আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সামরিক মহড়ায় ট্যাংকের নিচে চাপা পড়ে মার্কিন সেনার মৃত্যু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ১৯:২৯
সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়ে আদ্রিয়ান বনসে নামের এক মার্কিন সেনার মৃত্যু l ছবি: সংগৃহীত
সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়ে আদ্রিয়ান বনসে নামের এক মার্কিন সেনার মৃত্যু l ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি প্রশিক্ষণ মাঠে ২৭ টন ওজনের একটি সাঁজোয়া যানের (ট্যাংক) নিচে চাপা পড়ে এক মার্কিন সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ১০ জুন ভোরে সামরিক মহড়া চলাকালীন 'এম২ ব্র্যাডলি' নামের একটি ফাইটিং ভেহিকল বা সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়েন ২৯ বছর বয়সী আদ্রিয়ান বনসে। জানা গেছে, ওই মহড়া চলাকালীন সময়ে সাঁজোয়া যানটি থেকে চালকের দৃষ্টিসীমা বা ভিজিবিলিটি বেশ সীমিত ছিল, যার ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

 

নিহত আদ্রিয়ান বনসে মূলত জর্জিয়ার ফোর্ট স্টুয়ার্টে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের একজন কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল জন লুবাস এক বিবৃতিতে বলেন, "এটি আমাদের পুরো ডিভিশনের জন্য একটি বিধ্বংসী ক্ষতি।

 

আদ্রিয়ান ছিলেন একজন অসাধারণ সেনা, যিনি আমাদের মিশন এবং গর্বের সাথে দেশের সেবা করার প্রতি সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত ছিলেন। আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, প্রিয়জন ও সহকর্মীদের পাশে আছি।" নিউইয়র্কের বাসিন্দা স্পেশালিস্ট আদ্রিয়ান ২০২৩ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।

 

জানা গেছে, মোহাভি মরুভূমির ন্যাশনাল ট্রেনিং সেন্টারে আদ্রিয়ান সাঁজোয়া যানগুলোর সাথে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। বিদেশে মোতায়েনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ঘোষণার আগে সেনা ইউনিটগুলো সাধারণত এক মাস ধরে এই প্রশিক্ষণ মাঠে বড় পরিসরে মহড়া পরিচালনা করে থাকে। থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন তাদের ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, ফোর্ট স্টুয়ার্টে নতুন যোগ দিলেও আদ্রিয়ান ইতিমধ্যেই তার সহকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিলেন।

 

উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ চলাকালীন দুর্ঘটনা বা বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩১ জন সেনার মৃত্যু হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ছিল সামরিক যান উল্টে যাওয়ার মতো গ্রাউন্ড দুর্ঘটনা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
স্কুলের খাবারে ফিরছে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ, পুষ্টিকর খাবার
ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশন এর বড় বিনিয়োগ! স্কুলের খাবারে ফিরছে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ, পুষ্টিকর খাবার

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলের মধ্যাহ্নভোজে দীর্ঘদিন পর আবার পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধসহ আরও পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের সুযোগ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্কুলের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি খাদ্য সংগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।   ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ স্কুলের খাবারে ফিরিয়ে আনার আইনে স্বাক্ষর করেন। পরে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ নতুন বিধি কার্যকর করে। এর ফলে দুই বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য স্কুলসহ বিভিন্ন ফেডারেল শিশু-পুষ্টি কর্মসূচিতে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ ও দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধ দেওয়ার সুযোগ আবার চালু হয়।   এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের জন্য নতুন খাদ্য নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে পুরোপুরি প্রাকৃতিক, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   স্কুলের খাবারে এই পরিবর্তনের লক্ষ্য শুধু দুধ বা নতুন কিছু খাবার যোগ করা নয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফল, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য স্কুলের খাবারের ব্যবস্থায় যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের তাজা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে পরিচিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।   এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৬ অর্থবছরে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে স্কুলের সরাসরি সংযোগ তৈরির কর্মসূচিতে প্রায় দুই কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে। মোট ৬৮টি প্রকল্পকে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় কৃষক, খাদ্য উৎপাদক এবং স্কুলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও খাদ্য সরবরাহের সুযোগ তৈরি করবে।   স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত খাবার স্কুলের মধ্যাহ্নভোজ, গ্রীষ্মকালীন খাবার কর্মসূচি এবং শিশু যত্নকেন্দ্রে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে এই কর্মসূচি। পাশাপাশি স্কুল বাগান, কৃষি শিক্ষা, স্থানীয় খাদ্য সংগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের কৃষি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার মতো কার্যক্রমও এতে রয়েছে।   কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এই অনুদান কর্মসূচি চালুর পর থেকে এক বছরে সবচেয়ে বড় আর্থিক বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে কর্মসূচি চালুর পর থেকে সংস্থাটি ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে। এ অর্থ দিয়ে ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ বিভিন্ন মার্কিন অঞ্চলে ১ হাজার ২৬৫টির বেশি প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।   স্কুলের রান্নাঘর আধুনিক করার জন্যও আলাদা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে জাতীয় স্কুল মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির আওতায় রান্নাঘরের সরঞ্জাম কেনার জন্য দুই কোটি ডলারের অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্কুলগুলো আধুনিক ওভেন, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনে তাজা খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে পারবে।   তবে স্কুলের খাবারে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। সরকারের নতুন নীতিতে পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট কোনো খাবার সবার জন্য একইভাবে উপকারী কি না, তা বয়স, স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করতে পারে।   সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলের খাবার ব্যবস্থায় স্থানীয় কৃষিপণ্য, প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার এবং বিভিন্ন ধরনের দুধের দিকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের খাবারের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের জন্যও স্কুলভিত্তিক বড় বাজার তৈরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১:১৪
নিউইয়র্কের সবচেয়ে সাশ্রয়ী শহরে ৮৭ হাজার ডলারেই মিলছে বাড়ি! তবুও নেই বাসিন্দা

