যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমানের প্রদর্শনীকে ‘কেয়ামত’ বলে চরম ট্রোলের শিকার নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক!
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস বা সেমি-কুইনসেন্টেনিয়াল উপলক্ষে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির আকাশে ডজন ডজন যুদ্ধবিমানের গর্জন ও চোখ ধাঁধানো সামরিক প্রদর্শনীকে ‘কেয়ামত বা ধ্বংসযজ্ঞের’ সাথে তুলনা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নিউইয়র্ক টাইমসের খ্যাতনামা সাংবাদিক লুলু গার্সিয়া-নাভারো। মার্কিন বিমান বাহিনীর এই গৌরবময় শক্তি প্রদর্শনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভীতিকর’ বলে মন্তব্য করায় নেটিজেনরা তাঁকে ধুয়ে দিয়েছেন।
আমেরিকার ঐতিহাসিক এই উদ্যাপনে বি-২ বোমারু বিমান, নাসার এফ-৫ যুদ্ধবিমান, থান্ডারবার্ডস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক সামরিক যান ওয়াশিংটনের আকাশ কাঁপিয়ে ওড়ে। এছাড়া ডিসির আকাশে রেকর্ডসংখ্যক ৮ লাখ ৫০ হাজার আতশবাজি ফোটানো হয়। উৎসবের শুরুতেই সাংবাদিক লুলু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, "ডিসির আকাশে এত যুদ্ধবিমান কেন উড়ছে? এটি অত্যন্ত স্নায়ুচাপ তৈরি করছে। আমি ২৫০তম উদ্যাপন বুঝতে পারছি, কিন্তু এটা দেখে কেয়ামতের মতো মনে হচ্ছে।"
তাঁর এই মন্তব্যের পর ডানপন্থী ও রক্ষণশীল শিবিরের সাংবাদিক এবং কলামিস্টরা তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করতে শুরু করেন। দ্য ফেডারেলিস্ট-এর প্রধান সম্পাদক মলি হেমিংওয়ে পাল্টা আক্রমণ করে লেখেন, "আপনার পত্রিকা আমেরিকার প্রতি যে ঘৃণা ছড়ায়, আমরা আশা করতে পারি যে এটি সত্যিই সেই ঘৃণার জন্য কেয়ামত।" অন্য এক সমালোচক ব্যঙ্গ করে লেখেন, "আমি নিশ্চিত হতে চেক করলাম এটি কোনো প্যারোডি অ্যাকাউন্ট কি না!"
তীব্র ট্রোলের মুখে পড়ে লুলু গার্সিয়া-নাভারো পরবর্তীতে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তিনি অতীতে কসোভো, কলম্বিয়া, আফগানিস্তান, ইসরায়েল এবং ইরাকে যুদ্ধক্ষেত্রের সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কারণে যুদ্ধবিমানের শব্দ এবং আতশবাজি তাঁর পিটিএসডি (PTSD - পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার) বা মানসিক ট্রমাকে জাগিয়ে তোলে। তিনি আরও বলেন, দেশপ্রেম প্রকাশের অনেক পথ রয়েছে এবং যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দ বা আতশবাজি অপছন্দ করার মানেই দেশদ্রোহিতা নয়।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে চলতি বছর প্রথমবারের মতো এক বাসিন্দার শরীরে বিপজ্জনক ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। বুধবার নগরীর স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্ত ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি নিউইয়র্ক শহর এবং এর বাইরের বেশ কিছু স্থানে বাড়ির বাইরে সময় কাটানোর পরই মশাবাহিত এই ভাইরাসে সংক্রমিত হন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি সারা দেশে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত ২২ বিবেচিত ২২ জন রোগী শনাক্ত করেছে, যাদের বেশিরভাগই অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং টেক্সাসের বাসিন্দা। গত জুন মাস থেকেই নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতেই ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস বহনকারী মশার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, গত গ্রীষ্মের তুলনায় এবার ভাইরাসবাহী মশার নমুনার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। নগরীর স্বাস্থ্য কমিশনার আলিস্টার মার্টিন এক বিবৃতিতে বলেন, সুসংবাদ হলো এই রোগটি প্রতিরোধযোগ্য। বর্তমানে মশার প্রজনন মৌসুম চলায় নগরবাসীকে মশার কামড় থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ভোর ও সন্ধ্যায় শরীর ঢেকে রাখা, ইনসেক্ট রিপেলেন্ট বা পোকামাকড় নিরোধক ব্যবহার করা এবং বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করার মতো সহজ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক শহরে ১৯৯৯ সালে প্রথম ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস শনাক্ত হয় এবং এরপর থেকে প্রতি বছরই বেশ কিছু মানুষ এতে সংক্রমিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী, গত বছর নগরীতে এই ভাইরাসে ১৮ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তাদের মতে, নিউইয়র্ক শহরে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩১ জন মানুষ ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের কারণে অসুস্থ হন। এই ভাইরাসে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের শরীরেই প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে জ্বর, র্যাশ, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং বমির মতো মৃদু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়া, প্রতি ১৫০ জনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে এটি নিউরোইনভেসিভ ডিজিজ বা গুরুতর হয়ে মস্তিষ্কে সংক্রমণ এবং স্পাইনাল কর্ডের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদনে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি, সরকারি সুবিধা গ্রহণেও বাড়বে নজর
