ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে এক বছরে ট্রাম্পের আয় প্রায় ১২০ কোটি ডলার, প্রকাশ্যে সরকারি নথি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর তাঁর ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যবসা থেকে প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার (১.২ বিলিয়ন ডলার) আয় করেছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব গভর্নমেন্ট এথিকস (ওজিই)-এ জমা দেওয়া বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে একই সময়ে ট্রাম্প-সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ক্রিপ্টো সম্পদের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী লোকসানের মুখে পড়েছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের সময় ট্রাম্পের ক্রিপ্টো উদ্যোগগুলো ছিল একেবারেই নতুন। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এসব ব্যবসা তাঁর দীর্ঘদিনের রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্যের অনেক সম্পত্তির আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধনকুবের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টোবান্ধব নীতির কারণে এসব ব্যবসার দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ট্রাম্পের ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল নামের প্রতিষ্ঠান নতুন ধরনের ক্রিপ্টো সম্পদ, বিশেষ করে গভর্ন্যান্স টোকেন বিক্রি করে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছে। এছাড়া ট্রাম্পের আরেক প্রতিষ্ঠান সিআইসি ডিজিটাল এলএলসি তাঁর ছবি সংবলিত মিম কয়েন বিক্রি করে ৬০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে।
তবে এসব টোকেন ও মিম কয়েন বিক্রির পর সেগুলোর বাজারমূল্য বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাজারে আসার পর ট্রাম্পের মিম কয়েনের দাম ৭৪ ডলারের বেশি উঠলেও বর্তমানে সেটির মূল্য নেমে এসেছে প্রায় ১ দশমিক ৬৮ ডলারে। অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের গভর্ন্যান্স টোকেনের মূল্য লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে।
ক্রিপ্টো ব্যবসার পাশাপাশি ট্রাম্প তাঁর নাম ব্যবহার করে বাজারজাত করা বিভিন্ন পণ্য থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করেছেন। সরকারি নথি অনুযায়ী, ট্রাম্প ব্র্যান্ডের বাইবেল, জুতা, ঘড়ি এবং অন্যান্য পণ্য বিক্রি করে তিনি কয়েক কোটি ডলার আয় করেছেন। শুধু ট্রাম্প ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি বিক্রি থেকেই তাঁর আয় হয়েছে প্রায় ৪৭ লাখ ডলার।
৯২৭ পৃষ্ঠার আর্থিক বিবরণীতে আরও দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। ফোর্বস-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ২৩০ কোটি ডলার।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতেও ট্রাম্পের আয় বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি প্রকল্প থেকে তিনি প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার, সৌদি আরবে একটি প্রকল্প থেকে প্রায় ৯০ লাখ ডলার, আর রোমানিয়া ও কাতারের দুটি প্রকল্প থেকে প্রায় ৫০ লাখ ডলার করে রাজস্ব পেয়েছেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত তাঁর বিখ্যাত মার-আ-লাগো সম্পত্তি থেকেও গত বছর প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। যদিও প্রকাশিত আর্থিক বিবরণীতে আয়ের তথ্য থাকলেও প্রকৃত মুনাফার হিসাব উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প আগের প্রশাসনের তুলনায় ক্রিপ্টো শিল্পের প্রতি অনেক বেশি ইতিবাচক নীতি গ্রহণ করেন। এর ফলে শিল্পটির ওপর নিয়ন্ত্রক চাপ কিছুটা শিথিল হয়। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো শুরু থেকেই গভর্ন্যান্স টোকেন নিয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল। তাদের মতে, এসব টোকেন শেয়ারের মতো মালিকানার অধিকার দেয় না এবং এর প্রকৃত মূল্য নির্ধারণও জটিল।
এদিকে, ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো প্রকল্পে চীনা ধনকুবের জাস্টিন সান বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি গভর্ন্যান্স টোকেনে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ট্রাম্পের মিম কয়েনে প্রায় ২০ কোটি ডলার ব্যয় করেন। তবে তিনি বরাবরই দাবি করে আসছেন, ট্রাম্পের ব্যবসায় তাঁর বিনিয়োগের সঙ্গে নিজের আইনি মামলার কোনো সম্পর্ক ছিল না। ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হোয়াইট হাউসের দাবি, ট্রাম্প তাঁর ব্যবসায়িক সম্পদ একটি ট্রাস্টের অধীনে রেখেছেন, যা তাঁর ছেলেরা পরিচালনা করছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি শুধুমাত্র দেশের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেন এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ তাঁর সরকারি দায়িত্বকে প্রভাবিত করে না।
তবে সমালোচকদের মতে, বিদেশে ট্রাম্পের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রকল্প এবং একই সময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে সরাসরি কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ হয়নি।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে টানা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের জীবনযাপন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও তা গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি বলেন, জাহাজটি সমুদ্রে যে সময় কাটিয়েছে, তা “যথেষ্ট দীর্ঘ নয়।” একই সঙ্গে তিনি জানান, শিগগিরই অন্য একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিংকনের জায়গা নেবে। শুক্রবার নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পের কাছে জাহাজটিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি উদ্বেগের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন বহনকারী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন কয়েক মাস ধরে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ২৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টানা সমুদ্রে রয়েছে। কোনো বন্দরে না থেমে ২০০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে থাকার ঘটনাও আধুনিক মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। দীর্ঘ এই ডিপ্লয়মেন্ট নিয়ে নাবিকদের পরিবার এবং কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে জাহাজের কয়েকজন সদস্যের গুরুতর মানসিক সংকটে পড়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। একজন নাবিক সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে মার্কিন নৌবাহিনী বলছে, জাহাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে বলে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য তাদের কাছে নেই। জাহাজের খাবার, পানি, স্যানিটেশন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। নাবিকদের পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ বলেছেন, দীর্ঘদিন বন্দরে ভিড়তে না পারায় ক্রুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বেড়েছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব প্রতিবেদনের বড় অংশকে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পও একই অবস্থান নিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আব্রাহাম লিংকন “যথেষ্ট দীর্ঘ সময়” সেখানে ছিল না। নাবিকদের পরিবার উদ্বিগ্ন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার জানা মতে তারা উদ্বিগ্ন নয়। তিনি আরও জানান, জাহাজটি শিগগিরই ফিরিয়ে আনা হবে এবং তার জায়গায় আরেকটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার পাঠানো হচ্ছে। ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বর্তমানে আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। জাহাজটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে এটি ভিয়েতনামের দা নাং বন্দরে অবস্থান করেছিল। আব্রাহাম লিংকনের বর্তমান ডিপ্লয়মেন্ট শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে। প্রথমে এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছিল। পরে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও এটি আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের অপারেশন এলাকায় মোতায়েন ছিল। দীর্ঘ ডিপ্লয়মেন্টের পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা জাহাজের নাবিকদের স্বাস্থ্য, খাবার, স্যানিটেশন এবং সামগ্রিক কর্মপরিবেশ সম্পর্কে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। তারা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের ফলে সামরিক সদস্যদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, সেটিও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ধরনের নিমিৎজ শ্রেণির এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থেকে যুদ্ধবিমান পরিচালনার পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের মাধ্যমে আকাশ ও সমুদ্রপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব। এখন ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর আব্রাহাম লিংকন কখন নিজ ঘাঁটি সান ডিয়েগোতে ফিরবে, সেটিই জাহাজে থাকা হাজারো নাবিক ও তাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করছেন ট্রাম্প!
আমেরিকায় নতুন এসেই বাংলাদেশিরা, এই ৫ ভুলে লস করছেন হাজার ডলার
টেক্সাস গভর্নরের হস্তক্ষেপের পর ডালাস বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর স্থান নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল
কলম্বিয়ার কালি শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তিন বোনের দুইজন, যারা জন্ম থেকেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন, একই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং একসঙ্গে বিদেশেও ভ্রমণ করেছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় তিন বোনের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন শুধু ২৩ বছর বয়সী আনিয়া মারিয়া। ১৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কালি শহরের একটি ভবন ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন আনিয়া মারিয়া, তার তিনজনের মধ্যে দুই বোন সোফিয়া ও ইসাবেলা এবং তাদের বাবা-মা হাইরো হার্নান সাভেদ্রা ও ভিক্টোরিয়া কাইসেদো। পরিবারের আরেক সদস্যও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে আনিয়া মারিয়ার বাবা-মাকে খুঁজে পান। পরে তার বোন সোফিয়ার সন্ধান মেলে। সর্বশেষ ইসাবেলাকে খুঁজে পাওয়া গেলেও তখন তিনি আর বেঁচে ছিলেন না। ১৩ আগস্ট রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আনিয়া মারিয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হন। তার শ্রোণিতে একাধিক হাড় ভেঙেছে এবং দুই হাতেও আঘাত রয়েছে। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কালি শহরের ইমবানাকো ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজন ও বন্ধুরা হাসপাতালে তার পাশে রয়েছেন। তিন বোনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ছোটবেলা থেকেই তারা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। একই বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি সময় ফ্রান্সেও কাটিয়েছেন। বন্ধু ও স্বজনদের কাছে তারা ছিলেন সব সময় একসঙ্গে থাকা তিন বোন। এই দুর্ঘটনার আগে তাদের জীবন ছিল অনেকটাই পরস্পরকে ঘিরে। একসঙ্গে পড়াশোনা, ঘোরাঘুরি এবং পারিবারিক সময় কাটানো ছিল তাদের জীবনের নিয়মিত অংশ। কয়েকদিনের ব্যবধানে সেই পরিবারের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। কলম্বিয়ার এই ভূমিকম্পে কালি শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ২৮১ জন নিহত, প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জন আহত এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি রয়েছে। ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। আনিয়া মারিয়ার পরিবারের এই ঘটনা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের একটি চিত্র তুলে ধরেছে। যে তিন বোন জন্ম থেকে একসঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে এখন একজনই বেঁচে আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনিয়া মারিয়াকে ঘিরে এখন তার স্বজন ও বন্ধুরাই হয়ে উঠেছেন প্রধান ভরসা। সূত্র: ইউওএল, দ্য সান।