নিউইয়র্কের সবচেয়ে সাশ্রয়ী শহরে ৮৭ হাজার ডলারেই মিলছে বাড়ি! তবুও নেই বাসিন্দা

নোংরা ডায়াপারে দম বন্ধ হয়ে শিশুর মৃত্যু

নোংরা ডায়াপারে দম বন্ধ হয়ে শিশুর মৃত্যু, আবর্জনায় ভরা গ্যারেজে রাখার অভিযোগে বাবা-মা গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের অভিজাত ‘বিলিয়নিয়ার্স রো’

"এটা খুবই বিপজ্জনক", বিলিয়নিয়ার্সদের সেই টাওয়ারে ঝরছে ‘কংক্রিটের টুকরো'! দ্রুত কমছে দাম

ফ্লোরিডায় ‘ভিব্রিও’ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে চলতি বছরে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়ায় আরও একজনের মৃত্যু, চলতি বছরে আক্রান্ত ১৪

ফ্লোরিডায় বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের ম্যারিয়ন কাউন্টির ৬০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী এক বাসিন্দা এই সংক্রমণে মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল দুইজনে, আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪।   ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য এবং ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া সাধারণত উষ্ণ, লবণাক্ত বা অল্প লবণাক্ত উপকূলীয় পানিতে স্বাভাবিকভাবেই থাকে। শরীরে কোনো কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সেই পথ দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। সংক্রমণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এটি খুব দ্রুত গুরুতর রূপ নিতে পারে।   গত বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মোট ৩৩ জন আক্রান্ত হন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৪টি সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন মারা গেছেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের শুরুতে লক্ষণ সাধারণ মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এটি জীবনহানিকর অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। ব্যাকটেরিয়াটি ত্বক ও নরম টিস্যু দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেই এটি অনেক সময় ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া’ নামে পরিচিত। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মানুষের মাংস খায় না; বরং গুরুতর সংক্রমণের কারণে টিস্যুর ক্ষয় ঘটায়।   এই সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া জেনেভিভ গ্যালাঘার জানান, পরিবারের সঙ্গে নৌভ্রমণের সময় শরীরে একটি ছোট ক্ষত নিয়ে পানিতে নামার পর কয়েক দিনের মধ্যেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি অন্যদের সতর্ক করে বলেন, শরীরে যদি সামান্য কাটা বা আঁচড়ও থাকে, এমনকি চুলকানোর কারণে খোলা মশার কামড়ের দাগও থাকে, তাহলে লবণাক্ত পানিতে নামা উচিত নয়। তার ভাষায়, “এটি অত্যন্ত গুরুতর। এমন ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।”   সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন গবেষকেরা। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আন্তারপ্রীত জুটলার নেতৃত্বে একটি গবেষক দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নাসার স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে উপকূলীয় পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার আগাম শনাক্ত করার প্রযুক্তি তৈরি করছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, তা আগে থেকেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো সম্ভব হবে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআইয়ের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবেশ সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার পানির নমুনা সংগ্রহ করবে। পরে সেগুলো ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে। এতে সম্ভাব্য সংক্রমণ ছড়ানোর আগেই জনগণকে সতর্ক করা এবং প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শরীরে কোনো ধরনের কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সমুদ্র বা লবণাক্ত পানিতে না নামাই নিরাপদ। পাশাপাশি উপকূলীয় পানি থেকে উঠে ক্ষতস্থান দ্রুত পরিষ্কার করা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো জানিয়েছে, ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২৩:২২
৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মাদক সেবনের অভিযোগে অভিযুক্ত উইসকনসিনের তরুণী মা। ছবি: সংগৃহীত

মাদক সেবনের পর নবজাতককে বুকের দুধ, ৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যু; যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

