আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ার নিউপোর্ট বিচে স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৪০০ জনের বেশি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ২১:৩৭
স্বাধীনতা দিবসের বিশৃঙ্খলার পর নিউপোর্ট বিচ পরিষ্কার করছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা। ছবি: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস
স্বাধীনতা দিবসের বিশৃঙ্খলার পর নিউপোর্ট বিচ পরিষ্কার করছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা। ছবি: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনকে ঘিরে ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত শহর নিউপোর্ট বিচে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। আতশবাজি, মারামারি, ভাঙচুর এবং একটি সুপারমার্কেটে লুটপাটের ঘটনায় গত ৩৬ ঘণ্টায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসসিটি নিউজ সার্ভিস জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে নিউপোর্ট পেনিনসুলা এলাকায় বড় ধরনের জনসমাগমের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগ ছিল, বিপুলসংখ্যক মানুষ অবৈধভাবে আতশবাজি ফুটাচ্ছিল, মারামারিতে জড়াচ্ছিল এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করছিল।

 

ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলোতে কাছাকাছি থেকে বড় ধরনের আতশবাজি ফোটাতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি জনতার মধ্যে আতশবাজি ছুড়ে দিচ্ছেন। আরেকটি ভিডিওতে স্পাইডার-ম্যানের মুখোশ পরা একজনকে ট্রাফিক সিগন্যালের খুঁটিতে উঠে জনতাকে 'ইউএসএ, ইউএসএ' স্লোগান দিতে উৎসাহিত করতে দেখা যায়।

 

এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত অন্য ভিডিওগুলোতে কয়েকজনকে রাস্তার সাইনবোর্ড ভেঙে নিয়ে যেতে এবং কাছের প্যাভিলিয়ন্স সুপারমার্কেটে ঢুকে লুটপাট করতে দেখা যায়।

নিউপোর্ট বিচের একটি টাকো রেস্তোরাঁয় কর্মরত ১৯ বছর বয়সী মিয়া মেয়ার্স জানান, বিকেল থেকেই পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ দোকানের জানালায় আঘাত করছিল, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রকাশ্যে মদ্যপান করতে দেখা গেছে এবং কর্মীদের উদ্দেশ্য করে চিৎকার-চেঁচামেচিও করা হয়।

 

পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা সৈকত এলাকায় নেমে আগের রাতের আবর্জনা পরিষ্কার করেন। মেয়ার্স বলেন, নিউপোর্ট বিচের বাসিন্দারা তাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। সকালে কাজে এসে আগের রাতের বিশৃঙ্খলার খুব বেশি চিহ্ন আর দেখা যায়নি।

 

গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ার আগে নিউপোর্ট বিচ কর্তৃপক্ষ 'নট ইন নিউপোর্ট' নামে একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছিল। এতে প্রকাশ্যে মাতাল হওয়া, অবৈধ আতশবাজি ব্যবহার এবং বিশৃঙ্খল আচরণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত নিরাপত্তা জোনে এসব অপরাধের জরিমানাও তিনগুণ করা হয়।

 

নিউপোর্ট বিচের মেয়র লরেন ক্লেইম্যান বলেন, স্বাধীনতা দিবসে শহরে প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বাইরের অঙ্গরাজ্য থেকে তরুণদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি ভাড়া দেওয়া আবাসনগুলোর জন্যও কঠোর নীতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ভাড়াটিয়া জননিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট আবাসনের অনুমতিপত্র বাতিল করা হতে পারে।

মেয়র আরও বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ মানেনি, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৩৬ ঘণ্টায় ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং নিউপোর্ট বিচের বাইরের বাসিন্দা।

 

ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তা আতশবাজির বিস্ফোরণে আহত হন। তবে তার আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে নিউপোর্ট বিচ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সামাজিক মাধ্যমে জানায়, কথিত 'টিকটক টেকওভার' কর্মসূচির আহ্বানে বিপুলসংখ্যক উসকানিদাতা শহরে জড়ো হয়েছিল। তাদের দাবি, দাঙ্গাকারীদের তুলনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ছিল প্রায় ১:৫০০ অনুপাতে। তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফল হয়েছে।

