মুনা জর্জিয়া পিকনিকের ভেন্যু পরিবর্তন, ১১ জুলাই নতুন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী আয়োজন
আবাসন সংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু সমস্যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য MUNA (Muslim Ummah of North America) Georgia Picnic 2026-এর ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে আগামী শনিবার, ১১ জুলাই, পিকনিকটি অনুষ্ঠিত হবে জর্জিয়ার অ্যাকওয়ার্থ শহরের রেড টপ মাউন্টেন স্টেট পার্কে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের নতুন ভেন্যুর তথ্য সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, পিকনিকটি ১১ জুলাই (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত চলবে। নতুন ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে Red Top Mountain State Park-এর Group Shelter #2, যার ঠিকানা 50 Lodge Rd SE, Acworth, Georgia 30102।
প্রতিবছরের মতো এবারও পরিবারকেন্দ্রিক এই আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের খাবার, বিনোদনমূলক কার্যক্রম এবং ইসলামী পরিবেশে মিলনমেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে চিকেন বারবিকিউ, বিফ বিরিয়ানি, চিকেন বিরিয়ানি, আইসক্রিম, তাজা তরমুজসহ আরও বিভিন্ন পদ।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শিশু ও বড়দের জন্য থাকবে মজাদার খেলাধুলার আয়োজন এবং ইসলামী জ্ঞানভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা। এছাড়া ইসলামী শালীনতা বজায় রাখতে ভাই ও বোনদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক ও আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে একক অংশগ্রহণকারীর জন্য ২০ ডলার এবং সর্বোচ্চ চার সদস্যের পরিবারের জন্য ৪০ ডলার। চারজনের বেশি সদস্য হলে অতিরিক্ত প্রতিজনের জন্য ১০ ডলার করে দিতে হবে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে পার্কে প্রবেশের জন্য ১০ ডলারের পার্কিং ফি পার্ক কর্তৃপক্ষকে আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে।
নিবন্ধন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আয়োজকদের প্রকাশিত ফ্লায়ারের কিউআর কোড ব্যবহার করতে অথবা আয়োজকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। যোগাযোগের জন্য আব্দুল্লাহ মামুন (৪০৪-৭০৪-৭৭৫৩), সাজিদ শোভন (৫৭০-৪১৭-৪৮৪৩) এবং রেজাউল করিমের (৪০৪-৪৫২-৮৩২২) নম্বর দেওয়া হয়েছে।
মুনা উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করতে নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষা, দাওয়াহ ও কমিউনিটিভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজন করে থাকে। জর্জিয়ার এই বার্ষিক পিকনিকও সেই ধারাবাহিকতার অংশ, যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি পারস্পরিক পরিচয়, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়।
আয়োজকরা সবাইকে নতুন ভেন্যুর তথ্য নিশ্চিত করে পরিবারসহ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি পরিচিতদের জানিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন, যাতে কেউ পূর্বনির্ধারিত স্থানে চলে না যান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। মার্কিন অর্থবছরের শেষ মাস হওয়ায় কয়েকটি কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন শ্রেণিতে ভিসা নম্বরের চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য কয়েকটি শ্রেণিতে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ভারতীয় আবেদনকারীদের কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম শ্রেণিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। উচ্চ চাহিদার কারণে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এই শ্রেণির নির্ধারিত ভিসা নম্বর শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণিতেও ভারতীয়দের জন্য বর্তমানে ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা রয়েছে সাধারণ কর্মসংস্থানভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণিতেও। তবে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্বপূর্ণ এলাকা এবং অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত পঞ্চম শ্রেণির বিশেষ ভিসাগুলো সব দেশের আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। পরিবারভিত্তিক দ্বিতীয়-এ শ্রেণিতে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি রয়েছে। সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য এই শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকায় দ্বিতীয়-এ শ্রেণি বিশ্বব্যাপী চলমান রয়েছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় শ্রেণিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪। তবে চীন, ভারত ও ফিলিপাইনের আবেদনকারীদের জন্য আলাদা ও তুলনামূলক পুরোনো কাটঅফ তারিখ রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের শেষ সময়ে কোনো শ্রেণিতে চাহিদা বেড়ে গেলে নির্ধারিত তারিখ আরও পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি কোনো শ্রেণির ভিসা নম্বর পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলে সেটি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধও হতে পারে। গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের তাই নিজেদের অগ্রাধিকার তারিখের সঙ্গে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিনের কাটঅফ তারিখ মিলিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সেপ্টেম্বরে আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন তারিখের তালিকা অনুসরণ করছে, সেটিও নজরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে কিছু আবেদনকারীকে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। নতুন মার্কিন অর্থবছর শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর। ফলে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভিসা নম্বরের চাপ এবং বিভিন্ন অভিবাসন শ্রেণির কাটঅফ তারিখের পরিবর্তনের দিকে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।
নিউইয়র্কে ফ্রাই চিকেনের দোকানে বন্দুক হামলা, বাংলাদেশি যুবক নিহত
আইআরএসের নতুন প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত অভিবাসীরা পাবেন না ফেরতযোগ্য ট্যাক্স ক্রেডিট
ক্যালিফোর্নিয়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য সুখবর, ৮ নভেম্বর দীপাবলি দিবস ও সরকারি ছুটি
যুক্তরাষ্ট্রে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের পরিবার শুধু চিকিৎসা বা শিক্ষাসহায়তাই নয়, যোগ্যতা অনুযায়ী নগদ অর্থ, খাবার কেনার সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা এবং আবাসন সহায়তার জন্যও আবেদন করতে পারে। তবে অটিজমের সনদ থাকলেই এসব সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। শিশুর প্রতিবন্ধিতার মাত্রা, পরিবারের আয় ও সম্পদ, শিশুর বয়স এবং বসবাসের অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। অটিজমসহ যোগ্য প্রতিবন্ধিতা থাকা শিশুদের জন্য ফেডারেল সরকারের মাসিক নগদ সহায়তা হিসেবে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পাওয়া যেতে পারে। ২০২৬ সালে সুবিধাপ্রাপ্তির উপযুক্ত ব্যক্তির জন্য এসএসআইয়ের সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৯৯৪ ডলার। তবে অটিজম থাকলেই এই অর্থ পাওয়া যায় না। শিশুর প্রতিবন্ধিতা সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আয় ও সম্পদের একটি অংশও হিসাব করা হয়। ফলে প্রকৃত সুবিধা ৯৯৪ ডলারের কম হতে পারে। আবার পরিবারের আয় বেশি হলেও সরাসরি আবেদন না করে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে শিশু অযোগ্য। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারভেদে হিসাব আলাদা হয় এবং নির্দিষ্ট আয়ের কিছু অংশ বাদ দেওয়ার পর শিশুর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। পরিবারের আয় কম হলে অটিজম শিশুসহ সুবিধাপ্রাপ্তির উপযুক্ত পরিবার স্ন্যাপ বা ফুড স্ট্যাম্প সুবিধার জন্যও আবেদন করতে পারে। এটি সরাসরি নগদ টাকা নয়। ইবিটি কার্ডের মাধ্যমে অনুমোদিত খাবার কেনা যায়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয় এবং অন্যান্য নিয়মের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যয়ের কিছু অংশ আয় হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগও থাকতে পারে। ফলে অটিজম শিশুর পরিবার স্ন্যাপের আবেদন করার সময় শুধু বেতন নয়, পরিবারের অনুমোদিত খরচ ও প্রতিবন্ধী সদস্যের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টিও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার জন্য মেডিকেইডও বড় ধরনের সহায়তা হতে পারে। মেডিকেইডে থাকা ২১ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ফেডারেল নিয়মে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অটিজমের ক্ষেত্রে আচরণগত থেরাপি, কথা বলার থেরাপি, পেশাগত থেরাপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার সুযোগ থাকতে পারে। তবে কোন থেরাপি কতটা এবং কী শর্তে দেওয়া হবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। শিক্ষার ক্ষেত্রেও পরিবারের জন্য বড় ধরনের সরকারি সহায়তা রয়েছে। সুবিধাপ্রাপ্তির উপযুক্ত অটিজম শিশুরা সরকারি স্কুলে বিশেষ শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত শিক্ষা পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে। পরিবারের আয় এখানে প্রধান শর্ত নয়। শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী কথা বলার থেরাপি, আচরণগত সহায়তা, পেশাগত থেরাপি, সহায়ক প্রযুক্তি এবং অন্যান্য শিক্ষাসেবা যুক্ত হতে পারে। তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রাথমিক বিকাশ সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমেও বিভিন্ন থেরাপি ও পারিবারিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। পরিবারের আয় কম হওয়ায় অটিজম শিশুকে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের রেন্ট দিতে সমস্যা হলে হাউজিং অ্যাসিস্ট্যান্সের জন্যও আবেদন করা যায়। কম আয়ের পরিবারগুলো হাউজিং চয়েস ভাউচার বা সেকশন ৮-এর মতো কর্মসূচির জন্য যোগ্য হতে পারে। যোগ্য হলে ভাড়ার একটি অংশ সরকার বহন করে। তবে অনেক এলাকায় এসব সুবিধার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা রয়েছে। প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রয়োজনের কারণে বাসস্থানে যুক্তিসংগত পরিবর্তন বা বিশেষ সুবিধার প্রয়োজন হলে ফেয়ার হাউজিং আইনের অধীনেও পরিবার কিছু অধিকার পেতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অটিজম ও উন্নয়নগত প্রতিবন্ধিতা থাকা শিশুদের জন্য পরিবার সহায়তা, অবকাশকালীন পরিচর্যা, সহায়ক প্রযুক্তি, বাড়িতে সেবা এবং বিশেষ থেরাপির কর্মসূচি রয়েছে। কিছু বিশেষ মেডিকেইড কর্মসূচিতে বাবা-মায়ের আয় সাধারণ নিয়মে বিবেচনা করা হয় না। জর্জিয়ার কেটি বেকেট মেডিকেইড এবং মিশিগানের শিশুদের বিশেষ মেডিকেইড কর্মসূচি এর উদাহরণ। তবে এসব সুবিধার ক্ষেত্রে শিশুর প্রতিবন্ধিতা, চিকিৎসাগত প্রয়োজন এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। অটিজম শিশুর পরিবারকে তাই শুধু এসএসআইয়ের জন্য আবেদন করেই থেমে গেলে চলবে না। শিশুর বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী এসএসআই, স্ন্যাপ, মেডিকেইড, বিশেষ শিক্ষা, থেরাপি, হাউজিং অ্যাসিস্ট্যান্স এবং অঙ্গরাজ্যের পরিবার সহায়তা কর্মসূচিগুলো আলাদাভাবে যাচাই করা উচিত। একই পরিবার একাধিক কর্মসূচির জন্য যোগ্য হতে পারে, আবার একটি সুবিধা না পেলেও অন্য কোনো সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিবারের আয় ভালো হলেই অটিজম শিশুর জন্য সব সরকারি সহায়তার সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। কিছু সুবিধা পুরোপুরি আয়ভিত্তিক, কিছু শিশুর প্রতিবন্ধিতা ও চিকিৎসাগত প্রয়োজনের ওপর নির্ভরশীল, আবার কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের আয় বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয় না। তাই পরিবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কর্মসূচিতে আবেদন করে যোগ্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছেড়ে নতুন চাকরিতে কারোলিন লেভিট
এআই প্রশিক্ষণে বই কেটে ধ্বংস করছে অ্যামাজন, এয়ারট্যাগে ফাঁস রহস্য
সন্তানদের স্কুল বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তালিকা, হিউস্টনের ১৩ স্কুল শীর্ষ ৫০-এ
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন বা চিকিৎসা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ওয়েস্ট হেলথ ও গ্যালাপের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৪৯ শতাংশ আমেরিকান নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচ বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে ছিলেন। এক বছরে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ এই আর্থিক নিরাপত্তার অবস্থান থেকে ছিটকে পড়েছেন। চিকিৎসার খরচের চাপ শুধু নিম্নআয়ের বা হেলথ ইন্স্যুরেন্সবিহীন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কমনওয়েলথ ফান্ডের ২০২৪ সালের জরিপে দেখা গেছে, কর্মক্ষম বয়সী আমেরিকানদের ২৩ শতাংশ সারা বছর ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকলেও উচ্চ ব্যক্তিগত খরচ ও বেশি ডিডাক্টিবলের কারণে তারা পর্যাপ্ত কভারেজ পাননি। এই শ্রেণির ৫৭ শতাংশ খরচের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেননি। চিকিৎসা নিতে দেরি করার প্রভাবও গুরুতর হতে পারে। জরিপে খরচের কারণে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া বা বাদ দেওয়া কর্মক্ষম বয়সী মানুষের ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন, এতে তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা আরও খারাপ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অনেক মানুষ ওষুধের খরচ বেশি হওয়ায় প্রয়োজনীয় ডোজ বাদ দিয়েছেন বা প্রেসক্রিপশন পূরণ করেননি। ডায়াবেটিস ও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। চিকিৎসার ব্যয়ের সঙ্গে বাড়ছে মেডিকেল ঋণের চাপও। কমনওয়েলথ ফান্ডের জরিপ অনুযায়ী, কর্মক্ষম বয়সী মানুষের প্রায় ৩০ শতাংশ চিকিৎসা বা ডেন্টাল বিলের ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করছিলেন। যাদের মেডিকেল ঋণ রয়েছে, তাদের প্রায় ৪৮ শতাংশের বকেয়া ছিল ২ হাজার ডলার বা তার বেশি। এই ঋণের প্রভাব শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মেডিকেল ঋণ থাকা পরিবারের এক-তৃতীয়াংশের বেশি জানিয়েছে, ঋণের কারণে পরিবারের কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা প্রেসক্রিপশন ওষুধ নেওয়া পিছিয়ে দিয়েছেন। একইভাবে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরিবার খাবার, ঘরের গরম রাখার খরচ বা ভাড়ার মতো মৌলিক ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই সঞ্চয়ের অর্থ চিকিৎসা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছেন। চিকিৎসার খরচের চাপ বয়স্কদেরও ছাড়ছে না। কমনওয়েলথ ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের ২১ শতাংশ খরচের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করেছেন বা তা বাদ দিয়েছেন। প্রায় ১৮ শতাংশের চিকিৎসা বিল বা ঋণ পরিশোধ নিয়ে সমস্যাও রয়েছে। হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলেও সব চিকিৎসা খরচ যে পুরোপুরি কভার হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বেশি ডিডাক্টিবল, কো-পেমেন্ট এবং ব্যক্তিগত খরচের কারণে অনেক বীমা করা মানুষও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বাধার মুখে পড়ছেন। কমনওয়েলথ ফান্ডের জরিপে দেখা গেছে, সারা বছর ইন্স্যুরেন্স থাকা কিন্তু পর্যাপ্ত কভারেজ না থাকা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার খরচ সামলাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা বাদ দিয়েছেন বা পিছিয়ে দিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ওয়েস্ট হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে হাসপাতালের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যয় প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় এখন শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সময়মতো না পাওয়া বা ওষুধের ডোজ বাদ দেওয়া একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে, অন্যদিকে পরে আরও বড় চিকিৎসা ব্যয়ের কারণ হতে পারে। ওয়েস্ট হেলথ, গ্যালাপ ও কমনওয়েলথ ফান্ডের গবেষণাগুলো মিলিয়ে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে চিকিৎসা ব্যয় কমানো, হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং মেডিকেল ঋণের ঝুঁকি কমানো যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা কতটা উন্নত, তার পাশাপাশি মানুষ সেই চিকিৎসা বাস্তবে কতটা বহন করতে পারছেন, সেটিও এখন স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কুমিল্লার সোহাগের অনুপ্রেরণার গল্প
ব্রুস উইলিসের মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক বিজ্ঞান গবেষণায় দানের সিদ্ধান্ত পরিবারের