ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ত্রাণ-উদ্ধার তৎপরতায় ৯ শতাধিক মার্কিন সেনা, বদলাচ্ছে ওয়াশিংটন-কারাকাস সম্পর্ক?
ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়ায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে দেশটির ভেতরে ৯ শতাধিক সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে পুয়ের্তো রিকো ও কুরাসাওতে আরও প্রায় ৮০০ মার্কিন সামরিক সদস্য প্রস্তুত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডোনোভান বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর পুনরায় সচল করতে সহায়তা করছে এবং আকাশ ও নৌপথে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।
তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে চার থেকে পাঁচটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মায়ামিভিত্তিক একটি সমন্বিত তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে এসব ড্রোন থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, সড়ক যোগাযোগ এবং ধসে পড়া স্থাপনার অবস্থান শনাক্তে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ডোনোভানের ভাষায়, সাধারণত আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সামরিক সক্ষমতাগুলো বর্তমানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে কাজে লাগানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছু পরিস্থিতিতে আকাশপথ থেকে পর্যবেক্ষণ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য মাটির পর্যায়ের মূল্যায়নের তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সহযোগিতাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ছাড়া গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার কারাগারভিত্তিক অপরাধী গোষ্ঠী ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র নেতাকে লক্ষ্য করে আরেকটি অভিযান চালায়। ডোনোভান জানান, ওই অভিযান ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়েই পরিচালিত হয়েছিল। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এখন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
গত বুধবার এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে ভেনেজুয়েলার আইনসভার প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটির বয়স তিন বছর। তবে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
ডোনোভান বলেন, মার্কিন মেরিন সদস্যরাই প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক উদ্ধারকারী দল পরিবহনেও সহায়তা করেছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স থেকে যাওয়া একটি উদ্ধারকারী দল একজন মা ও তার ৯ মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ করেছে।
ত্রাণ কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাকে উল্লেখ করেন ডোনোভান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা যেন প্রবেশপথে আটকে না পড়ে এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটিই এখন প্রধান লক্ষ্য। দুর্যোগের শুরুর দিকে পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল না পাঠানোয় সমালোচনার মুখে পড়ে ভেনেজুয়েলা সরকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে প্রথম কয়েক দিন হাত, কোদাল ও দড়ি ব্যবহার করে নিজেরাই স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
গত শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে কয়েকটি এলাকায় ভারী নির্মাণযন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো মরদেহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডোনোভান বলেন, কয়েক দশকের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওষুধ ও হাসপাতালের জনবলসংকট মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কত দিন ভেনেজুয়েলায় সামরিক সহায়তা কার্যক্রম চালাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি ডোনোভান। তিনি বলেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এবং বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির কোনো পরিকল্পনা নেই। ডোনোভানের ভাষায়, "থেকে যাওয়ার কোনো আলোচনা নেই। ত্রাণ কার্যক্রম শেষ হলে আমরা চলে যাব।" তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই মানবিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সামরিক সম্পর্কোন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreহরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে ওমানের সাথে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা করছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই জলপথকে কেন্দ্র করে তেহরান ও মাস্কাটের মধ্যে আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সাথে তারা সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তবে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের কারণে এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীতে আগের মতো পূর্ণ নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তার কথায়, "এখনকার পরিস্থিতিতে সেটা বাস্তবসম্মত নয়।" এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউইয়র্কের এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে এবং খুব শিগগিরই তিনি এই প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প ওই মন্তব্য 'মজা করেই' করেছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। তিনি এক্স-এ লেখেন, "হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে। এই জলপথ কখন খোলা বা বন্ধ হবে—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক অধিকার তেহরানের।" বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয় এই ৩৩ কিলোমিটার চওড়া প্রণালী দিয়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের সাথে এই সমঝোতার উদ্যোগকে ইরানের একটি কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে—যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার একটি বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে। তবে ওয়াশিংটন এই উদ্যোগকে কতটা সহ্য করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
শিক্ষকের বকুনি থেকে জেদ করে তিনতলা ভবনের সমান নখ রেখে গিনেস বুকে রেকর্ড করেলন শ্রীধর
‘সংক্ষিপ্ত সফরে’ ইউরোপ গিয়ে ২ মাস ধরে ‘নিখোঁজ’ বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট
‘আমি ৩ দিন কেঁদেছি, এবার তোমার পালা’, ব্রেকআপের পর সাবেক প্রেমিকের বাড়িতে এক টন পেঁয়াজ পাঠালেন তরুণী
বেলজিয়ামে নর্দমার নতুন পাইপ বসানোর কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৪ কোটি টাকা মূল্যের সোনার সন্ধান পেয়েছেন নির্মাণশ্রমিকরা। দেশটির সিন্ট-খিলিস-ডেন্ডারমোন্ডে এলাকায় একটি পুরোনো ব্রুয়ারির ভবনের নিচে কাজ করার সময় এই বিপুল পরিমাণ সোনা পাওয়া যায়। সম্প্রতি ঘটা এই ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সোনা পাওয়ার পর শ্রমিকরা সেটি নিজেদের কাছে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ সোনাগুলো তালিকাভুক্ত করে নিরাপদ সরকারি হেফাজতে নিয়ে যায়। বিষয়টির উৎস ও প্রকৃত মালিকানা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে ব্রাসেলসের কাছের ফ্লেমিশ অঞ্চল সিন্ট-খিলিস-ডেন্ডারমোন্ডেতে। সেখানে একটি পুরোনো ব্রুয়ারির মালিকের বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা সংস্কারের কাজ চলছিল। ভবনটি বর্তমানে সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্ডারেনের অধীনে রয়েছে। সংগঠনটি সেখানে নতুন কার্যালয় ও আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সংস্কারকাজ চালাচ্ছে। নর্দমার পাইপ বসানোর জন্য মাটির নিচে খনন করতে গিয়ে শ্রমিকরা পুরোনো ভবনের একটি অংশের ভিতের কাছে পৌঁছান। সেখানেই তারা অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও নির্মাণশ্রমিক কোবে ভিআরটি নিউজকে জানান, প্রথমে তিনি সেগুলোকে এক ইউরোর কয়েন ভেবেছিলেন। পরে আরও খনন করার পর বোঝা যায়, সেখানে আসলে বিপুল পরিমাণ সোনা লুকিয়ে রাখা ছিল। সাইটের প্রকল্পপ্রধান মারিও জানান, শ্রমিকরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও একের পর এক সোনার কয়েন ও বার বেরিয়ে আসার পর তারা বিস্মিত হয়ে যান। এরপর তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাওয়া সোনার তালিকা তৈরি করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ৪৯টি সোনার বারসহ বিপুলসংখ্যক সোনার কয়েন পাওয়া গেছে। সেগুলোর মোট মূল্য আনুমানিক ৯ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ১০.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। পরে পুরো সোনার ভাণ্ডার নিরাপদ সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে এত বিপুল সম্পদ পাওয়ার পরও নির্মাণশ্রমিকদের জন্য সেটি নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বেলজিয়ামের আইনি বিধান অনুযায়ী, সোনার প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হেফাজতেই থাকবে। মালিকানা নিয়ে দাবি জানানোর জন্য পাঁচ বছর সময়ের বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত মালিক শনাক্ত না হলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী দাবিদার ও সন্ধানকারীর অধিকার নির্ধারিত হতে পারে। সোনার এই ভাণ্ডারটি কার ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তদন্তকারীরা এর উৎস ও মালিকানা যাচাই করছেন। এটি কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, কিংবা পুরোনো ব্রুয়ারির মালিক পরিবারের সম্পদ কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে ভবনটির সঙ্গে ভ্যান আসশে পরিবার ও পুরোনো ব্রুয়ারির সম্পর্কের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত সোনাগুলোর প্রকৃত মালিক হিসেবে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। এই আবিষ্কারের পর স্থানীয় সমাজকল্যাণ সংগঠনটির কর্মকর্তারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভবনটি বর্তমানে সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্ডারেনের মালিকানাধীন। সংগঠনটি সমাজের অসহায় মানুষদের সহায়তায় কাজ করে। সংগঠনটির পরিচালক আশা প্রকাশ করেছেন, শেষ পর্যন্ত যদি আইনগতভাবে এই সম্পদের কোনো অংশ তাদের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তবে এর আগে মালিকানা ও আইনি বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি জরুরি। অন্যদিকে, খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে গুপ্তধন খোঁজার লোকজনের ভিড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পুলিশ। তারা সাধারণ মানুষকে ওই এলাকায় না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। কারণ জায়গাটি এখনো নির্মাণকাজ ও ভাঙার কাজ চলা একটি ঘেরাও করা এলাকা এবং সেখানে বেশ কয়েকটি গভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সব সোনা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নির্মাণশ্রমিকদের জন্য ঘটনাটি নিঃসন্দেহে জীবনের অন্যতম অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজে থাকা প্রকল্পপ্রধান মারিও জানান, তার বহু বছরের কর্মজীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আর ১৮ বছর বয়সী কোবের আশা, শেষ পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তারা এই আবিষ্কারের জন্য কোনো ধরনের পুরস্কার বা সন্ধানকারীর সম্মানী পেতে পারেন। পুলিশও জানিয়েছে, তারা আশা করছে এই অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার শেষ পর্যন্ত সঠিক মানুষের হাতে যাবে এবং এর ইতিবাচক ফল অনেক মানুষের জীবনে কাজে লাগবে।
খাবার সংকট ও মানসিক স্বাস্থ্য উদ্বেগে দেশে ফিরছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত অন্তত ২০
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের, যুদ্ধবিরতির বদলে চান ‘শান্তি ব্যবস্থা’
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের যুদ্ধ তহবিলে দেওয়া ৩৫ হাজার রুপি ১০৯ বছর পর সুদসহ ফেরত চেয়ে আলোচনায় এসেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি পরিবার। ১৯১৭ সালের একটি পুরোনো সনদকে ভিত্তি করে ওই অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছে সিহোরের রুঠিয়া পরিবার। তাদের আবেদনের পর যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিস আরও নথিপত্র চেয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গিল্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়েছে। তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো অর্থ পাওনা থাকার দাবি স্বীকার করেনি। ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন সেঠ জুম্মা লাল রুঠিয়া। পরিবারের কাছে থাকা ১৯১৭ সালের ৪ জুনের সনদে উল্লেখ রয়েছে, ভোপাল স্টেটের ‘সেঠ রামা কিশান জাসকারান রুঠিয়া’ প্রতিষ্ঠানের জুম্মা লাল ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোনে’ ৩৫ হাজার রুপি সাবস্ক্রাইব করেছিলেন। সনদটিতে তৎকালীন ভোপালের ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট ডব্লিউ এস ডেভিসের স্বাক্ষর রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ সরকার বিপুল যুদ্ধব্যয় মেটাতে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধঋণ ও বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিল। ব্রিটিশ ভারতেও সেই তহবিল সংগ্রহের অংশ হিসেবে ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোন’ চালু হয়। রুঠিয়া পরিবারের কাছে থাকা সনদটি সেই কর্মসূচিতে জুম্মা লালের ৩৫ হাজার রুপি দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে তারা উপস্থাপন করছে। পরিবারটির