আমেরিকা

আমেরিকায় সেনার গুলিতে ২০ বছরের তরুণ নিহত: ট্রাম্পের বিতর্কিত সেনা মোতায়েন নিয়ে তোলপাড়!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৩:৩৩
মেমফিসে টম লি পার্কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মেমফিস সেফ টাস্কফোর্স’-এর বিশেষ টহল | ছবি: এপি
মেমফিসে টম লি পার্কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মেমফিস সেফ টাস্কফোর্স’-এর বিশেষ টহল | ছবি: এপি

আমেরিকার টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিস শহরে এক ২০ বছর বয়সী তরুণকে গুলি করে হত্যা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘ন্যাশনাল গার্ড’-এর সদস্যরা। নিহত তরুণের নাম টাইরিন জনসন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাম্প সরকারের মাঝে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে।

 

টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (টিবিআই) জানিয়েছে, রোববার ভোর ৪টার দিকে মেমফিস শহরে গোলাগুলির খবর পেয়ে ন্যাশনাল গার্ডের একটি দল সেখানে পৌঁছায়। এরপর তারা টাইরিনকে ধাওয়া করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ধাওয়া করার একপর্যায়ে টাইরিন ঘুরে দাঁড়িয়ে সেনা সদস্যদের দিকে পিস্তল তাক করেন। আত্মরক্ষার্থে ন্যাশনাল গার্ডের দুজন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ সেনা সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।

 

গুলি লাগার পর সেনা দলের চিকিৎসকরা টাইরিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। টাইরিনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার বুকে দুটি গুলি করা হয়েছে। নিহত তরুণ টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র এবং এক সন্তানের জনক ছিলেন। পরিবারের ব্যবসা দেখাশোনার পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

 

ডেমোক্র্যাটদের পরিচালিত শহরগুলোতে অপরাধ দমনের দোহাই দিয়ে গত বছরের অক্টোবরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিল লি বিতর্কিতভাবে সেখানে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন। মেমফিস শহরের ডেমোক্র্যাট মেয়র পল ইয়ং শুরু থেকেই এই সেনা মোতায়েনের বিরোধিতা করে আসছিলেন। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ট্রাম্পের এই বিশেষ টাস্কফোর্স মেমফিস শহরে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করতে এবং সাধারণ মানুষকে হেনেস্তা করতে 'অতিরিক্ত শক্তি' প্রয়োগ করছে।

 

আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঝে কিছুদিন সেনা টহল বন্ধ থাকলেও গত এপ্রিল মাসে আপিল বিভাগের রায়ে তা পুনরায় শুরু হয়। মেমফিস শহরে সেনা মোতায়েন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাস্কফোর্সের গুলিতে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের এই সেনা নীতিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লটে গুলিবর্ষণ, ১১ বছরের শিশুর মাথায় আটকে আছে গুলি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হ্যালান্ডেল বিচে একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টের পার্কিং লটে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে ১১ বছর বয়সী এক শিশু ও তার বাবা আহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, শিশুটির মাথায় আটকে থাকা গুলিটি আপাতত অপসারণ করা সম্ভব নয়, কারণ অস্ত্রোপচার করলে আরও গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।     পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৭ জুন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গাড়িতে বসে খাবারের অপেক্ষা করছিল শিশুটি। এ সময় পার্কিং লটে দুই ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে ১৮ বছর বয়সী রালফ এন-কোসি ব্লু নামে এক যুবক গুলি চালায়। লক্ষ্য অন্য ব্যক্তি হলেও কয়েকটি গুলি গিয়ে লাগে পরিবারের গাড়িতে। এতে শিশুটি মাথায় এবং তার বাবা কোমরে গুলিবিদ্ধ হন। গাড়িতে থাকা আরও দুই শিশু শারীরিকভাবে অক্ষত থাকে।     শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তার জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হলেও গুলিটি এখনও মাথার ভেতরে রয়েছে। তাঁদের মতে, বর্তমান অবস্থায় গুলি বের করার চেষ্টা করলে মস্তিষ্কের আরও ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে আহত বাবা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।     ঘটনার দুই দিন পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গুরুতর হামলা ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ম্যাকডোনাল্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আর তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন এবং তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:৪
মেমফিসে টম লি পার্কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মেমফিস সেফ টাস্কফোর্স’-এর বিশেষ টহল | ছবি: এপি

আমেরিকায় সেনার গুলিতে ২০ বছরের তরুণ নিহত: ট্রাম্পের বিতর্কিত সেনা মোতায়েন নিয়ে তোলপাড়!

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সিতে অবস্থিত মার্কিন শ্রম বিভাগের কার্যালয় ‘ফ্রান্সিস পার্কিন্স ডিপার্টমেন্ট অব লেবার বিল্ডিং’ | ছবি: গেটি ইমেজেস

গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন: আমেরিকায় বিদেশী কর্মীদের স্থায়ী হওয়া আরও কঠিন করছে ট্রাম্প প্রশাসন!

গৃহহীন জেরি ব্লেজিংগেমকে (বামে) টেজার মেরে পঙ্গু করার দায়ে পুলিশ কর্মকর্তা জন গ্রাবসকে (ডানে) বিশাল অংকের জরিমানা | ছবি: সংগৃহীত

নিরীহ মানুষকে পঙ্গু করায় মার্কিন পুলিশকে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার জরিমানা, প্রতি মাসে কাটবে বেতন!

ছবি: মেয়র মামদানি ও ইরানের পতাকার আদলে সাজানো সাবওয়ে ট্রেন (সংগ্রহীত)
ইরানের পতাকা নয়, বিশ্বকাপ প্রচারণা - তবু বিতর্কে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির একটি সাবওয়ে ট্রেনে ইরানের জাতীয় পতাকার আদলে তৈরি নকশা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বিষয়টি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সিদ্ধান্তের ফল। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।     মূলত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকার আদলে একাধিক সাবওয়ে ট্রেন সাজানো হয়েছে। ইরানের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের পতাকার নকশাও একই কর্মসূচির আওতায় ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ট্রেনটিতে ইরানের পতাকার নকশা থাকলেও সেটি কোনো রাজনৈতিক সমর্থন বা নির্দিষ্ট দেশের প্রতি আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়।   এরপরও ট্রেনটির ছবি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী মেয়র জোহরান মামদানিকে সরাসরি দায়ী করে সমালোচনা করেন। তবে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন বা মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, যাতে বলা হয়েছে যে মেয়র ব্যক্তিগতভাবে ইরানের পতাকার নকশাযুক্ত ট্রেন পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন বা এ উদ্যোগ তার একক সিদ্ধান্ত ছিল।     ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর নিউইয়র্ক। টুর্নামেন্ট উপলক্ষে নগরজুড়ে পরিবহন, পর্যটন ও জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চলছে। বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সংস্কৃতি ও পরিচিতি তুলে ধরার লক্ষ্যেও বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।   তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ইরানের পতাকার আদলে সাজানো ট্রেনটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এটি বিশ্বকাপকেন্দ্রিক একটি প্রচারণামূলক উদ্যোগ, রাজনৈতিক কোনো অবস্থান বা বার্তা নয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১২:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার প্রিমিয়াম বৃদ্ধির ধাক্কা; না জেনেই কভারেজ হারিয়ে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজারো প্রবীণ | ছবি: গেটি ইমেজেস

মাত্র ৩ ডলার বিল বাকি পড়ায় আমেরিকায় লাখ লাখ মানুষের ফ্রি ওষুধের কার্ড বাতিল!

বস্টনে শপথ অনুষ্ঠান শেষে হাত উঁচিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন নতুন মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীরা | ছবি: এএফপি

মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেও ছাড় নেই, ট্রাম্পের কড়া নিয়মে বিপাকে বিদেশি স্বামী-স্ত্রীরা!

টানা ৪টি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর অবশেষে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ক্যাসললেকের কাছে বিক্রি হতে রাজি হলো এভিয়েশন জায়ান্ট ইজিজেট | ছবি: সংগৃহীত

৬.৭ বিলিয়ন ডলারে ব্রিটিশ এয়ারলাইন ইজিজেট কিনে নিচ্ছে মার্কিন কোম্পানি ক্যাসললেক

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের প্রতিটি শিশুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক আমানত দেওয়ার ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের | ছবি: সংগৃহীত
১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ চালু, প্রতিটি শিশু পাবে ১ হাজার ডলার!

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামের একটি কর-সুবিধাপ্রাপ্ত বিশেষ বিনিয়োগ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুর নামে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক আমানত হিসেবে ১ হাজার ডলার জমা দেওয়া হবে।   নতুন এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের একেবারে অল্প বয়স থেকেই সঞ্চয় ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করা। সরকারের দেওয়া প্রাথমিক ১ হাজার ডলারের পাশাপাশি বাবা-মা, অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন কিংবা বিভিন্ন নিয়োগকর্তারাও একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত অর্থ জমা করতে পারবেন। এই জমানো অর্থ শেয়ারবাজারভিত্তিক স্বল্প খরচের ইনডেক্স ফান্ড বা সূচক তহবিলে বিনিয়োগ করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকবে।   হোয়াইট হাউসে কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মকে আর্থিকভাবে আরও সক্ষম ও শক্তিশালী করে তুলতেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একদম ছোটবেলা থেকেই বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এই তরুণদের নিজেদের সম্পদ ও সঞ্চয় গঠনের সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যাবে।   মার্কিন ট্রেজারি (অর্থ) বিভাগ জানিয়েছে, এই অ্যাকাউন্টের অর্থগুলো বিশ্বের নামী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরক, ভ্যানগার্ড এবং স্টেট স্ট্রিট-এর নির্বাচিত ইনডেক্স ফান্ডে খাটানো হবে। মূলত ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের একটি বিশেষ উপহার হিসেবে এই কর্মসূচিটি দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।   তবে এই নতুন স্কিমটি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের মতে, সরকার শুরুতে ১ হাজার ডলার দিলেও যেসব ধনী পরিবার নিয়মিত এই অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত টাকা জমা করতে পারবে, দিনশেষে তারাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভবান হবে। এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, পারিবারিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন—এই উদ্যোগ দেশের লাখো শিশুকে ছোট থেকেই আর্থিক পরিকল্পনা, সঞ্চয় ও আধুনিক বিনিয়োগ সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১১:৫২
সমুদ্রের তলদেশে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারে ‘আল্ট্রা মেরিটাইম’ কিনে নিল লকহিড মার্টিন | ছবি: সংগৃহীত

সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে নৌ-প্রতিরক্ষা কোম্পানি কিনে নিল মার্কিন জায়ান্ট লকহিড মার্টিন

নিউ জার্সিসহ একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহে মৃত্যুর মিছিল; এনডব্লিউএস-এর সতর্কতায় সোমবার বন্যার ঝুঁকিতে নিউইয়র্ক সিটি | ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় তীব্র দাবদাহে ২৫ জনের মৃত্যু, পূর্ব উপকূলে বন্যার পূর্বাভাস

ওহাইওর একটি দোকানে সাজিয়ে রাখা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান সংবলিত আতশবাজি | ছবি: এপি

আমেরিকার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও রাজনৈতিক বিভেদ, এক হতে পারছে না ব্র্যান্ড ও এনজিওগুলো

0 Comments