সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মুসলিমসহ ৫০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে বাইবেলের নির্বাচিত অংশ, টেক্সাসের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিতর্ক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ১৬:৪৫
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য বাইবেল পাঠ বাধ্যতামূলক করল শিক্ষা বোর্ড l ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য বাইবেল পাঠ বাধ্যতামূলক করল শিক্ষা বোর্ড l ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলে মুসলিমসহ সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে বাইবেলের নির্বাচিত অংশ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত টেক্সাস স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন সম্প্রতি ভোটের মাধ্যমে নতুন পাঠ্যসূচির অনুমোদন দিয়েছে।

 

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ শিক্ষাবর্ষ থেকে ধাপে ধাপে এই পাঠ্যসূচি চালু হবে। এতে বাইবেলের নির্বাচিত গল্প ও অংশের পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন ধ্রুপদি রচনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। টেক্সাস শিক্ষা বোর্ডের দাবি, এটি ধর্মীয় শিক্ষা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বোঝাতে বাইবেলের কিছু অংশকে শিক্ষাসামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

 

টেক্সাসে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। নতুন পাঠ্যসূচি কার্যকর হলে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, ইহুদি, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মীয় পটভূমির সব শিক্ষার্থী একই পাঠ্যক্রমের আওতায় আসবে।

 

সিদ্ধান্তের সমর্থকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন, ইতিহাস ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে ইহুদি-খ্রিস্টান ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা দিতেই বাইবেলের নির্বাচিত অংশ পাঠ্যসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে।

 

তবে এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষাবিদ, নাগরিক অধিকার সংগঠন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি স্কুলের বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচিতে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক অবস্থানের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী এবং ধর্মনিরপেক্ষ পরিবারের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উপেক্ষিত বা অস্বস্তিকর অবস্থায় অনুভব করতে পারেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থা হওয়ায় এ সিদ্ধান্তের প্রভাব ভবিষ্যতে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা নীতিতেও পড়তে পারে। একই সঙ্গে বিষয়টি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

তবে টেক্সাস শিক্ষা বোর্ড আবারও স্পষ্ট করেছে, নতুন পাঠ্যসূচির উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস বা উপাসনা প্রচার করা নয়। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ইতিহাস ও সাহিত্য সম্পর্কে বিস্তৃত জ্ঞান দেওয়ার লক্ষ্যেই বাইবেলের নির্বাচিত অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবুও সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ধর্ম, শিক্ষা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব বা বৈধতার তথ্য জানাতে হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
ট্যাক্স রিটার্নে নাগরিকত্ব বা ওয়ার্ক পারমিটের তথ্য দিতে হতে পারে, ২০২৬ সালের খসড়া ফর্মে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি আছে কি না, তা জানাতে হতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বা আইআরএসের প্রকাশ করা ২০২৬ সালের খসড়া ফর্ম ১০৪০-এ প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে সরাসরি একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। তবে এটি এখনো খসড়া এবং চূড়ান্ত ট্যাক্স ফর্মে এই প্রশ্ন থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।   খসড়া ফর্ম ১০৪০-এর একটি অংশে করদাতাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের সময় তিনি এবং যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন দিলে তার স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অথবা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত কোনো বিদেশি কি না। করদাতা ও স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আলাদাভাবে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বেছে নেওয়ার ঘর রাখা হয়েছে।   আইআরএসের এই খসড়া পরিবর্তনটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস নির্দিষ্ট কিছু রিফান্ডযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতা যাচাইয়ের নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে।   আগস্টে প্রকাশিত প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের রিফান্ডযোগ্য অংশ, আমেরিকান অপরচুনিটি ট্যাক্স ক্রেডিট এবং অ্যাডপশন ট্যাক্স ক্রেডিটের রিফান্ডযোগ্য অংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন যোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। এসব সুবিধার রিফান্ডযোগ্য অংশ পেতে হলে করদাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অথবা আইনে সংজ্ঞায়িত ‘যোগ্য বিদেশি’ হতে হবে।   আইআরএসের নতুন খসড়া শিডিউল ৩-এ-তেও এ বিষয়ে আলাদা স্ব-ঘোষণার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে করদাতাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তিনি বা তার স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অথবা যোগ্য বিদেশি কি না। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে একজন স্বামী বা স্ত্রী এই যোগ্যতার মধ্যে থাকলেও নির্দিষ্ট রিফান্ডযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।   তবে নতুন ফর্ম ১০৪০-এর প্রশ্নটি শিডিউল ৩-এ-এর প্রশ্নের চেয়ে কিছুটা আলাদা। ফর্ম ১০৪০-এ নাগরিকত্বের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমোদনের বিষয়টি সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে। ফলে ট্যাক্স রিটার্নে এমন তথ্য প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে করদাতা ও ট্যাক্স পেশাজীবীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি এক বিষয় নয়। একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে বাধ্য হতে পারেন, যদিও তার কাজের অনুমোদনের অবস্থা আলাদা হতে পারে। একইভাবে ব্যক্তিগত করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা আইটিআইএন থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি পাওয়া যায় না।   প্রস্তাবিত নিয়মে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ট্যাক্স ক্রেডিটের যে অংশ করদাতার আয়কর দায়ের চেয়ে বেশি হয়ে রিফান্ড হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়, মূলত সেই অংশকেই ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কোনো ব্যক্তি ওই রিফান্ডযোগ্য অংশের জন্য যোগ্য না হলেও, করের দায় কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ক্রেডিটের যে অংশ প্রযোজ্য, সেটি পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।   আইআরএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফর্ম ১০৪০ এবং শিডিউল ৩-এ এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। তাই আগামী ট্যাক্স মৌসুমে করদাতারা যে চূড়ান্ত ফর্ম ব্যবহার করবেন, সেখানে প্রশ্নগুলোর ভাষা বা কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে।   প্রস্তাবিত নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার আগে ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়াও রেখেছে। ফলে নাগরিকত্ব, কাজের অনুমতি এবং রিফান্ডযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট নিয়ে নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার আগে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১২:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফরে গিয়ে পানিতে ডুবে এক শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা সফরে মর্মান্তিক মৃত্যু, ১০ বছরের শিক্ষার্থী ও তরুণী শিক্ষিকার প্রাণ গেল আইওয়ার লেকে

যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু আইফোনের ক্রেতাদের জন্য অ্যাপলের সঙ্গে ২৫ কোটি ডলারের মামলার মীমাংসা থেকে অর্থ পাওয়ার আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

