নিউ জার্সি

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দুই শিশু মায়া ও সিগমন্ডের সাথে তাদের বাবা-মা। ছবি: ফেসবুক
নিউ জার্সিতে নৌকা দুর্ঘটনায় একসঙ্গেই প্রাণ গেল দুই ভাই-বোনের, শোকের ছায়া পরিবারে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এক মর্মান্তিক নৌকা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একমাত্র দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। রবিবার রাতে বার্নেগাট বে এলাকায় নানা-নানির সাথে নৌভ্রমণে বের হয়ে ৯ বছর বয়সী মেয়ে মায়া এবং ৭ বছর বয়সী ছেলে সিগমন্ড মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার শিকার হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুদের ৬৩ বছর বয়সী নানা স্টিভেন স্নাইডার ৩০ ফুটের একটি নৌকা চালাচ্ছিলেন। সাথে ছিলেন তাঁদের ৬৪ বছর বয়সী নানি লরি স্নাইডার। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ওয়াটারওয়ে বা খালের একটি বয়া নির্দেশকের সাথে নৌকাটির সজোড়ে ধাক্কা লাগে। আঘাতের তীব্রতায় শিশুরা ছিটকে পানিতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর নানা-নানি মিলে শিশুদের পানি থেকে উদ্ধার করলেও তাদের কোনো সাড়াশব্দ ছিল না। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়েও তাদের বাঁচাতে পারেননি এবং মৃত ঘোষণা করেন।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, দুর্ঘটনার সময় সংকেত নির্দেশকের আলো সম্পূর্ণ সচল ছিল। ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত পানিতে নেমে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। উদ্ধার পাওয়া একটি শিশুর কাছেই লাইফ জ্যাকেট রাখা ছিল। মর্মান্তিক এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নিউ জার্সি স্টেট পুলিশ, তবে এখনও কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।   নিজেদের একমাত্র দুই সন্তানকে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। শোকবার্তায় দুই ভাই-বোনের ভালোবাসার স্মৃতি স্মরণ করে স্বজনরা জানান, মায়া ও সিগমন্ড কেবল ভাই-বোনই ছিল না, তারা ছিল একে অপরের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সবসময় হাসি-ঠাট্টা আর অ্যাডভেঞ্চারে মেতে থাকত তারা।   স্বজনদের মতে, ৯ বছরের মায়া ছিল অত্যন্ত মিষ্টি, দয়ালু ও প্রাণবন্ত এক মেয়ে। সাঁতার কাটা, সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানো আর গ্রীষ্মের রাতে কাঁকড়া ধরা পছন্দ করত সে। অন্যদিকে ৭ বছরের ছোট ভাই সিগমন্ড, যাকে সবাই ভালোবেসে 'সিগি' বলে ডাকত, সে একটু লাজুক হলেও ছিল দুঃসাহসিক আর কল্পনাপ্রবণ। বাস্কেটবল ও বেসবল খেলা ছিল তার ভীষণ প্রিয়। অকালে চলে গেলেও তাদের রেখে যাওয়া ভালোবাসার স্মৃতি পরিবারের কাছে চিরদিন অমলিন থাকবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ভোটার নিবন্ধন ত্রুটির ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর মিকি শেরিল। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিক না হয়েও ভোট দিয়েছেন এমন ৭ হাজার ভোটার এর নাম প্রকাশ! নিউ জার্সিতে চাঞ্চল্য

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে মোটর ভেহিকল কমিশনের (এমভিসি) সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন অ-যুক্তরাষ্ট্র নাগরিক ভুলবশত ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৪০০ জনেরও কম ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে অঙ্গরাজ্য সরকার। গভর্নর মিকি শেরিল ঘটনাটিকে ‘গুরুতর সফটওয়্যার ত্রুটি’ হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।    গভর্নরের কার্যালয় জানায়, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অঙ্গরাজ্যের পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়ে যায়। এই ঘটনা বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ঘটেছিল।    বিষয়টি জানার পর গভর্নর শেরিল সংশ্লিষ্ট সব নাম ভোটার তালিকা থেকে অপসারণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কীভাবে এই ত্রুটি ঘটল তা তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সফটওয়্যার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে নতুন সেবাদাতা নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।    প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ভুলবশত নিবন্ধিত হওয়া ৬ হাজার ৬০০ জনের মধ্যে ৪০০ জনেরও কম ব্যক্তি ভোট দিয়েছেন। তবে রাজ্য প্রশাসনের দাবি, এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যাতে মনে হয় এই ভোট কোনো নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছে।    ঘটনার পর নিউ জার্সিতে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে গভর্নর শেরিল বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ত্রুটি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।    নিউ জার্সি প্রশাসন জানিয়েছে, সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে নিবন্ধিত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হচ্ছে না, কারণ তারা আবেদন করার সময় নিজেদের নাগরিক নন বলে সঠিক তথ্যই দিয়েছিলেন। ভুলটি ঘটেছে সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক সফটওয়্যার ব্যবস্থার কারণে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির বেলভিল টাউনশিপের নতুন মেয়র ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজ। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিতে টানা আট বছরের মেয়রকে হারিয়ে ২৪ বছর বয়সী ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজের চমক

