সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ভাইরাল ‘নিডো’ খেলনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সতর্কতা, গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ৮:৩৫
হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সেন্সরি খেলনা NeeDoh (নিডো) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিশুদের চাপমুক্ত রাখা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত নরম জেলভর্তি এই খেলনাটি ভুলভাবে ব্যবহার করার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনার খবর সামনে আসছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, খেলনাটি মাইক্রোওয়েভে গরম করা, অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে রাখা কিংবা জমিয়ে আবার গরম করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের ফলে এটি ফেটে গিয়ে শিশুদের শরীরে গুরুতর দগ্ধের সৃষ্টি করছে।

 

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে, খেলনার ভেতরে থাকা জেলজাতীয় পদার্থ অতিরিক্ত তাপে দ্রুত প্রসারিত হয়ে ভেতরে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে। একসময় খেলনার আবরণ ছিঁড়ে গেলে অত্যন্ত গরম ও আঠালো পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে এবং সরাসরি ত্বকে লেগে যায়। এই পদার্থ সহজে ত্বক থেকে আলাদা না হওয়ায় পোড়ার ক্ষত আরও গভীর হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বা তৃতীয় মাত্রার দগ্ধের সৃষ্টি হয়।

 

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক শিশু মুখ, হাত, বুক এবং চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দিতে হয়েছে এবং ক্ষত সারাতে স্কিন গ্রাফটের মতো জটিল অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ত্বক তুলনামূলক পাতলা হওয়ায় গরম জেল তাদের শরীরে দ্রুত গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।

 

হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, বেশির ভাগ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ভিডিও। এসব ভিডিওতে খেলনাটি আরও নরম করার উদ্দেশ্যে মাইক্রোওয়েভে গরম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক শিশু কৌতূহলবশত সেই পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে শিশুরা সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও না দেখলেও বন্ধু বা পরিচিতদের কাছ থেকে একই ধারণা পেয়ে এমন কাজ করেছে।

 

শুধু মাইক্রোওয়েভ নয়, অতিরিক্ত গরম পরিবেশেও এই খেলনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি ঘটনায় গরম গাড়ির ভেতরে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার পর খেলনাটি বিস্ফোরিত হয়ে এক কিশোরী দগ্ধ হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের খেলনার ভেতরের পদার্থ অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত হতে পারে।

 

খেলনাটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আগেই ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, খেলনাটি কখনোই মাইক্রোওয়েভে গরম করা, আগুন বা অতিরিক্ত তাপের কাছে রাখা কিংবা ফ্রিজে জমিয়ে পরে গরম করা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব ব্যবহার পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে নির্দেশনার বাইরে এবং এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলনার অপব্যবহার দেখানো ভিডিও অপসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন Consumer Reports যুক্তরাষ্ট্রের Consumer Product Safety Commission (CPSC)-এর কাছে এ ধরনের সেন্সরি খেলনার নিরাপত্তা নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, বিভিন্ন অভিযোগে খেলনার ভেতরের জেল বেরিয়ে এসে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা উঠে এসেছে। তারা শুধু একটি মডেল নয়, একই ধরনের অন্যান্য জেলভর্তি সেন্সরি খেলনার নিরাপত্তাও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে।

 

চিকিৎসকেরা বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পোড়া স্থানে সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ২০ মিনিট ঠান্ডা প্রবাহমান পানি দিতে হবে। বরফ, টুথপেস্ট, মাখন বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল বা বার্ন ইউনিটে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে মুখ, চোখ বা শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হলে।

 

অভিভাবকদের প্রতিও সতর্কবার্তা দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাদের মতে, শিশুদের হাতে খেলনা তুলে দেওয়ার আগে ব্যবহারের নিয়ম বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি। অনলাইনে দেখা কোনো ভিডিও বা তথাকথিত ‘চ্যালেঞ্জ’ অনুসরণ করতে শিশুদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি খেলনাগুলো গরম গাড়ির ভেতর, রোদে বা তাপ উৎপন্নকারী যন্ত্রের কাছাকাছি না রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

 

শিশুদের বিনোদন ও মানসিক স্বস্তির জন্য তৈরি একটি জনপ্রিয় খেলনা ভুল ব্যবহারের কারণে যখন গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে, তখন চিকিৎসকেরা বলছেন—সচেতনতা ও নির্মাতার নির্দেশনা মেনে চলাই এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

অভিভাবকদের সামান্য সতর্কতা একটি শিশুকে আজীবনের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ক্যাটারিং ব্যবসার সম্ভাবনা
নিউ ইয়র্কে ক্যাটারিং বিজনেস শুরু করতে চান? বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ধাপে পূর্ণ গাইড

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বিয়ে, আকিকা, জন্মদিন কিংবা অফিস পার্টিতে বিরিয়ানি, কাবাব, রোস্টসহ দেশি খাবারের চাহিদা রয়েছে। অনেকেই পরিচিতজনের অর্ডার নিয়ে নিজের বাসার রান্নাঘর থেকেই ছোট পরিসরে এই ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবেন। তবে মাংস, মাছ বা এমন খাবার, যেগুলো নিরাপদ রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ প্রয়োজন, সেগুলো নিউইয়র্কের সাধারণ হোম প্রসেসর ছাড়ের আওতায় পড়ে না। ফলে নিয়মিত ক্যাটারিং ব্যবসা করতে চাইলে শুরুতেই বৈধ ব্যবসায়িক কাঠামো, অনুমোদিত রান্নাঘর, স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুমতি এবং করসংক্রান্ত নিয়ম বুঝে এগোতে হবে।   প্রথমেই ব্যবসার আইনি কাঠামো ঠিক করতে হবে। কেউ একক মালিকানা, অংশীদারি ব্যবসা বা এলএলসি হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। এলএলসি করলে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটে ‘আর্টিকেলস অব অর্গানাইজেশন’ জমা দিতে বর্তমানে ২০০ ডলার ফাইলিং ফি লাগে। নিউইয়র্কে অধিকাংশ নতুন এলএলসিকে প্রতিষ্ঠার পর নির্ধারিত দুটি সংবাদপত্রে টানা ছয় সপ্তাহ নোটিশ প্রকাশ করতে হয়। এরপর ১২০ দিনের মধ্যে ‘সার্টিফিকেট অব পাবলিকেশন’ জমা দিতে হয়। এই সার্টিফিকেট জমার সরকারি ফি ৫০ ডলার। তবে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশের খরচ কাউন্টি ও পত্রিকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই এ খাতে নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে বাজেট করা ঠিক হবে না।   এরপর ব্যবসার জন্য আইআরএস থেকে ‘ইআইএন’ নেওয়া যায়। কর্মী নিয়োগ, ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিভিন্ন কর ও প্রশাসনিক কাজে এই নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। তবে শুধু এলএলসি করলেই ব্যক্তিগত দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। ব্যবসার কাঠামো, চুক্তি, বীমা এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক অর্থ আলাদা রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।   ক্যাটারিং ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোথায় খাবার তৈরি হবে। নিউইয়র্ক স্টেটের ‘হোম প্রসেসর এক্সেম্পশন’ নির্দিষ্ট কিছু অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকির খাবারের জন্য প্রযোজ্য। কিছু বেকড পণ্য, ক্যান্ডি, গ্র্যানোলা বা এ ধরনের অনুমোদিত খাবার ঘরে তৈরি করা গেলেও মাংস, মাছ, পোলট্রি এবং যেসব খাবার ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেগুলো এই ছাড়ের আওতায় নেই।   ফলে বিরিয়ানি, মাংসের কারি, রোস্ট বা কাবাবের মতো পূর্ণাঙ্গ ক্যাটারিং মেনু বাসার রান্নাঘরে তৈরি করে সাধারণ হোম প্রসেসর অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।   এ ধরনের ব্যবসার জন্য অনুমোদিত বাণিজ্যিক বা শেয়ার্ড কিচেন ব্যবহার করা একটি প্রচলিত পথ। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ার্ড কিচেন ব্যবহার করেও খাবারের ব্যবসা চালাতে ‘ফুড সার্ভিস এস্টাবলিশমেন্ট পারমিট’ প্রয়োজন হতে পারে। বেশিরভাগ লাভজনক খাবার পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য এই পারমিটের বর্তমান বার্ষিক ফি ২৮০ ডলার। শেয়ার্ড কিচেনে জায়গা ভাড়া নিয়ে কাজ করা শেফ বা রাঁধুনির ক্ষেত্রেও ২৮০ ডলারের পারমিট ফি প্রযোজ্য বলে সিটির আবেদনপত্রে উল্লেখ আছে।   একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, সম্পূর্ণ আবেদন জমা দেওয়ার ২২ দিন পর ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ রয়েছে, পারমিট তখনও হাতে না এলেও। তবে এর অর্থ এই নয় যে স্বাস্থ্যবিধির অন্য শর্তগুলো উপেক্ষা করা যাবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন পরবর্তী সময়ে পরিদর্শন করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যবিধির সব শর্ত পূরণ করতে হবে। ২২ দিনের আগেই ব্যবসা চালু করতে চাইলে প্রি-অপারেটিং ইন্সপেকশনের ব্যবস্থা করতে হয়।   খাবার তৈরির সময় একজন যোগ্য ‘ফুড প্রোটেকশন সার্টিফিকেট’ধারী ব্যক্তির উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির অনলাইন ‘ফুড প্রোটেকশন কোর্স’ বিনামূল্যে করা যায়। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বর্তমানে প্রায় ২৪ ডলার ফি রয়েছে এবং পরীক্ষা সরাসরি নির্ধারিত কেন্দ্রে দিতে হয়। যে ব্যক্তি খাবার তৈরির কার্যক্রম তদারকি করবেন, তাকে প্রতিষ্ঠান চালু থাকা অবস্থায় খাদ্য প্রস্তুতির কাজের ওপর নজর রাখতে হয়।   করসংক্রান্ত বিষয়ও শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি। নিউইয়র্কে যেসব ব্যবসা করযোগ্য পণ্য বা সেবা বিক্রি করে, তাদের নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স থেকে ‘সার্টিফিকেট অব অথরিটি’ নিতে হয়। সাধারণভাবে ব্যবসা শুরু করার অন্তত ২০ দিন আগে এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে বলা হয়।   ক্যাটারিংয়ের ক্ষেত্রে খাবার, পানীয় এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত অধিকাংশ খরচ করের আওতায় পড়ে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আলাদা করে দেখানো সার্ভিস চার্জ বা অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচও পুরো ক্যাটারিং বিলের করযোগ্য অংশ হতে পারে।   কর্মী থাকলে বীমার নিয়মও গুরুত্ব দিতে হবে। নিউইয়র্কের সরকারি পারমিট বা লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী ব্যবসাকে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘ওয়ার্কার্স কমপেনসেশন’, ‘ডিসঅ্যাবিলিটি’ এবং ‘পেইড ফ্যামিলি লিভ’ কভারেজের প্রমাণ দিতে হয়। তবে সব ব্যবসার পরিস্থিতি এক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে কভারেজ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য হলে নির্ধারিত এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট ব্যবহার করতে পারে। ফলে কর্মী নেই এমন ছোট ব্যবসা এবং কর্মীসহ ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক হবে না।   অনুষ্ঠানে অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের পরিকল্পনা থাকলে আলাদা লাইসেন্সের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেট লিকার অথরিটির ‘অফ-প্রিমাইসেস ক্যাটারিং এস্টাবলিশমেন্ট লাইসেন্স’-এর বর্তমান ফি নিউইয়র্ক, কিংস, ব্রঙ্কস ও কুইন্স কাউন্টিতে ৩ হাজার ১০২ ডলার। এর মধ্যে ২০০ ডলারের ফাইলিং ফি অন্তর্ভুক্ত। তবে কোন ধরনের অনুষ্ঠানে কোন লাইসেন্স প্রয়োজন হবে, সেটি ব্যবসার কার্যক্রম এবং অ্যালকোহল বিক্রির ধরন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।   