২৫ কোটি ডলারের মামলায় আইফোন ক্রেতাদের ক্ষতিপূরণের আবেদন শুরু, জানুন বিস্তারিত

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে ম্যানহোল দিয়ে ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় ঢোকার অভিযোগে দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ম্যানহোলে ঢুকে সোনা-দামি জিনিস খোঁজার অভিযোগ, নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার কুইন্সের দুই ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে একটি নতুন বিল এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়ম সীমিত ও ডিভি লটারিতে বড় পরিবর্তন চেয়ে সিনেটে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে একটি বিল এনেছেন আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলটি পাস হলে ডিভি লটারি বন্ধ হবে, মার্কিন নাগরিকদের মা-বাবাসহ কয়েকটি পারিবারিক ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ডের সুযোগ শেষ হবে এবং চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড দেওয়ার নিয়ম বদলে পয়েন্ট পদ্ধতি চালু হবে। বিলটি এখনো আইন হয়নি; বর্তমান আবেদনকারীদের নিয়মেও এ কারণে কোনো পরিবর্তন আসেনি।   ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ নামের প্রস্তাবে মার্কিন নাগরিকের মা-বাবাকে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্য ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ ক্যাটাগরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে অন্তত ২১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক তাঁর মা-বাবার জন্য আবেদন করতে পারেন। বিলটি কয়েকটি পারিবারিক পছন্দভিত্তিক ক্যাটাগরিও বাতিল করতে চায়। তবে মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানের জন্য আবেদনের পথ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।   প্রস্তাবটি শুধু ভবিষ্যতের আবেদনেই সীমিত নয়। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাতিলের প্রস্তাব থাকা ক্যাটাগরিগুলোতে বিচারাধীন আবেদন অনুমোদন করা যাবে না। বিল কার্যকর হওয়ার আগে অনুমোদিত আবেদন থেকে কতজন ভিসা পাবেন, তার ওপরও একটি অন্তর্বর্তী সীমা রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে আইন হলে ইতিমধ্যে আবেদন করা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।   চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের প্রচলিত ক্যাটাগরিগুলোর জায়গায় পয়েন্ট পদ্ধতি আনার প্রস্তাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির প্রস্তাব, বয়স, ইংরেজিতে দক্ষতা, বেতন ও শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে এবং তাঁকে অন্তত ১৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। প্রস্তাবিত বেতনের শর্তও পূরণ করতে হবে।   বিলে চাকরির ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসার বার্ষিক প্রাথমিক সংখ্যা এক লাখ ৯২ হাজার রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে বিলের নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী সেই সংখ্যা কমতে পারে। ডিভি লটারির মাধ্যমে ভিসা দেওয়াও বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে।   টিউবারভিলের সিনেট বিলের আগে এপ্রিলে প্রতিনিধি পরিষদে একই উদ্দেশ্যে একটি বিল এনেছিলেন আলাবামার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ব্যারি মুর। সিনেটের প্রস্তাবে কিছু শর্ত ও কার্যকরের সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে। কোনো পরিবর্তন কার্যকর হতে হলে বিলকে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া পেরোতে হবে। তত দিন গ্রিন কার্ড বা ডিভি লটারির নিয়ম বদলে গেছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১০:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। ছবি: সংগৃহীত

শুল্কের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেল কস্টকো, কমাচ্ছে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

'বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত' ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের আহ্বান তারেক রহমানের

আসক্ত করার অভিযোগে মামলা নিষ্পত্তিতে আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে ১০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে টিকটক। ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের আসক্তির অভিযোগে আলাবামায় টিকটকের ১০ কোটি ডলারের সমঝোতা

ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সফরের সাংবাদিকদল থেকে সিএনএনকে বাদ দেওয়া হয়েছে
ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সফরে সিএনএনকে জায়গা দিল না হোয়াইট হাউস

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শনিবারের টেনেসি সফরে এয়ার ফোর্স ওয়ানের নির্ধারিত সাংবাদিকদল থেকে সিএনএনকে বাদ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর যৌথ টেলিভিশন কাভারেজের দায়িত্বে এবার সিএনএনের থাকার কথা ছিল। তার জায়গায় রাখা হয়েছে রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস নিউজকে।   ট্রাম্প টেনেসির নক্সভিলে একটি কলেজ ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের বিমানে জায়গা সীমিত থাকায় নির্ধারিত সাংবাদিকেরা পালা করে সফরে যান এবং তাঁদের সংগ্রহ করা সংবাদ ও ভিডিও অন্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করেন। সিএনএন সেই ব্যবস্থার অংশ হলেও রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস নিউজ যৌথ টেলিভিশন সাংবাদিকদলের সদস্য নয়।   এর আগে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিনটি সংবাদমাধ্যম আদালতে গেলে এক ফেডারেল বিচারক সাময়িক আদেশে তাঁদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ ফিরিয়ে দেন। তবে ওই আদেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সফর বা যৌথ সাংবাদিকদলের দায়িত্বের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি।   তিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, তাদের প্রতিবেদনের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে। হোয়াইট হাউসের অবস্থান, সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। এ নিয়ে আইনি বিরোধ চলার মধ্যেই সিএনএনকে শনিবারের বিমান সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৯:২২
হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের চিহ্নিত করল ইরান

স্বামীকে ফেন্টানিল মিশিয়ে হ ত্যার দায়ে কৌরি রিচিনসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্বামীকে বি ষ মিশিয়ে হ ত্যা! শিশুদের সঙ্গে শোক সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছিলেন বই

বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর নিয়ম স্টেটভেদে ভিন্ন।

বাংলাদেশি লাইসেন্সে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানো যাবে? স্টেটভেদে জেনে নিন নিয়ম

0 Comments