মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে রাশিয়া, চীন ও তুরস্ক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে তার ব্যক্তিগত কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণেই এই তিন দেশ সংঘাত থেকে দূরে থেকেছে।
ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন নেতার সঙ্গে তিনি সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। তার মতে, রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের নিরপেক্ষ অবস্থান সম্ভাব্য বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রতি এরদোয়ানের অবস্থানের কারণে তিনি চাইলে ইরানের পক্ষে সরাসরি ভূমিকা নিতে পারতেন। তবে ট্রাম্পের অনুরোধে তিনি সংঘাত থেকে দূরে থাকেন। ট্রাম্প এরদোয়ানকে একজন শক্তিশালী ও দূরদর্শী নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূমিকাও প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের বিপুল জ্বালানি আমদানি হওয়ায় বেইজিংয়ের এই সংঘাতে জড়ানোর অর্থনৈতিক কারণ ছিল। কিন্তু তার অনুরোধে শি জিনপিংও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্পর্কেও ট্রাম্প বলেন, পুতিন এই সংঘাত থেকে দূরে ছিলেন। যদিও বর্তমানে রাশিয়ার নিজস্ব বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে, তারপরও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়াননি।
ট্রাম্পের ভাষায়, বিশ্বের তিনটি শক্তিধর দেশের এই নিরপেক্ষ অবস্থান ছিল “অবিশ্বাস্য” এবং “চমকপ্রদ” একটি কূটনৈতিক সাফল্য। তিনি মনে করেন, তাদের এই সিদ্ধান্ত বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়েছে।
সূত্র: তাস
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করেছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্র (আইভ্যাক) থেকে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ভিসাকেন্দ্রেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি জানান, প্রথম ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর আইভ্যাক থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ ও ভিসা প্রদান করা হবে। পরিস্থিতি এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কেন্দ্রেও এই সেবা চালু করা হবে। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও ভ্রমণ সহজ করতে ভারত সরকার ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য জরুরি ভিসার পাশাপাশি সাধারণ ভ্রমণকারীরাও আবার ভারতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। একই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারও হামলার মুখে পড়ে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং হাইকমিশন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন ভিসা কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে ভ্রমণ করে থাকেন। তাদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর ভিসা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম চালু রাখা হয়। ভারতীয় হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ট্যুরিস্ট ভিসা ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের ভিসা প্রতিদিন ইস্যু করা হচ্ছে। প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি ভিসা প্রদান করা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পের পর দেশের মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল বন্দিশালায় আটক থাকা এই নেতা কারাগার থেকেই বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে দুর্যোগকবলিত জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তার দাপ্তরিক টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া ডট কম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূর প্রবাসের কারাগার থেকে পাঠানো ওই যৌথ বার্তায় মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো দেশের এই কঠিন সময়ে নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন। বার্তায় তারা বলেন, “আজকের বার্তা একটাই—সর্বোচ্চ ঐক্য, সর্বোচ্চ সংহতি এবং সর্বোচ্চ পদক্ষেপ।” বার্তায় মাদুরো দেশের বর্তমান মানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জনগণকে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেউ যেন একা না থাকে এবং প্রতিটি পরিবার যেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের যত্ন নেয়। পাশাপাশি স্থানীয় উদ্ধারকারী দল, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগকে একটি বড় জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, “ভেনিজুয়েলা আজ বড় এক পরীক্ষার মুখোমুখি। তবে আমরা বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সংহতির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারব।” অতীতের মতো এবারও জনগণ ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র আইনে একাধিক অভিযোগে মামলা চলছে। এদিকে, দেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানিয়েছেন, শক্তিশালী এই জোড়া ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। রাজধানীসহ একাধিক শহরে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপ অঞ্চলের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণ পরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারে এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। সংস্থাটির প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতা ও গভীরতার কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাদের গাণিতিক মডেল অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি ভেনিজুয়েলার প্রশাসন। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকা। রাজধানী কারাকাসে বহু ভবন তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে, কোথাও বড় বড় সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর কাছের লা গুয়াইরা অঞ্চলের বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর কারাকাসের পশ্চিমে ইউমার এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। এত অল্প ব্যবধানে দুটি বড় ভূমিকম্প হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের সময়কার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বিবিসির স্প্যানিশ ভাষার বিভাগ ‘মুন্দো’-র সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার বলেন, ‘আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। মনে হচ্ছিল, পুরো ভবনটাই ভেঙে পড়বে।’ তিনি জানান, ওই সময় তিনি কারাকাসের পালোস গ্রান্দেস এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সপ্তম তলায় ছিলেন। কম্পন শুরু হলে তিনি দ্রুত একটি পাথরের দেয়ালের পাশে আশ্রয় নেন। নিকোল বলেন, ‘আমি দেখলাম জানালাগুলো কাঁপছে। তখন সামনের দরজা আর একটি পাথরের দেয়ালের মাঝখানে দাঁড়ানো ছাড়া আর কিছু মাথায় আসেনি। দেয়ালটি মজবুত মনে হয়েছিল।’ পরে আশপাশের মানুষ চিৎকার করতে করতে রাস্তায় বেরিয়ে এলে তিনিও বাইরে চলে আসেন। কারাকাসের পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা কোরো মার্তিনেজ জানান, ভূমিকম্পের সময় একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘ঘরের জিনিসপত্র একের পর এক পড়ে যাচ্ছিল, এমনকি ফ্রিজের ভেতরের জগও। জীবনে এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি।’ এদিকে ১৯৬৭ সালের ভূমিকম্পের স্মৃতি টেনে অবসরপ্রাপ্ত মারিয়া রোমেরো বলেন, এবারের কম্পন তার দেখা আগের ঘটনাগুলোর চেয়েও ভয়াবহ ছিল। জোড়া ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, এ ঘটনায় ১০ হাজার থেকে এক লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কারাকাসজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আহতদের নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভিড় বাড়ছে। পরিস্থিতির কারণে কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল, মেট্রো ও রেল চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কারাকাসের পূর্বাঞ্চলের চাকাও এলাকার মেয়র গুস্তাভো দুকে জানান, তার এলাকায় অন্তত দুটি স্থাপনা ধসে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘যত বেশি সম্ভব মানুষকে উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।’ ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেল্লো বলেন, অনেক ভবন ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘আমাদের হাতে যা আছে, সবকিছু দিয়েই আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। দমকল ও পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে,’—রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এমনটাই জানান তিনি। ইতিহাস বলছে, ভূমিকম্পের জন্য ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ১৮১২ সালের শক্তিশালী ভূমিকম্পে শহরটিতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে দেশজুড়ে।