কর্মী নিয়োগ করলে বেতনের নিয়মও মাথায় রাখতে হবে। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭ ডলার। হসপিটালিটি শিল্পের যোগ্য খাবার পরিবেশনকারী কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নগদ মজুরি ঘণ্টায় ১১ দশমিক ৩৫ ডলার এবং সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৬৫ ডলার টিপ ক্রেডিট মিলিয়ে ১৭ ডলারের ন্যূনতম মজুরি পূরণ করা যায়। তবে টিপ পেলেই সব কর্মীর ক্ষেত্রে এই কম নগদ মজুরি প্রযোজ্য হবে—এমন নয়।   আরেকটি পরিবর্তন এসেছে বাণিজ্যিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। নিউইয়র্ক সিটির ‘কমার্শিয়াল ওয়েস্ট জোনস’ কর্মসূচি ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় চালু হচ্ছে। কোনো এলাকার বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে সেখানকার ব্যবসাকে ওই জোনের অনুমোদিত বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। তবে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পুরো শহরের সব জোন একই সময়ে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাই ব্যবসার ঠিকানা কোন জোনে পড়ছে এবং সেখানে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে ক্যাটারিং ব্যবসা শুরু করতে সবার জন্য একই ধরনের নির্দিষ্ট মোট খরচ নেই। এলএলসি ফাইলিং, প্রকাশনা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পারমিট, কিচেন ভাড়া, বীমা, বর্জ্য সংগ্রহ, কর্মী এবং প্রয়োজন হলে অ্যালকোহল লাইসেন্সের কারণে বাজেট দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই কয়েক হাজার ডলারের একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজকে সরকারি বাধ্যতামূলক খরচ হিসেবে ধরে নেওয়ার বদলে প্রতিটি খাত আলাদাভাবে হিসাব করাই নিরাপদ।   বাংলাদেশি কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে ছোট পরিসরে শুরু করতে চাইলে আগে বৈধ কিচেন ও প্রয়োজনীয় পারমিট নিশ্চিত করে সীমিত মেনু দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। মেনুতে প্রতি ট্রে বা প্রতি ব্যক্তির দাম, সর্বনিম্ন অর্ডার, ডেলিভারি চার্জ এবং কতজনের খাবার হবে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করলে গ্রাহকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি কমে। একই সঙ্গে প্রতিটি অর্ডারের চালান, বিক্রয় কর এবং ব্যবসার আয়-ব্যয়ের রেকর্ড নিয়মিত সংরক্ষণ করা উচিত।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাসার রান্নাঘর থেকে পরিচিতজনকে খাবার দেওয়া আর নিয়মিত বাণিজ্যিক ক্যাটারিং পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। অর্ডার বড় হওয়ার আগেই ব্যবসার কাঠামো, অনুমোদিত কিচেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক পারমিট, ফুড প্রোটেকশন সার্টিফিকেট, বিক্রয় করের নিবন্ধন এবং প্রয়োজনীয় বীমা গুছিয়ে নিলে পরে জরিমানা বা ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।   তবে নিয়ম ও ফি পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট সংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৭:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রে আপনার নামে থাকা অদাবিকৃত টাকা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে আপনার নামে টাকা পড়ে আছে অথচ জানেন না, খুঁজে দেখবেন যেভাবে

নিউইয়র্কে ১০ হাজারের বেশি শিশুর জন্য চাইল্ড কেয়ার সহায়তা

নিউইয়র্কে অপেক্ষমাণ ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চাইল্ড কেয়ার ভাউচার দেবে সিটি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’, বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’, বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা
আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা বোর্ড অব নার্সিংয়ে র‍্যানসমওয়্যার হামলার ঘটনায় নার্স ও লাইসেন্স আবেদনকারীদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ড্রাইভার লাইসেন্স নম্বর ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও রয়েছে। ২ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানিয়েছে, হামলাকারীরা কিছু তথ্য সংগ্রহ ও ডাউনলোড করেছে বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সবার তথ্য আক্রান্ত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা যায়নি।    বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে গত আগস্টে তাদের প্রযুক্তিব্যবস্থায় সন্দেহজনক কার্যক্রমের সন্ধান পাওয়া যায়। ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থার কিছু অংশে ক্ষতিকর কার্যক্রমের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। ওই দিন থেকে বোর্ডের সেবা ব্যাহত হতে শুরু করে।   ঘটনার পর আলাবামা অফিস অব ইনফরমেশন টেকনোলজি ও বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ শুরু করে বোর্ড। তদন্তে এফবিআই এবং আলাবামা ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিকেও সহযোগিতা করছে কর্তৃপক্ষ।   বোর্ড জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় হামলার বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। আক্রান্ত সিস্টেমগুলো অফলাইনে নিয়ে ধাপে ধাপে নিরাপদ সেবা চালুর কাজ চলছে। তবে র‍্যানসমওয়্যার হামলার কারণে তদন্তে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় ঠিক কার কোন তথ্য দেখা বা নেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে নাম, জন্মতারিখ এবং পেশাগত লাইসেন্সের তথ্যও রয়েছে।    নার্স ও আবেদনকারীদের অপ্রত্যাশিত ইমেইল, টেক্সট মেসেজ এবং ফোনকলের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে বোর্ড। লাইসেন্স নবায়ন, ফি, তদন্ত বা অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের কথা বলে কেউ যোগাযোগ করলে যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া কিংবা পাঠানো লিংকে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বোর্ডের পোর্টালে ব্যবহৃত একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করে থাকলে তা পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাই চালু রাখা এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট রিপোর্ট ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের হিসাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   পরিচয় চুরির ঝুঁকি কমাতে ক্রেডিট ফ্রিজ বা ফ্রড অ্যালার্ট বিবেচনা করতেও বলা হয়েছে। বোর্ড স্পষ্ট করেছে, তারা নিজে থেকে ইমেইল, টেক্সট মেসেজ বা অপ্রত্যাশিত ফোনকলের মাধ্যমে কারও পাসওয়ার্ড চাইবে না।    সেবা পুনরুদ্ধারের মধ্যেই বোর্ডের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রেজিস্টার্ড নার্সদের লাইসেন্স নবায়নের কাগজের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। ২০২৬ সালের নবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট নার্সদের বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।    সূত্র: আলাবামা বোর্ড অব নার্সিংয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ও সেবাসংক্রান্ত হালনাগাদ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৩:৪৯
অ্যাপ্লিকেশন ফি দিতে সমস্যা? যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে চাইবেন ফি ওয়েভার

অ্যাপ্লিকেশন ফি দিতে সমস্যা? যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে চাইবেন ফি ওয়েভার, জেনে নিন

৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে, লক্ষ্য নিউরোলজিস্ট হওয়া

৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে, লক্ষ্য নিউরোলজিস্ট হওয়া

কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সেন্টার ফর ন্যানোটেকনোলজির পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণায় বাংলাদেশি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, পেলেন ৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন

চীনের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজের অভিযোগে ফেডারেল মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এই রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা চীনা নারী গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভিনের ৩৪ বছর বয়সী রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ওয়ানইং ঝাং, যিনি ‘হিদার ঝাং’ নামেও পরিচিত, চীনের সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র পরিবারের সদস্যকে নজরদারির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, রোববার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনের উদ্দেশে একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।   ফেডারেল অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঝাং চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল তাইওয়ানের একজন উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের বাসস্থানের ওপর নজরদারি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই কাজে ঝাং অন্য একজনের সঙ্গে সমন্বয় করেন এবং নজরদারি থেকে পাওয়া ছবি, ভিডিও ও গাড়ির নম্বর চীনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান।   মার্কিন কর্মকর্তারা সরাসরি অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ না করলেও এফবিআই ও একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লক্ষ্য ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র ছেলে লাই টিং-ইউ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকায় বসবাস ও কাজ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং ও তার এক সহযোগী ভাড়া করা গাড়িতে করে ওই ব্যক্তির বাড়ির কাছে যান। প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরায় তাদের গাড়িতে অপেক্ষা এবং পরে বাড়িতে আসা পরিবারের সদস্যদের ছবি বা ভিডিও করার দৃশ্য ধরা পড়ে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ওই অভিযানের সময় ঝাং চীনা এক কর্মকর্তাকে বার্তা পাঠিয়ে জানান যে তিনি লক্ষ্য ব্যক্তিকে দেখতে পেয়েছেন। পরে ওই কর্মকর্তা ফোনে কথা বলতে চাইলে ঝাং জানান, তিনি তখন ভিডিও ধারণ করছেন। তদন্তকারীদের দাবি, ঝাং ওই ব্যক্তির বাড়ির সামনে থাকা দুটি গাড়ির নম্বরও চীনা কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উচ্চপর্যায়ের তাইওয়ানি কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের অবস্থান, বাড়ি ও গাড়ির তথ্য ভবিষ্যতে চাপ প্রয়োগের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।   ফেডারেল তদন্তে ঝাংয়ের চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তার আইক্লাউড অ্যাকাউন্টের তথ্য ও বার্তা পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়াশোনা করেছিলেন। সেখানে পড়ার সময়ের এক সাবেক সহপাঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, যাকে তদন্তকারীরা চীনা সরকারের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। ওই ব্যক্তির মাধ্যমে পরে ঝাং আরেক চীনা সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।   অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ঝাং চীনে গিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাড়ি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। আগস্টের শেষ দিকে ঝাং ও আরেক ব্যক্তি ক্যালিফোর্নিয়ার জন ওয়েন বিমানবন্দর থেকে লাস ভেগাস যান এবং সেখান থেকে ১ সেপ্টেম্বর সিয়াটলের উদ্দেশে রওনা হন। সিয়াটলে পৌঁছে তারা একটি গাড়ি ভাড়া করে নজরদারির কথিত স্থানে যান। তদন্তকারীরা বলছেন, পুরো যাত্রাটি চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছিল।   গ্রেপ্তারের আগে ঝাংয়ের জীবনযাপনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ দৃশ্যমান ছিল। বিভিন্ন পোস্টে তাকে প্যারিসসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। তার স্বামী এডরিক ডিংও একই রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তাদের বিভিন্ন সময় একসঙ্গে থাকার ছবি এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও খাবারের জায়গায় যাওয়ার তথ্য দেখা যায়। তবে এসব ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   শিক্ষাজীবন নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য এসেছে। প্রকাশ্য পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, ঝাং ইউনিভার্সিটি অব সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউএসসিতে পড়াশোনা করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ফেডারেল অভিযোগপত্রে বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে তার পড়াশোনার তথ্য রয়েছে। তদন্তকারী এফবিআই কর্মকর্তা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনের গোয়েন্দা কাঠামোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, যদিও এটিকে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে অপরাধের স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে আদালত এখনো নির্ধারণ করেনি।   ঝাংয়ের স্বামী এডরিক ডিং গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। সিবিএস নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো কিছু জানেন না এবং পরে আর মন্তব্য করতে চাননি। ঝাংয়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে এবং তার আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কার ছিল না।   সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে ঝাংয়ের প্রাথমিক হাজিরা অনুষ্ঠিত হয়। আদালতে তিনি নিজের নাম ও অভিযোগটি বুঝতে পেরেছেন কি না, সে বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। তাকে ইউএস মার্শালদের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে তার জামিন বা হেফাজতে থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফেডারেল আইনে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   ঝাংয়ের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে চীনের কথিত গোপন তৎপরতা নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলার ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কাডিয়ার সাবেক মেয়র ইলিন ওয়াং চীনের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। এছাড়া সাবেক তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নজরদারির অভিযোগে আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল। এসব ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিদেশি সরকারের গোপন তৎপরতা মোকাবিলায় পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছেন।   তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তাইওয়ানি কর্মকর্তারা এটিকে বিদেশে থাকা তাইওয়ানি নাগরিক ও তাদের পরিবারের ওপর নজরদারি এবং চাপ প্রয়োগের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে অবগত নয় এবং তথাকথিত চীনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ব্যবহার করে চীনকে হেয় করার বিরোধিতা করে।   তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিবিএস নিউজ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২৩:১
হাম রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নিউইয়র্কে স্টেট ডিজাস্টার ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামের সংক্রমণ বাড়ছে, জরুরি অবস্থা জারি করলেন গভর্নর হোকুল

ম্যানহাটনে অফ-ডিউটি পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত মিগুয়েল ফ্রান্সিসকো মোরা নুনেজ, ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে সীমান্তরক্ষীকে গুলির ঘটনায় অবৈধ অভিবাসীর ১৫ বছরের কারাদণ্ড

নেটাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে হামলাকারী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন ট্রাম্পের

0 Comments