নিউইয়র্কে বাড়ি কেনা সম্ভব হয়নি, ইতালির ছোট্ট গ্রামে নগদ টাকায় মিলল নিজের বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার স্বপ্ন যখন ক্রমেই অধরা হয়ে উঠছিল, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সিদ্ধান্ত নেয় এক মার্কিন পরিবার। তারা ইতালির মধ্যাঞ্চলের আব্রুজ্জো অঞ্চলের একটি ছোট্ট গ্রামে মাত্র ১১ হাজার ৫০০ ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন ডলারে একটি বাড়ি কিনে নতুন জীবন শুরু করে। এখন তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক স্বস্তিই নয়, জীবনকে নতুনভাবে উপভোগ করার সুযোগও এনে দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যাসান্দ্রা ট্রেসল বলেন, ২০২০ সালে মেয়ের জন্মের পর তিনি ও তাঁর স্বামী অ্যালেক্স নিনম্যান ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবতে শুরু করেন। সে সময় তারা নিউইয়র্কে মাসে দুই হাজার ডলার ভাড়ায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। নিউইয়র্কের হিসাবে ভাড়াটি তুলনামূলক কম হলেও, সেখানে নিজস্ব বাড়ি কেনার মতো অর্থ জোগাড় করা তাদের কাছে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
ট্রেসলের ভাষায়, নিউইয়র্কে একটি বাড়ির ডাউন পেমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সঞ্চয়ের কোনো বাস্তবসম্মত পথ তিনি দেখছিলেন না। সেই কারণেই বিদেশে বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে খোঁজ শুরু করেন তারা। নানা দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ইতালির আব্রুজ্জো অঞ্চলকেই বেছে নেন, যেখানে পর্যটকদের ভিড় তুলনামূলক কম এবং স্থানীয় জীবনযাত্রা এখনও অনেকটাই স্বাভাবিক।
২০২২ সালে তারা প্রায় ১৩ হাজার ডলারে বাড়িটি কিনে নেন এবং ২০২৩ সালে পরিবারসহ সেখানে স্থায়ীভাবে চলে যান। বাড়িটি কেনার পর সংস্কার ও সাজসজ্জায় আরও প্রায় ১৫ হাজার ইউরো ব্যয় করেন। পুরো বাড়ির পানির লাইন নতুন করে বসানোই ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাজ, যার জন্য প্রায় তিন হাজার ডলার খরচ হয়।
পরিবারটি যে গ্রামে বসবাস করছে সেখানে জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন। রাজধানী রোম থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত পাহাড়ি এই জনপদে পর্যটকদের আনাগোনা কম হলেও স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবেশ বেশ প্রাণবন্ত বলে জানান ট্রেসল। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল এমন একটি জায়গায় বসবাস করা, যেখানে ব্যস্ত নগরজীবনের পরিবর্তে শান্ত পরিবেশে পরিবারকে সময় দেওয়া যাবে।
ইতালিতে যাওয়ার পর তাদের মাসিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ট্রেসলের মেয়ের পূর্ণকালীন প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খরচ মাসে মাত্র ৭০ ডলার। বিদ্যুৎ বিল গড়ে ১৭০ ডলার, পানির বিল প্রায় ৮০ ডলার এবং ইন্টারনেটের জন্য দিতে হয় মাত্র ১৫ ডলার। প্রতিটি মোবাইল ফোন সংযোগের মাসিক খরচ প্রায় ১৪ ডলার।
এদিকে তারা একই এলাকায় আরও একটি বাড়ি প্রায় ২০ হাজার ডলারে কিনেছেন। পরে সেটি সংস্কারে আরও প্রায় ১৭ হাজার ডলার ব্যয় করা হয়। বর্তমানে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় এক হাজার ১০০ ডলার আয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রেসল।
পেশাগত জীবনেও এসেছে পরিবর্তন। নিউইয়র্কে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি ইতালির একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠানে বিপণন বিভাগে কাজ করছেন। আগের তুলনায় আয় কিছুটা কম হলেও, জীবনযাত্রার মান এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়কে তিনি এখন বেশি মূল্য দেন।
ট্রেসলের মতে, ছোট শহরের জীবন তাঁকে বুঝতে শিখিয়েছে যে সবকিছু নিয়ে প্রতিনিয়ত দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। ধীরগতির এই জীবন তাঁকে মানসিকভাবে অনেক বেশি স্বস্তি দিয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে ইতালীয় ভাষা শেখা এবং তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও এই নতুন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে পরিবারের বেশির ভাগ কেনাকাটা স্থানীয় বাজার থেকেই করা হয়। ট্রেসলের দাবি, সেখানে পাওয়া মাংস ও পনিরের মান যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভালো। দুই কুকুর ও দুই বিড়ালসহ পুরো পরিবারের সাপ্তাহিক বাজার খরচ প্রায় ১৪০ ডলার।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের জন্য মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়, তবুও স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ট্রেসলের ভাষায়, সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো নিজের বাড়ির জন্য আর কোনো ঋণ বা মাসিক কিস্তি দিতে হয় না। নগদ অর্থে বাড়ির মালিক হওয়ায় আর্থিক চাপ কমেছে এবং জীবনের অগ্রাধিকারও বদলে গেছে।
