মাথাব্যথা-বমিকে গর্ভাবস্থার লক্ষণ ভেবে অবহেলা, পরে ধরা পড়ল মস্তিষ্কে মরণঘাতী ক্যানসার
যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী জেনি বিটনার ২০২০ সালে যখন পরিবারের সঙ্গে সান ডিয়েগোতে ছুটি কাটাতে যান, তখন তিনি ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। হঠাৎ করেই তিনি তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্যহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। পরপর দুটি জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে গেলে চিকিৎসকরা তাকে জানান, এগুলো গর্ভাবস্থার সাধারণ লক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু জেনির কাছে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হয়নি। ছুটি শেষে ওয়াশিংটনে নিজ বাড়িতে ফেরার পর তিনি দুবার পড়ে যান। এরপর স্বামীর জোরাজুরিতে জরুরি বিভাগে গেলে এমআরআই স্ক্যানে ধরা পড়ে তার মস্তিষ্কে একটি বিশাল আকারের টিউমার রয়েছে।
অধিকতর চিকিৎসায় জানা যায়, জেনি 'স্টেজ ফোর মেলানোমা' বা চতুর্থ স্তরের ক্যানসারে আক্রান্ত, যা তার মস্তিষ্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির মতে, ক্যানসার এই পর্যায়ে পৌঁছালে রোগীদের পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার থাকে মাত্র ৩৫ শতাংশ। জেনি ভেবেছিলেন তিনি হয়তো তার অনাগত সন্তানকে এক বছর বয়স পর্যন্তও বড় হতে দেখে যেতে পারবেন না। চিকিৎসকরা দ্রুত প্রথম অস্ত্রোপচার করে টিউমারের বেশিরভাগ অংশ ফেলে দেন, তবে স্থায়ী ক্ষতি এড়াতে সম্পূর্ণ টিউমারটি তখন অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তার পিঠেও ক্যানসারের একটি বড় পিণ্ড বা নডিউল ধরা পড়ে। জেনির জন্য ইমিউনোথেরাপি জরুরি হলেও অনাগত সন্তানের জন্য তা একেবারেই নিরাপদ ছিল না। তাই চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর ৩৪ সপ্তাহে সি-সেকশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের সিদ্ধান্ত নেন।
বিপত্তি বাধে সন্তান প্রসবের ঠিক কয়েকদিন আগে। জেনি আবারও তীব্র মাথাব্যথা ও বমিতে আক্রান্ত হন এবং স্ক্যানে দেখা যায় মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে টিউমারটি আবারও আগের মতো বিশাল আকার ধারণ করেছে। মে মাসের ৪ তারিখ জেনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন, যার নাম রাখা হয় তার নিউরোসার্জনের নামানুসারে 'মার্কাস'। জন্মের পর কিছুদিন শিশুটিকে এনআইসিইউতে থাকতে হয়। সন্তান জন্মের ঠিক এক সপ্তাহ পর জেনির মস্তিষ্কে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ত্রোপচার করা হয়। এবার সার্জনরা সফলভাবে পুরো টিউমারটি অপসারণ করতে সক্ষম হন এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো মা ও ছেলে একই দিনে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন।
২০২০ সালের জুনের শুরুতে জেনির ইমিউনোথেরাপি শুরু হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্যানসার কোষগুলোকে ধ্বংস করা। চিকিৎসা শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই জেনির পিঠের ক্যানসারের দাগ ও ত্বকের অন্যান্য পিণ্ডগুলো জাদুর মতো ছোট হতে শুরু করে। চিকিৎসায় তার এই অগ্রগতি ছিল রীতিমতো অভাবনীয়। বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলে ওই বছরের অক্টোবরেই তার অনকোলজিস্ট জানান যে, জেনির শরীরে আর ক্যানসারের কোনো অস্তিত্ব নেই। ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিইও ডা. অ্যালিসিয়া ঝোউ জানান, আধুনিক ইমিউনোথেরাপি ক্যানসার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর আজ জেনি সম্পূর্ণ সুস্থ। ক্যানসার জয়ের পর এখন তিনি তার পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে প্রতিটি দিনকেই একটি অমূল্য উপহার হিসেবে উদযাপন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সাবেক প্রেমিকের ভয়াবহ হামলার শিকার হন কায়লা হেইস। ২০১৭ সালের ২১ অক্টোবর সিম্পসনভিল শহরে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সম্পর্ক পুনরায় শুরু করতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তি তাকে জোর করে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার নিচের ঠোঁটে এমনভাবে কামড় দেন যে ঠোঁটের বড় একটি অংশ ছিঁড়ে যায়। তখন কায়লার বয়স ছিল ১৯ বছর। হামলার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জরুরি প্লাস্টিক সার্জারি করে ঠোঁট পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষত এতটাই গুরুতর ছিল যে ছিঁড়ে যাওয়া অংশটি পুনরায় জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে তার মুখে স্থায়ী দাগ এবং মুখের নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। কায়লা পরে জানান, সম্পর্কের সময় তার সাবেক প্রেমিকের আচরণ ছিল নিয়ন্ত্রণমূলক ও অস্বাস্থ্যকর। সম্পর্ক শেষ করার পরও তিনি শেষবারের মতো বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দেখা করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সাক্ষাৎই তার জীবনে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়। হামলার পর শুধু শারীরিক ক্ষত নয়, গভীর মানসিক আঘাতের সঙ্গেও লড়তে হয় কায়লাকে। নিজের চেহারার পরিবর্তন মেনে নেওয়া এবং মানুষের সামনে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য তাকে একাধিক অস্ত্রোপচার ও পুনর্গঠনমূলক চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। একপর্যায়ে তাকে কলেজের পড়াশোনাও বন্ধ করতে হয়েছিল এবং তার বৃত্তি হারানোর কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। এই হামলার ঘটনায় সাবেক প্রেমিক শেথ অ্যারন ফ্লুরি ২০১৮ সালের অক্টোবরে গুরুতর ধরনের হামলার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাজা ঘোষণার সময় প্রসিকিউটর ওয়াল্ট উইলকিন্স বলেন, ঘটনাটি দেখিয়েছে কীভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে সহিংসতা খুব দ্রুত ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ফ্লুরিকে অন্তত ৮৫ শতাংশ সাজা ভোগ করতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে সেই ঘটনার পর কায়লার জীবন শুধু চিকিৎসা আর আঘাতের স্মৃতিতে আটকে থাকেনি। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি পারিবারিক সহিংসতার শিকার অন্য মানুষদের সচেতন করার কাজ শুরু করেন। পরে লেখক আলিসা ডিভাইনের সঙ্গে যৌথভাবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘শি রাইজেস’ নামে একটি বইয়েও তার গল্প তুলে ধরা হয়। কায়লার অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, ভয় দেখানো কিংবা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তকে সম্মান না করার মতো আচরণকে শুরুতেই গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যকার সহিংসতা অনেক সময় ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে গুরুতর হামলায় রূপ নিতে পারে। ভয়াবহ সেই হামলার পরও কায়লা নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। নিজের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতকে আড়াল না করে বরং সেই অভিজ্ঞতাকেই অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর শক্তিতে পরিণত করেছেন তিনি। তার গল্প এখন পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং নির্যাতনের শিকার মানুষদের সহায়তা নেওয়ার গুরুত্ব বোঝানোর একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সম্পত্তির আশায় ২৬ বছর বয়সে ৮৯ বছরের বিলিয়নিয়ারকে বিয়ে, দুই দশকের মেলেনি সম্পত্তি
পরিবারের সম্পর্ক যাচাইয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা বাড়াচ্ছে আইসিই
শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৭ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম
নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে পুরনো একটি স্যানিটেশন গ্যারেজের জায়গায় ২৩২টি সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। নতুন স্যানিটেশন কমপ্লেক্স চালু হওয়ায় ৫৩৯ জার্সি স্ট্রিটের পুরনো গ্যারেজটি খালি করা হয়েছে। এখন ওই জায়গায় ‘হিলসাইড গ্রোভ’ নামে সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ১৮ আগস্ট স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ফ্রেশ কিলসে ২৩ কোটি ডলারের নতুন স্যানিটেশন কমপ্লেক্স চালু করা হয়েছে। নতুন এই স্থাপনায় আগে জার্সি স্ট্রিটের গ্যারেজ থেকে পরিচালিত স্যানিটেশন কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে। এর ফলে পুরনো গ্যারেজের জায়গাটি এখন সাশ্রয়ী আবাসনসহ নতুন কমিউনিটি উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যাবে। পুরনো ৫৩৯ জার্সি স্ট্রিটের জায়গায় প্রস্তাবিত হিলসাইড গ্রোভ প্রকল্পে তিনটি আবাসিক ভবনে মোট ২৩২টি সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে। এর পাশাপাশি থাকবে একটি গ্রোসারি স্টোর, কমিউনিটি সুবিধা এবং ৪৬ হাজার বর্গফুটের বেশি উন্মুক্ত সবুজ জায়গা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটির ৯০টি অ্যাপার্টমেন্ট প্রবীণদের জন্য নির্ধারিত থাকবে। আরও ১০৫টি হবে বিভিন্ন আয়ের পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী রেন্টাল অ্যাপার্টমেন্ট। এছাড়া প্রায় ৩৭টি অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে সাশ্রয়ী হোমওনারশিপের জন্য। নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ জানিয়েছে, প্রকল্পটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অ্যাপার্টমেন্ট অত্যন্ত নিম্ন ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য রাখা হবে। এর মধ্যে প্রায় ৬০টি বাসা ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসের শেল্টার সিস্টেম থেকে আসা পরিবারের জন্য নির্ধারিত থাকবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২৩২টি অ্যাপার্টমেন্টের ভবন নির্মাণ এখনো শেষ হয়নি এবং নতুন আবাসিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এমন তথ্যও সিটি কর্তৃপক্ষ দেয়নি। সর্বশেষ অগ্রগতি হলো, নতুন স্যানিটেশন কমপ্লেক্স চালু হয়েছে এবং পুরনো গ্যারেজের স্যানিটেশন কার্যক্রম সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে হিলসাইড গ্রোভ নির্মাণের জন্য পুরনো সাইটটি পুনঃউন্নয়নের পথ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক সিটির এইচপিডি প্রথম হিলসাইড গ্রোভ প্রকল্পের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। তখন সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, পুরনো স্যানিটেশন গ্যারেজকে সাশ্রয়ী আবাসন, গ্রোসারি স্টোর, কমিউনিটি সুবিধা ও উন্মুক্ত জায়গাসহ একটি নতুন মিশ্র-ব্যবহারের উন্নয়নে রূপ দেওয়া হবে। নতুন স্যানিটেশন কমপ্লেক্স চালুর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আরেকটি পরিবর্তন আসবে। জার্সি স্ট্রিটের আবাসিক এলাকায় ভারী স্যানিটেশন ট্রাকের চলাচল কমবে বলে জানিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ। এতে যানজট, শব্দদূষণ এবং পথচারীদের নিরাপত্তার ওপর চাপ কমার আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, একসময় যেখানে নিউইয়র্ক সিটির আবর্জনা সংগ্রহের ট্রাক ও স্যানিটেশন কার্যক্রম পরিচালিত হতো, সেই জায়গাটিই এখন ২৩২টি সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট, গ্রোসারি স্টোর ও উন্মুক্ত সবুজ জায়গাসহ একটি নতুন আবাসিক কমিউনিটিতে রূপ নেওয়ার পথে।
ঈদে মিলাদুন্নবীতে নিউইয়র্কের মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র মামদানি
বাড়ি থেকে চলে যেতে বলায়, শিশুসহ ৮ জনকে খুন করে বাড়িতে আগুন
নিউইয়র্কে হিন্দুত্ববাদী আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান নিয়ে মামদানির আপত্তি
