সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি

যুক্তরাষ্ট্রে সনদপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহকারী হিসেবে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন চাবেলি রদ্রিগেজ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মেডিকেল স্কুলে না পড়েও হাসপাতালে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় ৩০ বছর বয়সী নারীর

যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেল স্কুলে না পড়েও হাসপাতালভিত্তিক পেশায় বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন ৩০ বছর বয়সী চাবেলি রদ্রিগেজ। তিনি সনদপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০২৪ সালে স্থায়ী বেতনের চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে কাজ শুরু করার পর তাঁর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি সাধারণত সপ্তাহে প্রায় ৪০ ঘণ্টা কাজ করেই এ আয় করছেন, যদিও অতিরিক্ত পালা নিলে তাঁর বার্ষিক আয় আরও বাড়তে পারে।   রদ্রিগেজের পেশা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট চিকিৎসকের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও দুটি পদ এক নয়। অস্ত্রোপচার বা কিছু চিকিৎসাপদ্ধতির সময় রোগীকে অচেতন রাখা ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সনদপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহকারীরা চিকিৎসক অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের তত্ত্বাবধানে অ্যানেস্থেসিয়া-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করেন। এ পেশায় প্রবেশের জন্য তাঁকে মেডিকেল স্কুলে চিকিৎসক হওয়ার প্রচলিত দীর্ঘ পথ অনুসরণ করতে হয়নি; বরং অ্যানেস্থেসিওলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে প্রয়োজনীয় পেশাগত সনদ নিয়েছেন।   ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ফ্লোরিডায় স্থায়ী বেতনের চাকরি করতেন রদ্রিগেজ। তখনও তাঁর বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি ছিল। তবে সেই আয় ধরে রাখতে তাঁকে নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হতো, কখনো কখনো টানা ২৪ ঘণ্টার পালাও নিতে হতো। ছোটবেলা থেকেই অর্থ সঞ্চয় নিয়ে তাঁর মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তার ভয় কাজ করত বলে তিনি সিএনবিসিকে জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা থেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ করে বাড়তি অর্থ জমিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন তিনি।   ২০২৪ সালে তিনি বেতনভিত্তিক চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চুক্তির ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন। প্রথমে জর্জিয়ায় ছয় মাসের একটি চুক্তিতে কাজ করেন। পরে বুঝতে পারেন, এভাবে কাজ করলে একদিকে আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভ্রমণ ও জীবনযাপনের সময়ও বের করা সম্ভব। জর্জিয়ার চুক্তি শেষ হওয়ার পর তিনি নিউ মেক্সিকোতে চলে যান। বর্তমানে সেখানেই থাকছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করছেন।   চুক্তিভিত্তিক কাজে যাওয়ার পর তাঁর আয় বছরে ৩ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। তবে অতীতের মতো দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত কাজ করলে আয় প্রায় ৫ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তা সত্ত্বেও তিনি এখন প্রতিটি অতিরিক্ত পালা নেওয়ার জন্য চাপ অনুভব করেন না। তাঁর ভাষ্য, আরও বেশি আয় করার ইচ্ছা থাকলেও কাজের চাপে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলতে চান না। বর্তমান আয়েই তিনি সন্তুষ্ট এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চান।   রদ্রিগেজের আর্থিক পরিকল্পনায় ঋণ পরিশোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৩ সালে তিনি শিক্ষাজীবনের প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলারের ঋণ পরিশোধ করেন। ঋণ শোধের পর বিনিয়োগে বেশি অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর লক্ষ্য হলো কর কাটার আগের আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ বিনিয়োগ ও অবসরকালীন সঞ্চয় হিসাবে রাখা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ ডলারে পৌঁছায় বলে সিএনবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আগে রদ্রিগেজের লক্ষ্য ছিল ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে আগেভাগে অবসর নেওয়া। এখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক অর্জনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর পরিকল্পনা, চাইলে যেন ৫০ বছর বয়সের দিকে কাজের চাপ কমিয়ে দিতে পারেন। সে জন্য শুধু আয় বাড়ানো নয়, নিয়মিত বিনিয়োগ এবং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপনকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।   আয়ের পরিমাণ বাড়লেও রদ্রিগেজ জীবনযাপনে অতিরিক্ত ব্যয় করার পথে হাঁটেননি। সঙ্গীর সঙ্গে বাসাভাড়া ভাগ করে নেন এবং সাধারণ টয়োটা করোলা গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে ভ্রমণের জন্য অর্থ ব্যয় করতে তিনি আগ্রহী। কখনো বিদেশ ভ্রমণ করেন, আবার কখনো ব্যাকপ্যাক নিয়ে ঘোরেন বা ক্যাম্পিংয়ে যান। তাঁর কাছে আর্থিক নিরাপত্তার অর্থ এখন শুধু সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং প্রয়োজনের সময় নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও।   রদ্রিগেজ বলেছেন, আগে তিনি প্রতিটি বাড়তি পালা নেওয়ার জন্য নিজেকে চাপ দিতেন। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি নিজের আয় ও অর্জনকে স্বীকার করতে শিখেছেন এবং প্রয়োজনের বাইরে কাজ না করেও জীবন উপভোগ করার সুযোগ দেখছেন। তাঁর মতে, আর্থিকভাবে আরও নিরাপদ বোধ করার কারণে এখন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে সরে আসা, সঙ্গীকে উপহার দেওয়া কিংবা নিজের জন্য কিছু কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সুস্থ থাকা এবং কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে না পড়াও এখন তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।   রদ্রিগেজের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসক হওয়ার বিকল্প পেশাপথের একটি উদাহরণ। তবে তাঁর আয়কে এ পেশার সবার সাধারণ আয় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক কাজ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, পেশাগত সনদ এবং বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেই তিনি এ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। অর্থাৎ মেডিকেল স্কুলে না পড়লেও এ পেশায় প্রবেশের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা ও যোগ্যতা অর্জন প্রয়োজন।   সূত্র: সিএনবিসি মেক ইট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
এনওয়াইপিডিতে পুলিশ অফিসার পদে আবেদনের সুযোগ
নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরির সম্পূর্ন গাইড, জেনে নিন যোগ্যতা ও পরীক্ষার নিয়ম

নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগ এনওয়াইপিডিতে পুলিশ অফিসার হওয়ার পরীক্ষায় আবেদন চলছে। ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএসের বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ৭৩১৪ নম্বর পরীক্ষায় আবেদনের শেষ দিন ১৪ অক্টোবর ২০২৬। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২ থেকে ৭ নভেম্বর। আবেদন ফি নেই। তবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরি পেতে স্বাস্থ্য, মানসিক সক্ষমতা, শারীরিক যোগ্যতা ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের ধাপগুলো পেরোতে হবে।   আবেদন করতে হবে ডিসিএএসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম ওএসিসে। সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে পুলিশ অফিসার পরীক্ষাটি নির্বাচন করে নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হবে। ফি দেওয়ার পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে হবে ‘নো ফি’।   বয়সের শর্তে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষার দিনে বয়স অন্তত ১৭ বছর হতে হবে। নিয়োগের জন্য ন্যূনতম বয়স ২০ বছর ছয় মাস। আবেদন জমা দেওয়ার দিনে বয়স ৪৩ বছরের নিচে থাকতে হবে। যোগ্য সামরিক সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত বয়স থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   শিক্ষাগত যোগ্যতায় হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা সমমানের সনদের পাশাপাশি স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত ২৪ সেমিস্টার ক্রেডিট এবং ন্যূনতম ২.০ জিপিএ প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে সম্মানজনকভাবে দুই বছরের পূর্ণকালীন সেবা গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো দেশে পড়াশোনা করলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান মূল্যায়ন করাতে হবে।   নিয়োগের সময় ইউএস সিটিজেন হতে হবে এবং বৈধ, বিধিনিষেধমুক্ত নিউইয়র্ক স্টেট ড্রাইভার লাইসেন্স থাকতে হবে। বাসস্থান হতে হবে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর কোনো একটিতে অথবা নাসাউ, সাফোক, রকল্যান্ড, ওয়েস্টচেস্টার, পুটনাম কিংবা অরেঞ্জ কাউন্টিতে।   চাকরির প্রক্রিয়া শুরু হয় লিখিত প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে। এরপর মেডিকেল পরীক্ষা, লিখিত ও মৌখিক সাইকোলজিক্যাল মূল্যায়ন, ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্ত, শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা এবং ড্রাগ ও অ্যালকোহল স্ক্রিনিং সম্পন্ন করতে হয়। এনওয়াইপিডির নিয়োগ নির্দেশনায় এসব ধাপ সফলভাবে শেষ করার শর্ত রয়েছে।   মেডিকেল ও সাইকোলজিক্যাল মূল্যায়নে পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব পালনের উপযোগিতা পরীক্ষা করা হয়। ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্তে প্রার্থীর চরিত্র ও পূর্ববর্তী আচরণ বিবেচনায় আসে। ফেলনি বা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সসংক্রান্ত মিসডিমিনরে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং সামরিক বাহিনী থেকে ডিসঅনারেবল ডিসচার্জ অযোগ্যতার কারণ। খারাপ আচরণের জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া, সহিংসতার প্রবণতা কিংবা আইন অমান্যের ইতিহাসও অযোগ্য বিবেচিত হওয়ার কারণ হতে পারে।   শারীরিক পরীক্ষাটির নাম জব স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট বা জেএসটি। এনওয়াইপিডির প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, একটানা পরীক্ষাটি চার মিনিট ২৮ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে হয়। এতে ৫০ ফুট স্প্রিন্ট করে বেড়া পার হওয়া, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, কাউকে শারীরিকভাবে নিয়ন্ত্রণের মহড়া এবং ধাওয়ার দৌড় রয়েছে। পাশাপাশি ১৭৬ পাউন্ড ওজনের ম্যানিকুইন ৩৫ ফুট টেনে নেওয়া ও গুলিবিহীন আগ্নেয়াস্ত্রের ট্রিগার একাধিকবার টানার কাজ করতে হয়।   নিয়োগের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে ক্যান্ডিডেট অ্যাসেসমেন্ট সেন্টারে ৭১৮ ৩১২ ৪২২৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।   নিয়োগের পর পুলিশ একাডেমিতে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সেখানে আইন, অপরাধ তদন্ত, সাংবিধানিক অধিকার ও সংকট মোকাবিলার মতো বিষয় শেখানো হয়। কলেজ ক্রেডিটের শর্ত ৬০ থেকে ২৪ করার সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে। একই ঘোষণায় একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এক দশমিক পাঁচ মাইল দৌড় ১৪ মিনিট ২১ সেকেন্ডের কম সময়ে শেষ করার শর্ত পুনর্বহালের কথা জানানো হয়।   বেতন সম্পর্কে এনওয়াইপিডির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুরুর বার্ষিক বেতন ৫৮ হাজার ৫৮০ ডলার এবং সাড়ে পাঁচ বছর পর ১ লাখ ২১ হাজার ৫৮৯ ডলার। এই অঙ্কে ওভারটাইম ও রাতের ডিউটির অতিরিক্ত পারিশ্রমিক অন্তর্ভুক্ত নেই। একাডেমির প্রশিক্ষণের প্রথম দিন থেকেই পূর্ণ বেতন ও সুবিধা পাওয়া যায়।   সুবিধার মধ্যে রয়েছে হেলথ বেনিফিটের বিভিন্ন প্যাকেজ, প্রেসক্রিপশন, ডেন্টাল ও ভিশন কভারেজ, বেতনসহ অসুস্থতাজনিত ছুটি এবং অবসর সঞ্চয়ের ব্যবস্থা। ছয় বছর চাকরির পর বছরে ২৭ দিন বেতনসহ ভ্যাকেশন পাওয়া যায়। পদোন্নতির মাধ্যমে সার্জেন্ট, লেফটেন্যান্ট ও ক্যাপ্টেন হওয়ার সুযোগও রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
H-1B ভিসার ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের H-1B ভিসা ফি আবারও আটকে দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন H-1B ভিসার আবেদনের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের ফি আটকে দিয়েছেন আরেক ফেডারেল বিচারক। বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক হেওয়ার্ড গিলিয়াম এই নির্দেশ দেন। তার মতে, ফি কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং পররাষ্ট্র দপ্তর প্রয়োজনীয় নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে এই ফি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে হবে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন অলাভজনক সংগঠনের একটি জোট এই মামলা করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক গিলিয়াম ফি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলাটি গত অক্টোবরে দায়ের করা হয়েছিল। বিচারক গিলিয়ামকে ২০১০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।   এটি H-1B ফি নিয়ে দ্বিতীয় বড় ধরনের আদালতের বাধা। এর আগে জুনে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক মামলায় একই ১ লাখ ডলারের ফি সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিলেন। জুলাইয়ে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ নাকচ করে দেয়। ফলে ফি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি লড়াই একই সঙ্গে চলছে।   ট্রাম্প প্রশাসন নতুন H-1B ভিসার ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের এই ফি আরোপ করেছিল। এর আগে নতুন H-1B আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফি মিলিয়ে সাধারণত প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারত, যদিও আবেদন ও নিয়োগকর্তার ধরন অনুযায়ী অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। নতুন ফি সেই ব্যয়কে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।   