মাত্র ২৪ বছর বয়সে নিউ জার্সির বেলভিল টাউনশিপের মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় এসেছেন ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজ তৃতীয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিক এবং টানা আট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা বর্তমান মেয়র মাইকেল মেলহ্যামকে পরাজিত করে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। গত ১ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   চলতি বছরের ১২ মে অনুষ্ঠিত বেলভিলের অদলীয় (নন-পার্টিজান) মেয়র নির্বাচনে ভেলেজ প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। শুধু তাই নয়, টাউনশিপের ২৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতেই তিনি জয় পান, যা স্থানীয় নির্বাচনে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলকে বেলভিলের ভোটারদের পরিবর্তনের পক্ষে স্পষ্ট রায় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজের জনসেবার পথচলা শুরু হয় মাত্র ১৯ বছর বয়সে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তার বোনের অভিজ্ঞতা তাকে সমাজসেবামূলক কাজে অনুপ্রাণিত করে। এরপর তিনি বেলভিল বোর্ড অব এডুকেশনের সদস্য হিসেবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পক্ষে কাজ করেন। পরে দ্বিতীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হয়ে শিশু ও প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ, স্থানীয় ব্যবসার উন্নয়ন এবং কমিউনিটির অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি প্রয়াত মার্কিন কংগ্রেসম্যান বিল পাসক্রেলের ফেডারেল স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।   এবারের নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত ইস্যু ছিল চলতি বছরের শুরুতে বেলভিলে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ ১৪-অ্যালার্ম গুদাম অগ্নিকাণ্ড। ওই ঘটনায় বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয় এবং স্থানীয় স্কুলগুলো এক সপ্তাহেরও বেশি সময় বন্ধ থাকে। সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক বাসিন্দা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই পরিস্থিতি নির্বাচনে পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে।   নির্বাচনী প্রচারণায় ভেলেজ দায়িত্বশীল উন্নয়ন, জননিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার, পার্ক ও জনসেবার উন্নয়ন এবং কর্মজীবী পরিবারের দৈনন্দিন সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার প্রচারণার মূল বার্তা ছিল—স্থানীয় সরকারের সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।   ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর নিজ শহরেই জনসেবায় যুক্ত হন ভেলেজ। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি বলেন, বেলভিলবাসীর এই আস্থা তার জন্য বড় দায়িত্ব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করবেন।   নিউ জার্সির এসেক্স কাউন্টিতে অবস্থিত বেলভিল টাউনশিপের আয়তন প্রায় ৩ বর্গমাইল এবং এটি নিউয়ার্ক শহরের পাশেই অবস্থিত। মাত্র ২৪ বছর বয়সে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, তার এই বিজয় প্রমাণ করে যে বয়স নয়, জনগণের আস্থা, ধারাবাহিক জনসেবা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
এসেক্স কাউন্টিতে আগুনে পুড়ে নানী ও নাতনির মর্মান্তিক মৃত্যু; তদন্তে দমকল বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড,৭০ বছর বয়সী দাদি ও ৮ বছরের নাতনির মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের অরেঞ্জ শহরে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭০ বছর বয়সী এক নারী ও তার ৮ বছর বয়সী নাতনি নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে পার্ক প্লেস এলাকার একটি আবাসিক ভবনে আগুন লাগার এ ঘটনায় পাশের আরও দুটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত পাঁচটি পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।   এসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা হলেন ওমিলিয়া মেরেস্ট (৭০) এবং তার নাতনি বিয়াঙ্কা মেরেস্ট (৮)। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।   স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগুন লাগার পর কয়েকজন প্রতিবেশী জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা ও ঘন ধোঁয়ার কারণে তারা সফল হননি।   আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের একাধিক এলাকার দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের তাপে পাশের দুটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   আমেরিকান রেড ক্রস জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আবাসন, খাবার, পোশাক এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   এসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস ও অরেঞ্জ ফায়ার ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে আগুন লাগার কারণ তদন্ত করছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।   যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, রান্নাঘরের দুর্ঘটনা, গ্যাস বা হিটিং যন্ত্রের সমস্যা এবং অসাবধানতাজনিত ঘটনা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিউ জার্সির এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তাবাস্সুম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
পোকেমন কার্ড। ছবি: সংগৃহীত
ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে ২৪ হাজার ডলারের বিরল পোকেমন কার্ড কিনতে গিয়ে ফিলাডেলফিয়ার যুবক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে ২৪ হাজার ২০০ ডলারের একটি বিরল পোকেমন সংগ্রহযোগ্য কার্ড কেনার সময় ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করার অভিযোগে ফিলাডেলফিয়ার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ২৪ হাজার ২০০ ডলারে একটি বিরল পোকেমন কার্ড বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। পরে ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের পর উভয় পক্ষ নিরাপদ লেনদেনের উদ্দেশ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে দেখা করেন।   লেনদেনের সময় ক্রেতা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। তবে পরে যাচাই করে দেখা যায়, অর্থ পরিশোধে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি ভুয়া ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পুলিশকে অভিযোগ জানান। তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ২৬ বছর বয়সী ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা ক্রিশ্চিয়ান এলামকে শনাক্ত করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরি এবং কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।   ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগ জানায়, তাদের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনটি নিউ জার্সির মার্লটন এলাকার ৯৮৪ টাকারটন রোডে অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তরের লবিতে রয়েছে। এটি দিনে ২৪ ঘণ্টা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক ভিডিও নজরদারির আওতায় রয়েছে।   ঘটনার পর পুলিশ জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, নিরাপদ স্থানে লেনদেন করলেও উচ্চমূল্যের পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত না হয়ে কোনো পণ্য হস্তান্তর করা উচিত নয়। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা একাধিকবার যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।   পুলিশ আরও জানিয়েছে, সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনের উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ পরিবেশে ক্রেতা ও বিক্রেতার সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়া। তবে পুলিশ সদস্যরা কোনো লেনদেনে অংশ নেন না, সাক্ষী হিসেবে থাকেন না কিংবা আইনি পরামর্শও দেন না। এছাড়া অস্ত্র বা মাদক-সংক্রান্ত কোনো লেনদেন সেখানে অনুমোদিত নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
৩৫ মিলিয়ন ডলারের রাজপ্রাসাদ কিনলেন মাত্র ১০ ডলারে I ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
৩৫ মিলিয়ন ডলারের রাজপ্রাসাদ কিনলেন মাত্র ১০ ডলারে, তোলপাড় নিউ জার্সি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইতিহাসে অন্যতম দামি একটি বিলাসবহুল বাড়ি মাত্র ১০ ডলারে কিনে নিয়েছেন কাজাখস্তানের এক 'রাজপুত্র'। ক্রেতা দানিয়ার কেসিকবায়েভ হলেন কাজাখস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক নুরসুলতান নজরবায়েভের প্রাক্তন ভাতিজা এবং মালয়েশিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের মেয়ের জামাই। সম্পত্তি নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নিউ জার্সির আলপাইন এলাকার ২ মার্গো ওয়ের ওই প্রাসাদতুল্য বাড়িটি তিনি মাত্র ১০ ডলারে নিজের নামে করে নেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য আকাশছোঁয়া।   প্রায় ১৭ হাজার ১৫০ বর্গফুটের এই সুবিশাল বাড়িটি ৩.১ একর জমির ওপর অবস্থিত, যেখানে ৯টি বেডরুম ছাড়াও রয়েছে একটি ফুল-লেংথ বাস্কেটবল কোর্ট, বোলিং অ্যালি, হোম থিয়েটার, লাইব্রেরি, ওয়াইন সেলার, ইনডোর এবং আউটডোর সুইমিং পুলসহ বিলাসবহুল জীবনযাপনের সব ধরনের আয়োজন।   ২০১২ সালে বাড়িটি ২০ মিলিয়ন ডলার নগদে কেসিকবায়েভের সঙ্গে যুক্ত একটি বেনামি কোম্পানির কাছে বিক্রি হয়েছিল, যা সে সময় নিউ জার্সির সবচেয়ে দামি বাড়ি বিক্রির রেকর্ড গড়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সম্প্রতি ২০২৬ সালের ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী বর্তমানে এই প্রাসাদের বাজারমূল্য প্রায় ৩৫.৫ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।   সম্প্রতি এই বাড়িটির মালিকানা নিয়ে মালয়েশিয়ায় ব্যাপক গুঞ্জন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গুজবে দাবি করা হয় যে, নাজিব রাজাকের স্ত্রী রোসমাহ মানসুর তার মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে এই কেনাকাটায় জড়িত ছিলেন এবং পরবর্তীতে এটি ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস-ভিত্তিক একটি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।   তবে রোসমাহ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে মানহানিকর আখ্যা দিয়েছেন এবং পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। কেসিকবায়েভের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, বাড়িটির মালিকানা এখনো তারই রয়েছে এবং এটি অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।   নামমাত্র মূল্যে কেসিকবায়েভের এমন বহুমূল্য সম্পত্তি বাগিয়ে নেওয়ার ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০০৮ সালে তার সৎবাবা বোলাট নজরবায়েভের অর্থে কেনা ম্যানহাটনের প্লাজা হোটেলের ২০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল কন্ডো তিনি মাত্র ১ ডলারে নিজের ও মায়ের নামে করে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে বোলাট এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে ১০ কোটি ডলারের মামলা ঠুকে দিলে ২০১৪ সালে আদালতের বাইরে একটি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সেটির সুরাহা হয়, যেখানে বোলাট তার অন্যান্য সম্পত্তির অধিকার পেলেও এই নিউ জার্সির বাড়িটির দাবি ছেড়ে দিয়েছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
প্রবাসে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল, আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলে মেধা তালিকায় ৪ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীরা। চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধা তালিকার সেরা দশে স্থান করে নিয়েছেন চারজন বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থী। তাদের এ কৃতিত্বে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।   ঐতিহাসিক জিম হুইলান বোর্ডওয়াক হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলের গ্র্যাজুয়েশন (সমাবর্তন) অনুষ্ঠান। চার বছরের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের সফল সমাপ্তি উদযাপনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে।   গাউন পরিহিত শিক্ষার্থীরা দুপুর থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। অনুষ্ঠান শুরর পর মেধাবী শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলে করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।   এবারের মেধা তালিকার শীর্ষ দশে স্থান পাওয়া চার বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থী হলেন— আলফি নাশিয়া (দ্বিতীয়), সুমাইয়া তাবাসুম (চতুর্থ), শ্রেয়ন চৌধুরী (সপ্তম) এবং রাহাত রহমান (নবম)।   প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে এই অর্জনকে বিশেষভাবে দেখছেন কমিউনিটির নেতারা। তারা মনে করেন, নতুন প্রজন্মের এ ধরনের কৃতিত্ব বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।   আটলান্টিক সিটি হাইস্কুলের অধ্যক্ষ ড. কনস্ট্যান্স ডেইস চ্যাপম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট ড. লা কোয়েটা স্মল এবং সিটি কাউন্সিলের সদস্যরা। এ ছাড়া বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে স্কুল বোর্ডের সদস্য সুব্রত চৌধুরী ও ফরহাদ সিদ্দিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও উৎসাহ প্রদান করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিজ নিজ আসনে বসেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে তারা মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমার প্রতীকী কপি গ্রহণ করেন এবং জীবনের নতুন অধ্যায়ে পদার্পণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য প্রমাণ করে যে, শিক্ষা ও মেধার প্রতিযোগিতায় তারা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
নিরাপদ সড়কের সুবিধা পাচ্ছেন পথচারী ও গাড়িচালকেরাও। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির সবচেয়ে সাইকেলবান্ধব শহর হবোকেন, নিরাপদ সড়কের সুফল পাচ্ছেন সবাই

যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা পিপল ফর বাইকস প্রকাশিত ২০২৬ সালের নতুন র‍্যাঙ্কিংয়ে নিউ জার্সির সবচেয়ে সাইকেলবান্ধব শহর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে হবোকেন। শুধু অঙ্গরাজ্যেই নয়, মাঝারি আকারের শহরের তালিকায়ও দেশজুড়ে অন্যতম সেরা অবস্থান অর্জন করেছে শহরটি। নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই স্বীকৃতি শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য নয়, পথচারী ও গাড়িচালকদের জন্যও নিরাপদ ও পরিকল্পিত সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল।   প্রতিবছরের মতো এবারও পিপল ফর বাইকস যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ১৯টি শহর ও জনপদের সাইকেল অবকাঠামো মূল্যায়ন করে। ১০০ নম্বরের মধ্যে ৫০ বা তার বেশি স্কোর পাওয়া ৫৫৫টি শহরকে উন্নত সাইকেলবান্ধব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মাঝারি আকারের শহরের বিভাগে হবোকেন পেয়েছে ৮৩ নম্বর। এই স্কোর নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের ৭০ নম্বরকেও ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় পর্যায়ে হবোকেনের অবস্থান ৫৪তম এবং মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে নবম।   নিউ জার্সির তালিকায় হবোকেনের পর রয়েছে রোজেল ও রোজেল পার্ক, যারা পেয়েছে ৮২ নম্বর। এরপর রয়েছে লরেন্সভিল (৭৬), হাইল্যান্ড পার্ক (৭৩), হাই ব্রিজ (৭২), মার্গেট (৭০) এবং অ্যাজবুরি পার্ক (৬৫)। অন্যদিকে নিউ ব্রান্সউইক, এলিজাবেথ, ট্রেন্টন ও জার্সি সিটিও সাইকেল অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পিপল ফর বাইকসের অবকাঠামোবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিনা হ্যাগার্টি বলেন, যে শহরগুলোতে উন্নত সাইকেল নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেগুলো সাধারণত সব ধরনের সড়ক ব্যবহারকারীর জন্যই বেশি নিরাপদ। তার মতে, নিরাপদ সাইকেল লেন শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য নয়, পথচারী, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী এবং মোটরযান চালকদের জন্যও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়।   হবোকেন ছয়টি মূল্যায়ন সূচকেই ৭৫ বা তার বেশি নম্বর পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসিক এলাকা, সরকারি সেবা, ব্যবসাকেন্দ্র, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণপরিবহনে সাইকেলে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ। প্রতিবেদনে হবোকেনের ২০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিসীমা এবং ভিশন জিরো কর্মসূচির বিশেষ প্রশংসা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনা। নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে হবোকেনের সড়কে কোনো প্রাণঘাতী ট্রাফিক দুর্ঘটনা ঘটেনি।   হবোকেনের মেয়র এমিলি বি. জ্যাবুর বলেন, এই স্বীকৃতি শহরের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ফল। তার ভাষায়, শহরের পরিবহনব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে মানুষ হাঁটতে, সাইকেল চালাতে, গণপরিবহন ব্যবহার করতে কিংবা গাড়ি চালাতে সমানভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি শহর কর্তৃপক্ষ ভিশন জিরো কর্মসূচির হালনাগাদ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি রাস্তা পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের সময় কমপ্লিট স্ট্রিটস নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এই নীতির আওতায় রাস্তা এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে সব ধরনের সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।   হবোকেনে গত কয়েক বছরে সাইকেল লেনের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, গতিসীমা কমানো এবং জার্সি সিটির সঙ্গে যৌথভাবে আঞ্চলিক বাইক-শেয়ার ব্যবস্থা চালু করার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ শহরটিকে আরও সাইকেলবান্ধব করে তুলেছে। মার্টিনা হ্যাগার্টি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ এমন শহরে বসবাস করতে চান, যেখানে চলাচলের জন্য একাধিক নিরাপদ বিকল্প রয়েছে। কিন্তু নিরাপদ অবকাঠামোর অভাবে অনেকেই নিয়মিত সাইকেল চালাতে আগ্রহী হলেও তা করতে পারেন না।   মেয়র জ্যাবুরের মতে, অনেকেই মনে করেন সাইকেল লেন শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য। বাস্তবে এটি সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ কমায়, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং পুরো সড়কব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কার্যকর সাইকেল নেটওয়ার্ক তখনই সফল হয়, যখন তা আবাসিক এলাকা, স্কুল, কর্মস্থল, গণপরিবহন কেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। তাই পৃথক সাইকেল লেন নির্মাণের পাশাপাশি শহরগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির নেওয়ার্ক শহর। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ খেলা দেখে বাড়ি ফেরা হলো না, নিউ জার্সিতে প্রাণ গেল দুই নারীর

নিউ জার্সির নেওয়ার্ক শহরে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখা শেষে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও কয়েক দিনের মধ্যে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   এসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস জানিয়েছে, নিহত দুই নারী হলেন ৫৮ বছর বয়সী মারিয়ানা এলিজাবেথ ভালভার্দে বেলত্রান এবং ৬১ বছর বয়সী মারিয়া ইসাবেল দেলোসআনহেলেস সালগাদো আয়ালা। বেলত্রানের বাড়ি এলিজাবেথ শহরে এবং সালগাদো আয়ালার বাড়ি নেওয়ার্কে। দুর্ঘটনার পর দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।   ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে নেওয়ার্কের নর্থ সেভেন্থ স্ট্রিট ও পার্ক অ্যাভিনিউর মোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি লাল রঙের সেডান গাড়ি পথচারী পারাপারের অংশ দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুই নারীকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এরপর গাড়িটি না থেমেই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। উপস্থিত লোকজন সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ৭ জানিয়েছে, নিহত দুই নারী বন্ধু ছিলেন। সেদিন তারা নেওয়ার্কে আয়োজিত একটি বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখার অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। ওই রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের মধ্যকার ম্যাচটি ড্র হয়। ইকুয়েডর দলের জার্সির রং হলুদ হওয়ায় নিহত দুই নারীও হলুদ পোশাক পরেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।   নিহত মারিয়ানা বেলত্রানের এক স্বজন এবিসি ৭-কে জানান, পরিবারের সদস্যরা ইকুয়েডরে থাকা তার ছেলে ও বোনদের কাছে এই দুঃসংবাদ পৌঁছে দিচ্ছেন। আকস্মিক এ মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।   বুধবার এসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস জানায়, ২৬ বছর বয়সী নেওয়ার্কের বাসিন্দা ডেভিড জাপাতা ভেরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুটি করে দ্বিতীয় ডিগ্রির যানবাহনজনিত হত্যার অভিযোগ, প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার স্থান ত্যাগের অভিযোগ এবং আহত ব্যক্তিকে বিপদের মধ্যে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পথচারী পারাপারের অংশে থাকা দুই নারীকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান।   তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার কারণ এবং ঘটনার সময় চালকের আচরণ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছিল। তবে দুর্ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   যুক্তরাষ্ট্রে পথচারীদের জড়িত হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া শুধু আইনগতভাবে গুরুতর অপরাধই নয়, দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ নষ্ট হওয়ায় এতে প্রাণহানির ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যায়। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিতে পুলিশের ওপর হামলা, দোষ স্বীকারের পর ১৮ বছরের সাজা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর ছুরি হামলার ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক কিশোরকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত কিশোর অনলাইনে উগ্রপন্থী মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল এবং হামলার সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল তার।   বার্লিংটন কাউন্টি প্রসিকিউটর লাশিয়া এল. ব্র্যাডশ এক বিবৃতিতে জানান, ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী ফাসিহুল্লাহ সাফার গত জানুয়ারিতে একাধিক অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর মধ্যে ছিল হত্যাচেষ্টা, গুরুতর হামলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের ওপর হামলা এবং মোটরযান চুরির অভিযোগ।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২১ মার্চ নিউ জার্সির ফ্লোরেন্স টাউনশিপ এলাকায়। সেদিন বিকেলে একটি উল্টে যাওয়া গাড়ির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। পথে অভিযুক্ত সাফার ইচ্ছাকৃতভাবে তার টহল গাড়িতে একাধিকবার ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ। এরপর ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা পৌঁছালে সাফার হাতে থাকা ছুরি নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে যান। প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি একজন কর্মকর্তার বুকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন।   তবে ওই কর্মকর্তা বুলেটপ্রুফ ও সুরক্ষামূলক জ্যাকেট পরা থাকায় প্রাণঘাতী আঘাত থেকে রক্ষা পান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্যাকেটটি না থাকলে আহতের অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারত। হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। একজন কর্মকর্তার মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। আরও দুই কর্মকর্তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। অন্যদিকে অভিযুক্তের নিজের হাতের আঙুলে সামান্য কাটা ছাড়া বড় কোনো আঘাত ছিল না।   তদন্তে পরে জানা যায়, পুলিশ যে উল্টে যাওয়া গাড়ির ঘটনার তদন্তে যাচ্ছিল, সেই দুর্ঘটনার সঙ্গেও সাফার জড়িত ছিল। অর্থাৎ একই দিন একাধিক ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছিল সে। মামলার তদন্তে আরও উঠে আসে, ঘটনার কয়েক মাস আগে থেকে সাফার উগ্রপন্থী সংগঠনের মতাদর্শ অনুসরণ করতে শুরু করেছিলেন বলে আদালতে স্বীকার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ওই সংগঠনে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়।   আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সাফার জানান, তিনি হামলার সময় ধর্মীয় স্লোগান উচ্চারণ করেছিলেন এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্য ছিল তার। এই বক্তব্য তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বার্লিংটন কাউন্টি প্রসিকিউটর লাশিয়া ব্র্যাডশ বলেন, “একজন বিপজ্জনক ও উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত ব্যক্তি ফ্লোরেন্স টাউনশিপে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা চালিয়েছিল। যৌথ তদন্তের মাধ্যমে এই হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে এবং বিচার নিশ্চিত হয়েছে।”   মামলাটি শুরুতে কিশোর আদালতে বিচারাধীন ছিল। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এটি প্রাপ্তবয়স্কদের আদালতে স্থানান্তর করা হয়। পরে মাউন্ট হলির সুপিরিয়র কোর্টে তার সাজা ঘোষণা করা হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইনে উগ্রপন্থী প্রচারণা ও মতাদর্শের প্রভাব তরুণদের মধ্যে কীভাবে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এই ঘটনাটি তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় কঠোর বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে।   সূত্র: বার্লিংটন কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস, যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে কাউন্সিলম্যান গ্রেপ্তার, একসময় ছিলেন কুখ্যাত মাফিয়া সদস্য

একসময় নিউইয়র্কের কুখ্যাত অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরে কারাভোগ শেষে নিজেকে বদলে ফেলার দাবি করে জনসেবায় যুক্ত হন এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্বও পান। তবে সেই অতীত আবারও যেন ফিরে এসেছে জন অ্যালাইটের জীবনে। চাঁদাবাজি, অবৈধ ঋণ ব্যবসা এবং সহিংসতার হুমকির অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইংলিশটাউন বরোর কাউন্সিলম্যান জন অ্যালাইট।   শুক্রবার নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ৬৩ বছর বয়সী অ্যালাইটের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সুদে ঋণ দেওয়া, অর্থ ও সম্পত্তি আদায়ের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্রেইটেনড-আউট এন্টারটেইনমেন্ট ইনকরপোরেটেড’-এর মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।   একই মামলায় ব্রিজওয়াটারের বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সী স্টিফেন লোক্রোটন্ডোকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি অ্যালাইটের সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং আইনসিদ্ধ সীমার চেয়ে বেশি সুদ আদায়ে অংশ নিতেন।   নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট বলেন, দীর্ঘ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “সব ব্যবসা যেন আইন মেনে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মামলায় যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”   তবে অভিযোগের বিষয়ে অ্যালাইটের আইনজীবীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জন অ্যালাইট নামটি যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ জগতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। তিনি একসময় নিউইয়র্কের গ্যাম্বিনো অপরাধচক্রের সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা জন গট্টি জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান।   ২০২৫ সালে এনজে ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যালাইট নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে অপরাধ জগতে সক্রিয় থাকার সময় তিনি ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০টি গুলিবর্ষণের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে তিনি জানান। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে তিনি মাদক পাচারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার আয় করতেন। সেই সময় তার মালিকানায় নাইটক্লাব, কাচের ব্যবসা, সুপারমার্কেট, ভ্যালেট পার্কিং প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যবসাও ছিল।   ২০০৮ সালে তিনি ফেডারেল র্যাকেটিয়ারিং বা সংঘবদ্ধ অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। পরে গ্যাম্বিনো অপরাধচক্রের বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার বিনিময়ে তুলনামূলক কম সাজা পান। ২০১১ সালে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও ২০১২ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন। কারামুক্তির পর নিজের জীবন পরিবর্তনের দাবি করেন অ্যালাইট। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতেন, পডকাস্ট পরিচালনা করতেন এবং তরুণদের মাদক ও অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার কাজ করতেন। তিনি নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক হিসেবেও পরিচয় দিতেন।   ২০২৫ সালের মার্চে ইংলিশটাউন বরো কাউন্সিলের একটি শূন্য পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি জনসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন একই কাউন্সিলের সদস্য জ্যানেট লিওনার্ডিস। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই হতবাক। তিনি একজন ভালো নাগরিক এবং দায়িত্বশীল কাউন্সিলম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন।”   তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যালাইটের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি, করপোরেট অসদাচরণ, সহিংসতার হুমকি এবং অবৈধ সুদে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে লোক্রোটন্ডোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং অবৈধ সুদ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্টিফেন লোক্রোটন্ডোর অতীতও বিতর্কমুক্ত নয়। ২০১৩ সালে একটি ভুয়া চেকের মাধ্যমে এক বন্ধুর ১ লাখ ডলারের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করার ঘটনায় তাকে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।   অপরাধ জগত থেকে জনসেবার মঞ্চে আসা জন অ্যালাইট নিজেকে একসময় ‘নতুন মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি লজ্জিত এবং সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে চান। তবে সর্বশেষ অভিযোগের পর তার সেই পরিবর্তনের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে স্কুলপড়ুয়া চার শিশুকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নর্থ ব্রান্সউইকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে চার শিশুকে অপহরণের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শিশুদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন মিথ্যা গল্প সাজিয়ে তাদের নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে শিশুদের উপস্থিত বুদ্ধি, পরিবারের দ্রুত পদক্ষেপ এবং এক প্রত্যক্ষদর্শীর সহায়তায় শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা সফল হয়নি।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু লুনার বিরুদ্ধে চারটি অপহরণচেষ্টা এবং শিশুদের নিরাপত্তা বিপন্ন করার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ২০ মে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, ওই দিন প্রথমে নর্থ ব্রান্সউইক লাইব্রেরির কাছে দুই স্কুলপড়ুয়া ছেলের কাছে যান লুনা। তিনি তাদের জানান যে তিনি তাদের বাড়ি পৌঁছে দিতে চান। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের বাড়ির ঠিকানা ও ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চান।   অভিযোগে বলা হয়, শিশুদের আস্থা অর্জনের জন্য লুনা দাবি করেন যে তিনি তাদের স্কুলে কাজ করেন। তবে তিনি যে দিকে স্কুলের অবস্থান দেখিয়েছিলেন, সেটি প্রকৃত স্কুলের অবস্থানের সঙ্গে মিলছিল না। তিনি আরও বলেন, ছেলেরা সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে এবং তাদের একজনের মাকে তিনি চেনেন।   পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় দুই শিশুই সেখান থেকে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তদন্তকারীদের একজন শিশু জানায়, সে জরুরি সেবার নম্বর ৯১১-এ ফোন করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল যে হাত কাঁপতে থাকায় সে কল সম্পন্ন করতে পারেনি।   একই দিনে পরে আরও দুই শিশুর কাছে যান লুনা। এবার তিনি দাবি করেন, পুলিশ তাদের খুঁজছে এবং তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে। এতে শিশুরা ভয় পেয়ে যায়। তাদের একজন সঙ্গে সঙ্গে ৯১১-এ ফোন করে, আরেকজন তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ফোনের ওপাশে থাকা মা একজন পুরুষের কণ্ঠ শুনতে পান, যিনি বারবার বলছিলেন, “আমার সঙ্গে চলো।” পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই ঘটনাস্থলে একটি গাড়ি নিয়ে উপস্থিত হন এক প্রত্যক্ষদর্শী। তাকে দেখে লুনা হাত উঁচু করে পিছিয়ে যেতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাকে আটক করে।   পরে আদালতে অনুষ্ঠিত আটক-সংক্রান্ত শুনানির পর লুনাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ডেভিড এ. ল্যাম্পারেলো। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমার মক্কেল সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। আমরা বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখি এবং আদালতে আমাদের অবস্থান তুলে ধরার অপেক্ষায় আছি।”   আদালতের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ আগস্ট মামলার প্রাথমিক অভিযোগপত্র দাখিল-পূর্ব শুনানিতে আবারও হাজির হওয়ার কথা রয়েছে লুনার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুদের লক্ষ্য করে অপরিচিত ব্যক্তিদের এ ধরনের প্রতারণামূলক আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় অভিভাবকদের শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তিরা যদি নিজেদের শিক্ষক, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা বা পরিবারের পরিচিত বলে দাবি করে, তাহলে শিশুদের সতর্ক থাকা এবং দ্রুত বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্ককে জানানো উচিত। নর্থ ব্রান্সউইকের ঘটনাটিও সেই সচেতনতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির অভিজাত এলাকায় দিনের আলোয় ছিনতাই, ফোন ও সানগ্লাস নিয়ে পালিয়েছিল সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত সামিট শহরে দিনের আলোয় এক মায়ের ওপর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শিশুকে স্ট্রলারে নিয়ে হাঁটতে বের হওয়া ওই নারীকে লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি তার মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, স্ট্রলারের ভেতর থেকে একটি সানগ্লাসও নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   সামিট পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে পার্ক অ্যাভিনিউ ও জন স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে ঘটনাটি ঘটে। ওই নারী তার শিশু সন্তানকে স্ট্রলারে নিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে স্ট্রলারের পাশ ঘুরে তার মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নারীটি তার ফোন রক্ষা করার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ফোনটি ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়। এরপর সে স্ট্রলারের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে একটি সানগ্লাস নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।   প্রত্যক্ষদর্শীর জরুরি ফোনকলের পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। আশপাশের নজরদারি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং তদন্তের মাধ্যমে গোয়েন্দারা সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হন।   পরে অভিযুক্ত হিসেবে ৫৫ বছর বয়সী ড্যারেল এল. মিচেলের নাম শনাক্ত করা হয়। তিনি নিউ জার্সির নিউয়ার্ক শহরের বাসিন্দা।   ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টা পর নিউয়ার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মুঠোফোন এবং সানগ্লাস উদ্ধার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, মিচেলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির ডাকাতি, শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ এবং চুরি হওয়া সম্পদ নিজের কাছে রাখার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।   