আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ৫১ হাজার মৌসুমি কর্মীর চাহিদা, H-2B কোটা মাত্র ৩৩ হাজার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ২০:২৭
যুক্তরাষ্ট্রে H-2B ভিসার আওতায় মৌসুমি কর্মী নিয়োগের আবেদন এবারও কোটার চেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে H-2B ভিসার আওতায় মৌসুমি কর্মী নিয়োগের আবেদন এবারও কোটার চেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ১ অক্টোবর থেকে মৌসুমি কর্মী নিয়োগের জন্য দেশটির নিয়োগদাতারা ২ হাজার ৬২৫টি H-2B আবেদন জমা দিয়েছেন। এসব আবেদনে মোট ৫১ হাজার ১৫৮টি কর্মী পদের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। অথচ ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নিয়মিত H-2B ভিসার কোটা ৩৩ হাজার। ফলে প্রাথমিক চাহিদা নির্ধারিত কোটার চেয়ে ১৮ হাজার ১৫৮টি পদ বেশি। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের অধীন Office of Foreign Labor Certification বা OFLC গত ৮ জুলাই আবেদনগুলোর দৈবচয়ন ও প্রক্রিয়াকরণ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। আবেদনগুলো ৩ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনের বিশেষ সময়সীমার মধ্যে জমা দেওয়া হয়েছিল। সব আবেদনেই কাজ শুরুর তারিখ হিসেবে ১ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে, যেদিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধ শুরু হবে।

 

বিপুলসংখ্যক পদের আবেদন জমা পড়ায় শ্রম বিভাগ সেগুলোকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে দুটি দলে ভাগ করেছে। গ্রুপ ‘এ’-তে রাখা হয়েছে ১ হাজার ৮৮১টি আবেদন এবং গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে ৭৪৪টি আবেদন। গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা আবেদনগুলোর কর্মীসংখ্যাই প্রথমার্ধের ৩৩ হাজার ভিসার কোটা পূরণের জন্য যথেষ্ট। 

 

গ্রুপ ‘এ’-র আবেদনগুলো এখন শ্রম বিভাগের National Processing Center-এর কর্মকর্তাদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা আবেদন যাচাই করে গ্রহণের নোটিশ অথবা ত্রুটির নোটিশ দেবেন। গ্রুপ ‘বি’-তে থাকা আবেদনগুলোকেও আলাদা পর্যায়ে প্রক্রিয়াকরণের জন্য রাখা হয়েছে।

 

তবে দৈবচয়নে কোনো আবেদন প্রথম দলে স্থান পাওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা চূড়ান্তভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি পেয়েছেন—এমন নয়। একইভাবে ৫১ হাজার ১৫৮টি পদকে নিশ্চিত চাকরি বা অনুমোদিত ভিসা হিসেবেও দেখা যাবে না। সংখ্যাটি কেবল নিয়োগদাতাদের চাওয়া মোট কর্মী পদের হিসাব।

 

H-2B কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগদাতারা সাময়িক ও কৃষিবহির্ভূত কাজে বিদেশি কর্মী আনতে পারেন। নিয়োগদাতাকে প্রমাণ করতে হয়, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার অতিরিক্ত কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে এবং প্রয়োজনটি এককালীন, মৌসুমি, ব্যস্ত মৌসুমকেন্দ্রিক অথবা অনিয়মিত প্রকৃতির। 

 

শ্রম বিভাগের SeasonalJobs প্ল্যাটফর্মে H-2B কর্মসূচির শীর্ষ কৃষিবহির্ভূত কাজের মধ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নির্মাণশ্রমিকের পদ উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বন সংরক্ষণ, মাংস ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন সহকারী, রেস্তোরাঁর রাঁধুনি এবং খাবার পরিবেশনসংক্রান্ত মৌসুমি কাজও নিয়মিত প্রকাশিত হয়। 

 

হোটেল ও পর্যটননির্ভর এলাকায় হাউসকিপিং, রান্নাঘর, বিনোদনকেন্দ্র, স্কি রিসোর্ট ও অন্যান্য আতিথেয়তা সেবার জন্যও H-2B কর্মী নেওয়া হয়। তবে কোন পেশায় কতজন কর্মী চাওয়া হয়েছে, শ্রম বিভাগের ৮ জুলাইয়ের ঘোষণায় তার পূর্ণ খাতভিত্তিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।

 

