জ্যাকপট জেতা লটারির টিকিট নিয়ে টানাটানি, ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার দাবি করে আদালতে স্টোর ম্যানেজার
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের স্কটসডেলে একটি সার্কেল কে স্টোরের সাবেক ম্যানেজার রবার্ট গাওলিটজা প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার মূল্যের একটি লটারির টিকিটের মালিকানা দাবি করে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, টিকিট কেনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে এক নারী গ্রাহক ৮৫ ডলারের লটারির টিকিট কিনতে চাইলেও তার কাছে ছিল মাত্র ৬০ ডলার। ফলে অবিক্রিত কয়েকটি টিকিট দোকানেই থেকে যায়।
পরদিন দায়িত্বে এসে গাওলিটজা জানতে পারেন, ফেলে যাওয়া টিকিটগুলোর একটি জ্যাকপট বিজয়ী হয়েছে। তার দাবি, কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রথমে ডিউটি শেষ করেন, ইউনিফর্ম খুলে অবিক্রিত টিকিটগুলো কিনে নেন, এরপর আবার কাজে যোগ দেন।
গাওলিটজার আইনজীবী জশ কোলসরুড বলেন, কর্মীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী অবিক্রিত লটারির টিকিট স্টোর ম্যানেজার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী কিনতে পারতেন। তিনি দাবি করেন, গাওলিটজা প্রশিক্ষণ অনুযায়ীই সবকিছু করেছেন।
গাওলিটজা জানান, টিকিটটি কেনার পর তিনি সেটিতে নিজের স্বাক্ষর করেন এবং আগের রাতে টিকিট প্রিন্ট করা সহকর্মীর সঙ্গে পুরস্কারের অর্থ ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাবও দেন।
অন্যদিকে সার্কেল কে কর্তৃপক্ষ টিকিটটির দখলে রয়েছে এবং তাদের দাবি, টিকিটটির মালিকানা কোম্পানির। তবে চলমান মামলার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এদিকে আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত লটারির পুরস্কারের অর্থ স্থগিত রাখা হয়েছে। মামলার রায়ের পরই নির্ধারিত হবে, কোটি কোটি ডলারের জ্যাকপটের প্রকৃত মালিক কে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর সামনে রেখে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ দিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস। এসব পদের মধ্যে এমন কিছু স্কুলভিত্তিক চাকরি রয়েছে, যেখানে চার বছরের কলেজ ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। ফলে ব্যাচেলর ডিগ্রি না থাকলেও যোগ্যতা অনুযায়ী কিছু পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের চাকরির তালিকায় স্কুল সহকারী, পরিবার সহায়তাকর্মী এবং বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কোন পদের জন্য কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা বা অন্যান্য শর্ত প্রয়োজন, তা পদভেদে আলাদা। ডিগ্রি ছাড়াই স্কুলে কাজের অন্যতম সুযোগ হলো বিকল্প প্যারাপ্রফেশনাল পদ। এই পদের জন্য চার বছরের কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন নেই। তবে আবেদনকারীর হাইস্কুল ডিপ্লোমা, জিইডি অথবা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতিও থাকতে হবে। বিকল্প প্যারাপ্রফেশনাল হিসেবে কাজ করতে আগ্রহীদের কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই, প্রয়োজনীয় চাকরির কাগজপত্র, আই-৯ যাচাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। নির্ধারিত যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়োগের পরবর্তী ধাপে যাওয়া যায়। এ ছাড়া স্কুল সহকারী ও পরিবার সহায়তাকর্মীর মতো কিছু পদেও কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি চাকরির যোগ্যতা আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। তবে ডিগ্রি না লাগলেও এসব চাকরিতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন নেই, এমন নয়। আবার স্কুলের সব ধরনের চাকরিতেও ডিগ্রি ছাড়া আবেদন করা যায় না। যেমন বিকল্প শিক্ষক পদে সাধারণত ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন। নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে যারা নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসে কাজের সুযোগ খুঁজছেন, তারা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আবেদন করতে পারেন। বিশেষ করে যারা কলেজ ডিগ্রি সম্পন্ন করেননি, তাদের জন্য স্কুল সহকারী, পরিবার সহায়তাকর্মী ও বিকল্প প্যারাপ্রফেশনালের মতো পদগুলো সম্ভাব্য চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
হঠাৎ বাড়ির ছাদে উঠে গেল এসইউভি, নিহত ৭৮ বছরের বৃদ্ধ
ডে-কেয়ারের খরচ জোগাতে সন্তানদের রেখে দ্বিতীয় চাকরিতে মা
লং আইল্যান্ডে ম্যানহোলে পাঁচজনের রহস্যময় প্রবেশ, এক সপ্তাহ পর ফের একই ঘটনা
আইসিই আটক ব্যক্তি ও বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের জন্য ৬ হাজার জোড়া ইলেকট্রিক শক দিতে সক্ষম গ্লাভস কিনছে। এ জন্য কেনটাকিভিত্তিক কোম্পানি কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসির সঙ্গে ১৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের একটি নো-বিড চুক্তি করেছে সংস্থাটি। ফেডারেল ডাটাবেসে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, চুক্তিতে শুধু গ্লাভস নয়, এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগামী ছয় মাসে এসব সরঞ্জাম সরবরাহের কথা রয়েছে। প্রতি গ্লাভসের দাম প্রায় ২ হাজার ৪৯৫ ডলার বলে ফেডারেল চুক্তির নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিই জানিয়েছে, গ্লাভসগুলো বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হবে, যখন কোনো ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে বা নিষ্ক্রিয়ভাবে বাধা দিচ্ছেন এবং দ্রুত তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। গ্রেপ্তার, আক্রমণাত্মক আচরণ করা আটক ব্যক্তিকে এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়া এবং ডিটেনশন ফ্যাসিলিটির বাইরে সিভিল ডিসটার্বেন্সের মতো পরিস্থিতিতে এগুলো ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। গ্লাভসটি সাধারণ প্যাট্রোল গ্লাভসের মতোই থাকে। তবে অফিসার একটি বোতাম চাপলে এর ইলেকট্রিক মোড সক্রিয় হয়। এরপর গ্লাভসটি সরাসরি কারও ত্বকে লাগলে ব্যথাদায়ক বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। আইসিইর দাবি, এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আগ্নেয়াস্ত্রসহ আরও গুরুতর ধরনের বলপ্রয়োগের প্রয়োজন কমানো। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। নাগরিক অধিকারকর্মী এবং ডেমোক্র্যাটিক দলের কয়েকজন সিনেটর আশঙ্কা করছেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ, ব্যবহারের স্পষ্ট সীমা এবং পর্যাপ্ত নজরদারি ছাড়া এই সরঞ্জাম অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নেভাদার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টোসহ ১৬ জন সিনেটর বৃহস্পতিবার আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানান। তারা আইসিইর সাম্প্রতিক বলপ্রয়োগ নিয়ে বিতর্কের কথা তুলে ধরে জানতে চান, নতুন এই সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কী এবং অফিসারদের কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সিনেটররা বিশেষভাবে জানতে চেয়েছেন, গ্লাভস ব্যবহারের প্রতিটি ঘটনা কীভাবে নথিভুক্ত ও অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তাদের মতে, স্পষ্ট নিয়ম ও কার্যকর নজরদারি ছাড়া আটক ব্যক্তি বা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এর ব্যবহার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর আগে চলতি মাসেই আইসিইর গ্লাভস কেনার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসে। তখন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এসব সরঞ্জামকে ‘কন্ডাক্টিভ ডিসট্র্যাকশন অ্যান্ড ডি-এস্কেলেশন ডিভাইস’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তবে সমালোচনার জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা তাদের দায়িত্ব পালনে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সংস্থাটি দাবি করেছে, কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা জরুরি। ইলেকট্রিক শক গ্লাভস নিয়ে বিতর্কের মূল প্রশ্ন এখন এর ব্যবহার কতটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং আইসিই কর্মকর্তারা কোন পরিস্থিতিতে এটি প্রয়োগ করতে পারবেন। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রশিক্ষণ, ব্যবহারবিধি ও নজরদারির কাঠামো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়েই নজর থাকবে।
ইরানের হুমকি, বাবার ওপর হত্যাচেষ্টা ও চার্লি কার্ক হত্যার পর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ২০২৭ সালে বাড়তে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা
ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩৭%, আগস্টে হতে যাচ্ছে নতুন রেকর্ড
রেস্তোরাঁয় ভালো সেবা দেওয়ার পাশাপাশি টিপ বা বকশিশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু কৌশল কাজ করতে পারে। সাবেক ওয়েট্রেস ও জনপ্রিয় লেখক মেল রবিনস জানিয়েছেন, ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করার সময় তিনি এমন একটি পরামর্শ পেয়েছিলেন, যা তার টিপ পাওয়ার ধারণাই বদলে দেয়। রবিনস জানান, মিশিগানের রেড রুস্টার ট্যাভার্নে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করার সময় তার এক মেন্টর তাকে বলেছিলেন, ভালো টিপ পাওয়ার একটি কৌশল হলো—টেবিলে কার হাতে টিপ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব রয়েছে, সেটি বুঝতে পারা। সাধারণত যে ব্যক্তি রেস্তোরাঁর বিল পরিশোধ করেন, তিনিই টিপের পরিমাণ ঠিক করেন বলে মনে করা হয়। কিন্তু রবিনসের মেন্টরের পর্যবেক্ষণ ছিল, অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ বিল পরিশোধ করলেও টিপের বিষয়ে তার সঙ্গী নারী প্রভাব ফেলতে পারেন। রবিনস বলেন, ভালো সেবা পেলে অনেক সময় নারী সঙ্গী তার পার্টনারকে ওয়েটারের প্রশংসা করে ভালো টিপ দিতে উৎসাহিত করেন। এই পরামর্শের পর তিনি টেবিলের নারীদের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়ার কৌশল নিয়েছিলেন। তবে আতিথেয়তা খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নারী গ্রাহকদের গুরুত্ব দিয়ে পুরুষদের উপেক্ষা করা ঠিক নয়। নিউইয়র্কভিত্তিক মাহন হসপিটালিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা অংশীদার রবার্ট মাহন বলেন, ভালো ওয়েটারদের পুরো টেবিলের গতিবিধি বুঝতে হয় এবং কাউকে আলাদা করে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, বন্ধুত্বপূর্ণ ও মনোযোগী আচরণই শেষ পর্যন্ত ভালো টিপ পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এমনকি গবেষণাতেও গ্রাহকের সঙ্গে ছোটখাটো ইতিবাচক যোগাযোগ টিপের পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, খাবার বেছে নেওয়ার সময় গ্রাহকদের প্রশংসা করা ওয়েটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি টিপ পেয়েছেন। ডালাস স্কুল অব এটিকেটের প্রতিষ্ঠাতা লিসা বারডেটও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নারীরা টিপের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন। তবে একজন দক্ষ ওয়েটারের উচিত টেবিলের সব অতিথিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। অর্থাৎ, বেশি টিপ পাওয়ার ‘গোপন রহস্য’ শুধু একজন নির্দিষ্ট গ্রাহককে খুশি করা নয়—বরং পুরো টেবিলকে ভালোভাবে সেবা দেওয়া, অতিথিদের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি করা এবং কে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা বুঝতে পারাই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনটি সাধারণ কারণে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে পারে, দাবি বিশেষজ্ঞের
গুগলে ১-স্টার রিভিউ দেওয়ায় নারীর বিরুদ্ধে ২৫ হাজার ডলারের মানহানি মামলা