 

নিউপোর্ট বিচ পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী বছরের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনে নিরাপত্তা আরও জোরদারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
শহরের বাড়ির দৃশ্য আমেরিকার। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্ক-ক্যালিফোর্নিয়ার চড়া খরচ ছেড়ে কম দামে বাড়ি, সাশ্রয়ী জীবনে নতুন গন্তব্য আইওয়া

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও সংসার চালানোর খরচ দিন দিন অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্যান্য ব্যয়বহুল রাজ্যে বাড়ির দাম ও রেন্টের কারণে নতুন করে থিতু হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনা, কম রেন্টে থাকা এবং স্থিতিশীল চাকরির সুযোগের কারণে আইওয়া অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   মার্কিন মধ্যাঞ্চলের এই রাজ্যটি বড় শহরের কোলাহল থেকে দূরে হলেও অর্থনৈতিক দিক থেকে একেবারে পিছিয়ে নেই। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, আইওয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ২৫৫ ডলার। গত এক বছরে বাড়ির মূল্য ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রাজ্যজুড়ে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার এবং মধ্যম রেন্ট ১ হাজার ১৫০ ডলার।   বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে আবাসন খরচ। আইওয়ার রাজধানী ডেস মইনসে ২০২৬ সালের জুনে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার এবং মধ্যম রেন্ট ১ হাজার ৮৫ ডলার।ডেভেনপোর্টে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৪৯৮ ডলার এবং ওয়াটারলুতে প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ ডলার। অর্থাৎ বড় শহরের তুলনায় কম বাজেটে বাড়ি কেনার সুযোগ কিছু এলাকায় এখনও পাওয়া যাচ্ছে।   তবে শুধু বাড়ির দাম কম হলেই হবে না, মাস শেষে হাতে কত টাকা থাকে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের একটি ব্যয় বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইওয়ার সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। আবাসন ব্যয় জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। খাদ্য, ইউটিলিটি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবার খরচও জাতীয় গড়ের তুলনায় তুলনামূলক কম।   আরেকটি বিশ্লেষণে আইওয়ার সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কম এবং আবাসন ব্যয় ২৬ শতাংশ কম বলে হিসাব করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবার যদি বড় শহরের উচ্চ রেন্ট বা মর্টগেজ থেকে বেরিয়ে তুলনামূলক ছোট শহরে যেতে চায়, তাহলে মাসিক বাজেটে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে।   বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও আইওয়ার অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের একটি আবাসন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আয়ের তুলনায় বাড়ি কেনার সামর্থ্যের দিক থেকে আইওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসনবাজার। শুধু নতুন মর্টগেজের খরচ বিবেচনা করলে রাজ্যটি অষ্টম এবং মর্টগেজের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স ধরলে নবম সবচেয়ে সাশ্রয়ী রাজ্যের অবস্থানে ছিল।   তবে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বাড়ির দাম তুলনামূলক কম হলেও আইওয়ায় প্রপার্টি ট্যাক্সের বোঝা একেবারে কম নয়। ২০২৬ সালের ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি বাড়ির মোট মাসিক মালিকানা ব্যয়ের গড়ে ১৯ শতাংশই প্রপার্টি ট্যাক্সের অংশ ছিল। তাই শুধু বাড়ির দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে হিসাব করা দরকার।   চাকরির বাজারের দিক থেকেও আইওয়া বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। আইওয়া ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্টের সর্বশেষ জুন ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। জুন মাসে আইওয়ার নিয়োগকর্তারা আরও ৬০০টি চাকরি যোগ করেছেন।   অর্থাৎ আইওয়া শুধু কৃষিনির্ভর রাজ্য হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, উৎপাদনশিল্প, আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যারা কম খরচের এলাকায় থেকে স্থিতিশীল আয় করতে চান, তাদের জন্য রাজ্যটি বিবেচনার তালিকায় থাকতে পারে।   ছোট শহরগুলোর অর্থনৈতিক সুবিধাও আলাদা। ডেস মইনসের মতো বড় শহরে কাজ ও ব্যবসার সুযোগ বেশি হলেও আশপাশের ছোট শহরগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি ও রেন্ট আরও কম হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ওয়াটারলুতে ২০২৬ সালের মধ্যম রেন্ট ছিল প্রায় ৭০০ ডলার। তবে শহরভেদে রেন্ট, চাকরি এবং জীবনযাত্রার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তাই আইওয়া বেছে নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের আয় কত, চাকরি কোথায়, সন্তানের স্কুল কোথায়, বাড়ি কেনার পরিকল্পনা আছে কি না এবং প্রতিদিন কতটা যাতায়াত করতে হবে, এসব হিসাব করেই শহর নির্বাচন করা উচিত।   যারা রিমোট জব করেন, তাদের জন্য আইওয়ার ছোট শহরগুলো আরও আকর্ষণীয় হতে পারে। বড় শহরের তুলনায় কম রেন্ট বা বাড়ির দামে তুলনামূলক বড় জায়গা পাওয়া গেলে একই আয়ে পরিবারের জন্য বেশি অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব হতে পারে। তবে ইন্টারনেটের মান, স্থানীয় সেবা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা আগে যাচাই করা জরুরি।   আইওয়ার জীবন অবশ্য সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। শীত এখানে কঠিন হতে পারে, ছোট শহরে বড় মেট্রোপলিটন এলাকার মতো বিনোদন ও গণপরিবহনের সুবিধা সব জায়গায় পাওয়া যায় না। বাংলাদেশি কমিউনিটির আকারও নিউইয়র্ক, নিউজার্সি বা ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহরগুলোর মতো নয়।   তারপরও যারা উচ্চ রেন্ট, বাড়ির চড়া দাম ও প্রতিদিনের ব্যয়ের চাপ থেকে বের হয়ে তুলনামূলক কম খরচে পরিবার নিয়ে স্থিতিশীল জীবন গড়তে চান, তাদের জন্য আইওয়া এখন গুরুত্ব দিয়ে দেখার মতো একটি রাজ্য। ২০২৬ সালের আবাসন ও শ্রমবাজারের তথ্য বলছে, এখানে কম খরচের সঙ্গে তুলনামূলক শক্তিশালী চাকরির বাজারও রয়েছে।   তবে কম খরচ মানেই সবার জন্য বেশি সঞ্চয় নয়। কোন শহরে থাকছেন, কত আয় করছেন, বাড়ি কিনছেন নাকি রেন্টে থাকছেন এবং প্রপার্টি ট্যাক্সসহ অন্যান্য খরচ কত, তার ওপর প্রকৃত আর্থিক সুবিধা নির্ভর করবে। তাই বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আইওয়ায় যাওয়ার আগে স্থানীয় বাড়ির দাম, রেন্ট, চাকরি, স্কুল ও ট্যাক্সের হিসাব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৮:৪১
ডিটেনশনে থাকা নারী ছবি:সংগৃহীত