সামিট পুলিশ প্রধান Ryan Peters এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। একজন মা যখন তার শিশু সন্তানের দেখাশোনা করছিলেন, তখন তাকে লক্ষ্য করে এ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পারায় আমাদের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রশংসার দাবিদার।”   পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুটি শারীরিকভাবে আহত হয়নি। তবে ঘটনার সময় শিশুর নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল বলে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   বর্তমানে ড্যারেল এল. মিচেলকে এসেক্স কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে তার প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কারণ সামিট শহর সাধারণত নিউ জার্সির নিরাপদ ও উচ্চ আয়ের আবাসিক এলাকাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। দিনের আলোয় জনসমক্ষে এমন ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী বা অতিরিক্ত তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টিক সিটিতে বেংগল ক্লাবের ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনা’

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে অনেকেই বাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গাড়িতে বিভিন্ন দেশের পতাকা টাঙিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। এই উন্মাদনার অংশ হিসেবে গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার রাতে আটলান্টিক সিটির বেংগল ক্লাব তাদের নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজন করে ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনা’ অনুষ্ঠান। প্রিয় দলের জার্সি পরে এবং হাতে পতাকা নিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি এতে অংশ নেন। পুরো মিলনায়তন সাজানো হয় বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকায়।   অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস ছিল সবচেয়ে বেশি। প্রিয় দলের পক্ষে স্লোগানে মুখর ছিল পুরো আয়োজন। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সমর্থিত দলের সাফল্য কামনা করেন এবং বিশ্বকাপের থিম সংয়ের সঙ্গে নাচ-গান ও আনন্দ-উৎসবে অংশ নেন।   এ সময় প্রবাসী ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ তর্ক-বিতর্ক, খুনসুটি ও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, বিশ্বকাপ এলেই প্রবাসে বাংলাদেশের মতোই উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়। সবাই নিজ নিজ দলের সমর্থনে একত্রিত হন, তবে সবকিছুর মধ্যেই সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্ব বজায় থাকে।   বেংগল ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী চৌধুরী তাননু এবং সাধারণ সম্পাদক কাজল বাড়ৈ অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজন ও অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।   নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

তাবাস্সুম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
আটলান্টিক সিটিতে জমজমাট বৈশাখী মেলার প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণের উৎসব 'বৈশাখী মেলা' ঘিরে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সি (বিএএসজে)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা উপলক্ষে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টারে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি আব্দুর রফিকের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম খোকা, মেলার আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান, সদস্য সচিব বেলাল হোসেন ভূঁইয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক আবদুর রহিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভায় মেলার সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং এখন পর্যন্ত নেওয়া প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন আয়োজকরা। মেলার বিস্তারিত তথ্য: তারিখ: আগামী ২১ এপ্রিল। সময়: বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। স্থান: বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার, আটলান্টিক সিটি। মেলায় প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শাহ মাহবুব ও স্থানীয় শিল্পীদের মন মাতানো পরিবেশনা। গান ছাড়াও আয়োজনে থাকছে কবিতা আবৃত্তি, স্মৃতিচারণমূলক কথামালা এবং প্রাণবন্ত বৈশাখী আড্ডা। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে শোভা পাবে দেশি পণ্যের বিশাল সমাহার। হস্তশিল্প, মুখরোচক বাঙালি খাবার, বুটিক হাউসের পোশাক ও নান্দনিক গহনার স্টলগুলো প্রবাসীদের মনে দেশের আমেজ ফিরিয়ে আনবে। আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আটলান্টিক সিটি ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে সপরিবারে এই উৎসবে যোগ দিয়ে প্রবাসের মাটিতে এক টুকরো বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউজার্সিতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীকে সম্মাননা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের ফ্রাঙ্কলিন টাউনশিপ কাউন্সিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীকে সম্মাননা প্রদান করেছে।   বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নিউজার্সির একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর সম্মানে আয়োজিত এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।   অনুষ্ঠানে ফ্রাঙ্কলিন টাউনশিপের সাবেক ডেপুটি মেয়র ও কাউন্সিল উওম্যান শিফা উদ্দিন বিচারপতির হাতে সম্মাননা তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন বিচারক হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।   সম্মাননা গ্রহণ করে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী আয়োজকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি ও বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব গোলাম ফারুক ভুঁইয়া, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, রকিন রেজওয়ান হক, আব্দুল হাইসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

Unknown এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০