জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল : সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানালেন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিবাসী বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশ বাতিল করার পর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি।
৩০ জুন দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে দেড় শতাব্দীরও বেশি আগে অন্তর্ভুক্ত একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, আমেরিকার মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই মার্কিন নাগরিক। একজন মানুষের ত্বকের রঙ, বাবা-মায়ের জন্মস্থান, ধর্মীয় পরিচয় বা বাড়িতে কোন ভাষায় কথা বলা হয়, নাগরিকত্ব নির্ধারণে এসব বিষয়ের কোনো প্রভাব নেই।
মেয়র বলেন, এই বিষয়টি কখনোই বিতর্কের হওয়ার কথা ছিল না। তার ভাষায়, ফেডারেল প্রশাসন সংবিধানের অন্যতম স্পষ্ট নিশ্চয়তাকে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল, যাতে তারা নির্ধারণ করতে পারে কে এই দেশের অন্তর্ভুক্ত এবং কে নয়। আদালত সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্ক সিটি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের শক্তির একটি জীবন্ত উদাহরণ। অভিবাসী পরিবারের সন্তানরাই আজ শহরের শিক্ষক, নার্স, নির্মাণ শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিল্পী, সরকারি কর্মচারী এবং সাধারণ প্রতিবেশী হিসেবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
নিউইয়র্কে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর উদ্দেশে মেয়র বলেন, পাঁচটি বরোজুড়ে বসবাসকারী প্রতিটি অভিবাসী পরিবারকে তিনি স্পষ্টভাবে জানাতে চান, তারা এই শহরেরই অংশ এবং তাদের সন্তানরাও এখানকারই অংশ।
তিনি বলেন, কোনো আদালত তাদের মানবিক মর্যাদা কেড়ে নিতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডাও এই সত্য পরিবর্তন করতে পারবে না যে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যই দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিবৃতির শেষাংশে মেয়র মামদানি অঙ্গীকার করেন, যতদিন তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন শহর অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা করবে, তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবে এবং আরও উন্নত আমেরিকা গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় তাদের পাশে থাকবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইনের আওতায় প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জনপ্রতি ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেজারি বিভাগ ৩০টি অঙ্গরাজ্যের ৯ লাখ ৫০ হাজারের বেশি যোগ্য গ্রাহকের কাছে এই অর্থ পাঠানো শুরু করেছে। অর্থের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। তবে এটি সবার জন্য দেওয়া কোনো সরকারি প্রণোদনা বা সাধারণ ট্যাক্স রিফান্ড নয়। প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস হেলথকেয়ার ডট গভের মাধ্যমে ওবামাকেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং প্রিমিয়াম সহায়তা বা সরকারি ভর্তুকি পাননি, মূলত তাদেরই এই ফেরতের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ যারা নিজেদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের পুরো প্রিমিয়াম নিজেরাই পরিশোধ করেছেন, তাদের একটি অংশ এই অর্থ পেতে পারেন। এই ফেরতের পেছনে প্রশাসনের ব্যাখ্যা হলো, ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস পরিচালনার জন্য ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে যে ব্যবহার ফি নেওয়া হয়েছিল, তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ছিল। প্রশাসনের দাবি, ওই অতিরিক্ত অর্থ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের ওপর প্রভাব ফেলেছিল এবং একটি বড় উদ্বৃত্ত তৈরি হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এখন সেই উদ্বৃত্তের একটি অংশ যোগ্য গ্রাহকদের ফেরত দিচ্ছে। তবে আগের প্রশাসন সত্যিই গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি; ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বর্তমান প্রশাসনের ঘোষণা। প্রতিজন যোগ্য গ্রাহক ৫০০ ডলার করে পাবেন। একই পরিবারের একাধিক সদস্য যদি যোগ্য হন, তাহলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ৫০০ ডলারের ফেরত আসতে পারে। ফলে একটি পরিবারের মোট ফেরতের পরিমাণ ৫০০ ডলারের বেশি হতে পারে। অর্থ পাঠানোর দায়িত্ব ট্রেজারি বিভাগের এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আমেরিকান নাগরিক হওয়া বা না হওয়াই মূল বিষয় নয়। যোগ্যতা নির্ধারণে কোন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া হয়েছে এবং প্রিমিয়ামের জন্য সরকারি সহায়তা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি যদি সংশ্লিষ্ট ফেডারেল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে যোগ্য ওবামাকেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে থাকেন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন, তাহলে তিনি এই ফেরতের আওতায় পড়তে পারেন। এই কর্মসূচি ৩০টি অঙ্গরাজ্যে প্রযোজ্য। এসব রাজ্য ২০২৬ সালের জন্য ফেডারেল হেলথকেয়ার ডট গভ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসিলভানিয়াসহ ২০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি নিজস্ব স্টেট-বেসড হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস পরিচালনা করছে। ফলে এসব রাজ্যের নিজস্ব মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে নেওয়া পরিকল্পনা এই নির্দিষ্ট ৫০০ ডলারের ফেরত কর্মসূচির আওতায় নেই। যোগ্য ব্যক্তিদের আলাদাভাবে নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের ঘোষণায় নতুন আবেদন প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়নি; বরং ট্রেজারি বিভাগ সরাসরি যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে ফেরতের অর্থ পাঠাচ্ছে। তাই কেউ ৫০০ ডলার পাওয়ার কথা বলে ফোন, ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ব্যাংক তথ্য, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা কোনো ফি চাইলে সতর্ক থাকা জরুরি। এই অর্থকে সাধারণ ট্যাক্স রিফান্ড বা সবার জন্য দেওয়া নতুন সরকারি অর্থ হিসেবে না দেখে নির্দিষ্ট ওবামাকেয়ার গ্রাহকদের জন্য ফেরত অর্থ হিসেবে দেখা উচিত।
ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলায় উইসকনসিনের মসজিদ নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের কলেজের জন্য টাকা জমিয়ে ট্যাক্স সুবিধা, ৫২৯ প্ল্যান কীভাবে কাজে আসবে?