কানেকটিকাটের স্টেট হাউসের পর এবার সিনেটের পথে মেরিয়াম খান, জিতলে গড়বেন নতুন ইতিহাস
গবেষণায় দান করা মরদেহ কালোবাজারে বিক্রি! ৫৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার কথা ছিল মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে। স্বপ্ন ছিল একদিন ফায়ারফাইটার হওয়ার। কিন্তু অ্যারিজোনার ফিনিক্সে একটি পার্কে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একদল মানুষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন ১৯ বছর বয়সী তুমুসিফু বাজিরাকে। ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েই তিনি হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটে গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ফিনিক্সের সুয়েনো পার্কে। ফিনিক্স পুলিশ জানিয়েছে, পার্কের মাঠে ফুটবল খেলার সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন মিলে বাজিরাকাকে মারধর করেন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বাজিরাকার ভাই জিনপল জানিয়েছেন, খেলার ফলাফল নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে প্রথমে উত্তেজনা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান বাজিরাকা। এরপর হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজিরাকাকে মাটিতে ফেলে ঘুষি ও লাথি মারা হয়। হামলার একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায় বলে পরিবারের দাবি। রাত প্রায় ৮টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ সুয়েনো পার্কের কাছে পৌঁছে বাজিরাকাকে অচেতন অবস্থায় পায়। ফিনিক্স ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ১৩ আগস্ট মারা যান বাজিরাকা। তার মরদেহ মেরিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে পরীক্ষা চলছে। বাজিরাকার সামনে তখন জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। ২৪ আগস্ট তার কলেজে ক্লাস শুরু করার কথা ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পড়াশোনা নিয়ে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং ভবিষ্যতে ফায়ারফাইটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। ফিনিক্স পুলিশ এখন ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয়ও প্রকাশ করেনি পুলিশ। কারা ওই রাতে মাঠে বাজিরাকার ওপর হামলা চালিয়েছিল, তা শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে এসেছে। যে তরুণের কয়েক দিনের মধ্যে কলেজে যাওয়ার কথা ছিল, তার পরিবারকে এখন তার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসি প্রেসিডেন্টের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
আলাস্কায় দলনিরপেক্ষ সিনেট প্রাইমারিতে সুলিভানকে পেছনে ফেললেন ডেমোক্র্যাট মেরি পেল্টোলা
পাইলট সংকট কাটাতে আটলান্টার স্কুলে বিমানচালনা প্রশিক্ষণ
হিউস্টনের সাবেক ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসক ডা. জন স্টিভেনসন বাইনন জুনিয়রের বিরুদ্ধে রোগীদের চিকিৎসা নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। অভিযোগ, এসব তথ্য পরিবর্তনের ফলে পাঁচজন লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রার্থী কার্যত দাতা অঙ্গ পাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাইনন মেমোরিয়াল হারম্যান হেলথ সিস্টেমের টেক্সাস মেডিকেল সেন্টারে পেটের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিভাগের পরিচালক এবং লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের সার্জিক্যাল পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীদের লিভার ট্রান্সপ্লান্টের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখার পর তিনি তাদের চিকিৎসা নথিতে এমন তথ্য দেন, যার কারণে সম্ভাব্য দাতা অঙ্গ পাওয়ার সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রোগী, তাদের পরিবার এবং চিকিৎসা দলের অন্য সদস্যরা এসব পরিবর্তনের বিষয়টি জানতেন না। ফলে কয়েকজন রোগী কয়েক মাস পর্যন্ত দাতা অঙ্গ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অভিযোগে পাঁচজন রোগীর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন পরে মারা যান। অন্য দুজন মেমোরিয়াল হারম্যানের বাইরে অন্য হাসপাতালে গিয়ে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট পান। মামলায় বাইননের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার পাঁচটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ২০২৪ সালে মেমোরিয়াল হারম্যান তাদের ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়। এদিকে বাইনন অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার আইনজীবীদের বক্তব্য, রোগীরা তখন ট্রান্সপ্লান্টের জন্য অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত ছিল তাদের চিকিৎসার স্বার্থে নেওয়া। ২০২৬ সালের জুনে আদালত তার বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগ খারিজের আবেদন নাকচ করে দেয়। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমে এসব অভিযোগের সত্যতা বিচার করা হবে। তবে বাইননের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ।
২০২৬ থেকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরও এই ৩ ভুলে আটকে যেতে পারে নাগরিকত্ব
আকাশে লুকিয়ে থাকা বিপদ, ক্যানসারে মৃত্যু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের