জনপ্রিয় বিশ্বখ্যাত টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ‘গাস ফ্রিং’ চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সৌদি আরবে একটি নতুন চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অবস্থানকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম হওয়ার এই বড় সিদ্ধান্তটি নেন। রোববার (২১ জুন) মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অফিশিয়াল প্রতিবেদনে হলিউডের এই বর্ষীয়ান ও প্রখ্যাত অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটের প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশটির জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির (জিইএ) চেয়ারম্যান তুর্কি আল-শেখ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য প্রথম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় সাক্ষ্য বা কালেমা শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পরপরই তিনি সৌদি আরবের একটি স্থানীয় মসজিদে গিয়ে তার নতুন ছবির প্রোডাকশন টিমের অন্যান্য মুসলিম কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে নামাজ আদায় করেন।
জিইএ চেয়ারম্যান তুর্কি আল-শেখের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন এই বিখ্যাত অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তটি মূলত সৌদি আরবে কাটানো তার চমৎকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মুসলিমদের সাথে কাজের সুবাদে ঘনিষ্ট মেলামেশার ফসল। আরবে অবস্থানকালে তিনি সেখানকার ইসলামি সংস্কৃতি, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় জীবনযাপন এবং প্রোডাকশন টিমের মুসলিম সহকর্মীদের আন্তরিক আচরণ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। অভিনেতা এস্পোসিটো শুটিং চলাকালীন আরবের স্থানীয় সমাজব্যবস্থা, তাদের ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি নিজের গভীর মুগ্ধতা ও প্রশংসা ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে হলিউডের এই প্রভাবশালী অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মসজিদে নামাজ আদায়ের একটি বিশেষ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রখ্যাত এই অভিনেতা তার ছবির প্রোডাকশন টিমের অন্য সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত নম্র ও সারিবদ্ধভাবে নামাজ আদায় করছেন, যা বিশ্বজুড়ে তার কোটি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হলিউডের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করছেন এবং বিশ্বজুড়ে তার এক বিশাল অনুসারী রয়েছে।
ব্রেকিং ব্যাড ছাড়াও তিনি ‘বেটার কল সল’ এবং ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’-এর মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সাড়াজাগানো আন্তর্জাতিক সিরিজে দুর্দান্ত অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। গাস ফ্রিং চরিত্রের জন্য তিনি একাধিকবার মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। সৌদি গেজেটের তথ্যমতে, তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে ‘সেভেন ডগস’ নামের একটি বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মূলত সৌদি আরব তাদের বিনোদন ও চলচ্চিত্র খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিভা আকর্ষণের যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এই চলচ্চিত্রটি তারই একটি অন্যতম অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইরউইন্ডেল এলাকায় ২১০ ফ্রিওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সেমি ট্রাক একাধিক গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ ও যানজট তৈরি হয় এবং কয়েক ঘণ্টা ফ্রিওয়ের উভয় দিকের লেন বন্ধ থাকে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল (CHP) জানায়, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। প্রাথমিকভাবে এটি ডান পাশের কাঁধের দিকে সরে যায়, এরপর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় বিভাজক অতিক্রম করে বিপরীত দিকের লেনে ঢুকে পড়ে এবং একের পর এক একাধিক গাড়িকে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ABC-র হাতে আসা ড্যাশক্যাম ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার কিছু মুহূর্ত আগে ট্রাকটি প্রথমে রাস্তার ডান পাশে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছিল। এরপর হঠাৎ করেই এটি পুরো ফ্রিওয়ে পার হয়ে বিপরীত দিকের যানবাহনের ওপর গিয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জ্যাকনাইফ অবস্থায় চলে যায়। এতে ফ্রিওয়ের দুই দিকেই যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ, ভাঙা অংশ এবং বিভিন্ন যানবাহনের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অংশ, যা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তোলে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, দুর্ঘটনায় ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মোট ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএইচপি। সিএইচপি আরও জানায়, অন্তত তিনটি যানবাহন সরাসরি এই দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। তবে কতগুলো গাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সংঘর্ষের সম্পূর্ণ পরিধি কী ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ২১০ ফ্রিওয়ের উভয় দিকেই দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকে। উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শেষে বিকেল ৩টার কিছু পর ধীরে ধীরে সব লেন খুলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি ট্রাকটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারায়। বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় বা ‘সেলফ-ড্রাইভিং’ মোডে থাকা একটি আধুনিক টেসলা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আচমকা একটি আবাসিক ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। এই ভয়াবহ ও নজিরবিহীন সড়ক দুর্ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে থাকা এক নারী গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে টেক্সাসের কেটি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসের কেটি এলাকায় মাইকেল বাটলার নামের এক ব্যক্তি নিজের টেসলা মডেল-৩ গাড়িটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি চালানোর সময় চালক সেটিকে স্বয়ংক্রিয় অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেমে দিয়ে রেখেছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি হঠাৎ করেই নিজের সুনির্দিষ্ট লেন ছেড়ে সম্পূর্ণ বাইরে চলে যায় এবং তীব্র গতিতে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে সোজা রাস্তার পাশে থাকা একটি আবাসিক ভবনে সজোরে আঘাত করে। টেসলা গাড়িটির গতি এত বেশি ছিল যে, সেটি মুহূর্তের মধ্যে ওই বাড়ির শক্ত ইটের দেয়াল ভেঙে সরাসরি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। হ্যারিস কাউন্টির শেরিফ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি অফিশিয়াল বিবৃতিতে এই দুর্ঘটনার রোমাঞ্চকর ও ভয়াবহ বিবরণ দিয়ে জানানো হয়েছে, চালক মাইকেল বাটলার যখন গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, তখন টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেমটি সচল বা অপারেটিং মোডে ছিল। গাড়িটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে একটি ইটের তৈরি আবাসিক বাড়ির দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সে সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান করা এম. আভিলা নামের এক সাধারণ নারীকে সরাসরি প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করে। গাড়িটির সরাসরি ধাক্কায় ওই নারী ঘরের ভেতরেই মারাত্মকভাবে পিষ্ট হয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরক এই দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় এম. আভিলাকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পরেই কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘরের ভেতরে থাকা একজন নিরীহ মানুষের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো টেক্সাস অঙ্গরাজ্য জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ এবং গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টেক্সাসের স্থানীয় তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার সময় টেসলা গাড়ির চালক মাইকেল বাটলার নিজেও বেশ কিছুটা শারীরিক জখম ও আঘাত পেয়েছেন। তবে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরের ভেতর কোনো ধরণের মাদক বা অ্যালকোহলের উপস্থিতি অর্থাৎ মাতাল হওয়ার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর থেকেই চালক বাটলার স্থানীয় পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সব ধরণের তদন্ত কাজে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। টেসলার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শেরিফ কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়ি নিয়ে ঘটা এই মারাত্মক দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে তাদের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি চলমান রয়েছে। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চালক মাইকেল বাটলার বা টেসলা কোম্পানির বিরুদ্ধে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টেসলা গাড়ির স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং মোডের নিরাপত্তা এবং এর প্রযুক্তিগত নিখুঁত কার্যকারিতা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে বিভিন্ন ধরণের বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার এক পলাতক আসামিকে ফিলিপাইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, ৬০ বছর বয়সী হারবার্ট লিওন কিম্বলকে ফিলিপাইনে আটক করা হয়েছে। তিনি গত বছর নির্ধারিত সাজা ঘোষণার শুনানিতে হাজির না হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কিম্বল একটি জটিল মেডিকেয়ার জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যার মাধ্যমে ১.২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা বিল সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, এই প্রতারণামূলক কার্যক্রমে মূলত বয়স্ক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পরিচালিত এই চক্র বিভিন্ন কল সেন্টার, টেলিমেডিসিন সেবা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রোগীদের কাছে অর্থোপেডিক ব্রেস ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য বিপুল পরিমাণ দাবি জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরঞ্জামের বড় একটি অংশ ছিল চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় বা যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই বিল করা। কিম্বল ২০১৯ সালে জালিয়াতি-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তার সাজা ঘোষণার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাকে পলাতক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। সম্প্রতি এফবিআই “মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স” নামে একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক ও স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার পলাতক আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিম্বল ওই তালিকার অন্যতম সদস্য ছিলেন। তার গ্রেপ্তার এ তালিকা প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কিম্বলকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে আদালতের মুখোমুখি হয়ে তাকে সাজা শুনতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসে। এসব অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, কিম্বলের গ্রেপ্তার শুধু একটি বড় মামলার অগ্রগতি নয়, বরং সীমান্ত পেরিয়ে আত্মগোপনে গেলেও আর্থিক অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।