কিশোর-কিশোরীরা একা উবারে যাতায়াতের সময় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বাবা-মায়ের উদ্বেগ কমাতে নতুন সুবিধা চালু করেছে রাইডশেয়ারিং কোম্পানি উবার। এখন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় উবারের টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী সন্তানের রাইড চলাকালীন গাড়ির ভেতরের দৃশ্য লাইভ ভিডিওতে দেখতে পারবেন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবক। উবারের নতুন এই লাইভ ভিডিও সুবিধা ২৫ আগস্ট থেকে চালু হয়েছে। উবারের টিন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা বাবা-মা বা লিগ্যাল গার্ডিয়ানের অনুমতি নিয়ে নিজেরাই রাইড নিতে পারে। নতুন ফিচারের লক্ষ্য হলো সন্তান একা স্কুল, খেলাধুলা বা অন্য কোনো কাজে যাতায়াত করার সময় বাবা-মাকে রাইডের পরিস্থিতি আরও সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়া। রাইড শুরু হওয়ার পর লাইভ ভিডিও সুবিধা পাওয়া গেলে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকের ফোনে একটি নোটিফিকেশন যাবে। এরপর উবার অ্যাপ থেকে এক ট্যাপেই রাইডের লাইভ ভিডিও দেখা যাবে। ভিডিওটি ধারণ করা হবে উবার ড্রাইভারের ফোনের সামনের ক্যামেরা দিয়ে, যাতে মূলত গাড়ির পেছনের সিটের দৃশ্য দেখা যায়। তবে প্রতিটি রাইডে লাইভ ভিডিও সুবিধা নিশ্চিত নয়। ড্রাইভার চাইলে এই সুবিধা চালু বা বন্ধ রাখতে পারবেন। ফলে কোনো রাইড শুরু হওয়ার আগে বাবা-মা জানতে পারবেন না যে ওই রাইডে লাইভ ভিডিও দেখা যাবে কি না। লাইভ ভিডিও চালু থাকলে বাবা-মা রাইডের যেকোনো সময় সেটি দেখতে পারবেন। বাবা-মা ভিডিও দেখা শুরু করলে কিশোর যাত্রী এবং ড্রাইভার দুজনকেই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে। রাইড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইভ ভিডিওও বন্ধ হয়ে যাবে। উবার জানিয়েছে, ভিডিওটি এনক্রিপ্টেড থাকবে এবং রাইড চলাকালীন এটি কেবল সংশ্লিষ্ট কিশোরের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকই লাইভ দেখতে পারবেন। উবার নিজেও রাইড চলাকালীন ওই ভিডিও দেখতে পারবে না। তবে নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘটনার তদন্তের প্রয়োজন হলে এনক্রিপ্টেড ভিডিও ফাইলের ডিক্রিপশন কী ব্যবহারের সুযোগ কোম্পানির থাকতে পারে। উবারের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে রাইডের ভিডিও রেকর্ডিং ১৪ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হবে। তবে কোনো ভিডিও নিরাপত্তাসংক্রান্ত রিপোর্টের অংশ হলে কোম্পানির ডেটা সংরক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী সেটি আরও বেশি সময় রাখা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি মার্কেটে নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধা চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটলান্টা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো, র্যালি-ডারহাম, পোর্টল্যান্ড, সান অ্যান্টোনিও, ক্লিভল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড এবং এল পাসো। ক্যালিফোর্নিয়ায় এখনো এই সুবিধা চালু হয়নি। উবার জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশজুড়ে ফিচারটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার পাশাপাশি টিন অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই রয়েছে রাইডের লাইভ ট্র্যাকিং, পিন ভেরিফিকেশন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সুবিধা। রাইডের সময় বাবা-মা সন্তানের অবস্থান ও যাত্রার অগ্রগতি অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে পারেন। উবার ২০২৩ সালে টিন অ্যাকাউন্ট চালু করে। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে এই সেবা রয়েছে এবং কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, চালুর পর থেকে টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীরা বিশ্বজুড়ে বছরে কোটি কোটি রাইড সম্পন্ন করছেন। নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার মাধ্যমে সন্তানকে স্বাধীনভাবে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাবা-মায়ের জন্য রাইডের সময় আরও সরাসরি নজর রাখার সুযোগ তৈরি হলো।
ফ্লোরিডায় ৪১টি ভুয়া গাড়ির ইন্স্যুরেন্স আবেদন এবং ৪৪ হাজার ডলার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য ৪ টিকার বাধ্যতামূলক নিয়ম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব