গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন: আমেরিকায় বিদেশী কর্মীদের স্থায়ী হওয়া আরও কঠিন করছে ট্রাম্প প্রশাসন!
আমেরিকায় গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা বিদেশী কর্মীদের জন্য এবার বড় ধাক্কা দিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান যেন সহজে বিদেশী কর্মীদের স্থায়ী নাগরিকত্বের জন্য স্পন্সর (আবেদন) করতে না পারে, সেজন্য নিয়মনীতি আরও কঠোর করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে দেশটির শ্রম বিভাগ।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপের কারণে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। এর ফলে আমেরিকায় কর্মরত হাজার হাজার বিদেশী দক্ষ পেশাজীবীর স্থায়ী হওয়ার পথ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
সাধারণত কোনো বিদেশী কর্মীকে গ্রিন কার্ড দিতে হলে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে 'পার্ম' (PERM) নামক একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটি হলো এক ধরনের লেবার সার্টিফিকেশন বা শ্রম অনুমোদন প্রক্রিয়া।
এই নিয়মে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে হয় যে, সংশ্লিষ্ট পদের জন্য তারা কোনো যোগ্য মার্কিন নাগরিক খুঁজে পায়নি। এছাড়া বিদেশী কর্মী নেওয়ার কারণে স্থানীয়দের বেতন বা কর্মসংস্থানে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না—তাও নিশ্চিত করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, ২০০৪ সালের পর এই 'পার্ম' নিয়মে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তাই বর্তমান শ্রমবাজারের কথা মাথায় রেখে এবার এই পুরো প্রক্রিয়াটি আধুনিকায়নের নামে আরও জটিল ও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই পরিবর্তনের ফলে নিয়োগদাতাদের কর্মী খোঁজার প্রক্রিয়া এবং কাগজের নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন শ্রম বাজার পরীক্ষার নিয়মগুলো আরও কড়া করা হবে।
শ্রম বিভাগের নতুন এজেন্ডা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানিতে কর্মী ছাঁটাই হলে মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি আরও জোরদার করা হবে। অর্থাৎ, কোনো সংস্থায় ছাঁটাই চললে সেখানে বিদেশী কর্মী স্পন্সর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মের ফলে আবেদন প্রক্রিয়া শুধু ধীরগতিরই হবে না, বরং ছোট-বড় কোম্পানিগুলোর আইনি ও প্রশাসনিক খরচও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সামান্য অস্পষ্টতার কারণেও আবেদন সরাসরি বাতিল বা কড়া তদন্তের মুখে পড়তে পারে।
অবৈধ অভিবাসী দমনের পাশাপাশি বৈধভাবে আমেরিকায় আসার এবং স্থায়ী হওয়ার পথগুলোকেও সংকুচিত করার যে নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্ত তারই অংশ। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ডের জন্য ইন-কান্ট্রি 'অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস' কমিয়ে কনসুলার প্রসেসিং বা নিজ দেশে ফিরে ইন্টারভিউ দেওয়ার নিয়মও জোরদার করার চেষ্টা করছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি (H-1B) ভিসার নিয়ম এবং বিদেশী কর্মীদের ন্যূনতম বেতনের কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছিল। নতুন এই 'পার্ম' ব্যবস্থার পরিবর্তন কার্যকর হলে আমেরিকার আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কর্পোরেট খাতে কর্মরত বাংলাদেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়বেন।
সূত্র: নিউজউইক
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নেটাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুপারিশ করার পর ট্রাম্প তাতে অনুমোদন দেন। মৃত্যুদণ্ডের সময় ও স্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হেগসেথের সুপারিশের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ডে মার্কিন সেনাবাহিনীর ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন। হাসান ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডে সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেছিলেন। পেন্টাগনের ঘোষণার পর এখন সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। ফোর্ট হুডে ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর হামলাটি চালান হাসান। সে সময় তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেনারা আফগানিস্তানে মোতায়েনের আগে চিকিৎসা ও টিকাদান প্রক্রিয়ার জন্য একটি ভবনে অপেক্ষা করছিলেন। সেখানেই হাসান গুলি চালান। হামলার পর এক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে তার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়। হাসানকে ২০১৩ সালে সামরিক আদালত ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। বিচার চলাকালে তিনি নিজেই নিজের পক্ষে বক্তব্য দেন এবং হামলার দায় অস্বীকার করার চেষ্টা করেননি। বরং তার বক্তব্যে উঠে আসে, আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল এবং সেখানে মোতায়েন হওয়া মার্কিন সেনাদের থামানোর উদ্দেশ্যেই তিনি হামলা চালিয়েছিলেন। সামরিক আদালতের রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর থেকে তিনি মার্কিন সামরিক কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে রয়েছেন। ট্রাম্পের অনুমোদন কার্যকর হলে এটি হবে ছয় দশকের বেশি সময় পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৬১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাইভেট জন বেনেটকে ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। বর্তমানে হাসানসহ চারজন সামরিক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে রয়েছেন। সামরিক বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত বিরল হওয়ায় হাসানের মামলাটি বিশেষভাবে নজরে এসেছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদনের পরও হাসানের আইনি সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন করতে পারেন, যার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়সীমা আরও পিছিয়ে যেতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ট্রাম্পের অনুমোদনের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও আদালতে নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে না। মার্কিন সেনাবাহিনীর ২০২৬ সালের একটি আইনবিষয়ক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আধুনিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিধিবিধান পরিবর্তিত হয়েছে। একই নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই হেগসেথ হাসানের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ও কার্যকরের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ করেছিলেন। এখন ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদনের পর সেনাবাহিনী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। ফোর্ট হুড হামলার পর হাসানের কর্মকাণ্ড ও তার আদর্শিক অবস্থান নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়। বিচার চলাকালে তিনি তালেবানের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়ও হাসান তালেবানের ক্ষমতায় ফেরাকে স্বাগত জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এসব বক্তব্য তার মামলার প্রেক্ষাপট ও হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পেন্টাগনের ঘোষণায় এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান জানানো হয়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে হাসান আদালতে নতুন আবেদন করলে সেই সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে ট্রাম্পের অনুমোদন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে দিলেও বাস্তবে তা কবে এবং কোথায় হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP
H-1B ভিসার নিয়ম ভাঙলে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল
১০ দিন ছুটি কাটালেই মিলবে ১০ হাজার ডলার, ফ্লোরিডায় ব্যতিক্রমী চাকরির সুযোগ
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নারী যাত্রীর অশোভন আচরণ, তদন্তে এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাড়ির বেসমেন্ট বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকে। বিশেষ করে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বেসমেন্টে নিয়মিত কোনো পরিবারকে ভাড়া দিতে চান না। একই বাড়িতে দীর্ঘমেয়াদে অন্য পরিবার থাকলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পার্কিং, শব্দ, যাতায়াতসহ নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বেসমেন্টটি সুন্দরভাবে সংস্কার করে স্বল্পমেয়াদি থাকার জন্য ভাড়া দেওয়া কিছু বাড়ির মালিকের জন্য বাড়তি আয়ের একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের আইন, এলাকার ব্যবহারবিধি, ভবন নির্মাণবিধি, বাড়ির মালিক সমিতির নিয়ম, বীমা এবং মর্টগেজের শর্ত যাচাই করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার তুলনায় স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার একটি সুবিধা হলো নমনীয়তা। বাড়ির মালিক নিজের সুবিধা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে বেসমেন্ট অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারেন এবং পরিবারের প্রয়োজন হলে সেটি খালি রাখতে পারেন। তবে স্থানীয় আইনে যদি নির্দিষ্ট সময়সীমা, অনুমতি বা অন্যান্য শর্ত থাকে, সেগুলো অবশ্যই মানতে হবে। জর্জিয়ার কামিংয়ের বাসিন্দা সুজানের অভিজ্ঞতা এ ধরনের সম্ভাবনার একটি উদাহরণ। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলার সময় সুজান জানান, তার বাড়ির বেসমেন্টটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে ছিল। নিজের একক পরিবারের বাড়িতে অন্য একটি পরিবারকে নিয়মিত ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে তিনি আগ্রহী ছিলেন না। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াটিয়া থাকলে পারিবারিক গোপনীয়তা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করতেন। পরে এক বন্ধুর কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার বিষয়ে জানতে পারেন সুজান। এরপর তিনি নিজের এলাকার আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং এয়ারবিএনবির অতিথি রাখার প্রয়োজনীয়তাগুলোও যাচাই করেন। প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার করে বেসমেন্টটি অতিথিদের থাকার উপযোগী করে তোলেন। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগে যে জায়গাটি বছরের পর বছর অব্যবহৃত ছিল, সেটিই এখন বাড়তি আয়ের একটি উৎস হয়ে উঠেছে। সুজানের কাছে বিষয়টি শুধু বাড়তি আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে যেসব অতিথি তার বাড়িতে থেকেছেন, তাদের অনেকের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ নিজেদের এলাকার যোগাযোগের তথ্য দিয়ে গেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে সুজান তাদের অঙ্গরাজ্যে গেলে নিজেদের বাড়িতে থাকার আমন্ত্রণও পেয়েছেন। ফলে বেসমেন্টটি তার কাছে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে সুজানের অভিজ্ঞতা অন্য বাড়ির মালিকের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য হবে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার নিয়ম অঙ্গরাজ্য, শহর ও কাউন্টিভেদে ভিন্ন। কোনো এলাকায় লাইসেন্স বা অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে, আবার কোথাও এলাকার ব্যবহারবিধির কারণে নির্দিষ্ট ধরনের বেসমেন্ট ভাড়া দেওয়া নিষিদ্ধ হতে পারে। এয়ারবিএনবির নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, কোনো কোনো এলাকায় অতিথি গ্রহণের আগে নিবন্ধন, অনুমতি বা লাইসেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে বেসমেন্টকে আলাদা থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করার আগে স্থানীয় ভবন নির্মাণবিধি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। আলাদা প্রবেশপথ, জরুরি বহির্গমন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নিরাপদ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ধোঁয়া শনাক্তকারী এবং কার্বন মনোক্সাইড শনাক্তকারীর মতো নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থানীয় নিয়মের আওতায় পড়তে পারে। শুধু ঘরটি সুন্দর করে সাজালেই সেটি অতিথিদের থাকার জন্য আইনগতভাবে প্রস্তুত হয়ে যায় না। বাড়িটি যদি বাড়ির মালিক সমিতির আওতায় থাকে, তাহলে সমিতির নিয়মও আগে দেখতে হবে। অনেক বাড়ির মালিক সমিতি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ওপর আলাদা বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। একই সঙ্গে বাড়ির বীমা কোম্পানির সঙ্গেও কথা বলা জরুরি। কারণ স্বল্পমেয়াদি অতিথি থাকার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা সম্পত্তির ক্ষতির জন্য বীমার আওতা কী হবে, তা আগে পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া উচিত। মর্টগেজের শর্তও উপেক্ষা করা উচিত নয়। বাড়ির কোনো অংশ স্বল্পমেয়াদি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণচুক্তিতে কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, সেটি যাচাই করা দরকার। স্থানীয় আইন অনুমতি দিলেও ঋণচুক্তির কোনো শর্তের কারণে বাড়ির মালিক বেসমেন্ট ভাড়া দিতে নাও পারেন। কর ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ি বা বাড়ির কোনো অংশ ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আয় ও খরচের হিসাব নির্ভর করে সম্পত্তিটি কীভাবে এবং কত দিন ব্যবহার করা হয়েছে তার ওপর। বিশেষ পরিস্থিতিতে বছরে ১৫ দিনের কম সময় বাড়ি ভাড়া দেওয়া হলে সেই ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থের ওপর আলাদা কর-সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ১৫ দিন বা তার বেশি সময় ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আয় কীভাবে ঘোষণা করতে হবে, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। জর্জিয়াতেও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর ও ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তাই বেসমেন্ট ভাড়া দেওয়ার আগে শুধু কত টাকা আয় হতে পারে সেটি হিসাব করলেই হবে না; কর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মেরামত, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। সবকিছু বিবেচনায় নিলে, বছরের পর বছর ফাঁকা পড়ে থাকা বেসমেন্ট কিছু বাড়ির মালিকের জন্য বাড়তি আয়ের সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। সেই অর্থ বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবারের অতিরিক্ত খরচ কিংবা মর্টগেজের একটি অংশ পরিশোধে কাজে লাগানো যেতে পারে। আবার দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াটিয়া রাখার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি অতিথি নেওয়ায় কিছু বাড়ির মালিক নিজেদের জীবনযাপনের সঙ্গে এটি তুলনামূলকভাবে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন। তবে বেসমেন্ট এয়ারবিএনবিতে দেওয়ার আগে নিজের অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও শহরের আইন, এলাকার ব্যবহারবিধি, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমতি, বাড়ির মালিক সমিতির নিয়ম, বীমা, মর্টগেজের শর্ত এবং করের বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বীমা কোম্পানি এবং কর বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উচিত। আইনগত অনুমতি ও নিরাপত্তার সব শর্ত পূরণ করা গেলে, অব্যবহৃত বেসমেন্ট একটি বাড়তি আয়ের সম্ভাব্য উৎস হয়ে উঠতে পারে।
ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতে মামলা, বাংলাদেশিদের জন্যও কি খুলবে লটারির সুযোগ?
