সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে কাউন্সিলম্যান গ্রেপ্তার, একসময় ছিলেন কুখ্যাত মাফিয়া সদস্য

Unknown প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ২১:৩৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

একসময় নিউইয়র্কের কুখ্যাত অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরে কারাভোগ শেষে নিজেকে বদলে ফেলার দাবি করে জনসেবায় যুক্ত হন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্বও পান। তবে সেই অতীত আবারও যেন ফিরে এসেছে জন অ্যালাইটের জীবনে। চাঁদাবাজি, অবৈধ ঋণ ব্যবসা এবং সহিংসতার হুমকির অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইংলিশটাউন বরোর কাউন্সিলম্যান জন অ্যালাইট।

 

শুক্রবার নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ৬৩ বছর বয়সী অ্যালাইটের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সুদে ঋণ দেওয়া, অর্থ ও সম্পত্তি আদায়ের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্রেইটেনড-আউট এন্টারটেইনমেন্ট ইনকরপোরেটেড’-এর মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

 

একই মামলায় ব্রিজওয়াটারের বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী স্টিফেন লোক্রোটন্ডোকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি অ্যালাইটের সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং আইনসিদ্ধ সীমার চেয়ে বেশি সুদ আদায়ে অংশ নিতেন।

 

নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট বলেন, দীর্ঘ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “সব ব্যবসা যেন আইন মেনে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মামলায় যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে অ্যালাইটের আইনজীবীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জন অ্যালাইট নামটি যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ জগতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। তিনি একসময় নিউইয়র্কের গ্যাম্বিনো অপরাধচক্রের সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা জন গট্টি জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান।

 

২০২৫ সালে এনজে ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যালাইট নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে অপরাধ জগতে সক্রিয় থাকার সময় তিনি ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০টি গুলিবর্ষণের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে তিনি জানান।

ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে তিনি মাদক পাচারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার আয় করতেন। সেই সময় তার মালিকানায় নাইটক্লাব, কাচের ব্যবসা, সুপারমার্কেট, ভ্যালেট পার্কিং প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যবসাও ছিল।

 

২০০৮ সালে তিনি ফেডারেল র্যাকেটিয়ারিং বা সংঘবদ্ধ অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। পরে গ্যাম্বিনো অপরাধচক্রের বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার বিনিময়ে তুলনামূলক কম সাজা পান। ২০১১ সালে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও ২০১২ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন।

কারামুক্তির পর নিজের জীবন পরিবর্তনের দাবি করেন অ্যালাইট। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতেন, পডকাস্ট পরিচালনা করতেন এবং তরুণদের মাদক ও অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার কাজ করতেন। তিনি নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক হিসেবেও পরিচয় দিতেন।

 

২০২৫ সালের মার্চে ইংলিশটাউন বরো কাউন্সিলের একটি শূন্য পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি জনসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন একই কাউন্সিলের সদস্য জ্যানেট লিওনার্ডিস। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই হতবাক। তিনি একজন ভালো নাগরিক এবং দায়িত্বশীল কাউন্সিলম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন।”

 

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যালাইটের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি, করপোরেট অসদাচরণ, সহিংসতার হুমকি এবং অবৈধ সুদে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে লোক্রোটন্ডোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং অবৈধ সুদ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

স্টিফেন লোক্রোটন্ডোর অতীতও বিতর্কমুক্ত নয়। ২০১৩ সালে একটি ভুয়া চেকের মাধ্যমে এক বন্ধুর ১ লাখ ডলারের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করার ঘটনায় তাকে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

 

অপরাধ জগত থেকে জনসেবার মঞ্চে আসা জন অ্যালাইট নিজেকে একসময় ‘নতুন মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি লজ্জিত এবং সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে চান।