গর্ভবতী নারী সপ্তাহের পর সপ্তাহ ডিটেনশনে, ইমিগ্রেশন আইনজীবীর প্রতারণায় দিশেহারা পরিবার

অভিযুক্ত স্ত্রী ছবি:সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় গাড়ি চালানোর সময় তর্কের জেরে স্বামীর কান কামড়ে ছিঁড়ে ফেলেন স্ত্রী

ক্যালিফোর্নিয়ার মানচিত্র ছবি:সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী আমেরিকার হলে ক্যালিফোর্নিয়াও ইরানের, ট্রাম্পকে তেহরানের পাল্টা জবাব

ভিসার প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের পথে নতুন বেতন নিয়ম, ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর

নিউজিল্যান্ডে কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিতে চাওয়া বিদেশিদের জন্য বেতন নির্ধারণের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় যে বেতনসীমা কার্যকর ছিল, পরবর্তীতে সেই সীমা বেড়ে গেলেও আবেদনকারীদের নতুন করে বাড়তি বেতনসীমা পূরণ করতে হবে না।   নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, পরিবর্তনের ফলে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি এবং ওয়ার্ক টু রেসিডেন্স ভিসার ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের নিয়ম আরও পূর্বানুমানযোগ্য হবে। বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট সময় কাজ করে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা শুরু করার সময়কার বেতনসীমাই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।   বর্তমান নিয়মে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি রেসিডেন্ট ভিসার বেতনসীমা নিউজিল্যান্ডের মধ্যম বেতনের সঙ্গে যুক্ত। ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে এই মধ্যম বেতন ঘণ্টায় ৩৫ নিউজিল্যান্ড ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে এএনজেডএসসিও দক্ষতার স্তর ১ থেকে ৩-এর কাজের ক্ষেত্রে অন্তত এই বেতনসীমা পূরণ করতে হয়। আর কিছু স্তর ৪ ও ৫-এর কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বেতনসীমা এর দেড় গুণ, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৫২.৫০ নিউজিল্যান্ড ডলার।   নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একজন অভিবাসী যখন নিউজিল্যান্ডে প্রয়োজনীয় দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন শুরু করবেন, তখন যে মধ্যম বেতনসীমা কার্যকর থাকবে, পরবর্তী সময়ে বেতনসীমা বাড়লেও তাকে সেই নতুন উচ্চ সীমায় উঠতে হবে না। তবে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় তাকে কাজের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমার অন্তত সেই পুরোনো হার বজায় রাখতে হবে।   এর ফলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের মাঝপথে বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ায় যোগ্যতা হারানোর আশঙ্কা কিছুটা কমবে। অভিবাসীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আগে কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট দক্ষতার কাজে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে।   নিউজিল্যান্ড সরকার বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ার কারণে মাঝপথে সমস্যায় পড়তে পারেন এমন কিছু কর্মীর জন্য গ্রেস পিরিয়ডের ব্যবস্থাও রেখেছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কাজের ভিসা পাওয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যে দক্ষ কাজ শুরু করা কর্মীরা ভিসা অনুমোদনের সময়কার বেতনসীমা ধরে রাখতে পারবেন।   তবে এই পরিবর্তনকে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পুরোপুরি সহজ হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের যোগ্য পেশা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বেতন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হবে।   ২৪ আগস্ট থেকেই স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিতে আরও কিছু পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পেশার কর্মীদের জন্য আলাদা পথ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষ কারিগরি ও টেকনিশিয়ান পেশার জন্য একটি নতুন পথও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং নিউজিল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময়ের দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে।   স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরির অধীনে আবেদনকারীদের মোট ছয়টি দক্ষতা পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। পেশাগত নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা আয় থেকে তিন থেকে ছয়টি পয়েন্ট পাওয়া যেতে পারে এবং নিউজিল্যান্ডে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা থেকে সর্বোচ্চ আরও তিনটি পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রয়েছে।   সবচেয়ে বেশি দক্ষতার অধিকারী কর্মীদের জন্য অপেক্ষার সময়ও তুলনামূলক কম হতে পারে। যেমন ডক্টরেটধারী বা নির্দিষ্ট উচ্চমাত্রার পেশাগত যোগ্যতা থাকা ব্যক্তিরা বেশি পয়েন্ট পেতে পারেন। আবার উচ্চ আয়ের কিছু কর্মীর জন্যও দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে।   বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিউজিল্যান্ডে কাজের ভিসা নিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য কাজের ধরন, বেতনসীমা, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর নতুন নিয়মগুলো আগে থেকেই যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, শুধু নির্দিষ্ট বেতন পেলেই নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ভিসার সব যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং আবেদন ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে।   অর্থাৎ, ২৪ আগস্টের পরিবর্তনের মূল সুবিধা হলো বেতনসীমা বৃদ্ধির কারণে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনরত অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং শুরুতেই তাদের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমা সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা তৈরি করা। নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের পথ খুঁজছেন বিদেশিদের জন্য তাই নতুন নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আবেদন করার আগে ব্যক্তিগত যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বশেষ সরকারি শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৫:৪৮
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর

টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর

নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ

নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ

মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা

মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা

প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কদের এসএসআই সুবিধা বন্ধের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের
পরিবারের সঙ্গে থাকাই কি বোঝা! প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কদের এসএসআই সুবিধা বন্ধের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সমর্থনে এগিয়ে নেওয়া একটি প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবর্তনটি কার্যকর হলে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পাওয়া প্রায় ৪ লাখ নিম্নআয়ের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাসিক সহায়তা কমে যেতে পারে, এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ডাউন সিনড্রোম, ডিমেনশিয়া ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী মানুষও রয়েছেন। বিষয়টি সামনে এসেছে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে।    প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে পরিবারের কেউ সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ সুবিধা পান কি না, সেই বিষয়টি। এসএসআই মূলত বয়স্ক, অন্ধ ও প্রতিবন্ধী নিম্নআয়ের মানুষকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি ফেডারেল কর্মসূচি।   বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ পাওয়া পরিবারের সদস্যের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাসকারী এসএসআই গ্রহীতারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষা পাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মে স্ন্যাপকে ‘পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ড’ নির্ধারণের তালিকায় যুক্ত করা হয়। একই পরিবারের অন্তত একজন এসএসআই আবেদনকারী বা গ্রহীতা এবং অন্য একজন সদস্য নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তা পেলে পরিবারটি এই শ্রেণির আওতায় পড়তে পারে।    এর ফলে পরিবারের সদস্যরা খাবার বা থাকার খরচে সহায়তা করলেও সেই সহায়তাকে আগের মতো এসএসআই গ্রহীতার আয় হিসেবে গণনা করার প্রয়োজন হয় না। এসএসএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল নিয়ম সহজ করা, নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং কিছু ক্ষেত্রে এসএসআই সুবিধা বাড়ানো।    এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সেই পরিবর্তনটি উল্টে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এসএসএ স্ন্যাপকে পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার এবং পুরোনো নিয়মে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব রেখেছে। পুরোনো ব্যবস্থায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে নির্দিষ্ট সরকারি আয় সহায়তা পেতে হতো, তবেই পরিবারটি এই বিশেষ শ্রেণিতে পড়ত।    এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষ করে এমন পরিবারে পড়তে পারে, যেখানে প্রতিবন্ধী কোনো সন্তান বা বয়স্ক স্বজন এসএসআই পান, কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা স্ন্যাপ সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। প্রোপাবলিকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৪ লাখ মানুষের এসএসআই সুবিধা কমে যেতে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   এসএসআইয়ের নিয়মে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া খাবার বা থাকার সহায়তা সাধারণত ‘ইন কাইন্ড সাপোর্ট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং তা সুবিধার পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ২০২৪ সালের সংস্কারের পর খাবার আর এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এসএসএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অন্য কেউ ভাড়া, মর্টগেজ বা ইউটিলিটি বিলের মতো থাকার খরচে সহায়তা করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসএসআই পেমেন্ট কমতে পারে।    প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সমালোচকেরা বলছেন, একই পরিবারের সদস্যরা যখন নিজেদের জীবনযাপন চালাতেই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তখন তাদের সহায়তাকে এসএসআই গ্রহীতার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী তরুণ এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।   তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। এসএসএর নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এটিকে প্রস্তাবিত নিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি কীভাবে চূড়ান্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত এসএসআই গ্রহীতাদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।    এদিকে এসএসএর বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ সুবিধা এখনও পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের একটি স্বীকৃত কর্মসূচি হিসেবে রয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য এসএসআই গ্রহীতারা এই সুরক্ষা পেতে থাকবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২:১৭
ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্র নাগরিকত্ব নীতিতে কোন কোন দেশের মানুষ বেশি চাপে

ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্র নাগরিকত্ব নীতিতে কোন কোন দেশের মানুষ বেশি চাপে? বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

মুসলিম রিপোর্টারকে সাধারণ বেসিনেই পা ধোয়ার নির্দেশ কর্মীদের

ডালাস বিমানবন্দরে ওজু নিয়ে বিতর্ক, মুসলিম রিপোর্টারকে সাধারণ বেসিনেই পা ধোয়ার নির্দেশ কর্মীদের

অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা দাবি ঠেকাতে আইআরএসের নতুন পদক্ষেপ

অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা দাবি ঠেকাতে আইআরএসের নতুন পদক্ষেপ

0 Comments