এই ফি নিয়ে আইনি বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট এককভাবে এমন ফি নির্ধারণ করতে পারেন কি না। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে এই ব্যবস্থা নিয়েছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, H-1B কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের জায়গা নিয়েছে।   অন্যদিকে মামলাকারী সংগঠনগুলোর বক্তব্য, এত বড় অঙ্কের ফি আরোপের আগে প্রশাসনকে নির্ধারিত নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। বুধবারের রায়ে বিচারক গিলিয়াম মূলত এই প্রক্রিয়াগত বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ আদালতের বর্তমান নির্দেশটি H-1B কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা বা বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতিগত প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।   এদিকে ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে মামলা চলার মধ্যেই মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আগস্টে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নেয়। সেটি চূড়ান্ত হলে নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবিত ফি নিয়ে সম্ভাব্য মামলা বর্তমান ১ লাখ ডলারের ফি সংক্রান্ত মামলাগুলোর তুলনায় ভিন্ন আইনি প্রশ্ন তৈরি করবে।   ১ লাখ ডলারের ফি প্রথমে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে নতুন H-1B আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বুধবারের আদালতের আদেশ সেই বর্ধিত সময়ের মধ্যে ফি বাস্তবায়নে নতুন বাধা তৈরি করল।   H-1B হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর সাধারণভাবে ৬৫ হাজার H-1B ভিসার মূল কোটা রয়েছে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নত ডিগ্রি অর্জনকারী কর্মীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসার সুযোগ থাকে।   H-1B ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন বছর পর্যন্ত দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা আরও তিন বছর বাড়ানো যেতে পারে। ফলে এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। H-1B ভিসায় বড় অঙ্কের ফি আরোপের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন আবেদনকারীদের যাচাই প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করেছে। একই সঙ্গে উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে ভিসা বাছাইয়ের নতুন পদ্ধতির প্রস্তাবও করা হয়েছে। এদিকে মামলাটির বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির আইনজীবী স্টিভ ব্রেসলার বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দিচ্ছে যা হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছিল। দেশটির বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্সও ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আলাদা মামলা করেছে। ওই মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংগঠনটি আপিল করছে। ফলে H-1B ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে একাধিক আইনি লড়াই চলমান রয়েছে।   তবে বুধবারের রায়কে এই ফি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থাগুলোকে ১ লাখ ডলারের ফি বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের স্থায়ী ফি আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে।   বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য H-1B কর্মসূচি ব্যবহার করে থাকেন। ফলে ভিসা ফি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা বিদেশি পেশাজীবী ও তাদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরও জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কর্মস্থলের তালিকায়। ছবি: সংগৃহীত
কাজ ও ভালো বেতনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ২৫ শহরের তালিকা প্রকাশ

চাকরি খোঁজা কিংবা ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা শহর হিসেবে উঠে এসেছে ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন। চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট ইনডিডের ২০২৬ সালের নতুন এক তালিকায় ২৩৩টি মার্কিন মহানগর এলাকা বিশ্লেষণ করে বোস্টনকে প্রথম স্থান দেওয়া হয়েছে।   ইনডিডের এই প্রথমবারের মতো প্রকাশিত ‘বেস্ট সিটিজ ফর ওয়ার্ক ২০২৬’ তালিকায় শহরগুলোকে শুধু বেতন বা চাকরির সংখ্যা দিয়ে বিচার করা হয়নি। চাকরির সুযোগ, পারিশ্রমিক, চাকরির মান ও নিরাপত্তা, ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুযোগ, এই ছয়টি দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   ইনডিড ২ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার মহানগর এলাকাগুলোকে এই বিশ্লেষণের আওতায় নেয়। বিভিন্ন সরকারি ও নিজস্ব তথ্য মিলিয়ে ৪০টির বেশি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি এলাকার কর্মসংস্থান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। চাকরির সুযোগ ও পারিশ্রমিককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, আর বাকি চারটি বিষয়ও সামগ্রিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   বোস্টনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কোনো একটি সূচকে শুধু এগিয়ে থাকা নয়, বরং সবগুলো ক্ষেত্রেই তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা। ইনডিডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটি ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগে বিশেষভাবে শক্তিশালী। বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকরি পরিবর্তনের সুযোগের ঘনত্ব কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।   বোস্টন মহানগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কাজের সুযোগও এখানে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগ থাকায় কর্মীদের জন্য নমনীয়তার ক্ষেত্রটিও তুলনামূলক ভালো।   তবে বোস্টনের শীর্ষে থাকার অর্থ এই নয় যে শহরটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই সবার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে বাসস্থান ও শিশুসেবার খরচ, তুলনামূলক বেশি। ফলে বেশি বেতনের চাকরি থাকলেও বাসস্থান ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। ইনডিডের বিশ্লেষণেও বোস্টনের সামগ্রিক শক্তির পাশাপাশি এসব ব্যয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে।   তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগের দিক থেকে শহরটি প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বড় নিয়োগদাতা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন পেশাজীবী খাতের ঘনত্বের কারণে কর্মীদের জন্য চাকরি পরিবর্তন ও ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখানে বেশি।   তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটন। বড় শহরের মতো উচ্চ বেতন না থাকলেও চাকরির সুযোগের দিক থেকে শহরটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীর্ষে। তুলনামূলক ছোট শ্রমবাজারে চাকরিপ্রার্থীর চাহিদা বেশি থাকায় কর্মীদের দর-কষাকষির ক্ষমতাও শক্তিশালী বলে ইনডিড জানিয়েছে।   চতুর্থ স্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে। পারিশ্রমিকের দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মহানগর এলাকা। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক উচ্চ বেতনের চাকরির আধিক্য এর অন্যতম কারণ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো, যেখানে দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগও উল্লেখযোগ্য।   তালিকার পরের দিকে রয়েছে বেশ কয়েকটি মাঝারি আকারের শহর। ষষ্ঠ স্থানে উইসকনসিনের ম্যাডিসন এবং সপ্তম স্থানে মিনেসোটার রচেস্টার। রচেস্টার অর্থনৈতিক সুযোগের সূচকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মহানগর এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর করেছে। শহরটি মায়ো ক্লিনিকের জন্যও পরিচিত, যা স্থানীয় কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখে।   অষ্টম স্থানে রয়েছে ওয়াশিংটনের সিয়াটল, নবমে টেক্সাসের অস্টিন এবং দশমে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিল। শার্লটসভিল চাকরির মান ও নিরাপত্তার সূচকে দেশটির মধ্যে প্রথম হয়েছে। অস্টিন কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও ক্যারিয়ার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে।   ইনডিডের তালিকায় আরও দেখা যায়, কর্মসংস্থানের জন্য শুধু নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া বা ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরই এগিয়ে নেই। নর্থ ডাকোটার ফার্গো, নেব্রাস্কার ওমাহা, আইওয়ার সিডার র‌্যাপিডস এবং সাউথ ডাকোটার সিওক্স ফলসের মতো তুলনামূলক ছোট মহানগর এলাকাও সেরা ২৫-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।   এতে বোঝা যাচ্ছে, চাকরির বাজারে বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর গুরুত্বও বাড়ছে। ছোট শহরগুলোর কিছু এলাকায় চাকরির সুযোগের সঙ্গে তুলনামূলক কম যাতায়াতের চাপ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং স্থানীয়ভাবে স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের সুবিধা রয়েছে।   ইনডিডের অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো একটি শহর সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। একজন তরুণ চাকরিপ্রার্থীর জন্য যেখানে দ্রুত ক্যারিয়ার পরিবর্তন ও বেতন বৃদ্ধির সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ, অন্য কারও কাছে কাজের সময়ের নমনীয়তা, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ব্যয় বা দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই তালিকাটি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সম্ভাব্য কর্মস্থল বাছাইয়ের একটি নির্দেশনা হিসেবে দেখা উচিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।   ইনডিডের ২০২৬ সালের সেরা ২৫ শহরের পূর্ণ তালিকায় রয়েছে:   ১. বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস ২. ওয়াশিংটন ডিসি ৩. বার্লিংটন, ভারমন্ট ৪. সান হোসে, ক্যালিফোর্নিয়া ৫. সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া ৬. ম্যাডিসন, উইসকনসিন ৭. রচেস্টার, মিনেসোটা ৮. সিয়াটল, ওয়াশিংটন ৯. অস্টিন, টেক্সাস ১০. শার্লটসভিল, ভার্জিনিয়া ১১. ফার্গো, নর্থ ডাকোটা ১২. ওমাহা, নেব্রাস্কা ১৩. অ্যালবানি, নিউইয়র্ক ১৪. সিডার র‌্যাপিডস, আইওয়া ১৫. মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা ১৬. অ্যান আরবার, মিশিগান ১৭. ডেনভার, কলোরাডো ১৮. হনোলুলু, হাওয়াই ১৯. বোল্ডার, কলোরাডো ২০. সিরাকিউজ, নিউইয়র্ক ২১. বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড ২২. ডারহাম, নর্থ ক্যারোলাইনা ২৩. ম্যানচেস্টার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪. কলম্বাস, ওহাইও ২৫. সিওক্স ফলস, সাউথ ডাকোটা।   তবে মূল তালিকায় ১৭ নম্বরে ডেনভার, কলোরাডো থাকার কথা। প্রকাশিত কপিতে এটিকে ভুল করে ‘ডেনভার, মিশিগান’ লেখা হয়েছিল। একইভাবে তালিকাটি মূলত শহরের চেয়ে মহানগর এলাকা বা মেট্রো এলাকা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে। সূত্র: ইনডিড, ট্রাভেল + লেজার ও ফোর্বস।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
নিজের দক্ষতা ও সময় অনুযায়ী টিউটরিং, ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন কাজ থেকে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত
চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ: যে ১০টি কাজ বিবেচনা করতে পারেন

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-টাইম চাকরি করেও অনেকের মাসিক আয় থেকে বাড়তি সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাড়িভাড়া, মর্টগেজ, গাড়ির খরচ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, সন্তানের শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কারণে অনেক পরিবারই মূল চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের জন্য এমন কাজ গুরুত্বপূর্ণ, যা মূল চাকরির সময়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং সপ্তাহের সন্ধ্যা বা ছুটির দিনে করা যায়।   বর্তমানে পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ শুধু রাইডশেয়ার বা ফুড ডেলিভারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং হাতে থাকা সময় অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কাজ থেকে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব। তবে কোন কাজ থেকে কত আয় হবে, তা নির্ভর করবে কাজের ধরন, অবস্থান, সময়, অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট খরচের ওপর।   চাকরির পাশাপাশি বিবেচনা করা যেতে পারে এমন ১০টি কাজ হলো:   ১. রাইডশেয়ার ড্রাইভিং - নিজের গাড়ি থাকলে উবার বা লিফট এর মতো রাইডশেয়ার প্ল্যাটফর্মে ড্রাইভিং অনেকের জন্য অতিরিক্ত আয়ের একটি পরিচিত পথ। অফিসের আগে বা পরে কয়েক ঘণ্টা কিংবা সপ্তাহান্তে কাজ করা যায়। তবে আয় হিসাব করার সময় গ্যাস, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, ইনস্যুরেন্স এবং গাড়ির মূল্য কমে যাওয়ার মতো খরচও বিবেচনায় রাখতে হবে।   ২. ফুড ডেলিভারি - ডোরড্যাশ, উবারইটস সহ বিভিন্ন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে পার্ট-টাইম কাজ করা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার ডিনার সময় বা সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ রয়েছে। যারা যাত্রী বহনের পরিবর্তে খাবার বা পণ্য ডেলিভারি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য এটি একটি বিকল্প হতে পারে।   ৩. অনলাইন বা প্রাইভেট টিউটরিং - যাদের গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি, কম্পিউটার সায়েন্স বা অন্য কোনো বিষয়ে ভালো দক্ষতা রয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের টিউটরিং করতে পারেন। অনেক টিউটর সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তে কাজ করেন, ফলে এটি ফুল-টাইম চাকরির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, টিউটরদের বড় একটি অংশ পার্ট-টাইম কাজ করেন এবং তাদের সময়সূচিতে সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তের কাজও রয়েছে।   ৪. ফ্রিল্যান্সিংআইটি, সফটওয়্যার টেস্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, অ্যাকাউন্টিং, বুককিপিং, অনুবাদ বা কনটেন্ট তৈরির মতো দক্ষতা থাকলে ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে বাড়তি আয়ের একটি সুযোগ। এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো কাজ শেখার চেয়ে নিজের বর্তমান পেশাগত দক্ষতাকে কাজে লাগানো অনেকের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।   ৫. ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি - বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিয়ে, আকিকা, জন্মদিন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়মিত হয়। যাদের ক্যামেরা পরিচালনা, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি বা ভিডিও এডিটিংয়ের দক্ষতা রয়েছে, তারা মূল চাকরির পাশাপাশি সপ্তাহান্তে এসব কাজ করতে পারেন।   ৬. ক্লিনিং সার্ভিস - বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ছোট অফিস পরিষ্কারের কাজও পার্ট-টাইম আয়ের একটি সম্ভাব্য পথ। কেউ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করতে পারেন, আবার প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ও স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে নিজস্ব ছোট ক্লিনিং সার্ভিসও গড়ে তুলতে পারেন। সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা সময় দেওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকের জন্য এই কাজটি সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।   ৭. চাইল্ডকেয়ার বা বেবিসিটিং - যাদের শিশুদের দেখাশোনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা পার্ট-টাইম চাইল্ডকেয়ার বা বেবিসিটিংয়ের কাজ বিবেচনা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে চাইল্ডকেয়ার সেক্টরে পার্ট-টাইম কাজ প্রচলিত এবং কিছু ক্ষেত্রে সন্ধ্যা বা রাতের সময়ও কাজের প্রয়োজন হয়। তবে শিশু দেখাশোনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, লাইসেন্স এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম অবশ্যই আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।   ৮. হ্যান্ডিম্যান ও হোম সার্ভিস - ফার্নিচার অ্যাসেম্বলি, পেইন্টিং, ইয়ার্ডের কাজ বা ছোটখাটো মেরামতের মতো কাজে দক্ষ হলে সপ্তাহান্তে বাড়তি আয় করা সম্ভব। তবে ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং বা লাইসেন্স প্রয়োজন এমন কোনো কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি।   ৯. অনলাইন রিসেলিং - বাড়িতে অব্যবহৃত জিনিসপত্র বিক্রি দিয়ে অনলাইন রিসেলিং শুরু করা যায়। পরে পোশাক, অ্যাকসেসরিজ, হস্তশিল্প বা অন্যান্য পণ্য নিয়ে ছোট পরিসরে ব্যবসা করা সম্ভব। তবে পণ্য কেনা, স্টোরেজ, শিপিং এবং প্ল্যাটফর্মের ফি হিসাব করে লাভ-ক্ষতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   ১০. সোশ্যাল মিডিয়া ও কনটেন্ট সার্ভিস - ছোট ব্যবসা বা কমিউনিটি সংগঠনের জন্য ফেসবুক পেজ পরিচালনা, ছবি তৈরি, ভিডিও এডিটিং, পোস্ট লেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরির কাজও করা যেতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক ছোট ব্যবসা ও সংগঠনের নিয়মিত ডিজিটাল কনটেন্টের প্রয়োজন থাকায় এই ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।   তবে পার্ট-টাইম কাজ শুরু করার আগে শুধু সম্ভাব্য আয় নয়, সংশ্লিষ্ট খরচও হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি কাজের ক্ষেত্রে গাড়ির গ্যাস, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত আয় কত থাকে, সেটি বিবেচনা করা উচিত।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পার্ট-টাইম বা গিগ কাজের আয়ও ট্যাক্সের আওতায় পড়ে। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, গিগ কাজ থেকে পাওয়া আয় পার্ট-টাইম, অস্থায়ী বা সাইড কাজের আয় হলেও তা ট্যাক্স রিটার্নে রিপোর্ট করতে হয়। কোনো ব্যক্তির self-employment থেকে নেট আয় ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণত self-employment tax-এর নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। আয় ও খরচের রেকর্ড এবং প্রয়োজনীয় রসিদ সংরক্ষণ করার পরামর্শও দিয়েছে আইআরএস।   তাই ফুল-টাইম চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের সময়, দক্ষতা, খরচ এবং সম্ভাব্য নেট আয় বিবেচনা করা। সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টার একটি পার্ট-টাইম কাজও সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা গেলে পরিবারের মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত অর্থের জোগান দিতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখনো আইটি খাতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তবে চাকরির বাজারে বেড়েছে দক্ষতার গুরুত্ব। ছবি: সংগৃহীত
তিন-ছয় মাসের আইটি প্রশিক্ষণেই চাকরি, সেই পথ কি এখনো খোলা? এআই যুগে নতুনদের সামনে বড় প্রশ্ন

কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে আইটি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণকে অনেকেই দ্রুত চাকরিতে প্রবেশের একটি কার্যকর পথ হিসেবে দেখতেন। ডেভেলপমেন্ট, কিউএ, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনকারী মূলধারার চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতা সেই পথকে আগের তুলনায় অনেক কঠিন করে তুলেছে।   তবে এই অর্থে আইটি খাতে চাকরির সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, কিউএ অ্যানালিস্ট ও সফটওয়্যার টেস্টারদের চাকরি সম্মিলিতভাবে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে আইটি সিকিউরিটি এনালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রযুক্তি খাতের চাহিদা থাকছে, কিন্তু কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা থাকবে এবং একজন নতুন কর্মী সেই চাহিদার সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।    প্রায় পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্যটি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলে ধরেছেন ভার্জিনিয়ায় বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইটি পেশাজীবী। তিনি জানান, তখন তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই ডেভেলপার, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডেটাবেস সংশ্লিষ্ট কাজে প্রবেশের সুযোগ পেতেন। অনেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইটি খাতে মূলধারার চাকরিতে ঢুকে পরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।   তার মতে, সেই সময়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ অনেকের জন্য আইটি ক্যারিয়ারে প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতায় সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন শুধু নতুনদের জন্য নয়, আগে থেকেই কয়েক বছর অভিজ্ঞতা থাকা এবং ছাঁটাইয়ের কারণে চাকরি হারানো অনেক পেশাজীবীর জন্যও নতুন চাকরিতে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।   ভার্জিনিয়ার ওই পেশাজীবী মনে করেন, নতুনদের জন্য এখন শুধু একটি প্রশিক্ষণ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। যে ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেওয়া হচ্ছে, সেই পদের বর্তমান চাহিদা, এআইয়ের প্রভাব এবং প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তবে কী ধরনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো আগে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।   