জেল থেকে ছাড়ানোর পরই বাবা-মাকে গুলি করে হত্যা করল ছেলে

১০ হাজার ডলার জামিনে ছেলেকে জেল থেকে ছাড়ানোর পরই বাবা-মাকে গুলি করে হত্যা করল ছেলে

শিশুদের টিকাদান নীতিতে বড় পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়ে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছেন ট্রাম্প, উদ্বেগে শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

ডোনাল্ড ও মেলানিয়া ট্রাম্পের একমাত্র সন্তান ব্যারন ট্রাম্প বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায়িক জগতেও বেশ নজর কেড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
২০ বছরেই ১৫ কোটি ডলারের মালিক ট্রাম্পপুত্র ব্যারন, সম্পদে ছাড়িয়ে গেলেন মা মেলানিয়াকে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্প মাত্র ২০ বছর বয়সেই প্রায় ১৫ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে তার এই আনুমানিক সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হয়, যা ট্রাম্প পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সম্পদের চেয়েও বেশি।   ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৩০ কোটি ডলার। অন্যদিকে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আনুমানিক সম্পদ প্রায় ২ কোটি ডলার। সেই হিসাবে ব্যারনের সম্পদের পরিমাণ, প্রায় ১৫ কোটি ডলার, তার মায়ের আনুমানিক সম্পদের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   অল্প বয়সেই ব্যারন ট্রাম্প ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। রিয়েল এস্টেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং পানীয় খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লোরিডা ও ডেলাওয়্যারে দাখিল করা ব্যবসায়িক নিবন্ধন নথি অনুযায়ী, 'সোল্লোস' (Sollos) নামের একটি পানীয় কোম্পানির পাঁচজন অংশীদারের একজন ব্যারন ট্রাম্প।   তবে তার সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে ধরা হচ্ছে ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান 'ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল'। ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার দুই বড় ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে যুক্ত হন ব্যারন। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল অর্থনীতিতে ডলারভিত্তিক স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনের সহজলভ্যতা এবং বিকেন্দ্রীভূত আর্থিক সেবাকে (ডিফাই) সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।   ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল ট্রাম্প পরিবারের মোট সম্পদে ১৫০ কোটিরও বেশি ডলার যোগ করেছে। এর মধ্যে ব্যারনের অংশ প্রায় ১০ শতাংশ, যার মূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো সম্পদ, বিশেষ করে $WLFI টোকেন এবং মার্কিন ডলারের সঙ্গে সংযুক্ত স্থিতিশীল মুদ্রা USD1-এ বিনিয়োগ থেকেও ব্যারনের সম্পদ বেড়েছে।   এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্যারন ট্রাম্প ও তার কয়েকজন ব্যবসায়িক সহযোগী ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে 'ট্রাম্প, ফুলচার অ্যান্ড রক্সবার্গ ক্যাপিটাল ইনকরপোরেটেড' নামে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।   ব্যারনের ব্যবসায়িক সহযোগী ক্যামেরন রক্সবার্গ পরে নিউজউইককে জানান, নির্বাচনের সময় অপ্রয়োজনীয় গণমাধ্যমের মনোযোগ এড়াতেই কোম্পানিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল ইউটাহ, অ্যারিজোনা ও আইডাহো অঙ্গরাজ্যে বিলাসবহুল আবাসন ও গলফ কোর্সভিত্তিক প্রকল্পে কাজ করার।   তবে পরে ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রক্সবার্গ জানান, প্রতিষ্ঠানটি আর পুনরায় চালু করা হবে না। বর্তমানে ব্যারন ট্রাম্প নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসে পড়াশোনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে যুক্ত থেকে ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসায়িক পরিচয়ও গড়ে তুলছেন।   তবে ফোর্বস উল্লেখ করেছে, ব্যারনের অন্যান্য সম্পদ, সম্ভাব্য উত্তরাধিকার বা অন্য উৎস থেকে আয়ের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২২:৪
আইওয়ায় ভুল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বার্তার কারণে উদ্ধার হন তিন ঘণ্টার বেশি কাদায় আটকে থাকা এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

নির্জন এলাকায় ৩ ঘণ্টা কাদায় পড়েছিলেন বৃদ্ধা, অলৌকিকভাবে বাঁচাল একটি 'ভুল বার্তা'

ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভুয়া দাবি করে অনুদান সংগ্রহের অভিযোগে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসারের রোগী সেজে ২০০ জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার হাতিয়ে নিলেন ফ্লোরিডার এক নারী

আলাস্কা উপকূলে ভাসমান একটি নৌযানকে সাহায্য না করার অভিযোগ উঠেছে মার্ক জাকারবার্গের বিলাসবহুল ইয়ট 'লঞ্চপ্যাড'-এর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

সাগরে বিপদে নারী ও শিশু, কাছে থেকেও সাহায্যে এগিয়ে আসেনি জাকারবার্গের প্রমোদতরি!

0 Comments