টেক্সাসে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল দুই মার্কিন সেনা পাইলটের
ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ রয়েছে এমন ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাষ্ট্রে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ১৫ লাখের বেশি ডিম, না খাওয়ার কড়া নির্দেশ দিল এফডিএ
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম (মিজলস)। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সিডিসির ১৩ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজুড়ে ৩৮টি পৃথক প্রাদুর্ভাব (আউটব্রেক) শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশই এসব চলমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজার ৫৫০ জন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা এবং ১৬ জন আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াসহ মোট ৪৭টি প্রশাসনিক এলাকায় হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সর্বশেষ উইসকনসিনেও নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তারের অন্যতম কারণ শিশুদের মধ্যে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকার হার কমে যাওয়া। একটি এলাকায় হার্ড ইমিউনিটি বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাধারণত অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুর টিকাপ্রাপ্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় সেই হার এখন এর নিচে নেমে গেছে। উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের টিকাদান নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এমএমআর টিকার কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে কমে ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ছয় বছর বয়সী শিশুদের টিকাদানের হারও ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। ক্লার্ক, মনরো, ভার্নন ও ক্রফোর্ড কাউন্টির মতো কিছু এলাকায় এই হার ৭০ শতাংশেরও নিচে নেমেছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের হামে আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই টিকা নেননি অথবা তাদের টিকাদানের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কম টিকাদানের এলাকাগুলোতেই পারিবারিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন নির্বাহী আদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সম্মিলিত এমএমআর টিকাকে ভবিষ্যতে তিনটি পৃথক টিকায় বিভক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যদি দেশীয় উৎপাদন সম্ভব হয়। পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন টিকা একসঙ্গে না দিয়ে আলাদা আলাদা সময়ে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিশু চিকিৎসকেরা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ও কিশোরস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মেলিসা স্টকওয়েল নিউজউইককে বলেন, এমএমআর টিকাকে আলাদা করে দিলে পরিবারের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে। এতে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে সব ডোজ সম্পন্ন না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং তারা দীর্ঘ সময় সুরক্ষার বাইরে থাকবে। তিনি বলেন, হাম নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। 'মিজলস কোলাবোরেটিভ'-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. প্যাটসি স্টিঞ্চফিল্ড বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে সম্মিলিত এমএমআর টিকা নিরাপদভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুই ডোজ টিকা নেওয়া ৯৯ শতাংশের বেশি মানুষের শরীরে কার্যকর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। তার ভাষায়, "এমএমআর টিকাকে আলাদা করার এই সুপারিশের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।" লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, টিকাদান নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন টিকা নিয়ে দ্বিধা আরও বাড়াতে পারে এবং শিশুদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হাম, মাম্পস ও রুবেলার পৃথক টিকা বাজারে সহজলভ্য নয়। টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও আলাদা টিকা উৎপাদনের কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে সিডিসি এখনো তাদের বিদ্যমান নির্দেশনা বহাল রেখেছে। সংস্থাটি ১২ থেকে ১৫ মাস এবং ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দুটি ডোজ সম্মিলিত এমএমআর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। উইসকনসিনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগও অভিভাবকদের বর্তমান সিডিসি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, চলমান সংক্রমণের মধ্যে সময়মতো টিকা নেওয়াই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র: সিডিসি, নিউজউইক।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রির সবচেয়ে খারাপ সময় এখন? নতুন প্রতিবেদনে যা জানা গেল
যুক্তরাষ্ট্রে সিটি জবসহ সরকারি চাকরি কীভাবে পাবেন, কোথায় আবেদন করবেন এবং কী কী সুবিধা রয়েছে