আমেরিকা

উচ্চ বেতন নয়, সুখী কর্মজীবনের মূল চাবিকাঠি অর্থবহ কাজ ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ: যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ৮:৪
আমেরিকার চাকরি জীবিদের একখণ্ড ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
আমেরিকার চাকরি জীবিদের একখণ্ড ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

একসময় ক্যারিয়ারে সফলতার মানদণ্ড ছিল বড় পদ, দ্রুত পদোন্নতি এবং আকর্ষণীয় বেতন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের পরিবর্তিত বাস্তবতায় সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে ধারাবাহিক কর্মী ছাঁটাই, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং বাড়তে থাকা মানসিক চাপের কারণে এখন অনেক পেশাজীবী নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন—কোন ধরনের চাকরি মানুষকে সত্যিকারের সুখী রাখে?

 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কর্মক্ষেত্র প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Blink-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, শুধু উচ্চ বেতন নয়; কর্মপরিবেশ, কাজের উদ্দেশ্য, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে কাজের ভারসাম্যই কর্মীদের সুখ নির্ধারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।

 

গবেষণায় বিভিন্ন পেশার কর্মীদের চাকরির সন্তুষ্টি, মানসিক চাপ, কাজের অর্থবহতা এবং কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, যেসব কর্মী নিজেদের কাজকে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী বলে মনে করেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি সন্তুষ্ট এবং দীর্ঘ সময় একই পেশায় থাকতে আগ্রহী।

 

তালিকার শীর্ষে রয়েছে এয়ারলাইন পাইলট ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারদের মতো পেশা। এছাড়া মার্কেটিং ম্যানেজার, ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার, ফার্মাসিস্ট এবং কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররাও উচ্চ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এসব পেশায় কর্মরতদের মতে, আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি কাজের প্রতি আগ্রহ এবং কর্মপরিবেশ তাদের মানসিক স্বস্তি বাড়ায়।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত বেতন সব সময় সুখ নিশ্চিত করে না। অনেক কর্মী জানিয়েছেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অবাস্তব লক্ষ্য, অনিশ্চিত চাকরি এবং কর্মক্ষেত্রে স্বীকৃতির অভাব থাকলে ভালো বেতনও চাকরির প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে পারে না।

 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ধরে রাখতে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নমনীয় কর্মঘণ্টা, দূরবর্তী বা হাইব্রিড কর্মব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্যোগ বাড়িয়েছে। কর্মী ধরে রাখা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এসব উদ্যোগ কার্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে।

মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রের নতুন প্রজন্ম—বিশেষ করে তরুণ পেশাজীবীরা—এখন শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য নয়, বরং এমন একটি কর্মপরিবেশ খুঁজছেন যেখানে তারা সম্মান, স্বীকৃতি এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন।

 

সব মিলিয়ে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে সফলতার সংজ্ঞা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বড় বেতন কিংবা মর্যাদাপূর্ণ পদ এখনও গুরুত্বপূর্ণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের সুখ ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে অর্থবহ কাজ, ইতিবাচক কর্মপরিবেশ এবং কাজ-জীবনের ভারসাম্যই হয়ে উঠছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
আটককৃত আসামিকে আদালতে তুলা হচ্ছে ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
পুরোনো বহিষ্কার আদেশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ীকে আটক করল ICE, বহিষ্কার ঠেকাতে মরিয়া পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী ধাভাল কালিদাস প্যাটেলকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE) আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু বছর আগে জারি হওয়া একটি বহিষ্কার (Removal) আদেশ কার্যকর করার অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   তবে পরিবারের দাবি, তাকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। আদালতের নথি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুন মেইনের ফ্রেন্ডশিপ শহরে অবস্থিত ওয়ালেস মার্কেটে কর্মরত অবস্থায় ICE কর্মকর্তারা ধাভাল কালিদাস প্যাটেলকে আটক করেন। পরে তাকে ম্যাসাচুসেটসের প্লাইমাউথ কাউন্টি কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন।   প্যাটেলের পরিবার তার আটকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন দায়ের করেছে। তাদের পক্ষে আইনজীবী অড্রে রিচার্ডসন আদালতে বলেন, তার মক্কেলকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, আটক করার সময় কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় স্পষ্টভাবে দেননি এবং তাকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।   আইনজীবী আরও জানান, ধাভাল প্যাটেল একজন ছোট ব্যবসায়ী, যিনি মেইনের স্থানীয় একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরের সহ-মালিক। তিনি তার স্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করেন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে তার মুক্তি এবং বহিষ্কার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।   অন্যদিকে, ICE এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধাভাল প্যাটেল ২০১০ সালের ১ নভেম্বর বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং সীমান্ত টহল বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে ২০১১ সালের মার্চ মাসে তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও নির্ধারিত ইমিগ্রেশন আদালতের শুনানিতে তিনি উপস্থিত হননি। এর ফলে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার অনুপস্থিতিতে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ জারি করেন।   সংস্থাটির দাবি, বর্তমানে নতুন কোনো অপরাধমূলক অভিযোগে নয়, বরং সেই বহিষ্কার আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   মামলাটি আদালতে ওঠার পর ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি জরুরি ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। ওই আদেশে বলা হয়, মামলার শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধাভাল প্যাটেলকে ম্যাসাচুসেটসের বাইরে অন্য কোনো আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা যাবে না। পরে মামলাটি অন্য একজন বিচারকের কাছে স্থানান্তরিত হলেও ওই নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে এবং সরকারের কাছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে আদালতের তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আদালত এখন নির্ধারণ করবেন, প্যাটেলের আটকের প্রক্রিয়া আইনসম্মত ছিল কি না এবং তার সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়েছে কি না।   ঘটনাটি এমন সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন আইন প্রয়োগে ICE-এর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বহু বছর আগে জারি হওয়া বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করতে সংস্থাটি সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান জোরদার করেছে। এ কারণে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে।   এদিকে, ধাভাল প্যাটেলের পরিবার জানিয়েছে, তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং আদালতের মাধ্যমে তার মুক্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে, ICE বলছে, আদালতের নির্দেশনা মেনে তারা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।   এখন এই মামলার ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ফেডারেল আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে ধাভাল কালিদাস প্যাটেলের বহিষ্কার আদেশ কার্যকর হবে, নাকি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ৯:১
আমিরাকান পাসপোর্টপর ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই পাসপোর্ট আবেদন, নিউইয়র্কের আশপাশে জুলাইজুড়ে পাঁচ বিশেষ গ্রহণ মেলার আয়োজন

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ভাইরাল ‘নিডো’ খেলনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সতর্কতা, গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা

আমেরিকার চাকরি জীবিদের একখণ্ড ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

উচ্চ বেতন নয়, সুখী কর্মজীবনের মূল চাবিকাঠি অর্থবহ কাজ ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ: যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা

হত্যাকারী চিকিৎসকের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
দুই ছেলেকে হত্যার পর নিজ চেম্বারে অগ্নিসংযোগ, শেষে গাড়িতে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা চিকিৎসকের

যুক্তরাষ্ট্রে এক মর্মান্তিক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে এক দন্তচিকিৎসকের বিরুদ্ধে নিজের দুই অল্পবয়সী ছেলেকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এরপর তিনি নিজের ডেন্টাল ক্লিনিকে অগ্নিসংযোগ করেন এবং শেষ পর্যন্ত গাড়িতে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   তদন্তকারীরা জানান, ঘটনাটি কয়েকটি স্থানে ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হয়। প্রথমে ওই চিকিৎসকের দুই শিশুপুত্রকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তার মালিকানাধীন ডেন্টাল চেম্বারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।   এর কিছু সময় পর একটি জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ওই চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করে জরুরি সেবা কর্মীরা। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলগুলো থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা পারিবারিক, ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের নির্দিষ্ট কারণ বা কোনো সুইসাইড নোটের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসককে তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একজন পেশাজীবী হিসেবে চিনতেন এবং এমন ঘটনার কথা কল্পনাও করতে পারেননি।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ৭:৪৮
আমেরিকার পুলিশ প্রটোকলের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা উদযাপনের সপ্তাহান্ত রক্তাক্ত, বন্দুক সহিংসতায় নিহত অন্তত ৪৩

ওয়ালমার্টের মূল্যছাড় ঘোষণা, কৃতিত্ব নিলেন ট্রাম্প

ওয়ালমার্টের মূল্যছাড় ঘোষণা, কৃতিত্ব নিলেন ট্রাম্প

আদালতে জমা দেওয়া নথির স্থিরচিত্রে ধরা পড়েছে ঘটনার মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৩ মাসের শিশুকে ওপরে ছুড়ে দেন ডে-কেয়ার কর্মী, পরে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত

মামলা করা নিউইয়র্কের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষিকা লরেন ভিটালে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে গর্ভবতী শিক্ষিকাকে পেটে লাথি, পরে তাকেই দোষ দিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়

নিউইয়র্ক সিটির এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন, শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীর হামলায় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সহায়তা না করে উল্টো ঘটনার জন্য তাকেই দায়ী করেছে। পরে প্রতিবাদ করায় তাকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন।   নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী লরেন ভিটালে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সে সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পিএস ৮৪ বিদ্যালয়ে কিন্ডারগার্টেনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পড়াতেন তিনি। মামলায় ভিটালে অভিযোগ করেছেন, সহিংস আচরণের নথিভুক্ত ইতিহাস থাকা এক শিক্ষার্থীকে আগাম কোনো সতর্কতা ছাড়াই তার শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হয়। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী তার মুখে থুতু নিক্ষেপ করে এবং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার পেটে লাথি মারে।   আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, ওই হামলার পর ভিটালের রক্তক্ষরণ, পেটে ব্যথা, গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা দেখা দেয়। পরে তিনি নিজেই হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে যান এবং চিকিৎসা নেন। তবে হামলার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে ঘটনার জন্য তাকেই দায়ী করে বলে অভিযোগ করেছেন ভিটালে। মামলায় তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার আঘাতের প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনা করেন, তার বিরুদ্ধে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন, বেতন কেটে নেন এবং কর্মক্ষেত্রে আহত হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।   ভিটালের ভাষ্য, "তারা বলেছিল আমি নাকি পেটে লাথি খাওয়া এড়াতে পারতাম। আমি তো সিনেমার নায়ক নই যে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু এড়িয়ে যেতে পারব।" তিনি আরও বলেন, "এটি আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, হয়তো আমার সন্তানকে হারাব।"   মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময়ই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না। ভিটালের দাবি, প্রশ্নটি তাকে অস্বস্তিতে ফেললেও চাকরির প্রয়োজন থাকায় তিনি তখন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।   তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের শুরুতে আরেক সহিংস শিক্ষার্থীকে তার শ্রেণিকক্ষে রাখার বিরুদ্ধে শিক্ষক ইউনিয়নে অভিযোগ করার পর থেকেই তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু হয়। ওই শিক্ষার্থীও এক পর্যায়ে তাকে কামড় দেয় এবং পর্দার রড দিয়ে আঘাত করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।   মামলায় বলা হয়েছে, পরে গর্ভধারণের খবর বিদ্যালয়ের এক কাউন্সেলরের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ভাগ করে নিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি প্রধান শিক্ষকের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর থেকেই তার কাজের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি শুরু হয় এবং তাকে একটি টিচার ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান-এর আওতায় আনা হয়। ভিটালের অভিযোগ, গর্ভধারণের পর থেকেই তাকে আরও বেশি পর্যবেক্ষণ করা হতো এবং কর্মক্ষেত্রে তার প্রতি আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন আসে।   এ বছরের এপ্রিল মাসে শিক্ষক ইউনিয়নের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার এক সপ্তাহ পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হওয়ার ঠিক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বর্তমানে দুই মাস বয়সী কন্যাসন্তানের মা ভিটালে আদালতের মাধ্যমে চাকরি ফিরে পেতে চান। তিনি বলেন, "আমি আবারও শিশুদের পড়াতে চাই। শিক্ষকতাই আমার পেশা, আমি শুধু আমার কর্মস্থলে ফিরে যেতে চাই। যা ঘটেছে, তাতে আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছি।"   এদিকে, মামলার বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ২৩:২৭
ঘটনার পর বাড়িটি ঘিরে তদন্ত চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

ওহাইওর একটি বাড়ির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে ১৬ শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার একই পরিবারের চার সদস্য

গরম গাড়ির ভেতরে থাকার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় বেবিসিটারের তত্ত্বাবধানে থাকা ২ বছরের শিশুর মৃত্যু, গরম গাড়িতে ফেলে রাখার অভিযোগ

নিউইয়র্কে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অনেক অ্যাপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আবাসন সংকটের মধ্যেও নিউইয়র্কে খালি পড়ে আছে ৫৭ হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট

0 Comments