তবে সর্বশেষ অভিযোগের পর তার সেই পরিবর্তনের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়ারবল লটারিতে ভাগ্য খুলল দুই ভাইয়ের, জিতলেন ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা
যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়ারবল লটারিতে ভাগ্য খুলল দুই ভাইয়ের, জিতলেন ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে পাওয়ারবল লটারির টিকিট কিনে রাতারাতি ২ লাখ মার্কিন ডলার জিতে নিয়েছেন দুই ভাই। সৌভাগ্যের পরশ পাওয়া এই দুই ভাই লটারিতে জেতা বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজেদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভার্জিনিয়া লটারি কর্মকর্তাদের বরাতে সম্প্রতি এই মজাদার ও চমকপ্রদ তথ্যটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।   জানা গেছে, ভার্জিনিয়ার রোয়ানোকে শহরের রাটগার্স স্ট্রিটে অবস্থিত একটি ক্রোগার সুপারশপে একসঙ্গে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন ওই দুই ভাই। কেনাকাটার একপর্যায়ে তাদের একজন একটি লটারির ভেন্ডিং মেশিনের কাছে থেমে পাওয়ারবল টিকিট কাটেন।   সে সময় অপর ভাই মজার ছলে তাকে বলেছিলেন, "বিজয়ী নম্বরগুলো কিনতে কিন্তু ভুলিস না!" আশ্চর্যের বিষয় হলো, তার সেই কথাটিই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের ড্রতে তাদের কেনা টিকিটের নম্বরগুলো সত্যিই বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়।   লটারির ওই ড্রতে তাদের টিকিটের প্রথম পাঁচটি নম্বরের মধ্যে চারটি নম্বর এবং পাওয়ারবল নম্বরটি হুবহু মিলে যায়। এর ফলে তারা প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার জেতেন। তবে টিকিট কেনার সময় 'পাওয়ার প্লে' অপশনটি চালু থাকায় তাদের পুরস্কারের অঙ্ক চার গুণ বেড়ে যায় এবং মোট পুরস্কারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা)। অপ্রত্যাশিত এই বিজয়ের পর উচ্ছ্বসিত দুই ভাই জানিয়েছেন, তারা নগদ এই অর্থ সমান দু'ভাগে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবেন। 

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৫:১৩
যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল, তবু এইচ-১বি অনুমোদনের হার ৯৭ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল, তবু এইচ-১বি অনুমোদনের হার ৯৭ শতাংশ

বাঁয়ে ওপরে আবদুল এল-সায়েদ, নিচে বারাক ওবামা। ডানে মাইক জনসন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

মূল্যস্ফীতি থেকে ইরান যু দ্ধ, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ৫ কারণ

রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?

রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?

কোভিড ত্রাণের দেড় লাখ ডলার আত্মসাৎ, ৩০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে মার্কিন কলেজ শিক্ষিকা
কোভিড ত্রাণের দেড় লাখ ডলার আত্মসাৎ, ৩০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে মার্কিন কলেজ শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের একটি কলেজের অধ্যাপক মহামারি চলাকালীন ফেডারেল সরকারের কোভিড ত্রাণ তহবিল থেকে জালিয়াতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। পামেলা হামফ্রে (৪৪) নামের ওই নারী ফেয়েটভিল টেকনিক্যাল কমিউনিটি কলেজে শিক্ষকতা করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের (এসবিএ) কাছে একটি ভুয়া ঋণ আবেদন জমা দিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার (দেড় লাখ) হাতিয়ে নেন। ‘ওয়্যার ফ্রড’ বা তারবার্তায় জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, রবেসন কাউন্টির একটি ব্যবসার কথা উল্লেখ করে পামেলা 'ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন'-এর (EIDL) জন্য আবেদন করেছিলেন। ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে তিনি ওই ব্যবসার মোট আয় এবং কর্মচারীর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন।   এসবিএ আবেদনটি অনুমোদন করার পর পুরো অর্থ তার নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সম্প্রতি ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নর্থ ক্যারোলাইনার ইউএস ম্যাজিস্ট্রেট জজ রবার্ট বি. জোনস জুনিয়রের আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করেছেন। সাজার পাশাপাশি আদালত তাকে আত্মসাৎকৃত ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে।   করোনা মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য এসবিএ পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম ও দুর্যোগকালীন ঋণ হিসেবে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছিল। তবে ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এর মধ্যে একটি বিশাল অংকের অর্থ (প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার) প্রতারকদের হাতে চলে যায়।   পামেলার মামলাটি মূলত সেই প্রতারকদের ধরতে চালানো চলমান অভিযানেরই একটি অংশ। এই বিষয়ে নর্থ ক্যারোলাইনার ইউএস অ্যাটর্নি এলিস বয়েল কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "করদাতাদের অর্থ যারা চুরি করবে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং জেলের ভেতরে বসেই তাদের সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে। প্রতারকরা কখনোই জয়ী হতে পারে না"।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সে আবারও বাড়ল ব্যাগেজ ফি

যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সে আবারও বাড়ল ব্যাগেজ ফি, প্রথম চেকড ব্যাগের ফি বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ ডলার

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির ক্রেতাদের জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ তহবিল পাস

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির ক্রেতাদের জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ তহবিল পাস, তবে সুবিধা পেতে রয়েছে শর্ত

মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সিনেটর হয়ে ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ বলে খোঁচা এল-সায়েদের

মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সিনেটর হয়ে ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ বলে খোঁচা এল-সায়েদের

