ভিজিটর ভিসাধারীদের জরুরি সতর্কবার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র
বিদেশি দর্শনার্থী বা ভিজিটর ভিসাধারীদের জন্য এক জরুরি ও কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (২৭ জুন) সকালে দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধার অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ বা অপব্যবহার করলে ভিসা বাতিলসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো বিদেশি দর্শনার্থী যদি সেদেশে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করেন অথবা সেগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তবে তাদের অত্যন্ত কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। বিশেষ করে অনভিবাসী বা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এসব সুবিধার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বর্তমান ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে।
শুধু তাই নয়, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে ভবিষ্যতে নতুন করে মার্কিন ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন।
এই সতর্কবার্তায় অনভিবাসী ভিসাধারীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় প্রত্যেক দর্শনার্থীকে সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে সেখানে অবস্থান করার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি কোনো সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের খরচ নিজে বহনের পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই কেবল যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার কঠোর আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কারণে তুরস্ক সফর শেষে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় তাকে বিমান পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী। ঘটনাটি নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা যায়, তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠানো হলেও সেটি ছিল মূলত বিভ্রান্তিমূলক ব্যবস্থা। ট্রাম্পকে পরে গোপনে বিমানবন্দরের একটি যানবাহনের মাধ্যমে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সম্ভাব্য হুমকির কারণে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প নিজেও পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন। তবে হুমকির সুনির্দিষ্ট ধরন সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেননি বলে জানান। এর আগে ট্রাম্প তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্য যাওয়ার সময় পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করার বিষয়টিকে প্রকাশ্যে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। পরে গোপন নিরাপত্তা অভিযানের তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি এদিকে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান আর মধ্যপ্রাচ্যের ‘বুলি’ হিসেবে আগের অবস্থানে নেই। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এই জলপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও পণ্যের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এটি ট্রাম্পের বক্তব্য। এই দাবির সমর্থনে স্বাধীন কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক মূল্যায়ন এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। তাই প্রতিবেদনে এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে। কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ? একদিকে ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের ঘটনা ইরান-সংক্রান্ত সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা তুলে ধরছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের অবস্থান গোপন রাখতে এয়ার ফোর্স ওয়ানকে বিভ্রান্তিমূলকভাবে ব্যবহার এবং ট্রাম্পকে আলাদা সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় তার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান—দুটিই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে সামনে এসেছে।
ট্রাফিক স্টপে ১৮ বছরের তরুণীর মুখে ঘুষি! সুযোগ পেলে আবারও মারার হুমকি স্টেট ট্রুপারের
আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না
আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’, স্পর্শেই দেওয়া যাবে যন্ত্রণাদায়ক শক