এবার মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ট্রাম্পের, দিলেন কড়া নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে নতুন সকার দল ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই দলটির অন্যতম লক্ষ্য। দলের ম্যানেজার আতাহার হোসাইন জানান, বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স মূলত তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিভাবান তরুণদের জন্য একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তাদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তরুণদের একসঙ্গে মাঠে খেলার সুযোগ হলে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবে বলে আশা করছেন তিনি। আতাহার হোসাইন বলেন, নতুন ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি সুন্দর ও শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে চান তারা। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও ক্রীড়াসুলভ আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে আটলান্টার বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ফুটবল চর্চা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যও রয়েছে দলের। আগামী দিনে স্থানীয় বিভিন্ন সকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও অন্যান্য দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায় বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স। যারা দলের হয়ে খেলতে আগ্রহী, তাদের ম্যানেজার আতাহার হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্যোক্তারা মনে করেন, খেলাধুলা শুধু মাঠের প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি কমিউনিটির মানুষকে একসঙ্গে আসার এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করারও একটি কার্যকর মাধ্যম। পরিবার, বন্ধু ও কমিউনিটির সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে দলটিকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সকার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা। বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের ম্যানেজার আতাহার হোসাইন দলের নতুন যাত্রার জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের একসঙ্গে নিয়ে আটলান্টায় একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি এবং কমিউনিটির মধ্যে ঐক্যের বন্ধন আরও শক্তিশালী করাই দলের অন্যতম লক্ষ্য।
নভেম্বর ৩০ থেকেই ভিসার ফিতে বড় পরিবর্তন, দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ছে আবেদন খরচ
ডিএমভিতে ৩৪ বছরের গৌরব উদযাপন, ‘স্বর্ণালী অতীত’ নিয়ে বসছে ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’
জর্জিয়ার বাড়ির লনে হরিণ-খরগোশ, রাস্তায় রাজহাঁস-ময়ূর; প্রকৃতির এমন দৃশ্যে মুগ্ধ প্রবাসীরা
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত আইভি লিগ প্রতিষ্ঠান কর্নেল ইউনিভার্সিটির এক সাম্প্রতিক জরিপে যৌন নিপীড়নের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। রাজ্য-নির্দেশিত '২০২৫ সার্ভে অব সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট অ্যান্ড রিলেটেড মিসকন্ডাক্ট' শীর্ষক ওই জরিপে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পড়ুয়া প্রায় ৩৫ শতাংশ ছাত্রী ক্যাম্পাসে থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক বা অসহায় অবস্থায় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, স্নাতক পড়ুয়া ছাত্রদের মধ্যে এই হার ৮ শতাংশ। এর পাশাপাশি, ২০২৪ সালে এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক মাদক খাইয়ে 'চি ফি' (Chi Phi) ফ্র্যাটার্নিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের (গ্যাং রেপ) অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছেন প্রসিকিউটররা। গত মার্চে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্সিয়াল টাস্ক ফোর্সের এক সারসংক্ষেপ প্রতিবেদনে জানানো হয়, যৌন নিপীড়ন রোধে দীর্ঘ সময় ধরে নানা পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে এই ধরনের অপরাধের হার এখনও উদ্বেগজনকভাবে বেশি। এসব ঘটনার অধিকাংশের সাথেই অ্যালকোহল বা মাদকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, সাধারণ ছাত্রীদের (২৯%) তুলনায় ফ্র্যাটার্নিটি বা সোরোরিটি-সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের (৫২%) যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার হার অনেক বেশি। অর্ধেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তারা সচেতন থাকলেও অ্যালকোহল বা মাদকের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদের রক্ষা করার মতো অবস্থায় ছিলেন না। এদিকে, টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবরের ওই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তারা নতুন করে অপরাধমূলক তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছেন এবং বিষয়টি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করবেন। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী (যার ছদ্মনাম ‘জেন ডো’ ব্যবহার করা হয়েছে) একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি নতুন করে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। যদিও ফ্র্যাটার্নিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ ওঠার তিন দিনের মধ্যেই অভিযুক্ত সাত সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনাটির তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল।
মার্কিন সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ আল-আমিন
ইহুদিবিদ্বেষ রুখতে রাজনীতিতে লিসা ভিডার, লড়ছেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনে