মার্কিন সমকামীদের ক্রুজকে বন্দরে ভিড়তে দিল না তুরস্ক, বদলাতে হলো গন্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক LGBTQ+ সম্প্রদায়ের জন্য আয়োজিত একটি প্রমোদতরীকে তুরস্কের দুটি বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেয়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। শেষ মুহূর্তে এ সিদ্ধান্ত জানানো হলে নির্ধারিত ভ্রমণসূচি পরিবর্তন করে জাহাজটিকে মিশর ও গ্রিসের দিকে যাত্রা করতে হয়।
লস অ্যাঞ্জেলসভিত্তিক ভ্রমণ আয়োজক প্রতিষ্ঠান আটলান্টিস ইভেন্টসের আয়োজনে পরিচালিত ‘এথেন্স টু ভেনিস’ নামের এই ক্রুজটির ৭ জুলাই পশ্চিম তুরস্কের পর্যটননগরী কুশাদাসি এবং পরে ইস্তাম্বুল বন্দরে ভিড়ার কথা ছিল। তবে তুরস্কের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটির নতুন গন্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে মিশরের কায়রো এবং গ্রিসের ক্রিট দ্বীপ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘নৈতিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকার কারণ দেখিয়ে জাহাজটিকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। আইদিন প্রদেশের প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফর এমন একটি দলের জন্য আয়োজন করা হয়েছে, যাদের কার্যক্রম দেশের সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মনে করে।
এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন আটলান্টিস ইভেন্টসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচ ক্যাম্পবেল। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের ৩৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দেশ যাত্রীদের পরিচয়ের ভিত্তিতে তাদের জাহাজকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। তার দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; যাত্রীরা কেবল ভ্রমণ, স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগ এবং পর্যটন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই সফরে রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভার্জিন ভয়েজেসের ‘স্কারলেট লেডি’ জাহাজে প্রায় ১ হাজার ৯০০ যাত্রী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এছাড়া যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের পর্যটকও এই সফরে অংশ নিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সরকারের আমলে তুরস্কে LGBTQ+ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রাইড মিছিলের ওপর বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে। সরকার এসব পদক্ষেপকে দেশের পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
তুরস্কের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সমর্থকদের মতে, এটি দেশটির নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নীতির প্রতিফলন। অন্যদিকে সমালোচকদের ভাষ্য, যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো পর্যটনসেবাকে সীমাবদ্ধ করা বৈষম্যমূলক আচরণের শামিল।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে চার ধরনের ফেরতযোগ্য আয়কর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দপ্তর বা আইআরএস। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফেডারেল আইনে যেসব ব্যক্তি এসব সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য নন, তারা করদাতাদের অর্থে দেওয়া এসব সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাবেন না। ১৯ আগস্ট ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস যৌথভাবে প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফেরতযোগ্য আয়কর সুবিধার ফেরত দেওয়া অংশকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে স্পষ্টভাবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়মের আওতায় পড়বে চার ধরনের কর সুবিধা। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণ কর সুবিধা, শিশু কর সুবিধা, আমেরিকান সুযোগ কর সুবিধা এবং অর্জিত আয় কর সুবিধা। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে এসব সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পেতে করদাতাকে ফেডারেল আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার তারিখে মার্কিন নাগরিক, মার্কিন জাতীয় অথবা আইনে নির্ধারিত যোগ্য বিদেশি হতে হবে। যোগ্য বিদেশিদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং আইনে নির্ধারিত আরও কিছু শ্রেণির মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। করদাতাকে নিজের ট্যাক্স রিটার্নে শপথভঙ্গের শাস্তির বিধান মাথায় রেখে ঘোষণা করতে হবে যে তিনি সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার জন্য আইনগতভাবে যোগ্য। যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া দম্পতিদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কিছুটা আলাদা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক, মার্কিন জাতীয় অথবা যোগ্য বিদেশি হলেই সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা পূরণ হবে। তবে প্রস্তাবিত নিয়মের অর্থ এই নয় যে যোগ্য নন এমন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার কোনো অংশই দাবি করতে পারবেন না। যে অংশটি সরাসরি আয়করের দায় কমাতে ব্যবহৃত হয়, অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে সেটি দাবি করা যেতে পারে। মূলত করের দায়ের চেয়ে বেশি হয়ে যে অর্থ করদাতাকে ফেরত দেওয়া হয়, নতুন নিয়মে সেই অংশটিকেই সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো ফেডারেল আইনে যাদের এসব সরকারি সুবিধা পাওয়ার অনুমতি নেই, তাদের কাছে করদাতাদের অর্থে দেওয়া সুবিধা পৌঁছানো ঠেকানো। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আইন অনুযায়ী যারা এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের হাতে করদাতাদের অর্থ যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করাই সরকারের লক্ষ্য। আইআরএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেন, ফেরতযোগ্য কর সুবিধা বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মার্কিন পরিবার এবং কর্মজীবীদের আর্থিক সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে এসব সুবিধা কেবল আইনগতভাবে যোগ্য করদাতাদের জন্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি করব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত এবং প্রকাশ্য শুনানির অনুরোধ গ্রহণ করবে। নিয়ম চূড়ান্ত হলে চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশের তারিখে বা তার পরে শেষ হওয়া কর বছরের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।
আমেরিকায় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওয়েবসাইটে চাকরি খুঁজছেন? আবেদন করার সহজ নিয়ম জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে ডলার স্টোরের সাশ্রয়ী মূল্যের খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি? গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির চাহিদা থাকলেও কমছে নির্মাণ, আবাসন সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ, বর্জ্যপানি, বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি সাইবার হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও পানি শোধনাগারে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা খুঁজতে হামলাকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা (সিআইএসএ), এফবিআই, এনএসএ এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সতর্কতার ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে সিমেন্সের এস৭ সিরিজের প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার বা পিএলসিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পানি শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাসায়নিক কারখানা ও বিভিন্ন শিল্প স্থাপনার স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের যন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সিমেন্সের নিজস্ব নিরাপত্তা সতর্কতাতেও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তাদের এস৭ পিএলসি চলমান সাইবার হুমকি অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জুলাইয়ের হালনাগাদ সতর্কতায় এস৭-১২০০ পিএলসিকেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সিমেন্স জানিয়েছে, তাদের শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এ হুমকির মাধ্যমে সফলভাবে হামলা চালানোর কোনো ঘটনা এখনো তারা শনাক্ত করেনি। সতর্কতায় বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে উন্মুক্ত থাকা এমন পিএলসি খুঁজছে, যেগুলো পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করছে অথবা যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অনলাইনে সংযুক্ত রয়েছে। এসব যন্ত্রে প্রবেশাধিকার পাওয়া গেলে হামলাকারীরা সংশ্লিষ্ট শিল্প নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্কে আরও গভীরভাবে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ, এসব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শুধু কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণ করে না। এগুলো বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতি ও শিল্প প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। ফলে কোনো সিস্টেমে সফলভাবে অনুপ্রবেশ করা গেলে পানি শোধনের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়া কিংবা রাসায়নিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এই সতর্কতার মূল লক্ষ্য পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পরিচালকদের। কোনো নির্দিষ্ট এলাকার পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পানি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে, এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, এআই ব্যবহারের কারণে সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো প্রযুক্তি, ভুলভাবে কনফিগার করা যন্ত্র এবং সরাসরি ইন্টারনেটে যুক্ত শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হামলাকারীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে। কারণ এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সেবা এবং অনেক পানি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের পুরোনো যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এখনো ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবস্থা আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা ব্যয়বহুল ও জটিল হতে পারে। সিআইএসএ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইন্টারনেটে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উন্মুক্ত পিএলসি বিচ্ছিন্ন করা, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও ফার্মওয়্যার হালনাগাদ করা এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে। সিমেন্সও গ্রাহকদের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ারওয়ালসহ অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে সিমেন্সের কয়েকটি এস৭-সংশ্লিষ্ট পণ্যের নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে ২০২৬ সালেও একাধিক সতর্কতা প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ত্রুটির ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদ করে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাইবার হামলার ঝুঁকি শুধু বড় অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাড়ির রাউটার ও স্মার্ট ডিভাইসে শক্তিশালী আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, সম্ভব হলে বহুস্তরীয় যাচাই চালু রাখা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ করা উচিত। এ ছাড়া অচেনা ই-মেইল, খুদে বার্তা বা ফোনে দেওয়া সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করা বিশ্বাসযোগ্য দেখতে বার্তা ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা বাড়তে পারে বলে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ঘিরে সাইবার হুমকি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি মূলত সম্ভাব্য হামলা ও প্রস্তুতি শনাক্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। সিআইএসএ ও অন্যান্য সংস্থার সতর্কতার পাশাপাশি সিমেন্সও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
মিশিগানে লেকের নীল পানির পাশে একটি বাড়ি এখন ক্রেতার অপেক্ষায়, দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ১৩ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় মাঝ আকাশে পুলিশ হেলিকপ্টার ও বিমানের সংঘর্ষ, ঘটনাস্থলে জরুরি বাহিনী
ভার্জিনিয়ায় ২৩ আগস্ট চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান, থাকছে নকীব খান ও প্রতীক হাসানের লাইভ পারফরম্যান্স
নিউইয়র্কের পাউন্ড রিজে প্রকৃতির সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকা একটি ব্যতিক্রমী ‘মিরর হাউস’ ১৫ মিলিয়ন ডলার দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। কাঁচ, স্টেইনলেস স্টিল ও জিংক-কোটেড কপারের প্রতিফলনশীল বহিরাবরণের কারণে বাড়িটি চারপাশের গাছপালা, আকাশ ও পাথুরে ভূদৃশ্যকে প্রতিফলিত করে। ফলে দূর থেকে দেখলে বাড়িটির সীমানা আলাদা করে বোঝা কঠিন। ৪,৪৮৫ বর্গফুটের এই বাড়িটি প্রায় ১৯ দশমিক ৫ একর জমির ওপর অবস্থিত। চার শয়নকক্ষের বাড়িটি নকশা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান কিয়েরানটিম্বারলেক। বাড়িটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর স্থাপনাটির দৃশ্যমান প্রভাব যতটা সম্ভব কম থাকে। বাড়িটির বাইরের অংশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিফলনশীল উপকরণ ব্যবহারের কারণে দিনের আলো, আবহাওয়া ও ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এর চেহারাও বদলে যায়। বিশেষ করে পালিশ করা স্টেইনলেস স্টিলের প্যানেলগুলো বাড়ির কোণগুলোকে এমনভাবে প্রতিফলিত করে যে স্থাপনাটির প্রান্ত অনেকটা অদৃশ্য হয়ে যায়। বাড়িটির ভেতরেও রয়েছে বিলাসবহুল নানা সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে কাস্টম কাঠের কাজ, একটি আধুনিক রান্নাঘর, ২ হাজার ৪০০ বোতল ধারণক্ষমতার ওয়াইন সেলার, হোম থিয়েটার এবং বড় কাচের দেয়াল। রয়েছে জিওথার্মাল হিটিং ও কুলিং ব্যবস্থা এবং ট্রিপল-পেন জানালা। স্থাপনাটি নির্মাণের সময় জমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। বড় পাথুরে গঠন ও ভূপ্রকৃতির মধ্যে বাড়ির দুটি অংশ স্থাপন করা হয়েছে এবং একটি কাচঘেরা ব্রিজ দিয়ে সেগুলো যুক্ত করা হয়েছে। স্থাপত্যবিষয়ক প্রকাশনা আর্কিটেকচারাল রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটি নির্মাণে প্রাকৃতিক পাথুরে ভূখণ্ডকে যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা হয়েছিল। বাড়িটির মালিক মাইকেল ও ওলগা কাগান ২০০৯ সালে ৩৩ একর জমি কিনেছিলেন। পরে জমির একটি অংশ বিক্রি এবং ১০ একর সংরক্ষণ কাজে দেওয়ার পর অবশিষ্ট প্রায় ১৯ দশমিক ৫ একর জমিতে বাড়িটি গড়ে তোলা হয়। স্থাপনাটি ২০১৪ সালে সম্পন্ন হয়। এখন ১৫ মিলিয়ন ডলারের এই বাড়িটি শুধু বিলাসবহুল আবাসন হিসেবেই নয়, প্রকৃতি ও আধুনিক স্থাপত্যের ব্যতিক্রমী সমন্বয় হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। পাউন্ড রিজের বনভূমির মধ্যে প্রতিফলিত এই বাড়িটি যেন আশপাশের প্রকৃতির অংশ হয়েই দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে ওষুধপ্রতিরোধী ছত্রাক, ঝুঁকিতে গুরুতর অসুস্থরা
নিজের মেয়েকেই বিয়ে করেছিলেন বাবা, পরে মেয়েসহ তাদের শিশুসন্তানকে হত্যা