সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই পাসপোর্ট আবেদন, নিউইয়র্কের আশপাশে জুলাইজুড়ে পাঁচ বিশেষ গ্রহণ মেলার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ৮:৪০
আমিরাকান পাসপোর্টপর ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
আমিরাকান পাসপোর্টপর ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং জনবান্ধব করতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসজুড়ে নিউইয়র্ক সিটির আশপাশে পাঁচটি বিশেষ পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এসব মেলায় প্রথমবারের পাসপোর্ট আবেদনকারীরা আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই নির্ধারিত স্থানে গিয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তাও পাওয়া যাবে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের দ্রুত সেবা দেওয়া। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাসপোর্ট গ্রহণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত চাপ রয়েছে, সেখানে এই ধরনের অস্থায়ী গ্রহণ মেলা আবেদনকারীদের জন্য কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

 

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে পাঁচটি ভিন্ন স্থানে এসব পাসপোর্ট গ্রহণ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনস হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রথম মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৪ জুলাই নিউ জার্সির উডক্লিফ লেকের টাইস সিনিয়র সেন্টারে দ্বিতীয় মেলা, ১৬ জুলাই ওয়েস্ট হ্যারিসনের ভিলেজ গ্রিনে তৃতীয় মেলা, ১৮ জুলাই আর্ডসলির অ্যান্থনি ভেটেরান পার্কে চতুর্থ মেলা এবং ২১ জুলাই ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টি ক্লার্কের কার্যালয়ে শেষ মেলার আয়োজন করা হবে। প্রতিটি স্থানে নির্ধারিত সময়ে ওয়াক-ইন আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

 

এই বিশেষ মেলাগুলো মূলত প্রথমবারের মার্কিন পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্য। এছাড়া ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু, যাদের আইন অনুযায়ী সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হয়, তারাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে যেসব নাগরিক কেবল বিদ্যমান পাসপোর্ট নবায়ন করতে চান এবং ডাকযোগে নবায়নের যোগ্য, তাদের জন্য এই মেলাগুলো প্রযোজ্য নয়।

 

কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের নির্ধারিত নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। আবেদনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র, যেমন জন্মসনদ বা নাগরিকত্বের সনদ, বৈধ সরকারি পরিচয়পত্র, পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পূরণ করা DS-11 আবেদনপত্র, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট-আকারের ছবি এবং প্রযোজ্য আবেদন ফি জমা দিতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিভাবকীয় সম্মতি এবং সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত কাগজপত্রও সঙ্গে আনতে হবে।

 

পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ মেলাগুলোতে আবেদনকারীরা শুধু নথি জমা দেবেন না, বরং আবেদনপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগও পাবেন। অনেক আবেদনকারী ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ ফরম বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে আবেদন জমা দিতে সমস্যায় পড়েন।

 

এসব সমস্যা এড়াতে কর্মকর্তারা সরাসরি আবেদনকারীদের সহায়তা করবেন, যাতে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

 

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পর্যটন, শিক্ষা, ব্যবসা এবং পারিবারিক ভ্রমণের কারণে পাসপোর্টের আবেদনও আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অনেক আবেদন কেন্দ্রেই দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট দেখা দিয়েছে। সেই চাপ কমাতেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সময়ে সময়ে বিশেষ পাসপোর্ট গ্রহণ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব মেলায় আবেদন গ্রহণ করা হলেও পাসপোর্ট ইস্যুর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকরণের সময় অপরিবর্তিত থাকবে। সাধারণ আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যাদের জরুরি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে, তারা অতিরিক্ত ফি দিয়ে দ্রুত সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। দ্রুত সেবার ক্ষেত্রে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও আবেদনসংখ্যা ও অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে।

 

আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মেলাস্থলে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ওয়াক-ইন আবেদন গ্রহণ করা হলেও উপস্থিতির সংখ্যা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো আবেদনকারী দ্রুত ও সহজ উপায়ে পাসপোর্ট আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে যাদের কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত কর্মদিবসে পাসপোর্ট গ্রহণ কেন্দ্রে যাওয়া কঠিন, তাদের জন্য এই বিশেষ মেলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দেবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদনকারীদের ভুয়া ওয়েবসাইট বা অননুমোদিত দালালের মাধ্যমে আবেদন না করে শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ফি সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

জুলাই মাসজুড়ে আয়োজিত এই পাঁচটি পাসপোর্ট গ্রহণ মেলা নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হলে আবেদনকারীরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক সহায়তাও একসঙ্গে গ্রহণ করতে পারবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখন পেপাল ও ভেনমো ব্যবহার করে সরাসরি টিউশন ফি ও অন্যান্য শিক্ষাবিষয়ক খরচ পরিশোধ করতে পারছেন। নতুন এই পেমেন্ট সুবিধা ইতোমধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে এবং চলতি বছর আরও প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হতে পারে।  প্রথম দিকের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলামাইন ইউনিভার্সিটি, বাটলার ইউনিভার্সিটি, কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত অনলাইন পেমেন্ট পোর্টাল থেকেই পেপাল বা ভেনমোকে পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিতে পারবেন।    এই সুবিধা চালু করতে পেপাল শিক্ষা খাতের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ইলুমিয়া, নেলনেট ক্যাম্পাস কমার্স ও টাচনেটের সঙ্গে নতুন ইন্টিগ্রেশন করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থী বা পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেমের ভেতর থেকেই পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। পেমেন্টের অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড অথবা পেপাল ও ভেনমো অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্স থেকে দেওয়া যাবে।    তবে এই সুবিধা ব্যবহার করলেই যে অতিরিক্ত খরচ থাকবে না, তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সার্ভিস বা প্রসেসিং ফি নেওয়া হতে পারে। যেমন, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে টিউশন পরিশোধ করলে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস ফি প্রযোজ্য হবে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি ভিন্ন হতে পারে।    কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিও ২০ ডলারের বেশি পেপাল ও ভেনমো লেনদেনে কমপক্ষে ৩ ডলার সার্ভিস ফি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই বড় অঙ্কের টিউশন পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কাঠামো দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।    পেপাল ও ভেনমোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব লেনদেনে এনক্রিপশন ও জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ তাদের নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নন-ব্যাংক পেমেন্ট অ্যাপে রাখা অর্থ সবসময় প্রচলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকে না।    পেপালের কিছু নির্দিষ্ট ব্যালেন্স প্রোগ্রাম ব্যাংকের মাধ্যমে এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্সের আওতায় পড়তে পারে। তবে সব পেপাল বা ভেনমো ব্যালেন্স এই সুরক্ষা পায় না। পেপাল নিজেও জানিয়েছে, এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্স সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেয়, পেপালের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে নয়।    নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে মূলত শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য টিউশন পরিশোধের পদ্ধতি আরও বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। তবে টিউশনের মতো বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি, পেমেন্টের উৎস এবং অর্থের সুরক্ষা সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৩:১১
সিলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর রহমান

সিলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর রহমান

আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে কোন স্টেট এ বছরে কত আয় দরকার, জানাল নতুন গবেষণা

আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে কোন স্টেট এ বছরে কত আয় দরকার, জানাল নতুন গবেষণা

আমেরিকার জেলে মৃত্যুদণ্ডের ছায়ায় ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি রব্বানী

আমেরিকার জেলে মৃত্যুদণ্ডের ছায়ায় ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি রব্বানী

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিতে টিকটকের সাথে ৪০ কোটি ডলারের ঐতিহাসিক সমঝোতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে টিকটককে ৪০০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে টিকটক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের সঙ্গে ৪০ কোটি ডলারে সমঝোতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। শুক্রবার, ২১ আগস্ট ঘোষণা করা এই সমঝোতাটি শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সংক্রান্ত মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সবচেয়ে বড় আর্থিক পুনরুদ্ধারগুলোর একটি।   মামলাটি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে। মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছিল, টিকটক শিশু ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মায়ের প্রয়োজনীয় সম্মতি নেয়নি। অভিযোগে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ বা কপ্পা আইন লঙ্ঘনের কথা বলা হয়।   সমঝোতা অনুযায়ী, টিকটক ৩০ কোটি ডলার তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করবে। আরও ১০ কোটি ডলার দিতে হবে আগের একটি আদালতের সম্মত আদেশ বাতিলের নির্দেশ জারি হওয়ার পর। এই অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে মামলাটির নিষ্পত্তি হবে। তবে বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগগুলো কেবল অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে। আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ টিকটককে এসব অভিযোগের জন্য আইনগতভাবে দায়ী বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।   মার্কিন বিচার বিভাগের সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি ই. উডওয়ার্ড জুনিয়র বলেন, শিশুদের অনলাইনে সুরক্ষিত রাখা এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলে, সেটিই বিভাগের অগ্রাধিকার। তার মতে, এই সমঝোতার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ উদ্ধার করার পাশাপাশি পরিবারগুলো যে ধরনের সুরক্ষা আশা করে, সেটিও জোরদার করা হয়েছে।   বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মামলা করার পর টিকটকের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা, আইন মেনে চলার কাঠামো এবং গোপনীয়তা নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা উন্নত এবং অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।   টিকটকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ। যুক্তরাষ্ট্রের কপ্পা আইনে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার বা প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৯ সালেও টিকটকের পূর্বসূরি মিউজিক্যালি-র বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে মার্কিন সরকার মামলা করেছিল এবং আদালতের আদেশে প্রতিষ্ঠানটিকে কিছু নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।   নতুন সমঝোতার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন টিকটককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে আলাদা বিতর্কও চলছে। তবে এই ৪০ কোটি ডলারের সমঝোতাটি মূলত শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।   এদিকে, সমঝোতার অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ শুক্রবারের ঘোষণায় নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা জানায়নি। তবে এবিসি নিউজের মে মাসের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এই ৪০ কোটি ডলার ওয়াশিংটন ডিসির সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।   ওই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানিয়েছিল, অর্থের একটি অংশ বা পুরো অর্থ স্বরাষ্ট্র বিভাগ, বাণিজ্য বিভাগ অথবা উভয় বিভাগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওয়াশিংটন ডিসি সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রির কাছে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৫০ ফুট উচ্চতার ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চ’ নির্মাণের প্রকল্পও রয়েছে বলে মে মাসে এবিসি নিউজ জানিয়েছিল।   তবে এখন পর্যন্ত বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে সমঝোতা থেকে পাওয়া অর্থ ওই প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। ফলে টিকটকের কাছ থেকে পাওয়া ৪০ কোটি ডলার ঠিক কোন খাতে ব্যবহার করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। টিকটক শুক্রবারের সমঝোতা ঘোষণার পরপরই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি বলে এবিসি নিউজ জানিয়েছে।   সব মিলিয়ে, শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান হলো এই সমঝোতার মাধ্যমে। একদিকে টিকটককে বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির শিশু ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ হয়নি, এটিও আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ০:৩
টেক্সাসের দুই বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর সুবিধা নিয়ে আপত্তি। ছবি: সংগৃহীত