দাবি, ওই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়েছিল এমন কোনো নথি তারা খুঁজে পায়নি। তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। ১৯১৭ সালের সনদটি অর্থ দেওয়ার তথ্য সমর্থন করলেও সেই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়েছিল কি না অথবা অন্য কোনোভাবে হিসাব নিষ্পত্তি হয়েছিল কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। রুঠিয়া পরিবারের সদস্য বিনয় ও বিবেক রুঠিয়া জানিয়েছেন, পুরোনো পারিবারিক কাগজপত্রের মধ্যে সনদটি পাওয়ার পর তারা একজন আইনজীবীর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কয়েক মাস পর ব্রিটিশ পক্ষ থেকে তাদের আবেদনের জবাব আসে। ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের জবাবে পরিবারটিকে বলা হয়েছে, তারা যদি মনে করে কোনো দাবি না করা অর্থ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে, তাহলে গিল্ট রেজিস্ট্রার কম্পিউটারশেয়ার ইনভেস্টর সার্ভিসেসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পরিবারটির পাঠানো তথ্য ও নথি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানোর কথাও জানিয়েছে ডিএমও। একই সঙ্গে মূল সার্টিফিকেট ও সংশ্লিষ্ট পুরোনো চিঠিপত্রসহ অতিরিক্ত প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। ফলে ব্রিটিশ সরকারের এই জবাবকে ঋণ স্বীকার বা অর্থ ফেরতের সম্মতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আপাতত এটি শতাব্দী পুরোনো দাবিটির নথিপত্র যাচাইয়ের একটি প্রাথমিক ধাপ। পরিবারটির সদস্য বিবেক রুঠিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন তাদের কাছে শুধু অর্থের হিসাব নয়। তারা জানতে চান, তাদের পূর্বপুরুষের দেওয়া অর্থের শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল এবং সেই ঋণ কখনো নিষ্পত্তি করা হয়েছিল কি না। পরিবারটির কাছে থাকা নথি অনুযায়ী জুম্মা লাল রুঠিয়া ১৯৩৭ সালে মারা যান। পরিবারটি শেষ পর্যন্ত কত অর্থ দাবি করবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে তাদের বক্তব্য, মূল ৩৫ হাজার রুপির সঙ্গে প্রযোজ্য সুদ এবং শত বছরের বেশি সময়ের মূল্য পরিবর্তন বিবেচনায় নিলে অঙ্কটি বর্তমান হিসাবে কয়েক কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। কিছু প্রতিবেদনে পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি রুপির বেশি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে এটি তাদের নিজস্ব হিসাব এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এমন কোনো অঙ্ক স্বীকার করেনি। পরিবারটির দাবির সঙ্গে ব্রিটেনের প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন পুরোনো সরকারি ঋণ পরিশোধের ইতিহাসও সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছিল, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ‘ওয়ার লোন’-এর বকেয়া প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড ২০১৫ সালের ৯ মার্চ সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে। ওই বন্ডটি ১৯৩২ সালে ইস্যু করা হলেও এর উৎস ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নেওয়া সরকারি ঋণ পুনঃঅর্থায়ন। ব্রিটিশ সরকার সে সময় আরও কয়েকটি পুরোনো মেয়াদহীন সরকারি বন্ডও পরিশোধের উদ্যোগ নেয়। তবে ২০১৫ সালে পরিশোধ করা ওই ব্রিটিশ সরকারি বন্ডগুলোর সঙ্গে জুম্মা লাল রুঠিয়ার ১৯১৭ সালের ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোন’ সাবস্ক্রিপশনের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে দুটি বিষয়কে একই ঋণ হিসেবে ধরে নেওয়া সঠিক হবে না। রুঠিয়া পরিবারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো ১০৯ বছরের পুরোনো আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করা। মূল সনদের পাশাপাশি উত্তরাধিকার সম্পর্কিত নথি এবং ঋণটি পরবর্তীতে পরিশোধ বা রূপান্তরিত হয়েছিল কি না, তার রেকর্ডই দাবিটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পারিবারিক কাগজপত্রের মধ্যে পড়ে থাকা একটি সনদ এভাবেই এখন যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌঁছেছে। রুঠিয়া পরিবার চাইছে, ১৯১৭ সালের সেই ৩৫ হাজার রুপির হিসাব শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থেমেছিল, তার আনুষ্ঠানিক উত্তর দিক ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
২০ বছরের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সামা সাফি অভিযোগ ছাড়াই ইসরায়েলি কারাগারে, মুক্তির দাবি রাশিদা তালিবের
চুরির অভিযোগ তদন্তে চলাকালীন কেমব্রিজের অধ্যাপক জেসনকে মৃত উদ্ধার