আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ২৭ মিলিয়ন মানুষের পানির জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের টানেল নির্মাণ করছে ক্যালিফোর্নিয়া

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১২:৮
ভবিষ্যতে পানি সংকট এড়াতে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক ‘ডেল্টা কনভেয়েন্স প্রকল্প’ হাতে নিল ক্যালিফোর্নিয়া। ছবি: সংগৃহীত
ভবিষ্যতে পানি সংকট এড়াতে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক ‘ডেল্টা কনভেয়েন্স প্রকল্প’ হাতে নিল ক্যালিফোর্নিয়া। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষের জন্য পানি সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য করতে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল টানেল প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ‘ডেল্টা কনভেয়েন্স প্রকল্প’ নামে পরিচিত এ উদ্যোগের আওতায় স্যাক্রামেন্টো-সান জোয়াকিন ডেল্টার নিচ দিয়ে প্রায় ৪৫ মাইল দীর্ঘ টানেল নির্মাণ করা হবে, যা শেষ হতে এক দশকেরও বেশি সময় লাগতে পারে।

 

এই টানেলের মাধ্যমে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো নদীর পানি বিদ্যমান স্টেট ওয়াটার প্রজেক্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। ক্যালিফোর্নিয়া সরকার বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং ডেল্টা অঞ্চলের পুরোনো অবকাঠামোর কারণে ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নতুন টানেল সেই ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।

 

তবে প্রকল্পটি নিয়ে বিতর্কও কম নয়। পরিবেশবাদী সংগঠন, ডেল্টা অঞ্চলের বাসিন্দা এবং কৃষি খাতের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, এই টানেল নির্মিত হলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র, মৎস্যসম্পদ এবং কৃষি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়া ব্যয় এবং অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।

 

সম্প্রতি প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের একটি ধাপ অতিক্রম করেছে, যা নির্মাণকাজ শুরুর পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং চলমান আইনি চ্যালেঞ্জ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।


ডেল্টা কনভেয়েন্স প্রকল্প ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েক দশকের পুরোনো পানি সরবরাহ আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ। এর আগে একই ধরনের একাধিক প্রকল্প রাজনৈতিক বিরোধ ও পরিবেশগত আপত্তির কারণে বাস্তবায়ন করা যায়নি। বর্তমান প্রকল্পটিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ক্যালিফোর্নিয়ার ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে অঙ্গরাজ্য সরকার।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এবং কার্যালয় হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতে ওয়াশিংটনের রাজপথে গর্জাবে ‘ফ্রিডম ২৫০ গ্র্যান্ড প্রিক্স’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা ‘ফ্রিডম ২৫০ গ্র্যান্ড প্রিক্স’-এর প্রস্তুতির অগ্রগতি তুলে ধরেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্টে ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক সড়কগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ ইন্ডিকার (INDYCAR) স্ট্রিট রেস।   ট্রাম্প চলতি বছর জানুয়ারিতে এক নির্বাহী আদেশে এই প্রতিযোগিতার অনুমোদন দেন। এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে এবং ন্যাশনাল মলের আশপাশে অনুষ্ঠিত প্রথম ইন্ডিকার স্ট্রিট রেস। আয়োজকদের ভাষ্য, এই রেসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের পাশাপাশি দেশটির মোটরস্পোর্টস ঐতিহ্যও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।   প্রতিযোগিতাটি ২১ থেকে ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। রেসের পথ রাখা হয়েছে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল, ওয়াশিংটন মনুমেন্ট, ন্যাশনাল মল এবং আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর পাশ দিয়ে। আয়োজকদের দাবি, অনেক দর্শক নির্ধারিত এলাকায় বিনামূল্যে রেস উপভোগ করতে পারবেন।   ইন্ডিকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১.৭ মাইল দীর্ঘ এই স্ট্রিট সার্কিটে বিশ্বের শীর্ষ ওপেন-হুইল রেসিং চালকরা অংশ নেবেন। নিরাপত্তা, দর্শকদের সহজ প্রবেশ এবং রাজধানীর ঐতিহাসিক সৌন্দর্য তুলে ধরার বিষয়টি মাথায় রেখেই সার্কিটের নকশা করা হয়েছে।   হোয়াইট হাউস বলছে, এই গ্র্যান্ড প্রিক্স যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ হবে। তবে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে মোটর রেস আয়োজন নিয়ে নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং ব্যয়ের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৬:৪৫
ইরানে হামলার ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরানের সাবমেরিন ও জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনায় আঘাত