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, নতুন রেকর্ডের খুব কাছে এসঅ্যান্ডপি ৫০০
নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে বাড়ির দাম বাড়ছে, ক্রেতাদের স্বপ্নের বাড়ি কেনা আরও কঠিন
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় নিজেদের অপরাধের ইতিহাস গোপন অথবা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিদেশে জন্ম নেওয়া প্রায় ৪০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটির বিচার বিভাগ। তবে এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবেও গণ্য করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেন অথবা নিজের অতীতের অপরাধের তথ্য লুকিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে সরকার আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করতে পারে। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ওই সময় পর্যন্ত মোট ১২৩টি দেওয়ানি মামলা করা হয়েছিল। এসব মামলায় বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধের তথ্য গোপন, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রতারণা, যৌন নির্যাতন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অর্থ জালিয়াতি এবং মাদক পাচারের মতো অভিযোগ। জুলাই মাসে বিচার বিভাগ ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার কথা জানায়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে।একটি মামলায় কিউবায় জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি একটি ভুয়া চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৮ লাখ ৮৬ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিলেন। পরে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ওই কর্মকাণ্ডের তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়। আরেকটি মামলায় মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নাগরিকত্বের আবেদনে নিজের অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেননি। পরে তিনি বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অপরাধ স্বীকার করেন। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব মামলায় শুধু নাগরিকত্ব পাওয়ার পর কেউ অপরাধ করেছেন কি না, সেটিই বিবেচ্য নয়। মূল বিষয় হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তিনি তার অপরাধ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিলেন কি না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য বিষয়টি প্রমাণ করা গুরুত্বপূর্ণ যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় প্রতারণা করেছেন অথবা এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন, যা প্রকাশ করা হলে তার নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এই কারণে কোনো বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অপরাধ করলেই তার নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।সরকার সাধারণত ফেডারেল আদালতে মামলা করে। আদালত সরকারের অভিযোগ, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়। আদালত সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব বহাল থাকে। চলতি বছরে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা বাড়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এখন সরকার আরও বেশি সংখ্যক নাগরিকের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় দেওয়া তথ্য পরীক্ষা করছে। জুন মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ২৫০টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার লক্ষ্য নিয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সরকারের এই কার্যক্রম কেবল ৪০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই।এদিকে বিভিন্ন আইনজীবী ও অধিকারকর্মী নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ নাগরিকত্ব একজন মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, কাজ করা এবং অন্যান্য নাগরিক অধিকার ভোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় সরকার এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন অথবা আগের বহিষ্কারাদেশের তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।একটি মামলায় ভারতের জন্ম নেওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি অতীতে অন্য নামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ ছিল। পরে ভিন্ন পরিচয় ও পরিবর্তিত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তিনি অভিবাসনের সুবিধা এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন বলে সরকারের অভিযোগ। আরেকটি মামলায় আদালত এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি অতীতে অন্য পরিচয়ে বহিষ্কারের আদেশ পাওয়ার পর নতুন পরিচয় ও পরিবর্তিত জন্মতারিখ ব্যবহার করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং পরে নাগরিকত্ব অর্জন করেন।
ফ্লোরিডায় স্কুলবাস দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ নিহত দুই, আহত আরও কয়েকজন
এক দিনেই সম্পদ বাড়ল ৩ হাজার কোটি ডলার, আবার ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক