আমেরিকা

মাথাব্যথা-বমিকে গর্ভাবস্থার লক্ষণ ভেবে অবহেলা, পরে ধরা পড়ল মস্তিষ্কে মরণঘাতী ক্যানসার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৬ ১৮:৫৩
যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী জেনি বিটনার ও তার সন্তানরা I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী জেনি বিটনার ও তার সন্তানরা I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী জেনি বিটনার ২০২০ সালে যখন পরিবারের সঙ্গে সান ডিয়েগোতে ছুটি কাটাতে যান, তখন তিনি ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। হঠাৎ করেই তিনি তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্যহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। পরপর দুটি জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে গেলে চিকিৎসকরা তাকে জানান, এগুলো গর্ভাবস্থার সাধারণ লক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু জেনির কাছে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হয়নি। ছুটি শেষে ওয়াশিংটনে নিজ বাড়িতে ফেরার পর তিনি দুবার পড়ে যান। এরপর স্বামীর জোরাজুরিতে জরুরি বিভাগে গেলে এমআরআই স্ক্যানে ধরা পড়ে তার মস্তিষ্কে একটি বিশাল আকারের টিউমার রয়েছে।

 

অধিকতর চিকিৎসায় জানা যায়, জেনি 'স্টেজ ফোর মেলানোমা' বা চতুর্থ স্তরের ক্যানসারে আক্রান্ত, যা তার মস্তিষ্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির মতে, ক্যানসার এই পর্যায়ে পৌঁছালে রোগীদের পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার থাকে মাত্র ৩৫ শতাংশ। জেনি ভেবেছিলেন তিনি হয়তো তার অনাগত সন্তানকে এক বছর বয়স পর্যন্তও বড় হতে দেখে যেতে পারবেন না। চিকিৎসকরা দ্রুত প্রথম অস্ত্রোপচার করে টিউমারের বেশিরভাগ অংশ ফেলে দেন, তবে স্থায়ী ক্ষতি এড়াতে সম্পূর্ণ টিউমারটি তখন অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তার পিঠেও ক্যানসারের একটি বড় পিণ্ড বা নডিউল ধরা পড়ে। জেনির জন্য ইমিউনোথেরাপি জরুরি হলেও অনাগত সন্তানের জন্য তা একেবারেই নিরাপদ ছিল না। তাই চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর ৩৪ সপ্তাহে সি-সেকশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের সিদ্ধান্ত নেন।

 

বিপত্তি বাধে সন্তান প্রসবের ঠিক কয়েকদিন আগে। জেনি আবারও তীব্র মাথাব্যথা ও বমিতে আক্রান্ত হন এবং স্ক্যানে দেখা যায় মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে টিউমারটি আবারও আগের মতো বিশাল আকার ধারণ করেছে। মে মাসের ৪ তারিখ জেনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন, যার নাম রাখা হয় তার নিউরোসার্জনের নামানুসারে 'মার্কাস'। জন্মের পর কিছুদিন শিশুটিকে এনআইসিইউতে থাকতে হয়। সন্তান জন্মের ঠিক এক সপ্তাহ পর জেনির মস্তিষ্কে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ত্রোপচার করা হয়। এবার সার্জনরা সফলভাবে পুরো টিউমারটি অপসারণ করতে সক্ষম হন এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো মা ও ছেলে একই দিনে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন।

 

২০২০ সালের জুনের শুরুতে জেনির ইমিউনোথেরাপি শুরু হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্যানসার কোষগুলোকে ধ্বংস করা। চিকিৎসা শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই জেনির পিঠের ক্যানসারের দাগ ও ত্বকের অন্যান্য পিণ্ডগুলো জাদুর মতো ছোট হতে শুরু করে। চিকিৎসায় তার এই অগ্রগতি ছিল রীতিমতো অভাবনীয়। বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলে ওই বছরের অক্টোবরেই তার অনকোলজিস্ট জানান যে, জেনির শরীরে আর ক্যানসারের কোনো অস্তিত্ব নেই। ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিইও ডা. অ্যালিসিয়া ঝোউ জানান, আধুনিক ইমিউনোথেরাপি ক্যানসার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর আজ জেনি সম্পূর্ণ সুস্থ। ক্যানসার জয়ের পর এখন তিনি তার পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে প্রতিটি দিনকেই একটি অমূল্য উপহার হিসেবে উদযাপন করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
কানসাসে আর্জেন্টিনা ম্যাচের ৪ ঘণ্টা আগেই সাংবাদিকে ভরে গেল মিডিয়া সেন্টার I ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা ম্যাচের ৪ ঘণ্টা আগেই সাংবাদিকে ভরে গেল মিডিয়া সেন্টার