নিউইয়র্কের জিসান নামের এক ব্যক্তি এই পরিবর্তনের আরেকটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসার পর তিনি অন্যদের কাছ থেকে শুনেছিলেন, মাত্র কয়েক মাসের আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে নিয়মিত চাকরিতে ঢুকেছেন। কেউ ডেভেলপার, কেউ সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট কাজে গেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনিও আইটি পেশায় প্রবেশের জন্য প্রশিক্ষণ নেন।   প্রশিক্ষণ শেষ করেও অবশ্য তিনি চাকরি পাননি। জিসান জানান, প্রায় এক বছর ধরে চাকরির চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত আইটি চাকরি পাননি। ফলে প্রশিক্ষণ শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।   জিসানের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখন আর চাকরিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। বিশেষ করে কোনো বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া নতুন প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার মাত্রা বেড়েছে।   জর্জিয়ার আতিকের অভিজ্ঞতাও একই পরিবর্তনের আরেকটি দিক তুলে ধরে। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণের পর তিনি আইটি খাতে চাকরিতে ঢুকেছিলেন। কিছুদিন কাজ করার পর প্রায় এক বছর আগে সেই চাকরি চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও আর আইটি চাকরিতে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন।   তিনটি অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। আগে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণকে আইটিতে প্রবেশের দরজা হিসেবে দেখা গেলেও এখন প্রশিক্ষণ, চাকরি এবং চাকরি ধরে রাখার বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে।   এর পেছনে এআইয়ের প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এআই অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক কাজ দ্রুত করতে পারছে। ফলে নিয়োগদাতারা শুধু নির্দিষ্ট একটি প্রযুক্তি জানেন এমন কর্মীর বদলে এমন প্রার্থী খুঁজছেন, যিনি প্রযুক্তির পাশাপাশি সমস্যা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয়করণ, এআই ব্যবহার এবং বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সক্ষম।   তবে প্রযুক্তি খাত নিয়ে পুরোপুরি হতাশ হওয়ার কারণও নেই। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার কিছু পেশায় কর্মসংস্থান কমাতে পারে, আবার অন্য অনেক পেশায় নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা তৈরি করতে পারে। তথ্য নিরাপত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং সফটওয়্যার উন্নয়নের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আগামী দশকেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার আগে নিয়মগুলো জেনে নিন। ছবি: সংগৃহীত
ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করবেন কীভাবে? সিটিজেন, নন-সিটিজেন ও রিমোট চাকরিতে যেভাবে আবেদন করবেন

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্য চাকরি খোঁজা ও আবেদন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্ল্যাটফর্ম হলো USAJOBS। তবে বেসরকারি চাকরির মতো শুধু রিজিউমে পাঠালেই ফেডারেল চাকরির আবেদন শেষ হয় না। আবেদন করার আগে নাগরিকত্বের শর্ত, কে আবেদন করতে পারবেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কাজের স্থান, রিমোট নাকি অফিসভিত্তিক কাজ এবং কী কী কাগজপত্র লাগবে, সেসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করতে হয়।   বিশেষ করে নাগরিক ও গ্রীনকার্ডধারীদের জন্য ফেডারেল চাকরির নিয়ম এক নয়। আবার পুরোপুরি রিমোট চাকরি এবং টেলিওয়ার্কও একই বিষয় নয়। তাই কোনো চাকরি দেখে সরাসরি আবেদন না করে প্রথমে পুরো চাকরির বিজ্ঞপ্তি পড়া জরুরি।   কোথা থেকে ফেডারেল চাকরি খুঁজবেন: ফেডারেল সরকারের চাকরির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সরকারি এজেন্সির চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে পদের নাম, পেশা, লোকেশন, বেতন, কাজের সময়সূচি এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী চাকরি খোঁজা যায়।   প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এর জন্য সরকারের লগইন ডট গভ (login.gov) ব্যবস্থার মাধ্যমে একাউন্ট ওপেন করে নিজের প্রোফাইল তৈরি করতে হয়। প্রোফাইল তৈরি করার পর চাকরি সংরক্ষণ, রিজিউমে রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন চাকরির খবর পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।   চাকরি খোঁজার সময় শুধু সাধারণভাবে ফেডারেল চাকরি লিখে সার্চ না করে নিজের পেশা ও দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখে নির্দিষ্ট পদের নাম ব্যবহার করা বেশি কার্যকর। যেমন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স, অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স, ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবারসিকিউরিটি, প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট, মানবসম্পদ, কন্ট্রাক্ট স্পেশালিস্ট বা প্রশাসনিক পদ।   ফেডারেল চাকরির নির্দিষ্ট পেশাগত সিরিজ ব্যবহার করেও চাকরি খোঁজা যায়। পাশাপাশি লোকেশন অনুযায়ী সার্চ করা সম্ভব। আটলান্টা, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন ডিসি, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন জায়গার চাকরি আলাদা করে খুঁজে দেখা যায়।   রিমোট ফেডারেল চাকরি কীভাবে খুঁজবেন: যারা বাসা থেকে কাজ করতে চান, তাদের জন্য ফেডারেল সরকারের কিছু চাকরি পুরোপুরি রিমোট হিসেবে দেওয়া হয়। চাকরি খোঁজার সময় রিমোট কাজের ফিল্টার ব্যবহার করে এসব পদ আলাদা করা যায়। তবে রিমোট চাকরি এবং টেলিওয়ার্ক এক বিষয় নয়।   রিমোট চাকরিতে সাধারণত নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন থাকে না। অন্যদিকে টেলিওয়ার্কের ক্ষেত্রে কর্মীকে নির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতিতে অফিসে যেতে হতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে টেলিওয়ার্কের সুযোগ রয়েছে লেখা থাকলেই সেটিকে পুরোপুরি রিমোট চাকরি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।   আবার রিমোট লেখা থাকলেও আমেরিকার যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করা যাবে কি না, সেটি বিজ্ঞপ্তির লোকেশন ও অন্যান্য শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে। কিছু রিমোট চাকরিতে নির্দিষ্ট স্টেটের জন্য বা টাইম জোনের শর্ত থাকতে পারে।   সিটিজেনরা কোন ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ফেডারেল চাকরির সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে নাগরিক হলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে না।   চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “This job is open to” অংশটি প্রথমে দেখতে হবে। সেখানে বলা থাকে চাকরিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত কি না, নাকি শুধু বর্তমান ফেডারেল কর্মী, ভেটেরান, মিলিটারি স্পাউস, শিক্ষার্থী, সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েট বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য খোলা।   