নিউইয়র্কের একটি ক্যাসিনোর স্লট মেশিনের স্ক্রিনে ভেসে উঠেছিল ৪২ দশমিক ৯ মিলিয়ন বা প্রায় ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলারের জ্যাকপট। মুহূর্তটি ধরে রাখতে মেশিনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলেছিলেন ক্যাটরিনা বুকম্যান। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় সবকিছু। ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপুল অঙ্কের ওই জ্যাকপট আসলে মেশিনের ত্রুটির ফল। তার প্রকৃত পাওনা মাত্র ২ ডলার ২৫ সেন্ট। ঘটনাটি ২০১৬ সালের আগস্টের। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড ক্যাসিনোতে স্লট মেশিনে খেলছিলেন বুকম্যান। একপর্যায়ে মেশিনের স্ক্রিনে ৪২,৯৪৯,৬৭২ দশমিক ৭৬ ডলারের অঙ্ক দেখা যায়। এত বড় অঙ্ক দেখে স্বাভাবিকভাবেই বুকম্যান ভেবেছিলেন, তার জীবন বদলে দেওয়ার মতো জ্যাকপট লেগেছে। মেশিনের স্ক্রিনে দেখানো অঙ্কের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন তিনি। ওই ছবি পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার দেয়নি। বিষয়টি যাচাইয়ের পর তাকে আবার ক্যাসিনোতে ফিরতে বলা হয়। পরদিন ফিরে এসে বুকম্যান জানতে পারেন, তিনি যে অর্থ পাওয়ার আশা করেছিলেন সেটি তাকে দেওয়া হবে না। রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, স্লট মেশিনটিতে ত্রুটি হয়েছিল। স্ক্রিনে যে ৪২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার দেখানো হয়েছিল, সেটি বৈধ জ্যাকপট ছিল না। নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশনও পরে মেশিনটি পরীক্ষা করে ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মেশিনটির রেকর্ডে ওই অঙ্কের কোনো জ্যাকপট জেতার তথ্য পাওয়া যায়নি। স্ক্রিনে বিশাল অঙ্কটি দেখানো হয়েছিল মেশিনের ডিসপ্লে ত্রুটির কারণে। এ ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল স্লট মেশিনটির সর্বোচ্চ সম্ভাব্য জ্যাকপট। মেশিনটি থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ডলার পাওয়ার সুযোগ ছিল। ফলে স্ক্রিনে দেখানো প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার ওই গেম থেকে বৈধভাবে জেতার সুযোগই ছিল না। মেশিনটিতে একটি সতর্কবার্তাও ছিল, যেখানে যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি হলে সংশ্লিষ্ট খেলা ও পেআউট বাতিল বলে গণ্য হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। নিউইয়র্কের গেমিং কর্তৃপক্ষ সেই নিয়মের ভিত্তিতেই প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের দাবি গ্রহণ করেনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর পরিস্থিতি তৈরি হয় বুকম্যানকে তার প্রকৃত পাওনার কথা জানানোর পর। ক্যাসিনোর হিসাবে তিনি জিতেছিলেন মাত্র ২ ডলার ২৫ সেন্ট। বিপুল অঙ্কের জ্যাকপট না পাওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড তাকে বিনামূল্যে একটি স্টেক ডিনারের প্রস্তাবও দেয়। তবে বুকম্যান সেই প্রস্তাব মেনে নেননি। পরের বছর তিনি রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড ক্যাসিনো, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং স্লট মেশিন নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার আইনজীবীর যুক্তি ছিল, মেশিনের ত্রুটির দায় একজন খেলোয়াড়ের ওপর চাপানো উচিত নয়। প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার দেওয়া না হলেও অন্তত মেশিনটির বৈধ সর্বোচ্চ জ্যাকপট ৬ হাজার ৫০০ ডলার দেওয়ার বিষয়টি তারা সামনে আনেন। ঘটনাটি সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ স্ক্রিনে দেখানো অঙ্কটি সত্যিকারের জ্যাকপট হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্লট মেশিন থেকে পাওয়া অন্যতম বৃহৎ পুরস্কারে পরিণত হতে পারত। শেষ পর্যন্ত বুকম্যানের জীবনের সেই বহুল আলোচিত মুহূর্তটি কোটি ডলারের জ্যাকপটে পরিণত হয়নি। স্লট মেশিনের স্ক্রিনে ছিল ৪২,৯৪৯,৬৭২ দশমিক ৭৬ ডলার, আর ক্যাসিনোর হিসাবে তার প্রকৃত জেতা অর্থ ছিল মাত্র ২ ডলার ২৫ সেন্ট। সঙ্গে ছিল একটি বিনামূল্যের স্টেক ডিনারের প্রস্তাব।
বৈধ কাগজপত্র পেন্ডিং থাকলেও গ্রেফতার, ওয়ারেন্ট ছাড়াই তুলে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ল আইসিইর
ক্যালিফোর্নিয়ার যে ৫টি পর্যটনস্থলে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারান দর্শনার্থীরা, সেখানে ভুল করলেই বিপদ
বাড়ি ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিদায়ের মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ট্রাম্পের নাতনি ও তার মা
করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তা সত্ত্বেও এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমানো মার্কিনিদের কাছে বসবাসের জন্য এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য ফ্লোরিডা ও টেক্সাস। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন এক সমীক্ষার তথ্যে এমনটাই উঠে এসেছে। অনলাইন মুভিং প্ল্যাটফর্ম ‘মুভিংপ্লেস’ (MovingPlace) চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের স্থানান্তরের ডেটা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মাথাপিছু স্থানান্তরের হিসাব এবং সামগ্রিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছে, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে ফ্লোরিডার ইনলেট বিচ। ফ্লোরিডার এমারেল্ড কোস্টে অবস্থিত ইনলেট বিচে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মাথাপিছু ১০৬.১ জন স্থানান্তরের রেকর্ড পাওয়া গেছে। শীর্ষ ১০টি জনপ্রিয় এলাকার তালিকায় ইনলেট বিচ ছাড়াও ফ্লোরিডার আরও তিনটি এলাকা জায়গা করে নিয়েছে; এগুলো হলো পোর্ট সেন্ট লুসি, ব্র্যাডেন্টন এবং সান আন্তোনিও (ফ্লোরিডা)। এছাড়া টেক্সাসের তিনটি শহর ক্র্যান্ডল, ল্যাভন এবং ম্যাক্সওয়েলও এই তালিকায় রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের যেসব এলাকা এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে, সেগুলো কোনো বড় বা পরিচিত মেট্রো শহর নয়। মহামারির সময়ে অস্টিন, কেপ কোরাল, টাম্পা বা মিয়ামির মতো শহরগুলোতে নতুন বাসিন্দাদের ঢল নেমেছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এসব শহরে বাড়ির দাম দুই অঙ্কের ঘরে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন বড় শহরের বদলে তুলনামূলক ছোট ও সাশ্রয়ী এলাকা খুঁজছেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ১০টি এলাকা: মুভিংপ্লেসের ডেটা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে মাথাপিছু স্থানান্তরের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি এলাকা হলো: ১. ইনলেট বিচ, ফ্লোরিডা ২. ক্র্যান্ডল, টেক্সাস ৩. অরোরা, কলোরাডো ৪. ল্যাভন, টেক্সাস ৫. ন্যাশভিল, টেনেসি ৬. সারপ্রাইজ, অ্যারিজোনা ৭. পোর্ট সেন্ট লুসি, ফ্লোরিডা ৮. ব্র্যাডেন্টন, ফ্লোরিডা ৯. সান আন্তোনিও, ফ্লোরিডা ১০. ম্যাক্সওয়েল, টেক্সাস কেন এই শহরগুলোর এত জনপ্রিয়তা? গবেষকদের মতে, বিলাসবহুল উপকূলীয় জীবনযাপন এবং বিশ্বের অন্যতম সুন্দর সৈকতের সান্নিধ্যের কারণে ইনলেট বিচ এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং যারা দ্বিতীয় বাড়ি কিনতে চান, তারাই এখানকার মূল ক্রেতা। আবাসন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘রেডফিন’-এর তথ্যমতে, গত জুনে ইনলেট বিচ হাইটসে একটি সাধারণ বাড়ির গড় দাম ছিল ৭ লাখ ডলার, যা রাজ্যব্যাপী গড় দামের চেয়ে প্রায় ৩ লাখ ডলার বেশি। তবে তালিকার অন্যান্য ফ্লোরিডা শহরগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রেডফিনের ডেটা বলছে, পোর্ট সেন্ট লুসিতে বাড়ির গড় দাম এখনো ৪ লাখ ডলারের নিচে। অন্যদিকে, পরিবার নিয়ে থাকার জন্য বা পেশাজীবীদের কাছে ব্র্যাডেন্টন বেশ আকর্ষণীয়, যেখানে বাড়ির দাম ৩ লাখ ১৯ হাজার ডলারের কিছুটা বেশি। ফ্লোরিডার সান আন্তোনিও শহরটিও বেশ সাশ্রয়ী; গত জুনে এখানে বাড়ির গড় দাম ছিল ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৯৬ ডলার। একই চিত্র দেখা গেছে টেক্সাসের ক্ষেত্রেও। ডেনভার বা ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের মতো ব্যয়বহুল শহরের সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠেছে টেক্সাসের ক্র্যান্ডল। গত জুনে এখানে একটি বাড়ির গড় দাম ছিল ২ লাখ ৮৮ হাজার ১০৩ ডলার, যেখানে ডালাসে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। একইভাবে, ল্যাভন ও ম্যাক্সওয়েল শহর দুটিও উত্তর টেক্সাস এবং অস্টিনের তুলনায় অনেক সস্তা। অস্টিনে যেখানে বাড়ির গড় দাম ৫ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি, সেখানে ম্যাক্সওয়েলে আড়াই লাখ ডলারের নিচেই বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। মুভিংপ্লেসের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ড্যানিয়েল কোব এক বিবৃতিতে বলেন, "মহামারির সময়ের মতো শহর ছাড়ার হিড়িক এখন হয়তো কিছুটা কমেছে। কিন্তু মানুষের আবাসন চাহিদা এখনো ঐতিহ্যবাহী বড় শহরগুলোর চেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শহরতলি এবং সাশ্রয়ী এলাকাগুলোর দিকেই বেশি। উষ্ণ আবহাওয়া, কম কর এবং তুলনামূলক সস্তা আবাসনের কারণে মানুষ সান বেল্ট অঞ্চলে, বিশেষ করে ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসে বসবাস করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।"
বাসায় যাওয়ার পথে নিউইয়র্কে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা
মায়ের অপেক্ষায় ৫ বছরের ছেলে, স্ত্রীকে আইসের হেফাজত থেকে ফেরাতে আইনি লড়াইয়ে মার্কিন সেনাসদস্য