চলমান বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও সংবাদমাধ্যমগুলোর আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। এবার কানসাসে আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটিতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। নিউইয়র্ক থেকে সময়ের হিসেবে এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকা কানসাসে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।   সাধারণত অন্যান্য বিশ্বকাপে ম্যাচের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মিডিয়া সেন্টার খোলা থাকলেও, আমেরিকায় নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। এখানে খেলা শুরুর ঠিক চার ঘণ্টা আগে মিডিয়া সেন্টারের দরজা খোলে। আর অবাক করা বিষয় হলো, দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সাংবাদিকদের পদচারণায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় কানসাস স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টার।   লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা এবারের বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন, যা মিডিয়ার এই বিপুল আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ। কানসাস শহরটি মূলত এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বেসক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখান থেকেই টুর্নামেন্টে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছিল দলটি, আর এবার সেই একই ভেন্যুতে তারা কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মাঠে নামছে।   স্টেডিয়ামের মূল ফটক থেকে প্রায় দশ মিনিট হাঁটার পর মিডিয়া সেন্টারে পৌঁছাতে হয়। সেখানে কয়েক শ সাংবাদিকের জন্য আসন বরাদ্দ থাকলেও, খেলা শুরুর অনেক আগেই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। এমনকি সেন্টারের এক পাশে থাকা ক্যাফেটেরিয়াতেও বসার জায়গা না পেয়ে অনেক সাংবাদিককে দাঁড়িয়েই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।   মিডিয়া সেন্টারে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকরাও আর্জেন্টিনা ম্যাচ ঘিরে এমন বাড়তি উন্মাদনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা জানান, অন্য যেকোনো দলের ম্যাচের তুলনায় আর্জেন্টিনার ম্যাচের দিন সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো বেশি। ফুটবল বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ পাঁচবারের শিরোপাজয়ী দল ব্রাজিলের ম্যাচেও সাধারণত প্রচুর সাংবাদিকের সমাগম ঘটে। তবে এবারের আসরে সব হিসাব-নিকাশ ছাপিয়ে সংবাদমাধ্যমের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনা। কানসাসে খেলা শুরুর চার ঘণ্টা আগেই মিডিয়া সেন্টারের এমন উপচে পড়া ভিড় যেন সেই সত্যেরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৬ ১৯:১০
যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী জেনি বিটনার ও তার সন্তানরা I ছবি: সংগৃহীত

মাথাব্যথা-বমিকে গর্ভাবস্থার লক্ষণ ভেবে অবহেলা, পরে ধরা পড়ল মস্তিষ্কে মরণঘাতী ক্যানসার

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে ভয়াবহ বন্যা, সামার ক্যাম্পে আটকা ২০০ শিশুসহ কর্মীকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার

অস্তিত্ব সংকটে লুইসিয়ানার কৃষকরা I ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি-সারের দাম আকাশছোঁয়া, অস্তিত্ব সংকটে লুইসিয়ানার কৃষকরা।

ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় অনাগত সন্তানের জন্য সাজানো ঘরে আতশবাজি ছুঁড়ে আগুন, অভিযুক্ত ৩ কিশোরী

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার সিট্রাস হাইটস এলাকায় একটি বাড়ির ভেতরে জ্বলন্ত আতশবাজি ছুঁড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগে তিন কিশোরীর বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্যাক্রামেন্টোর উত্তরে অবস্থিত ওই এলাকায় গত ৩০ জুন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।   সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ওই তিন কিশোরী একটি আতশবাজি জ্বালিয়ে সেটি সরাসরি বাড়ির একটি বেডরুমে নিক্ষেপ করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী বাড়ির মালিকরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ওই কক্ষটি তাদের অনাগত সন্তানের জন্য যত্ন করে সাজানো হয়েছিল, যে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পৃথিবীতে আসার কথা।   খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন কেবল একটি ম্যাট্রেসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন। তবে আগুনের তীব্রতায় নবজাতকের জন্য কিনে রাখা কম্বল, বিছানা (ক্রিব) এবং ছোট ছোট জামাকাপড়সহ ঘরের ভেতরের সবকিছু সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কেন ওই কিশোরীরা নির্দিষ্ট করে এই বাড়িটিতেই এমন ভয়ংকর হামলা চালাল, তার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৬ ১৭:২৯
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

রোনালদোর লেগো সেট কিনতে রাস্তায় লেমোনেড বিক্রি ৫ বছরের শিশুর

প্রতারণার মামলায় দোষী সাব্যস্ত জেনি সিয়ার্স। ছবি: সংগৃহীত

ডেটিং সাইটে আলাপ, তারপর ৪ লাখ ডলার জালিয়াতি, ২৩ বছরের কারাদণ্ডের মুখে ৭২ বছরের বৃদ্ধা

অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে গুরুতর আহত কিশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে দুই কিশোরের হাত গুরুতর জখম, তদন্তের দাবি পরিবারের

সুস্থ হয়ে চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানাতে কোরওয়েল হাসপাতালে ফিরেছেন ব্রুক ওয়েস্ট। ছবি: সংগৃহীত
কোমায় কাটিয়েছেন ছয় দিন, সুস্থ হয়ে চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানাতে হাসপাতালে ফিরলেন মার্কিন তরুণী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী ব্রুক ওয়েস্ট গুরুতর স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে টানা কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছয় দিন কোমায় থাকার কারণে তিনি নিজের স্কুলের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেননি। তবে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় সুস্থ হয়ে এবার সেই হাসপাতালেই ফিরে গিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।   দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে ব্রুক ওয়েস্টকে কোরওয়েল হেলথ বোমন্ট ট্রয় হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস (ADEM) নামে একটি বিরল স্নায়বিক রোগ শনাক্ত করেন। এ রোগে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে হঠাৎ করে ব্যাপক প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং রোগীর চলাফেরা, স্মৃতিশক্তি ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   ব্রুক জানান, গত ৮ মে স্কুলের সিনিয়র প্রম অনুষ্ঠানের আগে তার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল। কয়েক দিন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ওয়াকার ব্যবহার করে প্রম অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না, চিন্তাভাবনায় অস্পষ্টতা দেখা দেয় এবং আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।   ব্রুকের মা বনি ওয়েস্ট জানান, আইসিইউতে চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ের জন্য স্পাইনাল ট্যাপ, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ব্রুক খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা দিতে হয়। ব্রুকের বাবা জেসন ওয়েস্ট বলেন, শুরুতে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন না ঠিক কী রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। এতে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে ছিল।   ছয় দিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে তিনি অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিসে আক্রান্ত। এরপর তার পাঁচ দিন ধরে প্লাজমা এক্সচেঞ্জ থেরাপি করা হয়, যা তার অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ব্রুক নিজের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা তার জন্য বিশেষ আয়োজন করেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের একটি করিডোরজুড়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান চিকিৎসাকর্মীরা। পরে তার স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট হাসপাতালে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে স্নাতক সনদ তুলে দেন।   ব্রুক বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ছোট একটি অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু হাসপাতালের সবাই যেভাবে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, সেটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ। যদিও এখনও শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে ফিজিক্যাল ও অকুপেশনাল থেরাপি নিচ্ছেন।   এই অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ আরও বেড়েছে। আগামী শরৎ মৌসুমে তিনি গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন। ব্রুক বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবার কোরওয়েল হাসপাতালে ফিরে গেলে চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে করতালি, হাসি আর আলিঙ্গনের মাধ্যমে স্বাগত জানান।   হাসপাতালের নার্স ক্যাথি হামামেহ বলেন, ব্রুক তার সবচেয়ে স্মরণীয় রোগীদের একজন। একজন মা হিসেবে তিনি ব্রুকের মায়ের উদ্বেগ ও ভালোবাসার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পেরেছিলেন। তাই ব্রুকের সুস্থ হয়ে ওঠা তাকে ব্যক্তিগতভাবেও আনন্দ দিয়েছে।   তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ রোগীর পরবর্তী জীবনের খবর তারা জানতে পারেন না। কিন্তু ব্রুকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তার সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো যাত্রা কাছ থেকে দেখতে পেরেছেন, যা একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ২২:৫৪
গুরুতর অসুস্থ হন ক্রিস্টোফার হাওয়ার্থ। ছবি: সংগৃহীত

বিষাক্ত সাপের ছোবল, রোগীকে বাঁচাতে গিয়ে শেষ হয়ে গেল হাসপাতালের সব অ্যান্টি-ভেনম

অবৈধ অভিবাসন ও আবাসন বাজার নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন কমায় বাড়ির দাম কমতে শুরু করেছে, দাবি জেডি ভ্যান্সের

এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে বড় তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচার রোধে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মেজর ইনভেস্টিগেশন’ শুরু

0 Comments