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি  ছবি:সংগৃহীত

গৃহহীনদের শিবির নিয়ে প্রশ্নে সরাসরি জবাব এড়ালেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

গুলাগুলির স্থানে পুলিশ পরিদর্শন। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে একই পরিবারের ৫ সদস্যকে গুলি করে হত্যা, আটক দুই কিশোর

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন পার্কে বন্য মহিষের হামলায় গুরুতর আহত বৃদ্ধ, সুস্থ হয়েই করলেন পশুটির প্রশংসা

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে বিশাল আকৃতির এক বাইসনের হামলায় শূন্যে ছিটকে পড়েছিলেন ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই ব্যক্তি আক্রমণকারী প্রাণীটির প্রতি কোনো ক্ষোভ না দেখিয়ে উল্টো তার প্রশংসাই করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ঘটনার পর আহত ওই ব্যক্তি অস্ত্রোপচার শেষে বর্তমানে সুস্থতার পথে রয়েছেন।   কার্ল আইসম-ম্যাকড্যানিয়েল নামের ওই বৃদ্ধ গত শুক্রবার রাতে তার ১৩ বছর বয়সী নাতিকে নিয়ে পার্কটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেসময় আচমকা একটি বাইসন তাকে আক্রমণ করে প্রায় আট ফুট উঁচুতে শূন্যে ছুড়ে মারে। এই ভয়াবহ হামলায় তার শরীরের সবচেয়ে শক্ত হাড় হিসেবে পরিচিত উরুর হাড় (ফিমার) হিপের কাছে চারটি ভিন্ন জায়গায় ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় গত রবিবার তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এত বড় অস্ত্রোপচারের পর সোমবারই তিনি আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন।   অস্ত্রোপচারের পর কার্ল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি 'থাম্বস আপ' ইমোজি যুক্ত করে লেখেন, "সবাইকে ধন্যবাদ, আমি এখন ঠিক আছি।" ওয়াশিংটনের কেন্ডাল শহরের এই অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমি যখন মাটিতে পড়ে ছিলাম এবং নড়াচড়া করতে পারছিলাম না, তখন বাইসনটি ঠিক আমার উপরেই ছিল। সে চাইলেই আমাকে পা দিয়ে পিষে ফেলতে পারতো, শিং দিয়ে আঘাত করতে পারতো বা আমার জীবন কেড়ে নেওয়ার মতো যে কোনো কিছুই করতে পারতো। কিন্তু সে তা করেনি।" মূলত তাকে প্রাণে না মেরে ফেলার কারণেই তিনি প্রাণীটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছিলেন পেশাদার ফটোগ্রাফার মাইক ম্যাকলাউড। তিনি সংবাদমাধ্যম 'কাউবয় স্টেট ডেইলি'-কে জানান, বিপদ কেটে যাওয়ার পর থেকেই ম্যাকড্যানিয়েলের মনোবল ছিল বেশ শক্ত। তার প্রধান দুশ্চিন্তা ছিল মানুষ হয়তো ভাববে তিনি নিজেই বন্য প্রাণীটিকে বিরক্ত করে খেপিয়ে তুলেছিলেন। প্রচণ্ড ব্যথায় কাতরালেও পুরোটা সময় তার জ্ঞান ছিল এবং তিনি উপস্থিত লোকজনের সাথে হাসি-ঠাট্টাও করছিলেন বলে জানান এই ফটোগ্রাফার।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৫:২৮
পুলিশের হাতে আটককৃত তিনজন ছবি : সংগৃহীত

হোটেল নজরদারিতে মাদক, অস্ত্র উদ্ধার; নিউ জার্সিতে তিনজন গ্রেপ্তার

ভয়াবহ ভাইরাস সমক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষামূলক কাজ করছে ডাক্তার। ছবি:সংগৃহীত

কঙ্গোতে ইবোলা আরও ভয়াবহ, নতুন দুই প্রদেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে সতর্কতা জোরদার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের

সাবেক কর নিরীক্ষায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ সুরক্ষা চুক্তি বাতিল করলেন মার্কিন ফেডারেল বিচারক। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের IRS সমঝোতা বাতিল, আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পর্যালোচনার নির্দেশ

ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের জন্য নতুন ইভি কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার ডলার রিবেট ঘোষণা। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথমবার ইলেকট্রিক গাড়ি কিনলে মিলবে ৩,৫০০ ডলার

প্রথমবার বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা শিগগিরই গাড়ির দাম থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৩ হাজার ৫০০ ডলার ছাড় পাবেন। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম সোমবার এ-সংক্রান্ত এসবি ১৬৮ বিলে সই করেছেন। নতুন ‘মাইফার্স্টইভি’ কর্মসূচিটি গ্রীষ্মের শেষ ভাগে চালু হওয়ার কথা।   নতুন কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার প্রস্তুতকারক-নির্ধারিত খুচরা মূল্যের নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনলে ৩ হাজার ৫০০ ডলার রিবেট পাওয়া যাবে। সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার দামের যোগ্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে রিবেটের পরিমাণ হবে ১ হাজার ৭৫০ ডলার।   এই অর্থ পরে আয়কর রিটার্নের মাধ্যমে ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা নয়। যোগ্য ক্রেতারা গাড়ি কেনার সময়ই ডিলারশিপে নির্ধারিত ছাড় পাবেন। ফলে গাড়ির প্রাথমিক মূল্য বা অর্থায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে কমে আসবে।   তবে এখানে ‘প্রথমবার ক্রেতা’ বলতে জীবনের প্রথম গাড়ি কেনা বোঝানো হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, যেসব বাসিন্দা প্রথমবার শূন্য-নিঃসরণ গাড়ি কিনবেন, তাঁরাই কর্মসূচিটির আওতায় থাকবেন। অর্থাৎ আগে পেট্রল বা ডিজেলচালিত গাড়ি থাকলেও প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।    কর্মসূচির জন্য ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ১৩৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। অংশগ্রহণকারী গাড়ি প্রস্তুতকারীরা সমপরিমাণ অর্থ যোগ করবে। এতে ক্রেতাদের রিবেট দেওয়ার জন্য মোট তহবিল দাঁড়াবে প্রায় ২৭০ মিলিয়ন ডলার। তবে কোন কোন গাড়ি প্রস্তুতকারী কর্মসূচিতে অংশ নেবে, যোগ্য গাড়ির চূড়ান্ত তালিকা কী হবে এবং আবেদন বা যাচাইয়ের বিস্তারিত পদ্ধতি কী—এসব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সরকারি ঘোষণায় কর্মসূচি চালুর নির্দিষ্ট দিনও জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, গ্রীষ্মের শেষ দিকে এটি শুরু হবে। ফলে এখনই কোনো গাড়ি কিনলে পরে রিবেট দাবি করা যাবে কি না, সে বিষয়ে ঘোষণায় নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। আগ্রহী ক্রেতাদের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এবং অংশগ্রহণকারী ডিলারশিপ ও গাড়ির তালিকা প্রকাশের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ হবে।   নতুন রিবেটটি ক্যালিফোর্নিয়ার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ। বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য শূন্য-নিঃসরণ যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে রাজ্য সরকার যে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের পরিবহন প্যাকেজ নিয়েছে, মাইফার্স্টইভি তার অন্যতম প্রধান কর্মসূচি।   এই প্যাকেজে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ক্লিন কারস ফর অল’ কর্মসূচিতে ১৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার, কমিউনিটির বায়ুদূষণ কমানোর প্রকল্পে ১৫০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিষ্কার ট্রাক ও বাস কেনার প্রণোদনায় ১৩৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। দূষণকারী ভারী ইঞ্জিন প্রতিস্থাপনেও ১৩০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।   ফেডারেল সরকারের বৈদ্যুতিক গাড়ির কর-সুবিধা বন্ধ হওয়ার পর ক্যালিফোর্নিয়া নিজস্ব রিবেট কর্মসূচি চালু করল। নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ ডলার এবং ব্যবহৃত গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ৪ হাজার ডলারের ফেডারেল কর-সুবিধা ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যায়। ওই সুবিধা তুলে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির গতি কমেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।    ক্যালিফোর্নিয়ায় এর আগেও ‘ক্লিন ভেহিকল রিবেট প্রজেক্ট’ নামে একটি বড় প্রণোদনা কর্মসূচি ছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বরে বন্ধ হওয়ার আগে প্রায় এক দশকে সেই কর্মসূচির আওতায় ৫ লাখ ৮৬ হাজার গাড়ির জন্য মোট ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। পুরোনো কর্মসূচিতে আয় ও গাড়ির যোগ্যতাসহ একাধিক শর্ত ছিল। নতুন মাইফার্স্টইভি কর্মসূচির সব চূড়ান্ত শর্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি।    ক্যালিফোর্নিয়া সরকার বলছে, রাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত ২৫ লাখের বেশি শূন্য-নিঃসরণ গাড়ি বিক্রি হয়েছে। রাজ্যজুড়ে দুই লাখের বেশি পাবলিক ও শেয়ার্ড চার্জিং স্টেশন রয়েছে। এর বাইরে ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়িগুলোতে আনুমানিক আট লাখ ব্যক্তিগত চার্জার স্থাপন করা হয়েছে।    ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসূচিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যাঁরা প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন অথবা রাইডশেয়ার, ডেলিভারি ও নিয়মিত যাতায়াতের কাজে গাড়ি ব্যবহার করেন, তাঁরা প্রাথমিক খরচ কমানোর সুযোগ পাবেন। তবে গাড়ির কিস্তি, বীমা, নিবন্ধন, চার্জিংয়ের ব্যবস্থা এবং ব্যাটারি ও ওয়ারেন্টির শর্তও বিবেচনা করা প্রয়োজন।   রিবেটের সর্বোচ্চ সীমা ৩ হাজার ৫০০ ডলার হলেও প্রত্যেক ক্রেতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা পাবেন না। ক্রেতাকে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা হতে হবে, এটি তাঁর প্রথম শূন্য-নিঃসরণ গাড়ি হতে হবে এবং গাড়ির মূল্য নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পাশাপাশি গাড়ির প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে হতে পারে।   কর্মসূচির তহবিল সীমিত হওয়ায় এটি কত দিন চলবে বা কতজন ক্রেতা সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। তাই আনুষ্ঠানিক নিয়ম প্রকাশের আগে কোনো ডিলার বা বিক্রেতার মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে সরকারি ঘোষণা ও লিখিত যোগ্যতার শর্ত যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১২:৪৭
ঝুঁকি নিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে হরমুজ প্রণালি পাহারা আর নয়; মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি পাহারার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে খরচ দিতে হবে: ট্রাম্প

মহিষের হামলায় শরীরে একাধিক হাড় ভাঙলেও অ্যাম্বুলেন্স আসা পর্যন্ত রসিকতা করে সাহস জোগালেন ম্যাকড্যানিয়েল। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে বুনো মহিষের গুঁতায় ৮ ফুট ওপরে ছিটকে পড়া বৃদ্ধের পরিচয় মিলল, ভেঙেছে শরীরের একাধিক হাড়

বিডিফোর্ডে গুলির ঘটনায় একজনের মৃত্যু; তদন্তে মেইন স্টেট পুলিশের পাশাপাশি এফবিআই যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আইসিই অভিযান ঘিরে গুলি, প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

0 Comments