সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

পারিবারিক বসতবাড়ি কিনতে বড় বিনিয়োগকারীদের লাগাম টানতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১১:৫০
পারিবারিক বাড়ি কেনায় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ দিয়ে মার্কিন আইন পাস। ছবি: সংগৃহীত
পারিবারিক বাড়ি কেনায় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ দিয়ে মার্কিন আইন পাস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক বসতবাড়ি কেনায় বড় করপোরেট বিনিয়োগকারীদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে নির্দিষ্ট সীমার বেশি পারিবারিক বসতবাড়ির মালিক বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আর অতিরিক্ত বাড়ি কিনতে পারবেন না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে আবাসনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

 

নতুন বিধানটি ২১ শতক রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট-এর অংশ হিসেবে কার্যকর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে এক নির্বাহী আদেশে ওয়াল স্ট্রিটভিত্তিক বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে আবাসন বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নতুন আইন অনুযায়ী, যেসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর মালিকানায় ৩৫০ বা তার বেশি পারিবারিক বসতবাড়ি রয়েছে, তারা নতুন করে আর বাড়ি কিনতে পারবেন না। তবে ইতিমধ্যে তাদের মালিকানায় থাকা বাড়ি বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা নেই।

 

সম্পত্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোটালিটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট পারিবারিক বসতবাড়ির মাত্র ০.৬৬ শতাংশ বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন আইনের প্রভাব সীমিতই থাকবে। উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল এস্টেট ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল সাইলার বলেন, এই আইন কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুযোগ বাড়াতে পারে, তবে উচ্চ সুদের হার, আবাসনের ঘাটতি, নির্মাণ ব্যয় এবং জোনিং-সংক্রান্ত জটিলতার মতো বড় সমস্যাগুলোর সমাধান এটি করতে পারবে না।

 

মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অধিকাংশ ভাড়াবাড়ির মালিকই ছোট আকারের ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী। নতুন আইন তাদের ওপর প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে আটলান্টাসহ সান বেল্ট অঞ্চলের কয়েকটি শহরে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকায় তারা অতীতে নগদ অর্থে বাড়ি কিনে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান নতুন বাড়ি কেনার বদলে বিদ্যমান সম্পত্তি বিক্রির দিকে ঝুঁকেছে। রিয়েল এস্টেট গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিয়েলটর ডটকম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় বড় বিনিয়োগকারীদের বাড়ি কেনার হার ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে।

 

২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক বাজেয়াপ্ত বাড়ি কম দামে কিনে ভাড়ার ব্যবসা শুরু করে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কম সুদের সুযোগে তারা আবারও ব্যাপক হারে বাড়ি কিনতে শুরু করে। সমালোচকদের দাবি, এতে সাধারণ পরিবারের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক এলাকায় আবাসনের দাম ও ভাড়া বেড়ে যায়। তবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তারা ভাড়াটেদের জন্য বিকল্প আবাসনের সুযোগ তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক শিক্ষিকা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে হলি অ্যাডামস নামের এক সাবেক হাইস্কুল শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ ওঠার প্রায় এক বছর পর মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিউস্টনের নিকটবর্তী অ্যাঙ্গেলটন হাইস্কুলের এই সাবেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ পানের সুযোগ করে দেওয়ার দুটি অভিযোগ এনেছে ব্রাজোরিয়া কাউন্টি শেরিফ অফিস।   কেটিআরকে-টিভি (KTRK-TV)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সাবেক শিক্ষার্থীর সাথে অ্যাডামসের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি স্কুলের বর্তমান এক শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষকে জানালে এই তদন্ত শুরু হয়। ওই শিক্ষার্থী জানায়, গ্রীষ্মের ছুটিতে ভুক্তভোগী তাকে অ্যাডামসের বেডরুম থেকে ফেসটাইমে কল করেছিল এবং সে সময় বিছানায় শিক্ষিকার নগ্ন ছবি ছড়ানো ছিল।   এছাড়া আরেকটি ছবিতে অ্যাডামস এবং ওই সাবেক শিক্ষার্থীকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গেছে, অ্যাডামস প্রায়ই শিক্ষার্থীদের তার বাড়িতে গৃহস্থালি কাজের জন্য আমন্ত্রণ জানাতেন। এমনকি স্কুলের বেসবল দলের তিন সদস্যের সাথে স্ন্যাপচ্যাটে কথা বলার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল কলেজের সাইকিয়াট্রির ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. গেইল সল্টজ জানান, যেসব নারী শিক্ষক পুরুষ শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতন করেন, তারা অনেক সময় নিজেদের বোঝান যে এই সম্পর্কটি বৈধ।   তারা ভুক্তভোগীর পাশাপাশি নিজেদেরও মানসিকভাবে প্রস্তুত (গ্রুমিং) করেন এবং বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তারা একটি রোমান্টিক সম্পর্কে রয়েছেন, যা ভুক্তভোগীর জন্যও উপকারী।   ডা. সল্টজ আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনায় পুরুষ শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্ষতি নারী ভুক্তভোগীদের মতোই মারাত্মক। কারণ, এখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তার ওপর রাখা আস্থার অপব্যবহার করে এবং এমন সব সীমানা লঙ্ঘন করে, যার জন্য একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মোটেও প্রস্তুত থাকে না।   গ্রেপ্তারের পর অ্যাডামসকে ব্রাজোরিয়া কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একই দিনে ২৬ হাজার ডলারের বন্ডে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। অ্যাঙ্গেলটন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই নারী বর্তমানে আর তাদের স্কুলে কর্মরত নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৩:৩৬
মার্কিন নাগরিক পরিচয় দিয়ে ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার আইসিই-বিরোধী আন্দোলনকারী