বিমানবন্দরে মুসলিমদের ওজু সুবিধা নিয়ে আপত্তি, বিচার বিভাগে গেলেন টেক্সাসের গভর্নর

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছে মার্কিন ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের নীতি বেআইনি, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতের রায়

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের স্কুল অব ফার্মেসির শিক্ষক ড. বেরহানু কিবরেট। ছবি: সংগৃহীত

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘টিচার অব দ্য ইয়ার’ আইসিই হেফাজতে, বন্ডে মুক্তি মেলেনি

যুক্তরাষ্ট্রে কম দামের খাবারের দোকান ডলার স্টোর। ছবি: সংগৃহীত
ডলার স্টোরের খাবার নিয়ে সতর্কবার্তা, গবেষণায় নতুন তথ্য সাশ্রয়ী খাবারের আড়ালে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় কম খরচে খাবার কিনতে অনেক পরিবার ডলার স্টোরের ওপর নির্ভর করছে। তবে এসব দোকানে পাওয়া খাবারের মানের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।   ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের গবেষকদের এই গবেষণা ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ডলার স্টোরের খাবারের সঙ্গে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার বেশি হারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণার প্রথম লেখক রায়ান ব্রুয়েলম্যান বলেন, গ্রোসারি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ তুলনামূলক কম দামের এবং বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   গবেষকেরা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ‘ফাইভ হান্ড্রেড সিটিজ প্রজেক্ট’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি আবাসিক এলাকার কাছাকাছি কতগুলো ডলার স্টোর রয়েছে, সেটিও হিসাব করা হয়। কোনো আবাসিক এলাকা থেকে ১০ মিনিটের গাড়ি চালানোর দূরত্বের মধ্যে থাকা ডলার স্টোরের সংখ্যাও বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ডলার স্টোরের উপস্থিতির সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রচলিত গ্রোসারি স্টোরের তুলনায় ডলার স্টোরের সংখ্যা বেশি, সেখানে এই সম্পর্ক আরও স্পষ্ট ছিল।   তবে গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। এই গবেষণা ডলার স্টোরের খাবার সরাসরি স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের কারণ প্রমাণ করেনি। বরং ডলার স্টোরের উপস্থিতি এবং এসব স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে একটি সম্পর্ক বা যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, সমস্যার সমাধান শুধু ডলার স্টোরের সংখ্যা কমানো নয়। বরং এসব দোকানেই তাজা ফলমূল, শাকসবজি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সরবরাহ বাড়ানো যেতে পারে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব, কৃষকের বাজার এবং খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের সুযোগ বাড়ানোর মতো উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ছোট স্থানীয় মুদি দোকান রয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প পাওয়া যায়। এসব দোকানের প্রভাব গবেষণার তথ্যের মধ্যে পুরোপুরি ধরা পড়েনি। ফলে স্থানীয় ছোট দোকানগুলোর উপস্থিতি ডলার স্টোরের খাবারের ওপর নির্ভরতার প্রভাব কিছুটা কমিয়ে থাকতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। খাদ্যবিজ্ঞানী ও নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ ড. শাই বিষ্ণুমোহন বলেন, মানুষ সাধারণত তাদের বাজেট, সময় এবং আশপাশে থাকা দোকানের সুযোগের ওপর ভিত্তি করে খাবার নির্বাচন করে। তাই সাশ্রয়ী খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবারও সহজলভ্য করা জরুরি।   গবেষকদের আশা, এই গবেষণা নীতিনির্ধারকদের কম আয়ের ও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর খাবারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে। তাদের মতে, মানুষের নাগালের মধ্যে কম দামে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২১:২১
স্কাইলার মে। ছবি: সংগৃহীত

মাসে আয় ১০ লাখ ডলার, অসুস্থ মা-বাবাকে রাজকীয় জীবন উপহার দিলেন ২৩ বছরের তরুণী

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাতনি কাই ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নাতনির পিছু নিয়েছেন এক যুবক, নিরাপত্তার ভয়ে দিন কাটছে ১৯ বছর বয়সী কাইয়ের

আবাসিক এলাকার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ির দাম বাড়ায় কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান? যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ

0 Comments