তিনি বলেন, আগে ক্যারিয়ারকে ঘিরেই সব চিন্তা ছিল। এখন পরিবার, মানসিক শান্তি এবং নিজের পছন্দের কাজকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর মতে, ইতালির ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাসের অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করিয়েছে, জীবনের সবকিছু এতটা জটিল বা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে অনেক অভিবাসী প্রথম দিকে এমন কিছু আর্থিক সিদ্ধান্ত নেন, যার প্রভাব পরে ক্রেডিট, ট্যাক্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কিংবা অবসরকালীন সঞ্চয়ে পড়ে। বাংলাদেশি নতুন অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রচলিত অনেক পরামর্শের সঙ্গে ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্যও ছড়িয়ে পড়ে। তাই শুরু থেকেই কয়েকটি বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকলে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে শক্ত আর্থিক ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব। প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ক্রেডিট হিস্ট্রি। যুক্তরাষ্ট্রে বাসা ভাড়া, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি বা বাড়ির লোনসহ বিভিন্ন আর্থিক সিদ্ধান্তে ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাদের আগে কোনো মার্কিন ক্রেডিট হিস্ট্রি নেই, তাদের জন্য সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড একটি সম্ভাব্য শুরুর পথ হতে পারে। কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত সময়মতো বিল পরিশোধ করা এবং ক্রেডিট লিমিটের খুব কাছাকাছি না যাওয়া ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরিতে সহায়ক। সংস্থাটি বলছে, কিছু বিশেষজ্ঞ মোট ক্রেডিট লিমিটের ৩০ শতাংশের নিচে এবং কেউ কেউ ১০ শতাংশের নিচে ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তবে ক্রেডিট কার্ডে ব্যালেন্স রেখে দিলেই ক্রেডিট স্কোর ভালো হয়, এমন ধারণা ঠিক নয়। প্রতি মাসে সময়মতো সম্পূর্ণ স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করলে সুদের খরচ এড়ানো যায়। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে অনেকগুলো নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদন করাও এড়িয়ে চলা ভালো। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ট্যাক্স। এ ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত একটি তথ্য সংশোধন করা জরুরি। বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয় করলেই প্রত্যেক ব্যক্তির ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। কার ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে, তা নির্ভর করে আয়ের ধরন, পরিমাণ, বয়স ও ফাইলিং স্ট্যাটাসসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। তবে সেলফ এমপ্লয়মেন্ট থেকে বছরে অন্তত ৪০০ ডলার নেট আয় হলে সাধারণত ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন এবং সেলফ এমপ্লয়মেন্ট ট্যাক্সের নিয়ম প্রযোজ্য হয়। ক্যাশে আয় করলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্যাক্সের বাইরে চলে যায় না। ট্যাক্সযোগ্য আয় সঠিকভাবে রিপোর্ট করা প্রয়োজন। ২০২৬ সালের ফাইলিং সিজনে ২০২৫ সালের অ্যাডজাস্টেড গ্রস ইনকাম ৮৯ হাজার ডলার বা তার কম হলে যোগ্য করদাতারা আইআরএস ফ্রি ফাইলের গাইডেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিনা খরচে ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারেন। এর বেশি আয়কারীদের জন্যও ফ্রি ফাইল ফিলেবল ফর্মস রয়েছে। তৃতীয় বিষয় হেলথ ইন্স্যুরেন্স। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হতে পারে বলে শুধু সুস্থ থাকার কারণে ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজন নেই ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মার্কেটপ্লেস থেকে মাসে ৫০ থেকে ১৫০ ডলারে সবাই হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রিমিয়াম নির্ভর করে আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের এলাকা, বয়স, নির্বাচিত প্ল্যান এবং আর্থিক সহায়তার যোগ্যতার ওপর। ২০২৫ সালের শেষে মহামারির সময় চালু হওয়া অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সহায়তার মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে অনেকের মার্কেটপ্লেস প্রিমিয়াম আগের তুলনায় বেশি হতে পারে। চতুর্থ বিষয় ৪০১(কে) এবং আইআরএর মতো অবসরকালীন সঞ্চয়। চাকরিদাতা ৪০১(কে) সুবিধা দিলে তার নিয়ম ভালোভাবে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মীর জমা দেওয়া অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশের বিপরীতে এমপ্লয়ার ম্যাচ দেওয়া হয়। তবে সব কোম্পানি ৩ থেকে ৬ শতাংশ ম্যাচ দেয় কিংবা কর্মী ১০০ ডলার রাখলে কোম্পানিও অবশ্যই ১০০ ডলার দেবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। ম্যাচের হার ও শর্ত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানের ওপর নির্ভর করে। এখানে ভেস্টিংয়ের নিয়মও জানা দরকার। কিছু ৪০১(কে) প্ল্যানে কোম্পানির দেওয়া অর্থের সম্পূর্ণ মালিকানা পেতে নির্দিষ্ট সময় চাকরিতে থাকতে হতে পারে। ফলে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েই এইচআর বিভাগ বা প্ল্যান ডকুমেন্ট থেকে এমপ্লয়ার ম্যাচ এবং ভেস্টিংয়ের নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো। পঞ্চম বিষয় হলো সব সঞ্চয় চেকিং অ্যাকাউন্টে ফেলে না রাখা। দৈনন্দিন বিল ও খরচের জন্য চেকিং অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হলেও দীর্ঘ সময়ের জরুরি সঞ্চয়ের জন্য সুদ দেওয়া সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা হাই ইয়েল্ড সেভিংস অ্যাকাউন্ট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদ সব সময় বা সব ব্যাংকে পাওয়া যাবে, এমন নয়। সুদের হার পরিবর্তনশীল। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার আগে বর্তমান এপিওয়াই, ফি, টাকা তোলার নিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানটি এফডিআইসি বা এনসিইউএ সুরক্ষার আওতায় আছে কি না যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন অভিবাসীদের জন্য আরেকটি কার্যকর সুবিধা হলো ইউএসপিএস ইনফর্মড ডেলিভারি। যোগ্য ঠিকানায় এই ফ্রি সার্ভিস চালু করলে বাসায় আসার আগে অনেক লেটার সাইজের মেইলের বাইরের অংশের ডিজিটাল ছবি দেখা যায় এবং নির্দিষ্ট প্যাকেজের ডেলিভারি স্ট্যাটাসও জানা যায়। তবে এটি সব চিঠি বা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারানো ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না। ইউএসপিএস বলছে, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে প্রক্রিয়াকৃত লেটার সাইজের মেইলের ক্ষেত্রেই মূলত ছবির সুবিধা পাওয়া যায়। আমেরিকায় নতুন আসার পর প্রথম কয়েক মাসে ক্রেডিট তৈরি, সঠিকভাবে ট্যাক্স রিপোর্ট করা, প্রয়োজন অনুযায়ী হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া, চাকরির রিটায়ারমেন্ট সুবিধা বোঝা এবং সঞ্চয়ের জন্য উপযুক্ত অ্যাকাউন্ট বেছে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তবে এসব পদক্ষেপ মেনে চললেই প্রত্যেক ব্যক্তি বছরে নির্দিষ্টভাবে ৫ হাজার ডলার সাশ্রয় করবেন, এমন হিসাবের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। ব্যক্তির আয়, পরিবার, স্টেট, চাকরি ও আর্থিক পরিস্থিতির ওপর প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে। এই তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য। ট্যাক্স, বিনিয়োগ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য আর্থিক সিদ্ধান্তের নিয়ম ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
টেক্সাস গভর্নরের হস্তক্ষেপের পর ডালাস বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর স্থান নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল
একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা: কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে তিন বোনের মধ্যে বেঁচে রইলেন শুধু একজন, হারালেন বাবা-মাকেও
টেক্সাসে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল দুই মার্কিন সেনা পাইলটের
বাংলাদেশে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন অনেক শিক্ষার্থী। আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকায় তাদের অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আবেদন করা সম্ভব নয়। তবে কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে, যেখানে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর ছাড়াই শুরু করার সুযোগ রয়েছে। পরে নির্ধারিত ইংলিশ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে নিয়ম আলাদা এবং ভিসা কখনোই নিশ্চিত নয়। জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি: কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রাম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা আইইএলটিএস বা টোফেল না দিয়েও ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারেন। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রোগ্রাম আই-২০ দেওয়ার অনুমোদনও রাখে। এই প্রোগ্রামের কয়েকটি স্তর সফলভাবে শেষ করলে নির্দিষ্ট শর্তে আন্ডারগ্র্যাজুয়েটে ভর্তি হওয়া যায়। ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা: অরল্যান্ডোর ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েটরা আবেদন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ইংলিশ লেভেল টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা নির্ধারণ করে। প্রোগ্রামের লেভেল ৮ সফলভাবে শেষ করলে ইউসিএফে ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো পরীক্ষার স্কোর আর প্রয়োজন হয় না। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস: ডেন্টনের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ইনটেনসিভ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি দক্ষতা উন্নত করতে পারেন। নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা দিতে হয় এবং সেই ফল অনুযায়ী ইংলিশের স্তর নির্ধারণ করা হয়। লেভেল ৬ সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করা যায়। কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়াশোনার পথও রয়েছে। পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি: ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইনটেনসিভ ইংলিশ ও কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা কোনো ইংলিশ টেস্ট স্কোর জমা না দিয়েও প্রভিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ পেতে পারেন এবং পরে ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারেন। হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীরাও ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন। পূর্ণকালীন প্রোগ্রামে পড়ার জন্য এফ-১ ভিসা এবং আই-২০ প্রয়োজন। আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা: ইউনিভার্সিটি অব আলাবামায় একাডেমিক যোগ্যতা পূরণ করলেও ইংরেজি দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ রয়েছে। এসব শিক্ষার্থী প্রথমে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করার পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্টভাবে বলছে, কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে আবেদনের সময় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও শিক্ষার্থীর ইংরেজিতে অন্তত ভিসা ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা অফিসার শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারেন। তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পেলেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হয় না। এ ধরনের প্রোগ্রামে আবেদন করতে সাধারণত একাডেমিক কাগজপত্র, পাসপোর্ট এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়। এফ-১ ভিসার জন্য আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস ফি, ভিসা আবেদন এবং ইন্টারভিউয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রোফাইল, আর্থিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার উদ্দেশ্য পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, “আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই” মানে ইংরেজি দক্ষতার কোনো যাচাই ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা, ইংলিশ প্রোগ্রাম বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ভাষাগত প্রস্তুতি যাচাই করতে পারে। তাই সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভর্তি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ১৫ লাখের বেশি ডিম, না খাওয়ার কড়া নির্দেশ দিল এফডিএ
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে হাম, ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রির সবচেয়ে খারাপ সময় এখন? নতুন প্রতিবেদনে যা জানা গেল
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারি চাকরি হতে পারে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সিটি, কাউন্টি, স্টেট এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসন, হিসাবরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন, জননিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ধরনের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার নিয়ম বেসরকারি চাকরির মতো নয়। কোথায় চাকরিটি, কোন দপ্তরের অধীনে এবং পদটির জন্য পরীক্ষা বা বিশেষ যোগ্যতা প্রয়োজন কি না, তার ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে। সবচেয়ে আগে বুঝতে হবে, সিটি জব, স্টেট জব এবং ফেডারেল জব আলাদা। কোনো শহরের চাকরি হলে সেটি সিটি সরকারের অধীনে, স্টেট জব হলে রাজ্য সরকারের অধীনে এবং ফেডারেল জব হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। তাই চাকরি খোঁজার জায়গাটিও আলাদা। ইউএসএ গভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস প্রধান সরকারি প্ল্যাটফর্ম। আর স্টেট সরকারের চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেটের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে যেতে হয়। স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিটি বা কাউন্টির সরকারি ওয়েবসাইট দেখতে হয়। নিউইয়র্ক সিটির চাকরি এর একটি ভালো উদাহরণ। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অধীনে তিন লাখের বেশি কর্মী এবং প্রায় ৮০টি এজেন্সি রয়েছে। ক্লেরিক্যাল ও প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে অর্থ ও হিসাব, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন কারিগরি পেশায় চাকরির সুযোগ রয়েছে। তবে নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সিটির ৮০ শতাংশের বেশি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে জীবনবৃত্তান্ত পাঠালেই অনেক ক্ষেত্রে হবে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হতে পারে। যে পদে পরীক্ষা প্রয়োজন, তার জন্য প্রথমে ওই পদের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ ভালোভাবে পড়তে হবে। সেখানে