যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) নিয়ে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের একটি বিল আবারও কংগ্রেসে উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি৪ (WCMH)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই ওই আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিবাসীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর বুধবার সিনেটর বার্নি মোরেনো একই উদ্দেশ্যে একটি বিল পুনরায় উত্থাপনের ঘোষণা দেন।
মোরেনো যে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করেছেন, সেটি প্রথম ১৯৯৩ সালে প্রস্তাব করেছিলেন তৎকালীন ডেমোক্র্যাট সিনেটর হ্যারি রিড। বিলটির উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ধারা ব্যাখ্যা করে অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করা।
নতুন করে উত্থাপিত বিলে শুধু জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ই নয়, অবৈধ অভিবাসনের জন্য আরও কঠোর শাস্তি, প্রতি বছর অভিবাসী গ্রহণের সংখ্যা কমানো এবং আশ্রয়প্রার্থীদের সুযোগ সীমিত করারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বার্নি মোরেনো বলেন, তিনি হ্যারি রিডের প্রস্তাবিত "ঠিক একই বিল" আবারও কংগ্রেসে আনছেন।
তার ভাষায়, "ডেমোক্র্যাট পার্টিতে চরমপন্থীদের প্রভাব বাড়ার আগে তাদের নেতা হ্যারি রিড জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অবসান, অবৈধ অভিবাসীদের ভোটাধিকার রোধ এবং অবৈধ শ্রম ব্যবহারকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি চমৎকার বিল এনেছিলেন। আমি চাই, এবার এই বিলের ওপর ভোট হোক।"
তবে এই বিলের ইতিহাস ভিন্ন। ১৯৯০-এর দশকে বিলটি কমিটিতেই আটকে যায়। পরে ২০০৬ সালে হ্যারি রিড নিজেই এ ধরনের বিল আনার জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি একসময় এটিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের "সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি" বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, "আমি বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝতে পারিনি। এমন প্রস্তাব দেওয়ায় আমি বিব্রত।"
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বার্নি মোরেনো নিজেও একজন অভিবাসী। তিনি কলম্বিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮ বছর বয়সে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় নিজের কলম্বিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কংগ্রেসের আরও ২৭ সদস্যের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টকে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ রায়ের পরও তিনি দাবি করেন, আদালত ১৪তম সংশোধনীর সঠিক ব্যাখ্যা দেয়নি এবং এ বিষয়ে এখন কংগ্রেসের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব লাভ করেন। যদিও বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করলেও তিনি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিপক্ষেই ভোট দেন। তার মতে, আদেশটি বিদ্যমান ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
রায়ের পর সামাজিক মাধ্যমে বার্নি মোরেনো ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, বর্তমান নীতি তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' বা সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে।
সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা নারীদের প্রায় ৩৩ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করে, যা দেশটিতে মোট জন্মের প্রায় ০.৯ শতাংশ।
মোরেনো জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিলটি আবারও কংগ্রেসে উপস্থাপন করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে ১৮ মাস বয়সী যমজ সন্তানের মৃত্যুর জন্য টিকাকে দায়ী করে আলোচনায় আসা এক মায়ের বিরুদ্ধে এবার প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রায় এক বছরব্যাপী তদন্ত শেষে পুলিশ ২৩ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া শ–কে গ্রেপ্তার করেছে। মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন। পায়েট পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ মে আইডাহোর পায়েট শহরের একটি বাড়িতে একই বিছানায় ১৮ মাস বয়সী যমজ শিশু ডালাস ও টাইসন শ–এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ২৯ জুন গ্র্যান্ড জুরি আন্দ্রেয়া শ–এর বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে অভিযোগপত্র (ইনডাইটমেন্ট) দাখিল করে। পরে তাকে বোইসি শহরে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশুদের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই আন্দ্রেয়া শ ও তার স্বামী একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে দাবি করেছিলেন, নিয়মিত টিকা নেওয়ার পর তাদের সন্তানরা অসুস্থ হয়ে মারা যায়। পডকাস্টটি প্রকাশ করেছিল অ্যান্টি-ভ্যাকসিন সংগঠন ‘চিলড্রেনস হেলথ ডিফেন্স’, যার নেতৃত্বে একসময় বর্তমান মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র ছিলেন। পডকাস্টে আন্দ্রেয়া শ দাবি করেন, ১৮ মাস বয়সীদের জন্য নির্ধারিত হেপাটাইটিস-এ, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ডিটিএপি টিকা নেওয়ার পরপরই তার যমজ সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অ্যান্টি-ভ্যাকসিন কর্মীরাও শিশুদের মৃত্যুকে টিকার সঙ্গে যুক্ত করে বিভিন্ন প্রচারণা চালান। তবে প্রায় এক বছর তদন্তের পর পুলিশ আন্দ্রেয়া শ–এর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে। আদালতের অভিযোগপত্রে শিশুদের শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো মৃত্যুর কারণের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আদালতেই প্রসিকিউশনকে তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। অন্যদিকে আন্দ্রেয়া শ–এর আইনজীবী জো ফিলিচেত্তি এখনও দাবি করে আসছেন, শিশুদের মৃত্যুর জন্য টিকাই দায়ী। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত প্রমাণ প্রকাশ করতে পারেননি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিভিবি জানিয়েছে। এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত শিশুদের নিয়মিত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। টিকা শিশু মৃত্যুর কারণ—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এ ঘটনায়ও এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থাগুলো টিকার সঙ্গে শিশুদের মৃত্যুর কোনো সম্পর্কের কথা জানায়নি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। তাই আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দ্রেয়া শ আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনকে ঘিরে ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত শহর নিউপোর্ট বিচে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। আতশবাজি, মারামারি, ভাঙচুর এবং একটি সুপারমার্কেটে লুটপাটের ঘটনায় গত ৩৬ ঘণ্টায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও সিটি নিউজ সার্ভিস জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে নিউপোর্ট পেনিনসুলা এলাকায় বড় ধরনের জনসমাগমের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগ ছিল, বিপুলসংখ্যক মানুষ অবৈধভাবে আতশবাজি ফুটাচ্ছিল, মারামারিতে জড়াচ্ছিল এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করছিল। ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলোতে কাছাকাছি থেকে বড় ধরনের আতশবাজি ফোটাতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি জনতার মধ্যে আতশবাজি ছুড়ে দিচ্ছেন। আরেকটি ভিডিওতে স্পাইডার-ম্যানের মুখোশ পরা একজনকে ট্রাফিক সিগন্যালের খুঁটিতে উঠে জনতাকে 'ইউএসএ, ইউএসএ' স্লোগান দিতে উৎসাহিত করতে দেখা যায়। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত অন্য ভিডিওগুলোতে কয়েকজনকে রাস্তার সাইনবোর্ড ভেঙে নিয়ে যেতে এবং কাছের প্যাভিলিয়ন্স সুপারমার্কেটে ঢুকে লুটপাট করতে দেখা যায়। নিউপোর্ট বিচের একটি টাকো রেস্তোরাঁয় কর্মরত ১৯ বছর বয়সী মিয়া মেয়ার্স জানান, বিকেল থেকেই পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ দোকানের জানালায় আঘাত করছিল, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রকাশ্যে মদ্যপান করতে দেখা গেছে এবং কর্মীদের উদ্দেশ্য করে চিৎকার-চেঁচামেচিও করা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা সৈকত এলাকায় নেমে আগের রাতের আবর্জনা পরিষ্কার করেন। মেয়ার্স বলেন, নিউপোর্ট বিচের বাসিন্দারা তাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। সকালে কাজে এসে আগের রাতের বিশৃঙ্খলার খুব বেশি চিহ্ন আর দেখা যায়নি। গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ার আগে নিউপোর্ট বিচ কর্তৃপক্ষ 'নট ইন নিউপোর্ট' নামে একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছিল। এতে প্রকাশ্যে মাতাল হওয়া, অবৈধ আতশবাজি ব্যবহার এবং বিশৃঙ্খল আচরণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত নিরাপত্তা জোনে এসব অপরাধের জরিমানাও তিনগুণ করা হয়। নিউপোর্ট বিচের মেয়র লরেন ক্লেইম্যান বলেন, স্বাধীনতা দিবসে শহরে প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বাইরের অঙ্গরাজ্য থেকে তরুণদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি ভাড়া দেওয়া আবাসনগুলোর জন্যও কঠোর নীতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ভাড়াটিয়া জননিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট আবাসনের অনুমতিপত্র বাতিল করা হতে পারে। মেয়র আরও বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ মানেনি, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৩৬ ঘণ্টায় ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং নিউপোর্ট বিচের বাইরের বাসিন্দা। ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তা আতশবাজির বিস্ফোরণে আহত হন। তবে তার আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানানো হয়েছে। এদিকে নিউপোর্ট বিচ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সামাজিক মাধ্যমে জানায়, কথিত 'টিকটক টেকওভার' কর্মসূচির আহ্বানে বিপুলসংখ্যক উসকানিদাতা শহরে জড়ো হয়েছিল। তাদের দাবি, দাঙ্গাকারীদের তুলনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ছিল প্রায় ১:৫০০ অনুপাতে। তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফল হয়েছে। নিউপোর্ট বিচ পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী বছরের স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে নিরাপত্তা আরও জোরদারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতিত ও পরবর্তীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দেখা মিলেছে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে পলাতক ও আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে এলেন নারায়ণগঞ্জের এই সাবেক দাপুটে নেতা। তার আকস্মিক উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার স্থানীয় ফটোসাংবাদিক নেহের সিদ্দিকী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শামীম ওসমানের একটি ছবি পোস্ট করেন। ওই ছবিতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের একটি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত উদাসী ভঙ্গিতে ধূমপান করছেন তিনি। দীর্ঘদিন জনসম্মুখের আড়ালে থাকা এই নেতার এমন ভিন্ন রূপের ছবি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশ ছাড়ার পর গত দুই বছর তিনি ঠিক কোথায় এবং কীভাবে আত্মগোপন করেছিলেন, তা নিয়ে প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন করে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আরেকটি পোস্টে শামীম ওসমানকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও দেখা যায়। ওই ছবিতে যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে ছবি তুলেছেন তিনি। পতিত সরকারের একজন পলাতক ও আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্যের এভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।