যদি সেখানে “Open to the public” লেখা থাকে, তাহলে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা আবেদন করতে পারেন। তবে এরপরও ওই পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।    যোগ্যতা এবং আবেদন করার অধিকার এক বিষয় নয়: ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে একজন চাকরিপ্রার্থীর যোগ্যতা এবং তিনি ওই চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন কি না, দুটি আলাদা বিষয়।   আপনার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা থাকলেও আপনি যদি ওই চাকরির জন্য নির্ধারিত আবেদনকারীর শ্রেণির মধ্যে না পড়েন, তাহলে নিয়োগকারী এজেন্সি আপনার আবেদন পর্যালোচনা নাও করতে পারে।   তাই প্রথমে দেখতে হবে কারা আবেদন করতে পারবেন সেই তালিকায় আছেন কি না। এরপর দেখতে হবে আপনার শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং নির্দিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা চাকরিটির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে মেলে কি না।    গ্রিন কার্ডধারী বা নন-সিটিজেনরা কি আবেদন করতে পারবেন: বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের চাকরিতে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হয়। তবে এর কিছু সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে।   কিছু পরিস্থিতিতে কোনো ফেডারেল এজেন্সি নন-সিটিজেনকে নির্দিষ্ট ধরনের সরকারি পদে নিয়োগ দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, অর্থ বরাদ্দের বিধান এবং এজেন্সির নিজস্ব নীতিমালা প্রযোজ্য হয়। কিছু পরিস্থিতিতে যোগ্য মার্কিন নাগরিক না পাওয়া গেলে বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে নন-সিটিজেন নিয়োগের সুযোগও থাকতে পারে।   অর্থাৎ গ্রিন কার্ড আছে বলেই সব ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন নয়। আবার নন-সিটিজেনদের জন্য কোনো ফেডারেল চাকরির সুযোগই নেই, সেটিও সঠিক নয়।   কোনো নির্দিষ্ট চাকরিতে নন-সিটিজেন আবেদন করতে পারবেন কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তির “This job is open to” এবং যোগ্যতার অংশ দেখতে হবে। সন্দেহ থাকলে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সংশ্লিষ্ট এজেন্সির যোগাযোগের ইমেল এ মেইল দিতে পারেন।   রিজিউমে তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: ফেডারেল চাকরির জন্য রিজিউমে তৈরির ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য রিজিউমে দুই পৃষ্ঠার বেশি হওয়া যাবে না। ওয়েবসাইটের রিজিউমে তৈরির ব্যবস্থাতেও দুই পৃষ্ঠার বেশি রিজিউমে সংরক্ষণ করা যায় না।   তবে শুধু দুই পৃষ্ঠার রিজিউমে বানালেই হবে না। যে চাকরিতে আবেদন করছেন, সেই চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখে রিজিউমে তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।   যেমন কোনো পদে নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, প্রোগ্রামিং ভাষা, ডেটাবেস, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বা অন্য কোনো বিশেষ দক্ষতা চাওয়া হলে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে সেগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে।   প্রতিটি চাকরির জন্য একই রিজিউমে ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা সামনে আনা বেশি কার্যকর। ফেডারেল নিয়োগকারী এজেন্সি রিজিউমের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রার্থীর যোগ্যতা মূল্যায়ন করে।   চাকরির বিজ্ঞপ্তি পুরোটা পড়ুন: ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার আগে শুধু পদের নাম ও বেতন দেখলেই হবে না। পুরো চাকরির বিজ্ঞপ্তি পড়তে হবে। প্রথমে দেখতে হবে চাকরিটি কার জন্য উন্মুক্ত। এরপর দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত দেখতে হবে।   এরপর কাজের স্থান এবং কাজের ধরন দেখতে হবে। চাকরিটি অফিসে গিয়ে করতে হবে, নাকি রিমোট, নাকি টেলিওয়ার্কের সুযোগ রয়েছে, সেটি বিজ্ঞপ্তিতেই পরিষ্কার করা থাকে।   এ ছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকাও দেখতে হবে। কোনো চাকরিতে রিজিউমের পাশাপাশি শিক্ষাগত সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্য কোনো নথি প্রয়োজন হতে পারে।   বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অনেকেই তথ্যপ্রযুক্তি, হেলথ কেয়ার, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবারসিকিউরিটি, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। তাদের জন্য ফেডারেল চাকরি খোঁজার সময় নিজের বর্তমান পেশা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল রেখে নির্দিষ্ট পদের নাম ব্যবহার করা কার্যকর হতে পারে।   তবে শুধু নিজের পেশার সঙ্গে মিলে গেলেই আবেদন করা উচিত নয়। প্রথমে নাগরিকত্বের শর্ত ও কারা আবেদন করতে পারবেন তা দেখতে হবে। এরপর অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। তারপর কাজের স্থান, রিমোট বা অফিসভিত্তিক কাজ, বেতন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে হবে।   আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, কোনো ব্যক্তি ফেডারেল সরকারের কোনো এজেন্সির জন্য প্রাইভেট কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করলেও তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেডারেল সরকারের সরাসরি কর্মী হয়ে যান না। কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করা এবং সরাসরি ফেডারেল কর্মী হওয়া আলাদা বিষয়।   ফেডারেল চাকরির ধরনও এক নয়। সরকারের চাকরি মূলত প্রতিযোগিতামূলক সার্ভিস, ব্যতিক্রমী সার্ভিস এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিসসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার অধীনে হতে পারে। প্রতিটি ব্যবস্থায় নিয়োগের নিয়ম আলাদা হতে পারে।   সবশেষে, ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক চাকরি খুঁজে বের করা এবং বিজ্ঞপ্তির প্রতিটি শর্ত মেনে আবেদন সম্পূর্ণ করা। নাগরিকদের জন্য সুযোগ তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত হলেও সব চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। নন-সিটিজেনদের ক্ষেত্রে সুযোগ আরও সীমিত এবং চাকরিভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে।   আর যারা বাসা থেকে কাজ করতে চান, তাদের জন্য রিমোট চাকরি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে রিমোট এবং টেলিওয়ার্কের পার্থক্য বুঝে আবেদন করা জরুরি।   তাই ফেডারেল চাকরি খোঁজার সময় প্রথমে নিজের পেশা অনুযায়ী চাকরি খুঁজুন। এরপর কারা আবেদন করতে পারবেন তা যাচাই করুন। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পড়ুন। কাজের স্থান ও কাজের ধরন দেখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী রিজিউমে তৈরি করুন এবং “How to Apply” অংশের নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন সম্পূর্ণ করুন।   সঠিক চাকরি বেছে নিয়ে বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত মেনে আবেদন করাই ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে সফলভাবে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে H-2B ভিসার আওতায় মৌসুমি কর্মী নিয়োগের আবেদন এবারও কোটার চেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৫১ হাজার মৌসুমি কর্মীর চাহিদা, H-2B কোটা মাত্র ৩৩ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ১ অক্টোবর থেকে মৌসুমি কর্মী নিয়োগের জন্য দেশটির নিয়োগদাতারা ২ হাজার ৬২৫টি H-2B আবেদন জমা দিয়েছেন। এসব আবেদনে মোট ৫১ হাজার ১৫৮টি কর্মী পদের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। অথচ ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নিয়মিত H-2B ভিসার কোটা ৩৩ হাজার। ফলে প্রাথমিক চাহিদা নির্ধারিত কোটার চেয়ে ১৮ হাজার ১৫৮টি পদ বেশি।    যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের অধীন Office of Foreign Labor Certification বা OFLC গত ৮ জুলাই আবেদনগুলোর দৈবচয়ন ও প্রক্রিয়াকরণ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। আবেদনগুলো ৩ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনের বিশেষ সময়সীমার মধ্যে জমা দেওয়া হয়েছিল। সব আবেদনেই কাজ শুরুর তারিখ হিসেবে ১ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে, যেদিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধ শুরু হবে।   বিপুলসংখ্যক পদের আবেদন জমা পড়ায় শ্রম বিভাগ সেগুলোকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে দুটি দলে ভাগ করেছে। গ্রুপ ‘এ’-তে রাখা হয়েছে ১ হাজার ৮৮১টি আবেদন এবং গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে ৭৪৪টি আবেদন। গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা আবেদনগুলোর কর্মীসংখ্যাই প্রথমার্ধের ৩৩ হাজার ভিসার কোটা পূরণের জন্য যথেষ্ট।    গ্রুপ ‘এ’-র আবেদনগুলো এখন শ্রম বিভাগের National Processing Center-এর কর্মকর্তাদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা আবেদন যাচাই করে গ্রহণের নোটিশ অথবা ত্রুটির নোটিশ দেবেন। গ্রুপ ‘বি’-তে থাকা আবেদনগুলোকেও আলাদা পর্যায়ে প্রক্রিয়াকরণের জন্য রাখা হয়েছে।   তবে দৈবচয়নে কোনো আবেদন প্রথম দলে স্থান পাওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা চূড়ান্তভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি পেয়েছেন—এমন নয়। একইভাবে ৫১ হাজার ১৫৮টি পদকে নিশ্চিত চাকরি বা অনুমোদিত ভিসা হিসেবেও দেখা যাবে না। সংখ্যাটি কেবল নিয়োগদাতাদের চাওয়া মোট কর্মী পদের হিসাব।   H-2B কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগদাতারা সাময়িক ও কৃষিবহির্ভূত কাজে বিদেশি কর্মী আনতে পারেন। নিয়োগদাতাকে প্রমাণ করতে হয়, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার অতিরিক্ত কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে এবং প্রয়োজনটি এককালীন, মৌসুমি, ব্যস্ত মৌসুমকেন্দ্রিক অথবা অনিয়মিত প্রকৃতির।    শ্রম বিভাগের SeasonalJobs প্ল্যাটফর্মে H-2B কর্মসূচির শীর্ষ কৃষিবহির্ভূত কাজের মধ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নির্মাণশ্রমিকের পদ উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বন সংরক্ষণ, মাংস ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন সহকারী, রেস্তোরাঁর রাঁধুনি এবং খাবার পরিবেশনসংক্রান্ত মৌসুমি কাজও নিয়মিত প্রকাশিত হয়।    হোটেল ও পর্যটননির্ভর এলাকায় হাউসকিপিং, রান্নাঘর, বিনোদনকেন্দ্র, স্কি রিসোর্ট ও অন্যান্য আতিথেয়তা সেবার জন্যও H-2B কর্মী নেওয়া হয়। তবে কোন পেশায় কতজন কর্মী চাওয়া হয়েছে, শ্রম বিভাগের ৮ জুলাইয়ের ঘোষণায় তার পূর্ণ খাতভিত্তিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।   কংগ্রেস নিয়মিত H-2B ভিসার বার্ষিক সীমা ৬৬ হাজার নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথমার্ধে ৩৩ হাজার এবং এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৩৩ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। আলাদা কোনো সম্পূরক ভিসা ঘোষণা করা হলে সেটি পৃথক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কার্যকর হয়; বর্তমান আবেদনসংখ্যা দেখে অতিরিক্ত ভিসা নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।    H-2B প্রক্রিয়ায় প্রথমে নিয়োগদাতাকে শ্রম বিভাগের কাছ থেকে সাময়িক শ্রম সনদ নিতে হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগদাতা বা তার অনুমোদিত এজেন্টকে সম্ভাব্য কর্মীর পক্ষে USCIS-এ Form I-129 জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা কর্মীকে সাধারণত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়।    ফলে বিদেশি চাকরিপ্রার্থী নিজে থেকে H-2B ভিসার আবেদন শুরু করতে পারেন না। প্রথমে তাঁকে বৈধ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিয়োগদাতার কাছ থেকে প্রকৃত কাজের প্রস্তাব পেতে হবে। কোনো দালাল কেবল অর্থের বিনিময়ে H-2B ভিসা নিশ্চিত করার দাবি করলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অস্থায়ী কর্মীদের অধিকারবিষয়ক নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চাকরি পাওয়ার জন্য কর্মীর কাছ থেকে নিয়োগ ফি নেওয়া উচিত নয়। কাজের চুক্তিতে বেতন, কাজের সময়কাল, কর্মঘণ্টা, সুবিধা এবং অনুমোদিত কর্তনের তথ্য স্পষ্ট থাকার কথা। নিয়োগদাতাকে কর্মীকে কাজের আদেশে উল্লেখিত হারে বেতন দিতে হয় এবং সেই হার প্রযোজ্য prevailing wage অথবা ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় ন্যূনতম মজুরির মধ্যে সর্বোচ্চটির চেয়ে কম হতে পারে না।   বাংলাদেশ থেকে আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫১ হাজার পদের আবেদন জমা পড়ার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশে উন্মুক্তভাবে ৫১ হাজার কর্মী নিয়োগ চলছে। প্রতিটি নিয়োগদাতার শ্রম সনদ ও USCIS আবেদন অনুমোদিত হতে হবে এবং কর্মীকে ভিসার যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।   চাকরি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের SeasonalJobs প্ল্যাটফর্মে নিয়োগদাতার নাম, কাজের স্থান, বেতন, কাজ শুরুর ও শেষ হওয়ার তারিখ এবং আবেদনের নির্দেশনা দেখা যায়। ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, অজ্ঞাত এজেন্ট অথবা অগ্রিম বড় অঙ্কের অর্থ চাওয়া প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে সরকারি তালিকা ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার তথ্য যাচাই করা জরুরি।   গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার H-2B কর্মীর চাহিদা বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ২ হাজার ৪২১টি আবেদনে ৪৭ হাজার ৪৮৮টি পদের অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। এবার আবেদনের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৬২৫ এবং চাওয়া কর্মী পদের সংখ্যা ৫১ হাজার ১৫৮-এ পৌঁছেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মৌসুমি কৃষিবহির্ভূত খাতে বিদেশি কর্মীর ওপর নিয়োগদাতাদের নির্ভরতা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।    তবে নির্ধারিত কোটার তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় সব নিয়োগদাতার আবেদন এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সমান নয়। শ্রম সনদ, USCIS অনুমোদন ও কনস্যুলার ভিসা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই কোনো বিদেশি কর্মী বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সংশ্লিষ্ট H-2B চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত

দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত

অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০