কাজের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষার পদ্ধতি, আবেদন করার সময়সীমা এবং পরীক্ষার ফি সম্পর্কে তথ্য থাকে। যোগ্যতা পূরণ করলে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেও আবেদন করা যায়। পরীক্ষার ধরনও সব পদের জন্য এক নয়। কিছু পরীক্ষা নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠিত হয়। আবার কিছু পদে শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনলাইনে মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীর নাম নির্দিষ্ট তালিকায় আসে এবং নিয়োগকারী সিটি এজেন্সি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে ডাকতে পারে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির সব চাকরিতে পরীক্ষা লাগে না। কিছু পদে সরাসরি আবেদন করা যায়। এসব চাকরি সাধারণত সিটির চাকরির পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। তাই শুধু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার তালিকা দেখলেই হবে না, সরাসরি আবেদন করা যায় এমন চাকরিগুলোও নিয়মিত দেখা দরকার। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিদেশি ডিগ্রির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির কিছু চাকরিতে বিদেশ থেকে নেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান যাচাই করতে হতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা কেউ সরকারি চাকরিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সেটি দেখে নেওয়া উচিত। এবার আসা যাক স্টেট সরকারের চাকরিতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটের নিজস্ব চাকরির ব্যবস্থা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ায় সরকারি চাকরির জন্য টিম জর্জিয়া ক্যারিয়ার্স পোর্টাল ব্যবহার করা হয়। সেখানে রাজ্য সরকারের প্রায় ১০০টি এজেন্সিতে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কাউন্টি, কাজের ক্ষেত্র এবং পদের ধরন অনুযায়ী অনুসন্ধান করা যায়। জর্জিয়া স্টেটের চাকরিতে শিক্ষা, সাধারণ প্রশাসন, নিয়ন্ত্রক কাজ, আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার আগে চাকরির দায়িত্ব, যোগ্যতা এবং আবেদনের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হয়। সব পদে একই ধরনের যোগ্যতা বা আবেদন পদ্ধতি থাকে না। অন্য স্টেটেও একইভাবে সংশ্লিষ্ট স্টেট সরকারের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ আপনি নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, নিউ জার্সি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্য কোনো স্টেটে থাকলে প্রথমে সেই স্টেট সরকারের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি নিজের শহর ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পেজও দেখা উচিত। ফেডারেল সরকারের চাকরির প্রক্রিয়া আবার কিছুটা আলাদা। ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্ল্যাটফর্ম। আবেদন শুরু করতে প্রথমে লগইন ডট গভ অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। এরপর ইউএসএজবস প্রোফাইল তৈরি করে জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু পদের নাম দেখলেই হবে না। ফেডারেল চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “হু মে অ্যাপ্লাই” এবং “হাউ টু অ্যাপ্লাই” অংশ বিশেষভাবে পড়তে হয়। কারণ সব ফেডারেল চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কোনো পদ সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে, আবার কোনো পদ নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা বিশেষ নিয়োগের আওতায় থাকতে পারে। ফেডারেল চাকরির আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউএসএজবস সাধারণত জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার পর আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সরকারি এজেন্সির নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থায় নিয়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত তথ্য, প্রশ্নপত্র বা ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে। তাই ইউএসএজবসে “অ্যাপ্লাই” চাপার পরেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদন শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টে গিয়ে আবেদনটি সফলভাবে জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত করা উচিত। আবেদন করার পর শুরু হয় বাছাই প্রক্রিয়া। সরকারি চাকরিতে অনেক সময় আবেদন পাওয়ার পর যোগ্যতা যাচাই, প্রাথমিক বাছাই, ইন্টারভিউ, নির্বাচন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মতো একাধিক ধাপ থাকে। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এরপর ইন্টারভিউ হতে পারে। নির্বাচিত প্রার্থীকে প্রথমে শর্তসাপেক্ষ চাকরির অফার দেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত অফার দেওয়া হয়। সরকারি চাকরির অন্যতম আকর্ষণ হলো বেনিফিট। তবে সব সরকারি চাকরিতে একই সুবিধা পাওয়া যায় না। স্টেট, সিটি বা ফেডারেল সরকারের নিয়ম এবং চাকরির ধরন অনুযায়ী সুবিধা পরিবর্তিত হয়। ফেডারেল সরকারের যোগ্য কর্মীরা হেলথ, ডেন্টাল, ভিশন ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফ্লেক্সিবল স্পেন্ডিং অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে লং টার্ম কেয়ার ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা পেতে পারেন। ফেডারেল কর্মীদের জন্য অবসরকালীন সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে। জর্জিয়া স্টেটের সরকারি কর্মীদের জন্য মেডিকেল ও ডেন্টাল কভারেজ, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং অন্যান্য কর্মী সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেট সরকারের চাকরির সুবিধার মধ্যে কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অবসর পরিকল্পনাও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রেও বেতন ছাড়াও বিভিন্ন কর্মী সুবিধা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কর্মী কোন সুবিধা পাবেন, সেটি তার পদ, চাকরির শ্রেণি, ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে শুধু বেতন নয়, সেই পদের বেনিফিট সম্পর্কিত তথ্যও দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি সময় নিতে পারে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, যোগ্যতার তালিকা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা একাধিক ধাপের কারণে চাকরি পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির পরীক্ষাভিত্তিক চাকরিতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো, সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় সাধারণ একটি জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলেই সব সময় কাজ হয় না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে, জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্রে সেই যোগ্যতার সঙ্গে নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার মিল পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হয়। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র বা অতিরিক্ত ডকুমেন্টও লাগতে পারে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সব সরকারি চাকরিতে নাগরিকত্বের নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির “হু মে অ্যাপ্লাই” অংশে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। তাই ইউএস সিটিজেন, গ্রিন কার্ডধারী বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়। প্রতিটি পদের যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। সরকারি চাকরিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতারণা থেকে সাবধান থাকা। সরকারি চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চাকরির আবেদন সব সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে করা উচিত। কেউ যদি চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে আগে টাকা চায় বা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংকিং তথ্য চায়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। তাহলে একজন বাংলাদেশি কোথা থেকে শুরু করবেন? প্রথমে নিজের স্টেট, সিটি ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। এরপর নিজের শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স এবং দক্ষতার সঙ্গে মেলে এমন পদ খুঁজতে হবে। চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখতে হবে পদটির জন্য কোনো পরীক্ষা দরকার কি না, ন্যূনতম যোগ্যতা কী, আবেদন কখন শেষ হবে এবং কী কী ডকুমেন্ট লাগবে। এরপর জীবনবৃত্তান্ত ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করে অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্কে থাকলে সিটি জবের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ও নিজের কাউন্টির চাকরিও দেখা যেতে পারে। জর্জিয়ায় থাকলে স্টেট সরকারের পাশাপাশি কাউন্টি ও সিটি সরকারের চাকরি খোঁজা উচিত। একইভাবে অন্য স্টেটেও স্থানীয় সরকার, কাউন্টি এবং স্টেট সরকারের আলাদা আলাদা চাকরির সুযোগ থাকে। ফেডারেল চাকরির জন্য আলাদাভাবে ইউএসএজবস ব্যবহার করতে হবে। সরকারি চাকরি সবার জন্য একই রকম নয় এবং সব পদের বেতন বা সুবিধাও এক নয়। তবে স্থায়ী ক্যারিয়ার, নিয়মিত আয়, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য সরকারি চাকরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার অপশন হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিচিত কারও কাছ থেকে শোনা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি পড়ে আবেদন করা। কারণ একটি সিটি বা স্টেটের নিয়ম অন্য সিটি বা স্টেটে একই নাও হতে পারে। সঠিক জায়গায় চাকরি খোঁজা, যোগ্যতা যাচাই করা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে অনুসরণ করাই সরকারি চাকরিতে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৫, পরে হামলাকারীরও লাশ উদ্ধার
ফ্লোরিডায় ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর আকুতি, আইসিইর হেফাজত থেকে স্বামীকে ফেরত চান তিনি