোর ৩ ডলারের ‘ভ্যানিলা কুকি ক্রাঞ্চ সানডে’ এখন ক্রেতাদের নতুন পছন্দ

কস্ককোর ৩ ডলারের ‘ভ্যানিলা কুকি ক্রাঞ্চ সানডে’ এখন ক্রেতাদের নতুন পছন্দ

দীর্ঘ অপেক্ষার পর আয়কর নথি প্রকাশ করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আয়কর নথি প্রকাশ করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজের বহুচর্চিত কর বিবরণী (ট্যাক্স রিটার্ন) জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম। নিজ থেকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমার শেষ দিনে তিনি চার বছরের বিস্তারিত আয়কর নথি উন্মুক্ত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিউসাম এবং তার স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউসাম যৌথভাবে বছরে আনুমানিক ১৭ লাখ থেকে ২০ লাখ ডলার উপার্জন করেছেন। একই সময়ে তারা প্রতি বছর রাজ্য ও ফেডারেল সরকারকে গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ডলার আয়কর প্রদান করেছেন।   গভর্নরের দপ্তর থেকে ৭০০ পৃষ্ঠারও বেশি নথি সাংবাদিকদের দেখার সুযোগ দেওয়া হলেও সেগুলোর কোনো কপি করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, গভর্নর হিসেবে নিউসামের বার্ষিক সরকারি বেতন প্রায় দুই লাখ ডলার, যা তাদের মোট আয়ের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। তাদের আয়ের প্রধান উৎস অন্ধ ট্রাস্টে (ব্লাইন্ড ট্রাস্ট) রাখা ওয়াইনরি, রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা ব্যবসা।   তবে কোন নির্দিষ্ট ব্যবসা থেকে কত লাভ বা ক্ষতি হয়েছে তা আয়কর ফাইলে উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, তার স্ত্রী জেনিফারের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি বেশিরভাগ বছর লোকসানে ছিল বলে জানা গেছে। পাশাপাশি এই দম্পতি প্রতি বছর ৪০ থেকে ৬৫ হাজার ডলার দাতব্য সংস্থায় দান করেছেন।   গভর্নর নিউসামের এই কর বিবরণী প্রকাশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা চলছে, কারণ সম্প্রতি তিনি ও তার স্ত্রী একটি ফেডারেল তদন্তের আওতায় এসেছেন বলে প্রকাশ পেয়েছে। তবে নিউসাম এই তদন্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হতে পারেন বলে চর্চায় থাকা এই নেতা অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক সুবিধা নিতেই মার্কিন বিচার বিভাগকে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।   ২০০৪ সালে রাজনীতিতে আসার পর থেকেই আর্থিক স্বচ্ছতার কথা বলে আসা নিউসামের এই আয়কর নথি প্রকাশ মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:৩
উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ, চীনের আরও ৪৩ কোম্পানির পণ্য নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ, চীনের আরও ৪৩ কোম্পানির পণ্য নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

বিমানযাত্রার ভোগান্তি কমাতে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজের নকশা উন্মোচন করল জেটজিরো। ছবি: সংগৃহীত

বিমানযাত্রার বড় ভোগান্তি কমাতে আসছে নতুন প্রজন্মের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ

বাড়ি কিনলেই বর্তমান বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির বিজ্ঞাপন ভাইরাল। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ি কিনলেই বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করতে হবে, ভাইরাল যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির বিজ্ঞাপন

বেলজিয়াম ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের জনপ্রিয় দেশ বেলজিয়াম ভ্রমণে বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের

ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য বেলজিয়াম ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ২৩ জুলাই প্রকাশিত হালনাগাদ ভ্রমণ পরামর্শে দেশটিকে লেভেল–২ পর্যায়ে রেখে নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং বিক্ষোভের ঝুঁকির কারণে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বেলজিয়ামের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ও জনবহুল স্থানে সুযোগসন্ধানী অপরাধের ঘটনা নিয়মিত ঘটে। বিশেষ করে ব্যাগ ছিনতাই, পকেটমার ও ব্যক্তিগত মালামাল চুরির মতো অপরাধ থেকে সতর্ক থাকতে ভ্রমণকারীদের আশপাশের পরিস্থিতির প্রতি সব সময় নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এছাড়া ট্রেনে যাতায়াতের সময় লাগেজ বা ছোট ব্যাগ ওপরের র্যাক কিংবা প্রধান রেলস্টেশনে নজরদারিহীন অবস্থায় না রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। কারণ এসব স্থান থেকে ব্যাগ চুরির ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।   ভ্রমণ পরামর্শে আরও বলা হয়েছে, বেলজিয়ামে গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য অবৈধ। এসব মাদক দেশটিতে নিয়ে যাওয়া, বহন করা বা দেশ থেকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করলে গুরুতর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।   পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, বেলজিয়ামে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ২০২৩ সালে ব্রাসেলসে এক হামলায় দুই সুইডিশ নাগরিক নিহত হন। এর আগে ২০১৬ সালে ব্রাসেলস বিমানবন্দর ও শহরের যাত্রীবাহী রেলব্যবস্থায় হামলায় ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এসব ঘটনার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   সতর্কবার্তায় রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিক্ষোভের বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। এমন সমাবেশ সাধারণত শান্তিপূর্ণ হলেও তা পরিবহন ব্যবস্থা ও অন্যান্য জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। গত মাসে শিক্ষা সংস্কারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ব্রাসেলসে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। জুন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনের আগে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের কর্মীরাও সেখানে বিক্ষোভ করেন।   পররাষ্ট্র দপ্তর ভ্রমণকারীদের বিক্ষোভ ও জনসমাগম এড়িয়ে চলা, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খোঁজখবর রাখা এবং প্রয়োজনে ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন এলাকা, ব্যাংক ও এটিএম ব্যবহার করার সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   তবে এবার ঠিক কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেলজিয়ামের জন্য সতর্কতার মাত্রা হালনাগাদ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করা হয়। পাশাপাশি বিদেশে ভ্রমণকারী মার্কিন নাগরিকদের জরুরি তথ্য ও সতর্কবার্তা পাওয়ার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রাম’-এ নিবন্ধনেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১২:৩৯
ফ্লোরিডার ডিল্যান্ড শহরে পোষা কুকুরের ছাই ছড়াতে এসে গুলিতে নিহত দুই শৈশববন্ধু। ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পোষা কুকুরের দাহের ছাই ছড়াতে এসে একাধিক গুলিতে প্রাণ গেল দুই শৈশববন্ধুর

কাস্টমস কর্মকর্তাদের পাসকোড দেওয়ার পর ফোনের তথ্য উধাও হওয়ায় আদালতে মার্কিন নাগরিক। ছবি: সংগৃহীত

কাস্টমস কর্মকর্তাদের পাসকোড দিতেই ফোনের সব তথ্য উধাও, আদালতে মার্কিন নাগরিক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভের মুখে হোটেলে আশ্রয় নিলেন নেতানিয়াহু

0 Comments