মার্কিন নাগরিক পরিচয় দিয়ে ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার আইসিই-বিরোধী আন্দোলনকারী

যুক্তরাষ্ট্রে স্ন্যাপ কার্ড নিয়ে বড় পরিবর্তন, জানুন সর্বশেষ ৩ আপডেট

যুক্তরাষ্ট্রে স্ন্যাপ কার্ড নিয়ে বড় পরিবর্তন, জানুন সর্বশেষ ৩ আপডেট

নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলে নিয়োগ চলছে

ডিগ্রি ছাড়াই স্কুলে চাকরি! নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলে নিয়োগ চলছে

হঠাৎ বাড়ির ছাদে উঠে গেল এসইউভি
হঠাৎ বাড়ির ছাদে উঠে গেল এসইউভি, নিহত ৭৮ বছরের বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি এসইউভি বাড়ির ছাদে উঠে যাওয়ার ঘটনায় ৭৮ বছর বয়সী চালক উইলি এইচ. স্মিথ জুনিয়র নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছু আগে ওয়েভারল্যান্ড ড্রাইভ ও উডল্যান্ড ড্রাইভের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।    বিব কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, স্মিথ একটি সাদা শেভ্রোলেট ইকুইনক্স এসইউভি নিয়ে ওয়েভারল্যান্ড ড্রাইভ দিয়ে পূর্বদিকে যাচ্ছিলেন। উডল্যান্ড ড্রাইভের কাছে এসে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে ১৯০০ ব্লক উডল্যান্ড ড্রাইভের একটি বাড়ির ছাদে গিয়ে আঘাত করে।    দুর্ঘটনার পর প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলেই স্মিথকে চিকিৎসা দেন। পরে তাকে স্থানীয় একটি মেডিকেল ফ্যাসিলিটিতে নেওয়া হলে কাউন্টি করনার লিওন জোনস তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।    দুর্ঘটনার পর বাড়ির ছাদে উঠে যাওয়া এসইউভিটি সরাতে উদ্ধারকারী দলকে ক্রেন ব্যবহার করতে হয়। ঘটনাস্থলের ছবিতে বাড়ির ছাদে গাড়িটির অবস্থান এবং উদ্ধার তৎপরতার দৃশ্য দেখা যায়।   তবে ঠিক কী কারণে স্মিথ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার আগে তার কোনো মেডিকেল জরুরি অবস্থা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তকারীরা এখনো জানাতে পারেননি। দুর্ঘটনার সময় বাড়িটির ভেতরে কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও কর্মকর্তারা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেননি।    বিব কাউন্টি শেরিফের অফিস দুর্ঘটনাটির তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসইউভিটি কীভাবে রাস্তা থেকে ছিটকে বাড়ির ছাদে উঠে গেল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো কারণ জানানো হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১০:৫৮
ডে-কেয়ারের খরচ জোগাতে সন্তানদের রেখে দ্বিতীয় চাকরিতে মা

ডে-কেয়ারের খরচ জোগাতে সন্তানদের রেখে দ্বিতীয় চাকরিতে মা

লং আইল্যান্ডে ম্যানহোলে পাঁচজনের রহস্যময় প্রবেশ

লং আইল্যান্ডে ম্যানহোলে পাঁচজনের রহস্যময় প্রবেশ, এক সপ্তাহ পর ফের একই ঘটনা

৬ হাজার ইলেকট্রিক শক গ্লাভস কিনছে আইসিই, খরচ ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার

৬ হাজার ইলেকট্রিক শক গ্লাভস কিনছে আইসিই, খরচ ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্প
ইরানের হুমকি, বাবার ওপর হত্যাচেষ্টা ও চার্লি কার্ক হত্যার পর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্প জনসম্মুখ থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে রাখছেন। বাবার ওপর একাধিক হত্যাচেষ্টা, ইরানের হুমকি এবং রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে অনেকটা ‘নির্জন’ জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারন বর্তমানে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (এনওয়াইইউ) পড়াশোনা করছেন। দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করার পর গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় তিনি মা ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে কাটিয়েছেন।   ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দ্য পোস্টকে জানিয়েছে, ব্যারন খুব একটা বাইরে বের হন না। আরেকটি সূত্র তাকে ‘বেশ নির্জন প্রকৃতির’ বলে বর্ণনা করেছে।   ইরানের হুমকি ও ১ কোটি ডলারের পুরস্কার   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কট্টরপন্থীরা সম্প্রতি ‘Where to kill Barron Trump’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে ব্যারনের চলাফেরার তথ্য দেখানোর দাবি করা হয় এবং তার মাথার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।   ব্যারনের মা মেলানিয়া ট্রাম্পও ইরানের কট্টরপন্থীদের হুমকির লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বাবার ওপর একাধিক হত্যাচেষ্টা   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত তিনটি হত্যাচেষ্টার মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে গুলিতে তিনি আহত হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে তাঁর গলফ কোর্সে এক বন্দুকধারী তাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করে।   এ ছাড়া চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে হামলার ঘটনাও ট্রাম্প পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।   চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডও প্রভাব ফেলেছে   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ব্যারনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্কের সঙ্গে ব্যারনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল।   বাবাকে ওই হত্যাকাণ্ডের খবর দেওয়ার সময় ব্যারন বলেছিলেন, ‘তুমি যখন বাইরে যাও, তখন এমনটাই ঘটে।’ লেখক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের বইয়ে প্রথম এই ঘটনার কথা উঠে আসে এবং পরে নিউইয়র্ক পোস্ট তা নিশ্চিত করে।   নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যেই জীবন   ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ না করার জন্য ফার্স্ট লেডির দপ্তর সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। সাম্প্রতিক হুমকির কথা উল্লেখ করে ২০ বছর বয়সী ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যারনের চলাফেরা সবসময় নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে থাকে। তিনি কোনো জায়গায় পৌঁছানোর পর দ্রুত ব্যক্তিগত পরিসরে চলে যান এবং সাধারণত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করেন না।   রাজনীতির বদলে ব্যবসায় আগ্রহ   ট্রাম্প পরিবারের অন্য সন্তানদের তুলনায় ব্যারন অনেক বেশি আড়ালে থাকেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প পারিবারিক ব্যবসায় সক্রিয়। ইভাঙ্কা ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত হন।   অন্যদিকে, ব্যারন ব্যবসার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। হাইস্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে তিনি একটি হারবাল এনার্জি ড্রিংক ব্যবসা শুরু করেছেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতেও বিনিয়োগ করেছেন বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনীতির পরিবর্তে ভবিষ্যতে ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার দিকেই ব্যারনের আগ্রহ বেশি বলে মনে হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৮:৫
american-us-dollars-money-bills-and-us-social-security

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ২০২৭ সালে বাড়তে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩৭%,ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩৭%, আগস্টে হতে যাচ্ছে নতুন রেকর্ড

young-man-paying-with-contactless-credit-card

রেস্তোরাঁয় বিল দেন পুরুষ, তবে টিপের সিদ্ধান্তে প্রভাব থাকে নারীর—সাবেক ওয়েট্রেসের দাবি

0 Comments