কংগ্রেস নিয়মিত H-2B ভিসার বার্ষিক সীমা ৬৬ হাজার নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথমার্ধে ৩৩ হাজার এবং এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৩৩ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। আলাদা কোনো সম্পূরক ভিসা ঘোষণা করা হলে সেটি পৃথক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কার্যকর হয়; বর্তমান আবেদনসংখ্যা দেখে অতিরিক্ত ভিসা নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। 

 

H-2B প্রক্রিয়ায় প্রথমে নিয়োগদাতাকে শ্রম বিভাগের কাছ থেকে সাময়িক শ্রম সনদ নিতে হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগদাতা বা তার অনুমোদিত এজেন্টকে সম্ভাব্য কর্মীর পক্ষে USCIS-এ Form I-129 জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা কর্মীকে সাধারণত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। 

 

ফলে বিদেশি চাকরিপ্রার্থী নিজে থেকে H-2B ভিসার আবেদন শুরু করতে পারেন না। প্রথমে তাঁকে বৈধ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিয়োগদাতার কাছ থেকে প্রকৃত কাজের প্রস্তাব পেতে হবে। কোনো দালাল কেবল অর্থের বিনিময়ে H-2B ভিসা নিশ্চিত করার দাবি করলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অস্থায়ী কর্মীদের অধিকারবিষয়ক নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চাকরি পাওয়ার জন্য কর্মীর কাছ থেকে নিয়োগ ফি নেওয়া উচিত নয়। কাজের চুক্তিতে বেতন, কাজের সময়কাল, কর্মঘণ্টা, সুবিধা এবং অনুমোদিত কর্তনের তথ্য স্পষ্ট থাকার কথা। নিয়োগদাতাকে কর্মীকে কাজের আদেশে উল্লেখিত হারে বেতন দিতে হয় এবং সেই হার প্রযোজ্য prevailing wage অথবা ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় ন্যূনতম মজুরির মধ্যে সর্বোচ্চটির চেয়ে কম হতে পারে না।

 

বাংলাদেশ থেকে আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫১ হাজার পদের আবেদন জমা পড়ার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশে উন্মুক্তভাবে ৫১ হাজার কর্মী নিয়োগ চলছে। প্রতিটি নিয়োগদাতার শ্রম সনদ ও USCIS আবেদন অনুমোদিত হতে হবে এবং কর্মীকে ভিসার যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।

 

চাকরি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের SeasonalJobs প্ল্যাটফর্মে নিয়োগদাতার নাম, কাজের স্থান, বেতন, কাজ শুরুর ও শেষ হওয়ার তারিখ এবং আবেদনের নির্দেশনা দেখা যায়। ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, অজ্ঞাত এজেন্ট অথবা অগ্রিম বড় অঙ্কের অর্থ চাওয়া প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে সরকারি তালিকা ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার তথ্য যাচাই করা জরুরি।

 

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার H-2B কর্মীর চাহিদা বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ২ হাজার ৪২১টি আবেদনে ৪৭ হাজার ৪৮৮টি পদের অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। এবার আবেদনের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৬২৫ এবং চাওয়া কর্মী পদের সংখ্যা ৫১ হাজার ১৫৮-এ পৌঁছেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মৌসুমি কৃষিবহির্ভূত খাতে বিদেশি কর্মীর ওপর নিয়োগদাতাদের নির্ভরতা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। 

 

তবে নির্ধারিত কোটার তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় সব নিয়োগদাতার আবেদন এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সমান নয়। শ্রম সনদ, USCIS অনুমোদন ও কনস্যুলার ভিসা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই কোনো বিদেশি কর্মী বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সংশ্লিষ্ট H-2B চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অধীন ইউএসসিআইএস এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। ছবি: সংগৃহীত
শেষ মুহূর্তে বাড়ল কয়েক লাখ অভিবাসীর ওয়ার্ক পারমিট

মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হাইতিসহ সাতটি দেশের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) পাওয়া অভিবাসীদের কাজের অনুমতির মেয়াদ সাময়িকভাবে বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তে কয়েক লাখ অভিবাসী আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অধীন ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়। ঘোষণা অনুযায়ী, টিপিএসধারী হাইতির নাগরিকদের কাজের অনুমতির মেয়াদ এখন ২৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ইথিওপিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদান এবং মিয়ানমারের টিপিএসধারীদের বর্তমান কাজের অনুমতি আরও এক সপ্তাহ কার্যকর থাকবে।   এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেয়। ওই রায়ের পর কয়েক লাখ অভিবাসীর কাজের অনুমতি এবং বহিষ্কার থেকে পাওয়া আইনি সুরক্ষা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) এমন একটি মানবিক কর্মসূচি, যার আওতায় যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকরা, যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তারা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেশটিতে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।   সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর থেকেই মানবাধিকার সংগঠন এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, টিপিএস বাতিল হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে কাজের অনুমতি হারাতে পারেন এবং বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়বেন। এদিকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনও কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের মতে, হঠাৎ করে এসব কর্মীর অনুমতি বাতিল হলে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাত শ্রমিক সংকটে পড়তে পারে।   অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে অবৈধ অভিবাসন দমন এবং বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ এবং আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাইয়ের মতো পদক্ষেপ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, এসব নীতির ফলে অভিবাসী ও বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বেড়েছে। পাশাপাশি বর্ণগত বৈষম্যমূলক আচরণের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দেশটির নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সুরক্ষিত রাখা।   বিশ্লেষকদের মতে, কাজের অনুমতির এই সাময়িক মেয়াদ বৃদ্ধি টিপিএসধারী অভিবাসীদের জন্য আপাত স্বস্তি নিয়ে এলেও তাদের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। কারণ টিপিএস কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের আইনি ও নীতিগত অবস্থান এখনও পরিবর্তনশীল, ফলে আগামী সপ্তাহগুলোতে এ বিষয়ে আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ২১:৩৮
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে মাল্টনোমাহ কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

পোর্টল্যান্ডের পার্কে ৭ বছরের শিশুকে অপহরণের চেষ্টা, পথচারীদের সহায়তায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রে H-2B ভিসার আওতায় মৌসুমি কর্মী নিয়োগের আবেদন এবারও কোটার চেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৫১ হাজার মৌসুমি কর্মীর চাহিদা, H-2B কোটা মাত্র ৩৩ হাজার

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন গর্ভধারিণী মা। ছবি:সংগৃহীত

সন্তান জন্মের পর ২০ হাজার ডলারের হাসপাতাল বিল, তিন মিনিটের চিকিৎসকের ফি নিয়ে বিতর্ক

ক্যান্সার রোগিদের রেডিয়েশন থেরাপির দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ কোটির মানুষের নাগালে নেই ক্যান্সারের রেডিয়েশন থেরাপি সেবা

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা রেডিয়েশন থেরাপি ক্রমেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির ৫ কোটির বেশি মানুষ এখন এমন সব কাউন্টিতে বসবাস করেন, যেখানে রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়ার কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ক্যান্সার চিকিৎসায় বৈষম্য আরও গভীর হবে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গ্রামীণ এলাকার রোগীরা।   গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ক্যান্সার চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব রেডিয়েশন অনকোলজি, বায়োলজি অ্যান্ড ফিজিক্স-এ। এটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই আইকান স্কুল অব মেডিসিন-এর গবেষকেরা।   গবেষণায় ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কাউন্টিতে রেডিয়েশন থেরাপি সেবাদানকারী কেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে। এর ফলে লাখো মানুষকে চিকিৎসার জন্য নিজ এলাকার বাইরে যেতে হচ্ছে। অনেক কাউন্টিতে বর্তমানে রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়ার কোনো কেন্দ্রই নেই।   গবেষকদের মতে, শহরাঞ্চলে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ হলেও রোগীরা তুলনামূলকভাবে অন্য কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় একটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে পুরো এলাকার মানুষ স্থানীয়ভাবে রেডিয়েশন থেরাপির সুযোগ হারাতে পারেন। এতে চিকিৎসা শুরু ও নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।   রেডিয়েশন থেরাপি ক্যান্সারের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত অর্ধেকেরও বেশি রোগীর চিকিৎসার কোনো না কোনো পর্যায়ে এই থেরাপির প্রয়োজন হয়। অধিকাংশ রোগীকেই কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে হয়। ফলে চিকিৎসাকেন্দ্র দূরে হলে যাতায়াতের অতিরিক্ত ব্যয়, সময় এবং শারীরিক কষ্ট বেড়ে যায়। এর প্রভাব চিকিৎসা শুরু, নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসা শেষ করার ওপরও পড়তে পারে।   গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ও রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ড. কুনাল কে. সিন্ধু বলেন, গ্রামীণ এলাকার স্বাধীন রেডিয়েশন থেরাপি কেন্দ্রগুলো আর্থিক সংকটের কারণে বড় হাসপাতালভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর তুলনায় দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এসব কেন্দ্রের আর্থিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব কাউন্টিতে রেডিয়েশন থেরাপির সুযোগ কমে গেছে, সেসব এলাকায় সাধারণত মানুষের গড় আয় কম, স্বাস্থ্যবিমাহীন বাসিন্দার সংখ্যা বেশি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী চিকিৎসকের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এসব অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   যদিও এই গবেষণায় সরাসরি রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল মূল্যায়ন করা হয়নি, তবে গবেষকেরা আগের বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণ করতে হলে চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়া, চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া এবং মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।   বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, ২০২৬ সালে মেডিকেয়ারের অর্থ পরিশোধ নীতিতে পরিবর্তনের ফলে রেডিয়েশন থেরাপি কেন্দ্রগুলোর ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। যেহেতু বর্তমান গবেষণায় এই সময়ের তথ্য অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই বাস্তব পরিস্থিতি গবেষণায় উঠে আসা চিত্রের চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক হতে পারে।   গবেষকদের মতে, ক্যান্সার চিকিৎসায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে রেডিয়েশন থেরাপি কেন্দ্রগুলো টিকিয়ে রাখতে স্থিতিশীল অর্থায়ন, কার্যকর সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যনীতি গ্রহণ জরুরি। অন্যথায়, বিশেষ করে গ্রামীণ যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সার চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে পড়বে এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য আরও বাড়বে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৯:৫৪
শিশুরা বিনোদনে ব্যস্ত। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বিনামূল্যে শিশু দেখাশোনা কর্মসূচি, স্বস্তির কয়েক ঘণ্টা পাবেন অভিভাবকরা

নিউ জার্সির বাসিন্দা এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত স্যাম সাদেহ ছবি:সংগৃহীত

টি-শার্টের লেখা নিয়ে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত যাত্রীর সঙ্গে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিরোধ

প্রতিষ্ঠানের পটক ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান, নিষিদ্ধ ১ হাজার ২১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

৭০ বছর বয়সী আটক হওয়া বৃদ্ধ গ্যারি এডওয়ার্ড গ্লোয়াকজ। ছবি : সংগৃহীত
১৯৮৭ সালের অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডের তথ্য দিতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ, পরে নিজেই গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি ১৯৮৭ সালের একটি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দিতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর নিজেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রায় চার দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা ওই হত্যাকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   জ্যাকসনভিল শহরের পুলিশ জানিয়েছে, ৭০ বছর বয়সী গ্যারি এডওয়ার্ড গ্লোয়াচ বুধবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১৯৮৭ সালে নিহত ২০ বছর বয়সী মেলিসা এলিসনের মৃত্যু সম্পর্কে তথ্য দিতে চান বলে জানান।   পুলিশের তদন্তকারীরা তার সঙ্গে কথা বলার পর একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংগ্রহ করেন। পরে তাকে আটক করে ডুভাল কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং হামলার মাধ্যমে বাড়িতে প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ১৯৮৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভোরে ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের কোলিজিন রোডের একটি বাড়ি থেকে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা সেখানে যায়। পরে ওই বাড়ির একটি কক্ষে মেলিসা এলিসনের মরদেহ পাওয়া যায়।   তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার সঙ্গে থাকা শিশুর কান্নার শব্দ শুনে বাড়ির অন্যরা তাকে দেখতে গিয়ে ঘটনাটি জানতে পারেন।   প্রায় ৩৯ বছর পর মামলাটির নতুন অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জ্যাকসনভিলের পুলিশ প্রধান টি. কে. ওয়াটার্স।   এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অনেকের ধারণা, কোনো হত্যাকাণ্ড প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে সমাধান না হলে আর সমাধান হয় না—এই ধারণা ভুল। দীর্ঘ সময় পরও তদন্তের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসতে পারে।   পুলিশ প্রধান বলেন, অভিযুক্তের গ্রেপ্তার নিহত মেলিসা এলিসনের পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্ট পুরোপুরি দূর করতে পারবে না, তবে এটি তাদের জন্য ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।   এই মামলার তদন্তে সহায়তা করেছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ও অপরাধ তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান। পুলিশ জানিয়েছে, পুরোনো এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো চলমান।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৮:৩৫
নিহত হওয়া শিশু চোজেন মরিস। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৪ বছরের শিশুর গুলিতে ২ বছরের শিশুর মৃত্যু, বেড়াতে এসে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

"ভবিষ্যৎ সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত এক প্রবীণ দম্পতি।" ছবি:সংগৃহীত

জুলাইয়ের দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা, সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলার পাচ্ছেন যোগ্যরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ছবি:সংগৃহীত

গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁস তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন টাস্কফোর্স, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক

0 Comments