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর দুর্গম পাহাড়ে নিখোঁজ দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পাহাড়ে হাইকিং এর সময় দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু, তদন্তে ভয়াবহ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের দুর্গম পাহাড়ে অ্যাডভেঞ্চারে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তদন্তে জানা গেছে, পাহাড় থেকে দড়ি বেয়ে নিচে নামার সময় নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত অ্যাঙ্কর সিস্টেম হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। এতে অনেক উঁচু থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুই বন্ধু। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চ্যাফি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও করোনার অফিস যৌথভাবে ময়নাতদন্তের ফল প্রকাশ করে।   নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন ১৯ বছর বয়সী কেডেন মাতসুদা এবং ২০ বছর বয়সী জ্যাকসন ডনলন। কেডেন কলোরাডোর রিজওয়ে এবং জ্যাকসন নিউইয়র্কের কুইন্সবেরি এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা দুজনই কলোরাডো মাউন্টেন কলেজের লেডভিল ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পাহাড়ে হাইকিং ও ক্লাইম্বিংয়ের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়েছিলেন তাঁরা। নির্ধারিত সময়ে ফিরে না আসায় ২৬ অক্টোবর কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশকে জানায়।   প্রথমে তাঁদের কলোরাডোর আইস মাউন্টেনে আরোহণের পরিকল্পনা ছিল। প্রায় ১৩ হাজার ৯৫৮ ফুট উঁচু পাহাড়টিতে ওঠার জন্য প্রয়োজন বিশেষ অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতি। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে তাঁরা কাছাকাছি ১৩ হাজার ৫৯৭ ফুট উঁচু ওয়েস্ট অ্যাপোস্টল মাউন্টেনের দিকে যান। সেখানে দড়ির সাহায্যে পাহাড় থেকে নিচে নামার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।   তদন্তে দেখা গেছে, জ্যাকসন একটি পাথরের সঙ্গে স্থাপন করা প্রধান অ্যাঙ্করের সাহায্যে র‍্যাপেলিং বা দড়ি বেয়ে নিচে নামা শুরু করেছিলেন। নিরাপত্তার জন্য সেখানে একটি ধাতব পিটন এবং পাথরের সঙ্গে যুক্ত দ্বিতীয় অ্যাঙ্করও ছিল। একই ব্যবস্থার সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা সরঞ্জাম দিয়ে যুক্ত ছিলেন কেডেন। কিন্তু হঠাৎ পুরো অ্যাঙ্কর ব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ফলে দুজনই অনেক নিচে পড়ে যান। ঠিক কত ফুট ওপর থেকে তাঁরা পড়েছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা।   ময়নাতদন্তে জানা গেছে, উঁচু থেকে পড়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের কারণে দুজনের তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যাঙ্কর সিস্টেম কেন বিকল হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট কারণ এখনো অজানা। দুর্ঘটনার সময় এলাকায় তুষারঝড় হয়েছিল কি না এবং আবহাওয়া সরঞ্জামের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না, তাও নিশ্চিত নয়। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তুষারঝড় সরাসরি তাঁদের মৃত্যুর কারণ ছিল না।   নিখোঁজ হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রায় ৬০ জন উদ্ধারকর্মীর পাশাপাশি হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হয়। ২৭ অক্টোবর লেক অ্যান এলাকার কাছে বরফের নিচে চাপা পড়া তাঁদের তাঁবু খুঁজে পান উদ্ধারকর্মীরা। সেখানে স্লিপিং ব্যাগ, রান্নার সরঞ্জাম ও পোশাক পাওয়া গেলেও দুই শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান মেলেনি।   পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে ওয়েস্ট অ্যাপোস্টল মাউন্টেনের একটি নিচু অববাহিকায় পাশাপাশি অবস্থায় তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের কারণে মরদেহ পাহাড় থেকে নামাতে বিলম্ব হয়। পরে হেলিকপ্টারের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা হয়।   চ্যাফি কাউন্টির শেরিফ অ্যান্ডি রোরিচ জানিয়েছেন, দুই শিক্ষার্থী পাহাড়ে আরোহণের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলেন। তদন্তে তাঁদের কোনো সুস্পষ্ট ভুল পাওয়া যায়নি। কেডেন ভবিষ্যতে বনাঞ্চলের অগ্নিনির্বাপণকর্মী হতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে জ্যাকসন আউটডোর রিক্রিয়েশন লিডারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। পাহাড়ে আরোহণ, স্কিইং ও প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল তাঁদের দুজনেরই।   এই দুই তরুণের অকালমৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে কলোরাডো মাউন্টেন কলেজ। পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থাও করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।   সূত্র: চ্যাফি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১২:১৬
যুক্তরাষ্ট্রে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুসহ দুই সন্তানকে হ ত্যা করে বাবার আ ত্মহ ত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুসহ দুই সন্তানকে হ ত্যা করে বাবার আ ত্মহ ত্যা

ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক

দ্রুত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পাচ্ছে ২৩ দেশের নাগরিক, বাংলাদেশীদের জন্য দুঃসংবাদ

ছবি: শাজিয়া হক, মন্টেবেলো সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী। (সংগৃহীত)

নির্বাচনে জয় আসেনি, তবুও দমে না যাওয়ার প্রত্যয় বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী শাজিয়া হকের

0 Comments